১০:৩২ এম
ভেনেজুয়েলায় দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধারকারী দল ও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিবাহের মতো ২০০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
রবিবার দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের শহর কারাবালেদায় ধ্বংসস্তূপ থেকে একজন ব্যক্তি ও তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা এই উদ্ধার কার্যক্রম চালান।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষ করেন। এই উদ্ধার চলমান বিপর্যয়ের মধ্যে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময় (গোল্ডেন আওয়ার) ইতোমধ্যে চলে গেছে।
রবিবার ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ফলে এখন পর্যন্ত ৭৭৪টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় শহর লা গুয়ারায় হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা পরিবারের সদস্যদের খুঁজতে অনেকে খালি হাতে মাটি সরাচ্ছেন। একজন বাসিন্দা হেক্টর আগুইলেরা বলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না এবং তারা একাই চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, তারা জানেন তাদের স্বজনরা আর বেঁচে নেই, তবে শেষবারের মতো খোঁজ চালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এরপর সাধারণত উদ্ধার কাজ মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের দিকে চলে যায়। দেশটির রাজধানী কারাকাসে স্বেচ্ছাসেবকেরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে ড্রিল ও হাত দিয়ে কংক্রিট সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। অন্যদিকে সান বার্নারদিনো এলাকায় বড় স্ক্রিনে নিখোঁজ মানুষের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে, যাতে স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায়।
সরকার জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ১৫০ জন। তবে উদ্ধারকাজ চলমান অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ফার্মেসি ও দোকানে হামলা চালিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী লুট করা হচ্ছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, জীবিত মানুষ উদ্ধারের কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এটি বন্ধ করা হবে না। এই সময় তিনি সবাইকে আশা ধরে রাখার কথাও বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ত্রাণ পাঠাচ্ছে এবং আরো ২৩০ জন সেনা সদস্য উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে যোগ দিচ্ছেন। এর আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ৫২১ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ৮৬টি বিশেষ উদ্ধার ইউনিট এবং ২ হাজার ৭০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী কাজ করছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এখন অনেক এলাকায় শুধু ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজই বেশি দেখা যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৭০ কোটি ডলার, যা দেশের জিডিপির প্রায় ছয় শতাংশ। দেশটি আগে থেকেই দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে ছিল। এই দুর্যোগে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ও সরকারি সেবাব্যবস্থা আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে লাখ লাখ মানুষ জরুরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
এদিকে নির্বাসনে থাকা দেশটির বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো জানিয়েছেন, তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, এই সংকটের সময় সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে এবং একে অপরকে সহায়তা করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন