০৫:১৮ পি.এম
ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে খুব কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছেন যে, শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয়, বরং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক ও শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গারিবাবাদি এক পোস্টে বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মূল কারণ হচ্ছে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক দায়মুক্তি। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে, যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে অর্থহীন করে তুলছে এবং ফিলিস্তিনিদের পবিত্র স্থানসমূহের অবমাননা করছে।
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন কেবল কম খরচের এবং অকার্যকর নিন্দা প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না।” গারিবাবাদির মতে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো বাস্তবধর্মী ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। গারিবাবাদি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বৈরুতে বড় ধরনের হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে রাজি করিয়েছেন। তবে, ইরানি কূটনীতিকের মতে, এটি আমেরিকার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার কোনো প্রমাণ নয়, বরং এটি ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি প্রশ্ন করেন, “যদি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানীতে হামলার সিদ্ধান্ত একটি ফোন কলের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব হয়, তাহলে লেবাননের বিরুদ্ধে মাসের পর মাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, সামরিক আগ্রাসন এবং জনগণের বাস্তুচ্যুতি কেন অব্যাহত রইল?”
ইরান সরকারের এই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে যখন দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা ও হিজবুল্লাহকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি জাতিসংঘের ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন বিতর্কের উন্মেষ ঘটাতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন