প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাম রোগের কারণে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। রাজধানীর শিশু হাসপাতালে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, দুই ধরনের নিউমোনিয়া শিশুদের মধ্যে সমস্যা তৈরি করছে। হাম পরবর্তী জটিলতা কমানোর জন্য তারা ভিটামিন-এ'র ডোজ দেয়ার পরামর্শ দিলেন।
হামের সংক্রমণ তিন মাসেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিন গড়ে হাজারের ওপরে নতুন আক্রান্ত শিশু রয়েছে। ব্যাংক অফ বাংলাদেশের রোগী হিসেবে প্রায় সাড়ে ৬০০ শিশু হাম বা হাম সংক্রান্ত উপসর্গে মারা গেছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক লাখ দাঁড়িয়েছে।
যদিও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হামের রোগীর সংখ্যা কমানোর দাবি করেছেন চিকিৎসকরা, তবে তারা সংক্রমণের পরবর্তী জটিলতা নিয়ে চিন্তিত।
শিশু হাসপাতালে একজন হাম রোগীর মা বলেন, "সদর হাসপাতালে পাঁচদিন থাকতে হয়েছে এবং সেখানে হাম ধরা পড়েছে। আরও পাঁচদিন চিকিৎসা নিলেও ভালো হয়নি। তাই স্বাস্থ্যের জন্য ঢাকায় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।"
অপর একজন মা জানান, "গ্রামের চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেয়েছি এবং মানিকগঞ্জে শিশু হাসপাতালে ১২ দিন ছিলাম। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসায়ও কিছুই ভালো হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।"
চিকিৎসকদের মতে, হাম রোগের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে নিচ্ছে, ফলে নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু হাসপাতালে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। বিশেষ করে দুই ধরনের নিউমোনিয়া শিশুদের মধ্যে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, "যাদের পোস্ট মিডিলস নিউমোনিয়া হচ্ছে, তাদের ইমিউনিটি কমে যাচ্ছে। যার ফলে অন্যান্য ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে ইনফেকশন দেখা দিচ্ছে। এসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া চিকিৎসায় জটিলতা তৈরি করছে।"
হাম রোগ পরবর্তী জটিলতা কমাতে আক্রান্ত এবং সুস্থ শিশুদের দুই ডোজ ভিটামিন-এ দেয়ার জন্য শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুজ্জামান কামরুলের পরামর্শ রয়েছে। তিনি বলেন, "হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রত্যেককে প্রথম ও দ্বিতীয় দিন দুটো করে ভিটামিন-এ ট্যাবলেট খাওয়ানো প্রয়োজন। তবে যাদের কনজাংটিভাইটিস রয়েছে, তাদের তিনটি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খেতে হবে। এই ক্যাপসুলগুলো প্রথম, দ্বিতীয় এবং ১৪তম দিনে খেতে হবে।" ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ৫০ হাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট, ছয় মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত ১ লাখ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট এবং ১ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২ লাখ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিটে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল যদি প্রথম ও দ্বিতীয় দিন দেয়া হয়, তাহলে ইনফেকশনগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন