০৭:০৬ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত মুঘল আমলের ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক রীতির পানাম সেতুর সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। রবিবার তোলা হয়েছে। এই সেতুটির সংস্কারের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, যা দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। স্থানীয়দের দাবির মুখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সংস্কারকাজ চলাকালীন স্থাপত্যরীতির যথাযথ অনুসরণ হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৪ জুন) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কারিগররা বৃষ্টির মধ্যে চুন-সুরকির পেস্ট তৈরি করে সংস্কারকাজ করছেন। কিন্তু পুরনো ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে বর্তমান সময়ের মানহীন ইট। অথচ, পানাম সেতুতে ঐতিহাসিকভাবে মুঘল আমলের লাখোরি ইট বা বাদশাহি ইট ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ ইটের চেয়ে পাতলা লাল রঙের এই ইট বিশেষভাবে আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করা হয়। মানহীন ইট ব্যবহারে সেতুর ওজন বাড়াচ্ছে, যা সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উত্পন্ন করছে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ইউএনও’র হাত ধোয়ার প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সানজিদা আক্তার জানান, মুঘলরা শাসনকাজ পরিচালনার মাধ্যমে সোনারগাঁয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছেন। সেতুটি সেই সময় নির্মিত কয়েকটি সড়ক ও সেতুর মধ্যে অন্যতম। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৭৩ ফুট এবং প্রস্থ ১৪ ফুট, এতে খাঁড়া ইটের গাথুনি বৃত্তাকারে সন্নিবেশিত রয়েছে। কেন্দ্রস্থল খিলানটি বাকি দুটি খিলানের তুলনায় উঁচু ও প্রশস্ত, যার ফলে নিচ দিয়ে ছোট জলযান চলাচলের সুযোগ ছিল।
সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কবি শাহেদ কায়েস কালের কণ্ঠকে বলেন যে, মুঘল আমলের এই প্রত্নতাত্ত্বিক রীতির সংস্কারকাজে বেশ কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সেতুর পিলারের নিচে কোনো সংস্কার করা হচ্ছে না, যা সেতুটির স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া, প্রত্নতাত্ত্বিক নীতি অনুসরণ করেই সেতুটি সংস্কার করার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে করা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সোনারগাঁ শাখার কাস্টরিয়ান তানজিলুর রহমান জানিয়েছেন, মুঘল আমলের তিন খিলান বিশিষ্ট এ সেতুর সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি। তাই ইতিহাসের একটি অংশ হিসেবে সেতুটি সংরক্ষণের জন্য এটি সংস্কার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, 'প্রত্নতাত্ত্বিক রীতি মেনেই সংস্কারকাজ হচ্ছে। এর পরও কোনো ত্রুটি থাকলে জানাবেন, সংশোধন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।'
আরও পড়ুন: কবি রাধারমণ দত্তের গ্রামে গানবাজনা বন্ধের আবেদন জমা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন