ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাক চালক নিহত


গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাক চালক নিহত

 জেলার কালিয়াকৈরে মালবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া ট্রাকের চালক নিহত হয়।

আজ বুধবার ভোরে উপজেলার ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের বোডঘর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত ট্রাক চালক সিরাজুল ইসলাম (৪০) গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চিত্তিপাড়া গ্রামের মৃত মানিক সরকারের ছেলে হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত

কোনাবাড়ি হাইওয়ে পুলিশের এসআই শফিক জানান, ভোরে ঢাকা থেকে মালবাহী একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। পথিমধ্যে ভোর সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের বোর্ডঘর এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এসময় চালক ট্রাকের ভিতরে আটকা পড়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এবং কোনাবাড়ি হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং চালক সিরাজুলকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উনাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক দুটি জব্দ করেছে হাইওয়ে থানা পুলিশ।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান বাসস’কে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর মৃতদেহ এবং ট্রাক দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'স্বজনরা এলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।'

আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলেই চাকরি হারাবেন চালক-হেলপাররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলেই চাকরি হারাবেন চালক-হেলপাররা

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং মাদকমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগে গণপরিবহন চালক, সুপারভাইজার এবং হেলপারদের জন্য ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সহযোগিতায় পরিচালিত এই কার্যক্রমে যদি মাদকসেবনের প্রমাণ মেলে তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি প্রচলিত আইনের অধীনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি হাসপাতালে পরিচালিত এই কার্যক্রমে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী স্থানীয় পরিবহনগুলোর চালক, সুপারভাইজার এবং হেলপারদের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। পরিবহনগুলোর মধ্যে রয়েল এক্সপ্রেস, পূর্বাশা পরিবহন, জে আর পরিবহন, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, দর্শনা ডিলাক্স, গোল্ডেন লাইন, জননী, নদীয়া, সাথী পরিবহন, রেখা পরিবহন, মামুন পরিবহন, শামীম এন্টারপ্রাইজ, নিউ মর্ডাণ পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন এবং বিআরটিসি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার মাধ্যমে যদি কোনো চালক, সুপারভাইজার বা হেলপারের শরীরে মাদকসেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জেলা পুলিশ দূরপাল্লার গণপরিবহনের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও দিয়েছে। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, নির্ধারিত সময় পর পর বাধ্যতামূলকভাবে চালক পরিবর্তন নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া কোনো চালককে দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালাতে না দেওয়া, চালকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিশ্চিত করে যানবাহন পরিচালনার অনুমতি দেওয়া, মাদকাসক্ত, অসুস্থ বা ক্লান্ত অবস্থায় কোনো চালককে গাড়ি চালাতে না দেওয়া, অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ড্রাইভিং পরিহার করা এবং ট্র্যাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলা। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

জেলা পুলিশের মতে, মাদকাসক্ত অবস্থায় যানবাহন পরিচালনা জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নিয়মিত ডোপ টেস্ট কার্যক্রম এবং পরিবহন খাতে প্রয়োজনীয় তদারকি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সকল পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, সুপারভাইজার এবং হেলপারদের মাদকমুক্ত থেকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যানবাহন পরিচালনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আনিস আহমেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আনিস আহমেদ

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আনিস আহমেদ। আনিস আহমেদ, যার ছবি সংগৃহীত, নির্বাচিত হওয়ার ঘটনার খবরটি ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। তার নিয়োগ কার্যকর হয়েছে গত সোমবার (২৭ জুলাই)। এর পূর্বে তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির (আরএমসি) চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংকটি আনিস আহমেদের নির্বাচনের তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আনিস আহমেদ সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। উল্লেখযোগ্য যে, ২৬টি দেশে পরিচালিত এমজিএইচ গ্রুপের ব্যবসা ফাস্ট ফ্যাশন, ই-কমার্স, অটোমোটিভ ও ইলেকট্রনিকস খাতের সাপ্লাই চেইন সল্যুশন, প্রাইভেট কনটেইনার টার্মিনাল, এয়ারলাইন, গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম, লজিস্টিকস, খাদ্য ও পানীয়ের খুচরা ব্যবসা এবং আর্থিক সেবাখাতে বিস্তৃত হয়েছে।

এছাড়া, আনিস আহমেদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেরও প্রতিষ্ঠাতা, যেমন রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘ওভাই’, ইনস্যুরটেক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াদা’ এবং আবাসন অ্যাগ্রিগেশন প্ল্যাটফর্ম ‘যাত্রা’। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি।

আনিস আহমেদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি বক্তব্যে বলেন, ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করা, ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার নেতৃত্বে ইবিএল দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ পি.এম


চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরীর আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এই ঘটনায় বিস্তারিত আসছে...

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেভাবে গুমের চেষ্টা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


যেভাবে গুমের চেষ্টা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ

আজ থেকে ৪৫ বছর আগে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নৃশংস এক সামরিক অভ্যুত্থানে খুন হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের পর বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তা মৃত রাষ্ট্রপতির ক্ষত-বিক্ষত মরদেহটি গুম করেন।

৪৫ বছর আগের সেই দিনের ঘটনার বিস্তারিত সমীক্ষা ছিল তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার গঠিত এক কমিশনের। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের একটি মুদ্রিত কপি ডেইলি স্টারের হাতে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুলিবিদ্ধ মরদেহের ময়নাতদন্তের সময় শরীরে পৃথক ২০টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি সংযুক্ত রয়েছে, যেখানে ক্ষতগুলোর ধরন ও ব্যাপ্তি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এতে তুলে ধরা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির মুখে বেশ কয়েকটি গুলি লেগেছে। তার নিচের চোয়ালের হাড় টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল এবং ঘাড়ের সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত খুব কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির কারণে এমনটি হয়েছিল। তার বুক ও পেটে প্রায় ১০টি গুলির ক্ষত, ডান হাতে দুটি, নাভির নিচে একটি এবং দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ছোট ক্ষত ছিল।

১৯৮১ সালের ৩০ মে সকালে এমন অবস্থায় রাষ্ট্রপতির মরদেহটি সার্কিট হাউসের ৪ নম্বর কক্ষের সামনে পড়ে ছিল। সেখানে গমনকারী বিভাগের কমিশনার ও পুলিশ কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মরদেহ পাহারায় রেখে যাওয়া হয় এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তাকে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এটি স্পষ্ট যে তারা উদ্বিগ্ন ও বিভ্রান্ত ছিলেন। ঘটনার সময় স্থানীয় সেনাবাহিনীর একটি অংশ ঘটিয়েছে এবং সেনাসদস্যরা টহলে রয়েছেন—এমন আশঙ্কায় তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন এবং রাষ্ট্রপতির মরদেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার জন্য নিজেদের সক্ষমতা ও বিবেচনাবোধ প্রয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। ওই দিন কমিশনারকে ডিভিশন সদর দপ্তরে ডেকে পাঠিয়েছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর।

সকাল সাড়ে ৮টায় দুটি সামরিক জিপ ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসজ্জিত একটি সেনা ভ্যান সার্কিট হাউসে পৌঁছায়। সেখান থেকে তিনজন মেজর ও ১০-১৫ জন সিপাহী নেমে এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তার মুখোমুখি হন। তারা আব্দুস সাত্তার ও আবুল কালামের ওপর অস্ত্রের মুখে চাপ সৃষ্টি করে দোতলায় নিয়ে যান। এরপর তারা রাষ্ট্রপতির কক্ষে ঢুকে তাদের কাছে ‘গোপন নথিপত্রের’ বিষয় জানতে চান এবং নিজেরাই কক্ষটিতে তল্লাশি শুরু করেন।

এনএসআইয়ের ওই দুই কর্মকর্তার একজন, উপসহকারী পরিচালক আব্দুস সাত্তার, তদন্ত কমিশনে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে এভাবে, 'তারা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংগ্রহ করে একটি স্যুটকেসে রাখেন। স্যুটকেসসহ আরও কিছু সামগ্রী নিচতলায় নামিয়ে আনা হয়। মেজররা আবুল কালামকে সেগুলো পাহারা দিতে বলেন এবং আব্দুস সাত্তারকে তাদের সঙ্গে দোতলায় যেতে বলেন। মেজররা অন্য কক্ষগুলোতে তল্লাশি চালান এবং সে সময় আব্দুস সাত্তার একজন মেজরের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মরদেহ পাহারা দিচ্ছিলেন।'

প্রতিবেদনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়, তারা একে অপরকে ‘মেজর মোজাফফর’ বলে ডেকে রাষ্ট্রপতির বিছানার চাদর নিয়ে আসতে বলেন। একটি সাদা চাদর দিয়ে মরদেহটি ঢাকা হয় এবং আরেকটি চাদর দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হয়। পরে কয়েকজন সিপাহীর সহযোগিতায় তারা রাষ্ট্রপতির মরদেহ নিচে নামিয়ে আনেন। একইভাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহসান ও ক্যাপ্টেন হাফিজের মরদেহও নিচে নামিয়ে তিনটি মরদেহই ভ্যানে তোলা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগলো প্রায় এক ঘণ্টা।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একজন জুনিয়র কমিশনড অফিসার (জেসিও) ও কয়েকজন সিপাহী একটি সামরিক জিপে সার্কিট হাউসে প্রবেশ করে এবং জিয়াউর রহমানের স্যুটকেসটি নিয়ে যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের মরদেহটি নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও তথ্য ছিল না যে সেটি কোথায় নেওয়া হয়েছে অথবা কোথায় সমাহিত করা হয়েছে।

১৯৮১ সালের ১ জুন বিদ্রোহী সরকারের পতন ঘটার পর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ডিং অফিসার ব্রিগেডিয়ার আজিজুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির মরদেহের সন্ধান শুরু করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি জানতে পারেন কাপ্তাই সড়কের কোথাও মরদেহটি দাফন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির এডিসি ক্যাপ্টেন মাজহারুল হক ও ব্যক্তিগত সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুর রহমান, ২৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খালেক, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ, পুলিশ ও এনএসআই সদস্যরা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দিকে রওনা দেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা কাপ্তাই সড়কের পাশে পাথরঘাটা গ্রামের একটি পাহাড়ের ঢালে কবরটির সন্ধান পান। জিয়াউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঈনুল আহসান ও ক্যাপ্টেন আশরাফুল হাফিজ খানের মরদেহ একটি গণকবরে দাফন করা হয়েছিল। মরদেহগুলো কবর থেকে তুলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখা এবং বিদ্রোহীরা যাতে সেটি নিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখে কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্রোহীরা প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মরদেহ সরিয়ে নেয়ার আগে সেটি সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে ঢাকা থেকে কোনো নির্দেশ বা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে প্রতীয়মান হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবেননি।

হত্যাকাণ্ডের তাত্ক্ষণিক পর তৎকালীন নৌবাহিনী প্রধান ও দুই প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাপ্রধান জানান, সকালে রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি তার মাথায় এসেছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম গ্যারিসন বিদ্রোহ করেছে—এ বিষয়ে তার কাছে নিশ্চিত তথ্য থাকায় এবং বিদ্রোহ দমন না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ সুরক্ষিত করার বিষয়টি বিবেচনার বাইরে ছিল।

ভোরে সার্কিট হাউসে যাওয়া নৌবাহিনী প্রধান জানান, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ তার কাছে কোনো সহায়তা চাননি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি শুধু সামরিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তার মরদেহের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল।

তিনি আরও জানান, ওই মুহূর্তে তার কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয় ছিল জাহাজগুলোকে সতর্ক করা এবং বন্দরে ছাড়ার জন্য প্রস্তুত রাখা, কারণ নদীতে নৌবাহিনীর জাহাজগুলো সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়েছিল।

ওই রাতে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সার্কিট হাউসে থাকা জনশক্তি ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মহিবুল হাসান জানান, তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজকে অবিলম্বে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। উত্তরে বলা হয়েছিল, মাহফুজ ওয়্যারলেসে সামরিক সচিবকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তারা হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাদের আশঙ্কা হয়, সেনাবাহিনী নিজেই হয়তো এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। Consequently, they left the circuit house with Dr. Badruddoza Chowdhury, as they believed it would no longer be appropriate to stay there.

ঘটনার দিন সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে সার্কিট হাউসে ঢোকেন তৎকালীন বিদ্যুৎ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এল কে সিদ্দিকী। তিনি কমিশনকে জানান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ তাকে বলেছিলেন, ঢাকায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাকে সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যেতেও বলা হয়েছিল।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী শামসুল হুদা চৌধুরী কমিশনকে জানান, ঢাকায় মন্ত্রিসভায় রাষ্ট্রপতির মরদেহ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এএসএম মুস্তাফিজুর রহমান কমিশনকে জানান, রাষ্ট্রপতির মরদেহ উদ্ধার করার বিষয়ে ঢাকায় মন্ত্রিসভা কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে তার মনে পড়ে না।

তিনি বলেন, এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে (চট্টগ্রামে) স্থানীয় কর্মকর্তারা নিজেদের উদ্যোগে কাজ করবেন, এটাই প্রত্যাশিত ছিল। তারা ব্যবস্থা নিতে পারতেন এবং পরে আলোচনা করে সেটার অনুমোদন দেয়া যেত।

কমিশন প্রশ্ন করলে স্থানীয় কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির মরদেহ নিয়ে কী করতেন— এর জবাবে তিনি বলেন, তারা মরদেহটি কোথাও লুকিয়ে রাখতে পারতেন। তার মতে, চট্টগ্রামের বাইরে মরদেহটি নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতো।

কমিশনের প্রতি মন্তব্য, তারা দেখেছেন, জাতীয় সংকটের মুহূর্তে এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার কথা মন্ত্রিসভার মাথায়ও আসেনি। মন্ত্রীরা স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নেয়ার প্রত্যাশা করলেও কমিশন তাদের বিষয়টি তুলনামূলক সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করেছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে সকালে মেজর জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে বৈঠকের সময় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি তুলেছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। তবে তাকে বলা হয়েছিল, সেনাবাহিনী মরদেহটির দেখভাল করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে সকাল থেকে ১ জুন ভোররাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহর অবরুদ্ধ ছিল।

কমিশনের ভাষ্য, ৩০ মে সকালে বিরাজমান অস্বাভাবিক ও গুরুতর পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে স্থানীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সার্কিট হাউস থেকে রাষ্ট্রপতির মরদেহ সরিয়ে নেয়া বাস্তবসম্মত ছিল না। বিশেষ করে ৩০ মে সকাল থেকেই সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে সেনাবাহিনীর একটি অভ্যুত্থান ঘটেছে, স্থানীয় সেনাবাহিনী চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং বেতার কেন্দ্র, টিঅ্যান্ডটি (টেলিফোন লাইন) ও বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনা ইউনিটগুলো অবস্থান নিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ঢাকা থেকে কোনো নির্দেশনা বা সাড়া না পাওয়ায় তাদের (স্থানীয় কর্মকর্তাদের) অসহায়ত্ব আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তারা 'অপেক্ষা করে পরিস্থিতি দেখার নীতি' গ্রহণ করেছিলেন এবং এ জন্য তাদের দোষ দেওয়া যায় না।

প্রতিবেদনে কমিশন উল্লেখ করে, সার্কিট হাউসে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখতে না পারার জন্য পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের কোনো সদস্যেরই আমরা কোনো দোষ খুঁজে পাইনি।

ময়নাতদন্তের পর জিয়াউর রহমানের মরদেহ বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন উড়োজাহাজে ঢাকায় আনা হয় এবং প্রথমে 'রাষ্ট্রপতি ভবন' ও পরে জাতীয় সংসদে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৮১ সালের ২ জুন তার জানাজার জন্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিশাল জনসমাগম হয়। এরপর মরদেহটি ক্রিসেন্ট লেকের পাশে দাফন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর ১টার দিকে মরদেহটি কবরে নামানোর সময় তিন বাহিনীর তিনটি কন্টিনজেন্ট সশ্রদ্ধ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল, সেনাবাহিনীর বিউগলবাদকেরা 'লাস্ট পোস্ট' বাজান, তিন বাহিনীর প্রধানরা নেতাকে স্যালুট জানান এবং সেখানে সমবেত বিপুল সংখ্যক জনতা আবেগ ও অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানকে হত্যার এক সপ্তাহের মাথায়; অর্থাৎ ৬ জুন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এ হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠন করেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সদস্য ছিলেন বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ আফজাল (যিনি পরে প্রধান বিচারপতি হন) এবং খুলনার জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ সিরাজউদ্দিন আহমেদ।

তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ মোট ৬২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয় সেই তদন্ত কমিশন।

কমিশনের তদন্তে যা উঠে এসেছে তার মূল কথা হলো, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই শিথিল ছিল যে সার্কিট হাউসে ব্যাপক অস্ত্রসজ্জা থাকা সত্ত্বেও হত্যাকারীরা প্রায় বিনা বাধায় তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়নি; তাদের জন্য যেন পুরো ঘটনাটি ছিল 'ভিনি, ভিডি, ভিচি'।

এই উক্তিটি জুলিয়াস সিজারের বিখ্যাত উক্তি। যার অর্থ, 'এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%