ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে ৩১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ


ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে ৩১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে নানা জটিলতার মধ্যেও। সরকার প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৩১ হাজার কোটি ৫৭ লাখ টাকার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৫৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং ১২ হাজার ৪৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বিপিসির নিজস্ব অর্থায়ন হিসেবে থাকবে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ সরকারি এবং ৪০ শতাংশ বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।

‘ইআরএল ইউনিট-টু’ প্রকল্পটি প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে বাস্তবায়িত হবে এবং এটি চালু হলে বছরে জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশীয়ভাবে পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং জ্বালানি ব্যয় হ্রাস পাবে।

সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইআরএল ইউনিট-টু প্রকল্পটি দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এগোচ্ছে। প্রকল্পটি পরিশোধিত জ্বালানির চাহিদার একটি বড় অংশ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ

প্রকল্পটির প্রাথমিক মৌলিক প্রকৌশল নকশা বা ফ্রন্ট-এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন (ফিড) ডকুমেন্ট তৈরির দায়িত্বে রয়েছে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান টেকনিপ। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৮ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রথম ইউনিট নির্মাণেও যুক্ত ছিল। বর্তমানে প্রকল্পের কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক নিয়োগের পাশাপাশি কারিগরি নকশা, ক্রয় ও নির্মাণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের মাঝামাঝি নির্মাণকাজ শুরু করে ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "প্রকল্পটিতে পাঁচটি বিদেশি লাইসেন্সদাতা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কারণে এটি অত্যন্ত জটিল একটি প্রকল্প।" সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নতুন করে আলোচনা ও দর-কষাকষি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক নিয়োগের কাজ চলছে। পরবর্তী ধাপে প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।

আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বর্তমান রিফাইনারির জ্বালানি পরিশোধনের মান উন্নত করা হবে। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ইউরো-৪ মানের জ্বালানি পরিশোধন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তা ইউরো-৬ মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জ্বালানিতে সালফারের পরিমাণ কমে আসবে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। নতুন প্ল্যান্টে ভারী জ্বালানি পরিশোধনের ব্যবস্থাও থাকবে, ফলে বিদ্যমান সক্ষমতার বাইরে আরও বৈচিত্র্যময় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড প্রকল্পের পরিচালক আছমা আরা বেগম বলেন, "নতুন প্ল্যান্টে ইউরো-৬ মানের জ্বালানি উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে।" পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা রিফাইনারিকেও ইউরো-৬ মানে উন্নীত করা হবে। এতে জ্বালানিতে সালফারের পরিমাণ কমে দুই পিপিএমে নেমে আসবে। এই পরিবর্তন পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে সহায়ক হবে। বিদ্যমান প্ল্যান্টের মান উন্নয়নের ফলে কার্বন ট্রেডিংয়ের সুবিধা পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধিতে ওয়ান ব্যাংক ও নগদের চুক্তি

নতুন ইউনিট চালু হলে জ্বালানি তেল পরিশোধনের পাশাপাশি লুব অয়েল, সালফার, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জেট ফুয়েলের মতো পণ্য উৎপাদন করা যাবে। বর্তমানে এসব পণ্যের কিছু অংশ আমদানি করে দেশের বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হয়। নতুন প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদার একটি বড় অংশ দেশীয় উৎপাদন থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প পরিচালক আছমা আরা বেগম জানান, নতুন ইউনিট থেকে লুব অয়েল ও সালফার উৎপাদিত হবে, যেগুলো আগে আমদানি করতে হতো। পাশাপাশি উপজাত হিসেবে এলপিজি উৎপাদনেরও আশা করা হচ্ছে। দেশে জেট ফুয়েলের যে চাহিদা রয়েছে, নতুন প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদনের মাধ্যমে তারও একটি বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক তেল পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪৫ লাখ টনে। একই সঙ্গে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দেশীয় চাহিদা পূরণের সক্ষমতা ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানির চাপ কমবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ১৮ থেকে ১৯ ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স প্রবাহ বছরে ১৩.৩% বেড়ে ২৫৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিলীপ আগারওয়ালাকে আরো ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


দিলীপ আগারওয়ালাকে আরো ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন

জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে চার দিনের রিমান্ড শেষে আরও সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছে পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া এ আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও আসামি আগারওয়ালার কাছ থেকে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রয়েছে। আসামির দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

এর আগে গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দশ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি দিলীপ কুমার আগারওয়ালা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। আসামি অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে মামলার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামির দশ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ চোরাচালানের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনের একটি মামলায় আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশও দেওয়া হয়।

হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করায় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আ. জব্বার বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নামোল্লেখসহ ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।

এর আগে সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় ঘিরে দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নিয়েছিল সংস্থাটি।

পরবর্তীতে জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই হত্যা মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। পরে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের বাদ দিয়ে ক্ষমতার জোরে সংবিধান সংশোধন টেকসই হবে না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


‘যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের বাদ দিয়ে ক্ষমতার জোরে সংবিধান সংশোধন টেকসই হবে না’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির মন্তব্য করেছেন, ‘৫ আগস্ট যারা রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, যারা লড়াই করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে শুধু এককভাবে সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ টেকসই হতে পারে না।’

তিনি রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় এই কথা বলেন, যা জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তির উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

শিশির মনির বলেন, ‘আপনারা গতকালও দেখেছেন সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই সংবিধান সংশোধন কমিটির স্ট্যাটাস কী? তারা কী পারে, আর কী পারে না? বাংলাদেশে যারা জুলাই বিপ্লব সংগঠিত করেছেন—তাদের প্রধান শক্তিগুলোকে বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ আমার বিবেচনায় কোনোভাবেই টেকসই হবে না। কথাটা একেবারে পরিষ্কার।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘৫ আগস্ট না হলে সংবিধান সংশোধনের প্রেক্ষাপট তৈরি হতো না। তাই ৫ আগস্ট যারা রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, যারা লড়াই করেছেন—তাদের বাদ দিয়ে একা একা সংবিধান সংশোধন টেকসই হতে পারে না। তাহলে এই উদ্যোগের অর্থ কী?’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার বিবেচনায়, একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার, যার মাধ্যমে ১৫তম সংশোধনী এসেছিল। এই সংশোধনী আমাদের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তাহলে এখন তারা যে সংশোধনী করছেন, সেটা কি টিকে থাকবে?’—এমন প্রশ্নও তিনি তোলেন।

শিশির মনির আরও বলেন, ‘আজ বেশ কয়েকজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সবার প্রশ্ন—যারা এভাবে সংবিধান সংশোধন করতে চান, তারা কি বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী? বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধন কি টেকসই করতে পারবে? তাহলে এই সংশোধনের মানে কী? আমার মনে হয়, এই সংশোধনটা ক্ষমতার জোর দেখানো ছাড়া আর কোনো অর্থ বহন করে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টের নির্দেশনা ও সরকারি পরিপত্রের পরও কেশরহাট স্কুল মাঠে মেলার তোড়জোড়, নিশ্চুপ কেন জেলা প্রশাসক ও ইউএনও?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


হাইকোর্টের নির্দেশনা ও সরকারি পরিপত্রের পরও কেশরহাট স্কুল মাঠে মেলার তোড়জোড়, নিশ্চুপ কেন জেলা প্রশাসক ও ইউএনও?

সরকারি পরিপত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার নথিও প্রশাসনের হাতে। এরপরও রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি অব্যাহত থাকার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। সরকারি বিধান ও আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে অবগত হওয়ার পরও কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হলে এর দায় এড়াবেন কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা?

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম এবং মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতারের দায়িত্ব পালন নিয়ে এখন জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে, ইউএনও নিজেই আইনবহির্ভূতভাবে মেলার অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে বক্তব্য দেওয়ার পরও মাঠে মেলার প্রস্তুতি চলতে থাকলে প্রশাসনের অবস্থান কী—তা স্পষ্ট করা জরুরি।

সরকারি পরিপত্রে স্পষ্ট বিধান, আদালতের নির্দেশনার প্রশ্নে প্রশাসনের দায় কোথায়?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-৭ শাখা থেকে ২০২২ সালের ২৯ জুন জারি করা ‘মেলা পরিপত্র, ২০২২’-এর ৫(চ) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবে না।”

পরিপত্রটির স্মারক নম্বর ২৬.০০.০০০০.১০৬.৮৬.০৮৬.১৫.১১১। দেশের অভ্যন্তরে বাণিজ্য মেলা আয়োজনসংক্রান্ত নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে পরিপত্রটি বর্তমানে কার্যকর এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন দেওয়ার আগে এর বিধান মানা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব।

অন্যদিকে, বরিশালের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বাণিজ্য মেলার আয়োজনসংক্রান্ত রিট পিটিশন নং ৬২৫৯/২০২৬-এর বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার নথিও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বরিশালের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে চেম্বার অব কমার্সের আয়োজনে বাণিজ্য মেলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে হাইকোর্টের নির্দেশনা আসে। সেই মামলার নথি ও সরকারি পরিপত্র সামনে থাকার পর রাজশাহীর কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে মেলার প্রস্তুতি চলার বিষয়টি প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বরিশাল ও রাজশাহী একই দেশের দুটি প্রশাসনিক অঞ্চল। সরকারি পরিপত্রের বিধান সারা দেশের জন্য প্রযোজ্য হলে শুধু স্থান পরিবর্তনের কারণে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে বরিশালের মামলায় দেওয়া আদালতের আদেশ কেশরহাটের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য কি না, তা আদেশের সুনির্দিষ্ট ভাষা, নির্দেশনার পরিধি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর এর প্রযোজ্যতার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি পরিপত্রের বিধান অনুযায়ী মেলার আয়োজনের বৈধতা যাচাই করাও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব।

আইনগতভাবে দুটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সরকারি পরিপত্রটি কার্যকর থাকলে এবং কেশরহাটের আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে সেটি মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হাইকোর্টের আদেশে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা মূল আদেশের ভাষা থেকে নির্ধারণ করতে হবে। আদেশের প্রযোজ্যতা যাচাই না করে কেশরহাটের আয়োজনকে সরাসরি আদালতের আদেশ অমান্য বলা সমীচীন হবে না। তবে আদালতের আদেশ ও সরকারি বিধান সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিষয়টি যাচাই এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

এ অবস্থায় জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর কাছে প্রশ্ন—সরকারি পরিপত্র ও আদালতের নির্দেশনার নথি পাওয়ার পর তাঁরা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? মেলার আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকলে, তার আইনগত ভিত্তি কী? আর অনুমোদন না দেওয়া হয়ে থাকলে মাঠে প্রস্তুতি চলার সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে?

প্রধান শিক্ষককে চাপে ফেলে অনুমতি আদায়ের অভিযোগ

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠটি শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শরীরচর্চা ও খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেই মাঠে বাণিজ্য মেলার আয়োজন ঘিরে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামকে চাপ প্রয়োগ করে মেলার অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক পরিস্থিতির চাপে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

প্রশ্ন হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ বাণিজ্য মেলার জন্য ব্যবহারের অনুমতি কী প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে? প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা থাকলে এর দায় কার? আর অনুমতিপত্র দেওয়া হয়ে থাকলে, সরকারি পরিপত্রের বিধানের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে?

শিক্ষার্থীদের মাঠের ব্যবহার নিয়ে এমন গুরুতর প্রশ্ন ওঠার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত বিষয়টি যাচাই করে স্পষ্ট অবস্থান জানানো। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং অনুমতির বৈধতা যাচাই না করে কোনো পক্ষকে দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইউএনওর বক্তব্যের পরও মেলার প্রস্তুতি চলছে কেন?

মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তালাশ বিডির স্টাফ রিপোর্টারকে জানান, স্কুলের মাঠ নিয়ে শুরু থেকেই তাঁর সন্দেহ ছিল। মেলার অনুমতিপত্র এখনো দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একই কথোপকথনে তাঁকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ থাকার বিধান এবং হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়ে জানানো হলে তিনি সংশ্লিষ্ট নথি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বলেন। নথি পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আইন অমান্য করে কোনোভাবেই মেলার অনুমতি দেওয়া যাবে না।

ইউএনওর এসব বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—তিনি যদি অনুমতি না দিয়ে থাকেন এবং আইন অমান্য করে মেলার অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে থাকেন, তাহলে মাঠে মেলার প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে কীভাবে? সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়ার পর তাঁর দপ্তর কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে বাস্তব পদক্ষেপের অগ্রগতি জানার প্রত্যাশা থাকতেই পারে। তাঁর বক্তব্য ও মাঠের পরিস্থিতির মধ্যে কোনো অসংগতি থাকলে তার ব্যাখ্যাও প্রয়োজন।

নথি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের ভূমিকা কী?

সংবাদটির বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে তাঁর সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র, হাইকোর্টের নির্দেশনার নথি এবং বক্তব্য জানতে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

একজন জেলা প্রশাসক জেলার প্রশাসনিক প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সরকারি বিধিবিধান বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারি পরিপত্র ও আদালতের নির্দেশনার নথি পাওয়ার পরও মেলার প্রস্তুতি চলতে থাকলে জেলা প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি।

জেলা প্রশাসকের কাছে প্রশ্ন—বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? মেলার আয়োজনের অনুমোদন বা প্রস্তুতির বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছে কি না? সরকারি বিধান ও আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকলে তা নিরসনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

বরিশালের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে কি রাজশাহী প্রশাসন?

বরিশালের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মেলা আয়োজনসংক্রান্ত আইনি বিরোধের ঘটনায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য রয়েছে। তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রত্যাহার করে ওএসডি করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুইজন সিনিয়র সচিবের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশ ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা যাচাইসাপেক্ষ।

এই প্রেক্ষাপটে রাজশাহীর প্রশাসনের সামনে প্রশ্ন—একই ধরনের আইনি বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরও কেন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হচ্ছে না? সরকারি বিধান বাস্তবায়নে কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা থাকলে তার দায় নির্ধারণ করা হবে কীভাবে?

তবে বরিশালের ঘটনায় নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে কেশরহাটের পরিস্থিতির সরাসরি তুলনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট আদেশ, তদন্তের ফলাফল এবং দুই ঘটনার প্রাসঙ্গিক পার্থক্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি নয়, বরং আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখানে মুখ্য। তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যকে কোনো কর্মকর্তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবেও দেখা যাবে না।

সরকারি বিধান ও আদালতের নির্দেশনা কি উপেক্ষিত থাকবে?

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর প্রশাসনের দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। সরকারি পরিপত্রের বিধান, আদালতের নির্দেশনা এবং অনুমতিপত্রের বৈধতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক ও ইউএনও সংশ্লিষ্ট নথি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে থাকেন, তবে তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। তাঁদের দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্যও প্রয়োজনীয় নথি ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা জরুরি। তবে যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো কর্মকর্তাকে আইনভঙ্গকারী বা আদালত অবমাননাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়; এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য, আইনি বিধান এবং আদালতের আদেশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

এদিকে, একটি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হবে।

কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে মেলার প্রস্তুতি নিয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে কী আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করে।

সরকারি পরিপত্র রয়েছে, আদালতের নির্দেশনার নথি প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে, ইউএনও আইন অমান্য করে মেলার অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে বক্তব্য দিয়েছেন—তারপরও মাঠে মেলার প্রস্তুতি চলার অভিযোগের ব্যাখ্যা কে দেবেন? জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে এখন জনস্বার্থে স্পষ্ট জবাবদিহি প্রয়োজন। আইন ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের প্রভাব যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিই এখন প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিলি প্রতি বছর ৭ জানুয়ারি ফিলিস্তিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব দিবস পালন করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


চিলি প্রতি বছর ৭ জানুয়ারি ফিলিস্তিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব দিবস পালন করবে

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ১৬ বছর পর, চিলি দেশটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চিলি-ফিলিস্তিন বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস’ উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে। নতুন আইন অনুসারে, ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে।

গত ২২ অক্টোবর চিলির সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ২১ হাজার ৮৪৩ নম্বর আইনে প্রতি বছর ৭ জানুয়ারিকে চিলি ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ‘বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দিবস পালনের মাধ্যমে দুই জনগণের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি, ফিলিস্তিনি জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষায় চিলির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার সুরক্ষাব্যবস্থার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটিতে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

আইনটিতে দুটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদে প্রতি বছর ৭ জানুয়ারিকে চিলি ও ফিলিস্তিনের বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে দুই জনগণের সম্পর্ক উদ্‌যাপনের জন্য স্মারক ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি আয়োজনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক নীতিমালা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি চিলির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম উত্থাপিত হয় আইনটির প্রস্তাব। পরবর্তী সময়ে এটি সিনেটে পাঠানো হলে সেখানে কয়েক দফা সংশোধনী আনা হয়। সিনেটে অনুমোদনের পর, চূড়ান্ত ভোটাভুটির জন্য প্রস্তাবটি আবারো চেম্বার অব ডেপুটিজে পাঠানো হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পায় প্রস্তাবটি। এর ফলে আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথ সুগম হয়।

সংসদীয় আলোচনায় আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সিনেটর ভ্লাদো মিরোসেভিচ বলেছেন, ‘আমি এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছি, কারণ এটি এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলে, যা চিলির কাছে অপরিচিত নয়; বরং এটি আমাদের নিজেদের ও আমাদের ইতিহাসের কথা বলে।’

তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং তাদের বংশধরেরা চিলির শিল্প, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের মাতৃভূমি ফিলিস্তিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও বজায় রেখেছেন।

সিনেটর সের্হিও গাহোনাও আইনটিকে নিছক প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই উদ্যোগের ওপর ভোট দেওয়া মানে শুধু ক্যালেন্ডারে একটি দিন নির্ধারণ করা নয়; বরং এমন একটি জনগণের গভীরভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, যারা আমাদের দেশের আত্মার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

গাহোনার মতে, বেথলেহেম, বেইত জালা ও বেইত সাহুর থেকে আসা পরিবারগুলো চিলির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন এই আইন সেই অবদান এবং চিলির সমাজে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত জনগণের গভীর শিকড়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%