০১:৫৬ পি.এম
জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে চার দিনের রিমান্ড শেষে আরও সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছে পুলিশ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া এ আবেদন করেন।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও আসামি আগারওয়ালার কাছ থেকে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রয়েছে। আসামির দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
এর আগে গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দশ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি দিলীপ কুমার আগারওয়ালা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। আসামি অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে মামলার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামির দশ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ চোরাচালানের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনের একটি মামলায় আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশও দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করায় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আ. জব্বার বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নামোল্লেখসহ ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।
এর আগে সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় ঘিরে দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নিয়েছিল সংস্থাটি।
পরবর্তীতে জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই হত্যা মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। পরে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন