০৫:২০ পি.এম
বৈশ্বিক বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের Team POLARIS, যা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পদার্থবিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘বিমলাইন ফর স্কুলস (BL4S) ২০২৬’-এ অর্জিত হয়েছে। ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা সংস্থা (CERN) দ্বারা আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার ১৩তম আসরে বিশ্বের ৮৯টি দেশের ৭১২টি গবেষণা প্রস্তাবনার মধ্য থেকে বিজয়ী পাঁচটি দলের একটি হিসেবে বাংলাদেশি দলটি নির্বাচিত হয়েছে।
BL4S-এর ১৩ বছরের ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের প্রথম বিজয়। সম্প্রতি CERN বিজয়ী দলগুলোর নাম ঘোষণা করেছে এবং এ বছরের বিজয়ী পাঁচটি দলের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের Team POLARIS, ভারতের Team attoPION, তুরস্কের Team PionIST 3, যুক্তরাজ্যের Team Mobile MIPs এবং যুক্তরাষ্ট্রের Team Centauri Stars। বিজয়ী দলগুলোর প্রস্তাবিত গবেষণা বাস্তবায়নের জন্য CERN এবং জার্মানির আন্তর্জাতিক মানের পার্টিক্যাল অ্যাক্সিলারেটর গবেষণা কেন্দ্র DESY ও ELSA-তে কাজ করার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের বিজয়ী দল Team POLARIS-এর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চৌমুহনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সালেহ আহমদ, সালমান আলম সোহান, মো. আব্দুল রহিম পরশ এবং এস এম তাওসিফ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের নাজিফা তাসনিম এবং রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাজিয়া তিতিম। তাদের কোচ হিসেবে ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (সিএসটিই) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নিশাদ আহমেদ জীবন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
এটি উল্লেখযোগ্য যে, একই শিক্ষার্থী ও কোচের সমন্বয়ে গঠিত আরেকটি দল ‘Team Geometry’ও এ বছর বিশ্বের সেরা ৫০টি দলের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। একই দলের দুটি ভিন্ন গবেষণা ধারণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়াকে সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের সক্ষমতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
BL4S বা Beamline for Schools, CERN-এর উদ্যোগে ২০১৪ সালে চালু হওয়া একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বাস্তব পার্টিক্যাল অ্যাক্সিলারেটরে পরিচালনাযোগ্য গবেষণার প্রস্তাব জমা দেয়। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত সেরা দলগুলোকে আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রে তাদের গবেষণা বাস্তবে পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হয়।
Team POLARIS-এর গবেষণার বিষয় হচ্ছে, ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিয়েশন থেরাপির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান স্কিন্টিলেটর। বর্তমানে ব্যবহৃত প্লাস্টিকভিত্তিক স্কিন্টিলেটর দীর্ঘমেয়াদে বিকিরণে দ্রুত কার্যকারিতা হারায়, যা চিকিৎসা ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণ বাড়ায়।
এই সমস্যা সমাধানে দলটি পলিসাইলক্সেনভিত্তিক একটি বিকল্প উপাদান প্রস্তাব করেছে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি বিকিরণ-সহনশীল ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। গবেষণায় যাচাই করা হবে যে, এটি উচ্চশক্তির ইলেকট্রন বিম মনিটরিংয়ে কার্যকর কি না। সফল হলে ক্যান্সার চিকিৎসা ও ডিটেক্টর প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
বিজয়ী হওয়ার ফলে Team POLARIS আগামী আগস্টে জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব বন-এর ELSA Particle Accelerator-এ তাদের গবেষণা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে এবং CERN পরিদর্শনেরও সুযোগ পাবে। বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের সঙ্গে কাজের এই সুযোগ তাদের জন্য একটি বিরল অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Team POLARIS-এর কোচ, নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী মো. নিশাদ আহমেদ জীবন বলেন, “আমরা শুরুতে এত বড় সাফল্যের প্রত্যাশা করিনি। এই গবেষণা সফল হলে ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপির ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে কমানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশকে এই পর্যায়ে তুলে ধরতে পেরে গর্বিত। ভবিষ্যতে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও বড় কিছু করা সম্ভব।”
দলের সদস্য সালমান আলম সোহান বলেন, “ছয় মাস আগে শুধু একটি প্রপোজাল সাবমিট করার ইচ্ছা ছিল, তখনও টিম ছিল না। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দুইটি প্রস্তাব জমা দিই। এত সাফল্য আশা করিনি। এটি আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। BL4S-এর বিজয়ীদের তালিকায় বাংলাদেশের নাম দেখতে পাওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য অনুভূতি।”
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মতে, Team POLARIS-এর এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গবেষণা সক্ষমতার শক্তিশালী প্রমাণ। CERN-এর মতো প্রতিষ্ঠানে স্বীকৃতি দেশের তরুণদের বিশ্বমানের বিজ্ঞানচর্চার সম্ভাবনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন