০২:৪৩ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) একটি শক্ত একাডেমিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনের পরিকল্পনা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি দেশি ও বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ আয়োজিত ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
উপাচার্য উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অনন্য অবস্থানে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের উচ্চমানের গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের প্রয়োজন। সরকারি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পর তেমন অর্থ অবশিষ্ট থাকে না। তাই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজস্ব তহবিল গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীরা ১ জানুয়ারির বদলে ২৪ ডিসেম্বর নতুন পাঠ্যবই পাবে
এ প্রসঙ্গে তিনি দেশি ও বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং গবেষণাকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাও তিনি কামনা করেন।
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জনগণের প্রশাসন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে জনপ্রশাসনকে একটি অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রশাসনের দূরত্ব বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এই বাস্তবতায় একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন প্রজন্মের তরুণরা শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং বৈষম্যহীন ও আইনের শাসনভিত্তিক একটি ন্যায়পরায়ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছে।
উপাচার্য উল্লেখ করেন, একটি গণআন্দোলন অন্যায় শাসনব্যবস্থা ভেঙে দিতে পারে, তবে উন্নত ও নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা ও একাডেমিক গবেষণার প্রয়োজন। সম্মেলনে উপস্থাপিত নীতি সংস্কার, নাগরিক অধিকার ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণাপত্রগুলো রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রূপরেখা বা ‘ব্লু-প্রিন্ট’ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার উলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ডিআইইউর ২+২ ও ৩+১ শিক্ষাপথের সমঝোতা
তিনি জনপ্রশাসনকে পুরনো অভ্যাস থেকে বের হয়ে আরও উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কর্মকর্তা ও প্রশাসকদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, তাদের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের সেবা করা, তাদের ওপর শাসন চালানো নয়।’
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবীরের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. আকা ফিরোজ আহমদ। পর্বটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া ও মো. রবিউল ইসলাম।
আরও পড়ুন: বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন