ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ডলারের অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট

৫ বছরেই দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম


৫ বছরেই দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে রেকর্ড গতিতে। বিশ্ববাজারের সাময়িক ওঠানামা বাদ দিলে, বছরের পর বছর ধরে এই মূল্যবান ধাতুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চলছে।

২০২০ সালের সময়ে, যেখানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ ডলার, বর্তমানে তা ৪ হাজার ৫০০ ডলারের ওপরে চলে গেছে। খবর ডয়েচে ভেলে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিশ্বজুড়ে কাগজের মুদ্রার মান কমছে। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায়, প্রথাগত বিনিয়োগ এখন আর আগের মতো লাভজনক মনে হচ্ছে না। সেজন্য, নিজেদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

এবং অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

জার্মানিভিত্তিক ডয়চে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি সোনা কিনছে। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, ভারত ও তুরস্কের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সোনার মজুদ ব্যাপক হারে বাড়াচ্ছে। ব্যাংকটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ধারা বজায় থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে সোনার দাম বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে প্রতি আউন্স ৮ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।

জার্মানির ল্যান্ডেসব্যাংক বাডেন-ভুর্টেমবার্গের বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার মনে করেন, মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান, সুদের হার কমার পূর্বাভাস এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বড় অঙ্কের কেনাকাটার কারণে সোনার বাজারে এই তেজি ভাব।

তবে, এর পাশাপাশি বাজারে ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো নতুন খাতের অংশগ্রহণকারীদেরও দেখছেন তিনি। শ্যালেনবার্গার জানান, ডিজিটাল মুদ্রার বিনিয়োগকারীরাও তাদের ঝুঁকি এড়াতে সম্পদের একটি অংশ দিয়ে সোনা কিনছেন, যা সোনার দাম বাড়াতে নতুন জ্বালানি জোগাচ্ছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতু বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল হুয়েহ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মতো বড় ও স্থায়ী ক্রেতারা এখন বাজার থেকে সাধারণ গহনা ক্রেতাদের একরকম দূরে ঠেলে দিয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সোনার দামের রেকর্ড গড়াতে এই প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদাই মূল ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, ডিজেড ব্যাংকের বিশ্লেষক থমাস কুল্পের মতে, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থাই সোনা কেনার প্রধান কারণ। যেকোনো সংকটে সোনা সবসময়ই স্বাধীনতার গ্যারান্টি এবং সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।

সোনা নিজে থেকে কোনো লভ্যাংশ বা সুদ তৈরি করতে পারে না এবং এর দামেও ফটকা বাজারের প্রভাব থাকে। তবুও, গদির নিচে নগদ টাকা লুকিয়ে রাখার চেয়ে সম্পদ সুরক্ষায় সোনা রাখা অনেক বেশি নিরাপদ।

যাহোক, শ্যালেনবার্গার কিছুটা সতর্ক করে বোঝান যে, নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার সুনাম মাঝে মাঝে একটু বাড়িয়ে বলা হয়। সম্পদ পুরো সোনায় রূপান্তর না করে, যেকোনোর পোর্টফোলিও বা তহবিলের ৫ থেকে ১০ শতাংশ সোনায় রাখা উচিত, যা বাজারের ঝুঁকি বা ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

অবশ্য, ডয়চে ব্যাংকের মাইকেল হুয়েহ ভিন্ন মত পোষণ করছেন এবং বড় পরিসরে সোনা জমা রাখার পক্ষে। তিনি মনে করছেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও মুদ্রাস্ফীতি থেকে বাঁচতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা জমানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে সবসময়ই কিছুটা অশ্চিত্তা থাকে। ডয়চে ব্যাংকের ২০৩১ সালের মধ্যে আউন্স প্রতি ৮ হাজার ডলারের পূর্বাভাস নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার এই পূর্বাভাসের সাথে একমত নন। তাঁর মতে, গোল্ড ইটিএফ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার যে জোয়ার ছিল, তা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরে দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো বড় কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।

তবে, ডয়চে ব্যাংকের গবেষক মাইকেল হুয়েহ তার পূর্বাভাসে অনড় রয়েছেন। তিনি মনে করেন, বিশ্ব রাজনীতিতে এখন স্নায়ুযুদ্ধের মতো চরম উত্তেজনা চলছে। ফলে উদীয়মান দেশগুলো মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ৪০ শতাংশই সোনায় রূপান্তর করতে পারে। আর এমনটি হলে সোনার দাম ৮ হাজার ডলারে পৌঁছানো অসম্ভব কিছু নয়।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

ডিজেড ব্যাংকের থমাস কুল্প মধ্যপন্থা অবলম্বন করছেন। তিনি ৮ হাজার ডলারের পূর্বাভাসকে উড়িয়ে না দিলেও কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি আশাবাদী হয়ে বলেছেন, ‘আগামী ১২ মাসের মধ্যে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলারে উঠে যাবে। বাজারে সোনার মৌলিক চাহিদা এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে, তাই দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার ইতিবাচক থাকবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিয়েতনামে বন্যায় নিহত ৪, নিখোঁজ ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


ভিয়েতনামে বন্যায় নিহত ৪, নিখোঁজ ৪

ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় লাই চাউ প্রদেশের একটি পাহাড়ি গ্রামে আকস্মিক বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু ঘটে। শনিবার এই তথ্যটি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানায় রয়টার্স।

প্রকাশিত একটি রিপোর্টে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ভিয়েতনাম নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টির পর শুক্রবার ভোরের দিকে মুয়ং থান গ্রামে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার ফলে ৪ জন নিহত হয়েছে এবং নিখোঁজ হয়েছে আরো ৪ জন। তাছাড়া আহত অবস্থায় ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে যে, বন্যার পানির সাথে নেমে আসা লাল কাদায় পুরো গ্রামটি ঢাকা পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পাশে বড় বড় পাথর ও গাছের গুঁড়ির জমা বন্ধক রয়েছে।

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি, ২৩৮ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরওয়েতে আগুনে শতাধিক বাড়ি পুড়ে ছাই, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শত শত মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


নরওয়েতে আগুনে শতাধিক বাড়ি পুড়ে ছাই, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শত শত মানুষ

দক্ষিণ নরওয়েতে ঘটেছে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, যার ফলে ১০০টিরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ ও দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ড্রামেন শহরের একটি টাউন হাউসে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পরে আগুন দ্রুত আশপাশের এলাকায় এবং কাছের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে। অসলো থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সারিবদ্ধ আবাসিক বাড়ির একটি এলাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা রাতভর কাজ করেন এবং শনিবার সকালেও তাদের অভিযান অব্যাহত ছিল।

নরওয়ের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শত শত বাসিন্দা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। পুলিশের মতে, এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ড্রামেন শহরটি নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করছে: প্রেস সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করছে: প্রেস সচিব

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেছেন যে, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে। একই সাথে তার বক্তব্য অনুযায়ী, যেভাবে জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করা হয়েছে, সে বিষয়টিও বাস্তবায়ন করছে বর্তমান সরকার। সে কারণে তিনি উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) বর্তমান সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এছাড়া প্রেস সচিব উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকারের সময় উন্নয়নের প্রচুর গালগল্প হয়েছে, কিন্তু সেই উন্নয়ন কোথায়? অনেক স্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অবনতি হয়েছে। যেটি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ে। যতক্ষণ না মানসিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটবে, ততক্ষণ কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, কথার মাধ্যমে নয়, বরং কাজের মাধ্যমে দেশের গুণগত পরিবর্তনে নিজে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। যে দলের কিংবা মতের হোক, মতাদর্শ যাই হোক, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার জন্য। মতের পার্থক্য ব্যালটে হতে পারে, কিন্তু দেশ গড়ার কাজে সবাইকে একত্রিত হতে হবে।

আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং কোথাও কারো কোনো বন্দনা করছেন না, যা আগে অহরহ দেখা যেত। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না, বরং তিনি মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন। প্রতি মাসেই তিনি জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে ঢাকার বাইরে কোনো না কোনো জেলায় যাচ্ছেন।

এছাড়া, তিনি বলেন যে এবারের বাজেট সরকারের একটি বিশেষ অর্জন। এবারের বাজেট পাশ হওয়ার পর কোন পণ্যের দাম বাড়েনি এবং জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। এটাকে তিনি একটি জীবনবান্ধব বাজেট হিসেবে বিবেচনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিমসন ঘাট ফের চালুর দাবিতে মাঝিদের অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


সিমসন ঘাট ফের চালুর দাবিতে মাঝিদের অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে, তারা নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ করে কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ গুদারাঘাট এলাকায় অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় নৌকা মাঝিরা দ্রুত সিমসন ঘাট ফের চালুর পাশাপাশি সদরঘাট টার্মিনালের ৪ ও ৫ নম্বর পল্টন অপসারণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সিমসন ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে যাত্রী পারাপার কমে গেছে। ঘাটটি সরিয়ে নেওয়ার কারণে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লিতে পাইকারদের যাতায়াতও কমেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাঝিরাও।

আন্দোলনরত মাঝিরা জানান, এই সিমসন ঘাটটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এবং বুড়িগঙ্গা নদীতে খেয়া পারাপারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাট। এই ঘাট ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সহজেই কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লিতে যাতায়াত করতেন। বর্তমানে যখন ঘাটটি বন্ধ রয়েছে, তখন তাদের ওয়াইজঘাট হয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে। অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হওয়ায় অনেক পাইকার আর আগ্রহী হচ্ছেন না।

একই সঙ্গে মাঝিদেরও এখন বেশি দূর নৌকা চালিয়ে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে। এতে তাদের শ্রম ও সময় উভয়ই বেশি ব্যয় হচ্ছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ঘাট মাঝি শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কিসলু অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা সদরঘাটের লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে একতরফাভাবে সিমসন ঘাট বন্ধ করে দেন। তার দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ মাঝিদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে হঠাৎ করেই সিমসন ঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ব্যবসায়ী ও মাঝিদের আন্দোলনের মুখে ঘাটটি পুনরায় চালু করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২০ সালে ফের বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লঞ্চ মালিকদের সুবিধা দিতে ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেখানে লঞ্চ রাখার জন্য পল্টন স্থাপন করা হয়। এর ফলে কালীগঞ্জ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসে এবং নদীতে মাঝিদের নৌকা পারাপারে যাত্রীও কমে যায় বলেও স্থানীয়রা জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার একই দাবিতে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লির ব্যবসায়ীরাও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। আন্দোলনকারীরা দ্রুত সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%