ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিক্ষোভ ঠেকাতে ইসলামাবাদে কনটেইনারে অবরুদ্ধ, জনজীবনে বিপর্যয়


বিক্ষোভ ঠেকাতে ইসলামাবাদে কনটেইনারে অবরুদ্ধ, জনজীবনে বিপর্যয়

রাজনৈতিক বিক্ষোভ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকে কন্টেইনার দিয়ে অবরুদ্ধ করার ফলে দেশটির সাধারণ মানুষ ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বিরোধীদের মিছিল আটকানোর জন্য সরকার শহরের বিভিন্ন সড়কে হাজার হাজার ভারী কন্টেইনার স্থাপন করে পুরো শহরকে কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যবসার কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে এবং রাস্তায় আটকে থাকা চালকদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর রাজধানী অভিমুখে পদযাত্রা ঠেকাতে সরকার শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ কন্টেইনার স্থাপন করেছে। স্থানীয় তরুণদের মধ্যে শহরটিকে ‘কন্টেইনারবাদ’ ডাকার প্রবণতা তৈরি হলেও, বাস্তবতা হলো এটি একটি মারাত্মক সংকটের সৃষ্টি করেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা এসব কন্টেইনার ও লরির কারণে অসংখ্য চালক ও পরিবহন ব্যবসায়ী আটকা পড়েছেন। অল পাকিস্তান গুডস ট্রান্সপোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে যে, পুলিশ অবৈধভাবে গাড়িগুলো আটকে রেখেছে এবং তাদের প্রতিদিনের আয়-ক্ষতির কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদান করছে না। বিদেশি শিপিং লাইনের কন্টেইনার আটকে থাকার কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার জরিমানাও গুনতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

অন্যদিকে, সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, কন্টেইনার ভাড়া নেওয়া হয়েছে চুক্তিভিত্তিক ও নিয়ম মেনে এবং অর্থ যথাসময়ে পরিশোধ করা হবে।

কেবল কন্টেইনার ভাড়ার বিষয় নয়, সড়ক অবরোধের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং সাধারণ মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজনৈতিক এই অচলাবস্থার ফলে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি রাজধানীর পুরো জনজীবন এখন এক অনিশ্চিত স্থবিরতার মুখোমুখি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাঝরাতে স্বরা ভাস্করের ঘরে মাতাল পরিচালকের অনুপ্রবেশের চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ পি.এম


মাঝরাতে স্বরা ভাস্করের ঘরে মাতাল পরিচালকের অনুপ্রবেশের চেষ্টা

বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর ক্যারিয়ারের শুরুতে এক পরিচালকের দ্বারা অস্বস্তিকর ও ভীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। অভিনেত্রীর দাবি, এক রাতে মদ্যপ অবস্থায় ওই পরিচালক তার কক্ষের দরজায় ক্রমাগত ধাক্কা দিতে শুরু করেন। এমনকি তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, দরজা ভেঙে ফেলতে পারেন।

সম্প্রতি রিয়্যালিটি শো ‘রাইজ অ্যান্ড ফল ২’-এ সহপ্রতিযোগীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরা সেই অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অভিনেত্রীর মতে, ‘তনু ওয়েডস মনু’ ছবির সাফল্যের পরপরই ঘটনাটি ঘটে। তখন তার বয়স বিশের কোঠায় ছিল। একটি ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য টানা ৫৬ দিন শুটিং করার পরিকল্পনা ছিল তার।

স্বরা জানান, ওই ছবির পরিচালক প্রথমে তাকে বলেছিলেন, পরিচালকদের অভিনয়শিল্পীদের ভালোবাসা প্রয়োজন। এরপর অভিনেত্রীর সৌন্দর্য নিয়ে কবিতা লিখে বার্তা পাঠাতে শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে পরিচালকের আচরণ তার কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে পরিচালক স্বরাকে একান্তে রোমান্টিক দৃশ্যের মহড়া দেওয়ার প্রস্তাব দেন। মহড়ার সময় কারা উপস্থিত থাকবেন, জানতে চাইলে পরিচালক জানান, সেখানে শুধু তারা দুজনই থাকবেন। তবে এতে আপত্তি জানান স্বরা। তার মতে, এমন মহড়ায় সহ-অভিনেতা ও ক্যামেরা বিভাগের সদস্যদের উপস্থিত থাকা উচিত।

অভিনেত্রী আরও জানান, তারা যে অতিথিশালায় অবস্থান করছিলেন, সেখানে একমাত্র নারী ছিলেন তিনি। পরে পরিচালক ও চিত্রগ্রাহককে মদ্যপ অবস্থায় দেখতে পান। পরিস্থিতি আতঙ্কিত হয়ে তিনি যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু এরপরও স্বস্তি পাননি অভিনেত্রী। তার দাবি, রাতে মদ্যপ অবস্থায় পরিচালক তার কক্ষের দরজায় বারবার ধাক্কা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ফেলা হতে পারে বলে তিনি ভয় পান।

স্বরা জানান, একসময় দরজা খুললে টলতে টলতে দাঁড়িয়ে থাকা পরিচালক তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন। অভিনেত্রী সরাসরি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু এরপরও পরিচালক বারবার একই আবদার করতে থাকেন।

স্বরা বলেন, তিনি পরিচালককে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তার আচরণে তিনি ভয় পাচ্ছেন। তবে ছবির পরিচালক হওয়ার কারণে ওই পরিস্থিতিতে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছিল তার।

এত বছর পরও সেই ঘটনার কথা প্রকাশ করলেও সংশ্লিষ্ট পরিচালকের নাম কিংবা ছবিটির পরিচয় জানাননি স্বরা ভাস্কর।

২০০৯ সালে ‘মাধোলাল কিপ ওয়াকিং’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় স্বরার। পরবর্তী সময়ে ‘তনু ওয়েডস মনু’, ‘রাঞ্ঝানা’, ‘তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস’ ও ‘ভিরে দি ওয়েডিং’-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে পরিচিতি পান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে ৩১তম জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়ন টুর্নামেন্ট শুরু ৫ অক্টোবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ পি.এম


রাজশাহীতে ৩১তম জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়ন টুর্নামেন্ট শুরু ৫ অক্টোবর

রাজশাহীতে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৩১তম অনূর্ধ্ব ১৮ রাজশাহী ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০টি দেশের মোট শতাধিক খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করবেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সহযোগিতায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্স এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের অর্কিড হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের ডিরেক্টর হাসিনুর রহমান টিংকু এ তথ্য জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, ৫ অক্টোবর সকাল ৯টায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এই প্রতিযোগনার উদ্বোধন করবেন। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১০ অক্টোবর সকাল ৯টায়। অংশগ্রহণকারী দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, চাইনিজ তাইপে, হংকং, নেপাল, জাপান, চায়না, কোরিয়া ও আমেরিকা। আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টে হাসিনুর রহমান টিংকু ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভারতের জয় মুখার্জী রেফারী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

সকল খেলোয়াড়, কোচ, অভিভাবক ও অফিসিয়ালদের আবাসনের জন্য রাজশাহী পর্যটন মোটেল, হোটেল এক্স এবং গ্রান্ড রিভার ভিউ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্ট রেফারী জয় মুখার্জী এবং মিডিয়া কমিটির আহবায়ক গোলাম মোস্তফা মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবার পাচ্ছে ১৬৫৭ মেট্রিক টন চাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ পি.এম


সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবার পাচ্ছে ১৬৫৭ মেট্রিক টন চাল

প্রজননের ভরা মৌসুমে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত রাখতে সরকার ১ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে।

এই বরাদ্দ দেশের ৩৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ শাখা থেকে জারি করা এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়েছে, পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন (৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত) ইলিশ আহরণে বিরত থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলেদের। এই সময়ে তাদের জীবনযাত্রা নির্বাহে মানবিক সহায়তা হিসেবে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে।

বরাদ্দের তালিকায় ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দেশের ইলিশ আহরণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেলার জেলে পরিবার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তালিকার উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের মধ্যে শরীয়তপুরে ২৬ হাজার ১২৯টি পরিবারকে ৬৫৩ দশমিক ২২৫ মেট্রিক টন, মানিকগঞ্জে ৯ হাজার ২৬২টি পরিবারকে ২৩১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন এবং রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ৫৯২টি পরিবারকে ১৩৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের জন্য মোট ১৯ হাজার ৪১১টি জেলে পরিবারের জন্য ৪৮৫ দশমিক ২৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবনায় ৩ হাজার ৫০০টি পরিবারকে ৮৭ দশমিক ৫ মেট্রিক টন, বগুড়ায় ১ হাজার ৮৯০টি পরিবারকে ৪৭ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন এবং নাটোরে ৭৫০টি পরিবারকে ১৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার জন্য মোট ১৬ হাজার ১২৬টি জেলে পরিবারের জন্য ৪০৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৯ হাজার ৬১৬টি পরিবারকে ২৪০ দশমিক ৪ মেট্রিক টন এবং গাইবান্ধায় ৬ হাজার ৫১০টি পরিবারকে ১৬২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়া ভিজিএফ চাল নির্বাচিত ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুসরণ করে বিতরণ করতে হবে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে চাল উত্তোলন ও বিতরণ সম্পন্ন করে নিরীক্ষার জন্য হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

সময়ের স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়ার এক কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে উপ-বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপ-বরাদ্দ পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অনুকূলে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিতরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি এবং ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। নিবন্ধিত বা কার্ডধারী জেলে ছাড়া অন্য কাউকে ভিজিএফ চাল দেওয়া যাবে না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকাল শুরুর আগে অর্থাৎ ৮ অক্টোবরের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ সম্পন্ন করতে হবে।

বিতরণ শেষে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রকৃত বিতরণকৃত ভিজিএফের বিবরণী মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধের পেছনে চীনের ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


ইরান যুদ্ধের পেছনে চীনের ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন আর শুধুমাত্র ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই সংঘাতের চারপাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে চীনের ভূমিকা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

চীন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত নয়। তবে ইরানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানকে মোকাবিলা করা জটিল হয়ে উঠছে।

অর্থাৎ, সংঘাতটি যদিও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে, তবে এর প্রভাব এবং স্বার্থের সঙ্গে চীনও জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। তা হলো, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত কি বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি পরোক্ষ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে? তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরাসরি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে। বরং ওয়াশিংটনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এবং সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত দুই দেশের স্বার্থকে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে আসছে। বিশেষ করে জ্বালানি, নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য।

এই বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান এবং স্বার্থের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যতে কোন দেশের প্রভাব কতটা থাকবে, তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

তাহলে ইরান সংঘাত সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-চীন যুদ্ধ নয়, তবে এটি দুই দেশের বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে জটিল করে তুলতে পারে।

চীন ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন

ইরানের যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চীন ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। যুদ্ধ শুরুর আগে চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ ইরান থেকে আসত। সংঘাত শুরু হওয়ার পরও তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে চীন তার অবস্থান ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চীনের কাছে তেল বিক্রি করে ইরান গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয় করছে। এই বাণিজ্যে চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলো বড় ভূমিকা রাখছে। এসব শোধনাগার দেশের বড় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির তুলনায় পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার ওপর কম নির্ভরশীল। ফলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের তেল কেনা তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ।

তবে ইরানের সঙ্গে চীনের এই বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও ব্যবস্থা নিয়েছে। ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চীনা কোম্পানি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের ওপর ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে, এমন প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নেটওয়ার্ককেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। ফলে ইরান-চীন সম্পর্ক এখন শুধু তেল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই সম্পর্ককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত স্বার্থের পার্থক্যও আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে একটি জটিল কৌশলগত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এক বিষয়। কিন্তু চীনের বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নিলে বিষয়টি জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিরোধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কিছু সরবরাহকারী ইরানে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তি পাঠিয়েছে। এসব পণ্য সাধারণ কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম এবং ড্রোন তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন।

এছাড়া জর্দানে মার্কিন সেনাদের একটি স্থাপনায় ইরানের হামলার আগে বা পরে ব্যবহৃত কিছু স্যাটেলাইট ছবি চীনা প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে চীন এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই অভিযোগকে তেমন গুরুত্ব দেননি। সব মিলিয়ে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সরাসরি কোনো সংঘাত না থাকলেও বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আধুনিক যুদ্ধে বাণিজ্যিক প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জামের পার্থক্য দিন দিন কমে আসছে। নেভিগেশন ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট ছবি, যোগাযোগ সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং উন্নত প্রযুক্তি এখন সামরিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কোনো দেশকে সরাসরি সেনা বা ক্ষেপণাস্ত্র না পাঠিয়েও সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করা সম্ভব। এসব সরঞ্জাম যুদ্ধের সময় একটি দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

এ কারণেই ইরানের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক এবং প্রযুক্তিগত সম্পর্কের ওপর নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক কাজে সরবরাহ করা কিছু প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার হতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে চীন-ইরানের স্বার্থের মিল

চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত করলে চীনের তেল সরবরাহ এবং অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চায়। চীনও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে উত্তেজনা এবং সামরিকীকরণের বিরোধিতা করে আসছে। ফলে এ বিষয়ে দুই দেশের স্বার্থের কিছুটা মিল রয়েছে।

চীন ইরানের পতন চায় না। একই সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হোক বা তেল সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিক, সেটিও বেইজিং চায় না। তবে চীন ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। বরং চীনা কর্মকর্তারা বারবার সংযম এবং আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের বৈধ অধিকার এবং স্বার্থের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও চীনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

তাহলে ইরানকে সমর্থন করলেও চীন এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যাতে তার জ্বালানি সরবরাহ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে যুদ্ধ

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব দেশটির সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে চীন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য এবং জ্বালানি সম্পর্ক চালু রাখছে। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা সীমিত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের স্বার্থ জড়িয়ে আছে। দুই দেশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে চায়। তাই এই সংঘাত তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত দুর্বলতাও সামনে নিয়ে আসছে। তবে ইরান যুদ্ধকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-চীন যুদ্ধ বলা ঠিক হবে না। দুই দেশ ইরানে একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করছে না। কিন্তু সংঘাতের কারণে দুই দেশের স্বার্থ এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্র যেখানে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং আর্থিক প্রভাব কাজে লাগাচ্ছে, সেখানে চীন বাণিজ্য, তেল কেনা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, ইরান যুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের প্রতিযোগিতাকে বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাবে? এই সংঘাত ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় দুই দেশের প্রভাব এবং সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%