ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

গ্রিস কি ইসরায়েলের ‘ট্রোজান হর্স’?


গ্রিস কি ইসরায়েলের ‘ট্রোজান হর্স’?

 

গত কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে ২০১৯ সালের শেষভাগ থেকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথে গ্রিসের সম্পর্ক এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আপাতদৃষ্টে এটিকে একটি ইউরোপীয় দেশের জ্বালানি ও বিনিয়োগের সাধারণ প্রচেষ্টা মনে হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে গ্রিসের এই আকস্মিক সক্রিয়তার পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে; প্রথমটি হচ্ছে ইসরায়েলের সাথে তাদের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত অক্ষ, এবং দ্বিতীয়টি হলো তুরস্কের সাথে চলমান দীর্ঘদিনের বিরোধ।

গ্রিসের এই উপসাগরীয় নীতি মূলত দুটি ধাপে অগ্রসর হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় এথেন্স একটি তুরস্ক-বিরোধী জোট গঠনে মনোযোগী ছিল। যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই ধারাবাহিকতায়, ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও ২০২১ সালে সৌদি আরবে গ্রিসের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি মোতায়েনের মতো ঘটনা ঘটেছিল।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে ভাসমান নৌকায় গুলিবিদ্ধ অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

তবে ২০২১ সালের পর তুরস্কের সাথে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করলে গ্রিসের সেই প্রথম দফার কৌশলগত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এর পর ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শুরু হয় গ্রিসের দ্বিতীয় দফার তৎপরতা, যার মূল লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানো এবং ইসরায়েলের কৌশলগত এজেন্ডাকে সেখানে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

বর্তমানে, গ্রিস তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ইসরায়েলের সাথে যেভাবে একীভূত করেছে, তা অন্য যেকোনো ইউরোপীয় দেশের চেয়ে ব্যতিক্রম। গ্রিসের সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামক আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে ইসরায়েলি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এর পাশাপাশি, ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রিসের ফাইটার পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং গ্রীক প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মালিকানা কিনে নিচ্ছে। সামরিক কর্মকর্তাদের এই যৌথ আদান-প্রদান এখন আর সাধারণ অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নেই, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ একীভূতকরণে রূপ নিয়েছে।

গাজা যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের শুরুতে মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর, যখন ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে ও কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা, ঠিক তখনই গ্রিস উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে নিজেকে নতুন নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে উপস্থাপন করছে। চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস ডেন্দিয়াস সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরব সফর করেন। অথচ এই আঞ্চলিক যুদ্ধের সময় গ্রিসের সামরিক ঘাঁটিগুলোকেই ব্যবহার করা হয়েছিল সেইসব রসদ সরবরাহের জন্য, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উপসাগরীয় রাজধানীগুলোর দিকে ধেয়ে এসেছিল।

মূলত, ইসরায়েল সরাসরি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা আলোচনায় অংশ নিতে না পারায়, তারা গ্রিসকে একটি মাধ্যম বা ‘ট্রোজান হর্স’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। গ্রিসের মাধ্যমে ইসরায়েলি অস্ত্র, সামরিক মতবাদ এবং গোয়েন্দা তথ্য পরোক্ষভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ছে। একই সাথে, ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর বা ‘আইমেক’ প্রকল্পের মাধ্যমে তুরস্ক ও মিসরকে বাদ দিয়ে জিপিএস ও ডেটা কেবলের মাধ্যমে আরব দেশগুলোকে ইসরায়েল-গ্রিস অক্ষের দিকে টেনে আনার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের নীতিনির্ধারকদের জন্য গ্রিসের সাথে যেকোনো চুক্তিতে সই করার আগে এর নেপথ্যের ইসরায়েলি সংযোগ ও দূরগামী প্রভাব খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী

সূত্র: মিডলইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিলিয়ন ডলার অর্থ উদ্ধারে কাতারে আলোচনায় বসছে ইরান: বাঘাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


বিলিয়ন ডলার অর্থ উদ্ধারে কাতারে আলোচনায় বসছে ইরান: বাঘাই

ইরান বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। আলোচনার বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়ন এবং নিজেদের আটকে থাকা বিলিয়ন ডলার তহবিল ফেরত পাওয়ার বিষয়ে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্যকে নিশ্চিত করেছেন।

মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আরও জানান, দোহায় কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আলোচনা হবে বুধবার। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে ইরানের আটকে থাকা কিংবা অবরুদ্ধ সম্পদ ও তহবিল অবমুক্ত করার বিষয়টিতে এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে, মার্কিন প্রতিনিধিদল কাতারে অবস্থান করলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের সরাসরি কোনো বৈঠক করার পরিকল্পনা নেই বলে তিনি স্পষ্ট বলেছেন।

অপরদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইতিমধ্যে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য দোহায় পৌঁছেছেন। কিন্তু তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের যৌথ বা মুখোমুখি বৈঠক হচ্ছে না।

এই ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল নিয়ে কাতারের মুখপাত্র আরও জানান, দেশটির ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের যে তহবিল আটকে রয়েছে, তা এখনও তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তবে চলমান আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী এই বিপুল অর্থ পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে কাতারের এই মধ্যস্থতা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুষ্টিকর খাবারের অভাবে এতিমখানার ৭৬ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


পুষ্টিকর খাবারের অভাবে এতিমখানার ৭৬ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীন

 

হাফিজুর ইসলাম মহানগরী খুলনার একটি বেসরকারি এতিমখানার শিক্ষার্থী। তার বয়স ১২ বছর এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবাকে হারিয়ে ফেলেছে।

এরপর থেকে তার আশ্রয় হয়েছে এমিতখানায়। এতিমখানায় জীবন নিয়ে তার একটি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার ভাষ্য, ‘বাসার কথা মনে হলে কষ্ট লাগে। অনেক সময় ইচ্ছে না হলেও কষ্ট করে এতিমখানার খাবার খেতে হয়। এখানে খেলাধুলার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।’

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার সরকারি ও বেসরকারি এতিমখানায় শিশুদের জন্য সুষম খাবারের অভাব রয়েছে। এভাবে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, এতিমখানার প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু প্রধানত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ করছে। এই পুষ্টির চরম অসামঞ্জস্য কারণে এতিমখানার শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এদিকে, সুষম খাবার থেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরাও বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের শর্করাগ্রহণের হার ২৪ শতাংশ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিন ও খুলনা সিটি করপোরেশন উইমেন্স কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিহা মাহাজাবিন।

গবেষকরা বলছেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খাবার তালিকায় শর্করা ছাড়া প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করা জরুরি। মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের জন্যও ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা প্রয়োজন।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, এতিমখানার ৮৯.৬ শতাংশ শিশুই মূলত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার, বিশেষ করে ভাত গ্রহণ করে। অপরদিকে, আমিষ পাওয়ার হার ৮ শতাংশ মাত্র। এর তুলনায় মধ্যবিত্ত পরিবারের ৬০ শতাংশ শিশু যথেষ্ট প্রোটিন গ্রহণ করছে, কিন্তু শর্করা গ্রহণ করছে ২৪ শতাংশ।

ফলে এতিমখানার শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এতিমখানার ২২.৪ শতাংশ শিশু তীব্র পুষ্টিহীনতায় এবং ৫৩.৬ শতাংশ শিশু মাঝারি ধরনের পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তাদের হাঁড়ের গঠন বা বুদ্ধি বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা আমিষ জোটে মাত্র ৮ শতাংশের ভাগ্যে। মোটের ওপর, ৭৬ শতাংশ এতিমখানার শিশু পুষ্টিহীনতার শিকার।

এছাড়া, মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৩.৬ শতাংশ শিশু তীব্র ও ৩২ শতাংশ শিশু মাঝারি পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। পাশাপাশি, এসব পরিবারের ৫২.৮ শতাংশ শিশু স্বাভাবিক পুষ্টির অধিকারী হলেও ১.৬ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় আক্রান্ত।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় শিশুদের জন্য চারটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলো হলো সরকারি শিশু পরিবার বালক, সরকারি শিশু পরিবার বালিকা, সরকারি ছোটমনি নিবাস এবং সমন্বিত শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে মোট ৫০০টি। এসব শিশুদের জন্য প্রতি মাসে বরাদ্দ পাঁচ হাজার টাকা, যার মধ্যে এক হাজার টাকা শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়। বাকি টাকা তিনবেলা খাবারের জন্য খরচ করা হয়।

এছাড়া, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ৭০টির বেশি বেসরকারি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং রয়েছে।

গবেষণার জন্য ১২৫ জন এতিম এবং ১২৫ জন মধ্যবিত্ত পরিবারের স্কুলগামী ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের সাক্ষাৎকার ও শারীরিক পরিমাপ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এতিমখানায় আসা শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি (৫০.৪ শতাংশ) মাত্র তিন থেকে ছয় বছর বয়সে সেখানে আশ্রয় নেয়। তাদের মধ্যে ৩১ শতাংশের বেশি এক কক্ষে ৭ থেকে ১০ জন, ২৪ শতাংশের বেশি এক কক্ষে ১৫ জন গাদগাদি করে বসবাস করে।

এতিমখানার ৪০ শতাংশ শিশুই অসুস্থতার সময় ভালো চিকিৎসা সুবিধা পায় না এবং ৭৯ শতাংশ শিশু অসুস্থ অবস্থায় কোনো বিশেষ খাবার বা বাড়তি যত্ন পায় না। এর পাশাপাশি, তারা খেলাধুলা বা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়।

গবেষণায় মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পরিবারের শিশুরা ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে বেকারি পণ্য ও অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুডের প্রতি বেশি ঝুঁকছে। ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এই শিশুরা।

গবেষকদলের প্রধান তোহরা সাফা বলেছেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে শুধু শর্করা নয়, খাবারের তালিকায় প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করা আবশ্যক। একইসঙ্গে, তাদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে এতিমখানাগুলোতে পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা এবং স্নেহপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদেরও ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা উচিত।

খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীন শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘প্রত্যেক শিশুর খাবারের জন্য চার হাজার টাকাসহ মাসে মোট বরাদ্দ পাঁচ হাজার টাকা। এই অর্থের মাধ্যমে সাধ্য অনুযায়ী তাদের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর প্রচেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে আমরা বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছি। বরাদ্দ বাড়ালে শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গবেষণা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: ইউজিসি সদস্য ড. আইয়ুব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


গবেষণা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: ইউজিসি সদস্য ড. আইয়ুব

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান সৃষ্টি করার সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বলেছেন, অগ্রগতির ভিত্তি হচ্ছে গবেষণা। কোন জাতি ভাল গবেষণা ও আবিষ্কার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না।

তিনি মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (আইআইইউসি) ‘রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম ২০২৫’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেছেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন (সিআরপি)।

আইআইইউসি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রালাইজড সাপোর্ট টু দ্যা নেটওয়ার্ক অব ইরাসমাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস এর এশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ড. মো. আশিকুর রহমান। অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন আইআইইউসি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আ ন ম শামসুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ হাসমত আলী, ট্রেজারার ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং প্রফেসর সামসুল আলম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলি নির্যাতনের কারণে ছয় মাসে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের জীবন করুণভাবে বদলে গিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


ইসরায়েলি নির্যাতনের কারণে ছয় মাসে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের জীবন করুণভাবে বদলে গিয়েছে

ইসরায়েলি বন্দিদশা কিভাবে একটি মানুষের জীবনকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে, এর জলজ্যান্ত উদাহরণ বহন করছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুজাহিদ বানি মুফলেহ। গত ২৮ জুন ২০২৫ তারিখে নাবলুসের বেইতা শহরের নিজ বাড়ি থেকে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়া তাকেও আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। দীর্ঘ ছয় মাস প্রশাসনিক আটকাদেশে থাকার সময়, গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মুক্তি পাওয়ার পর মুজাহিদ যে অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসেন, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২৫ কেজি ওজন হারিয়ে বসা চোখ আর ভেঙে পড়া শরীর নিয়ে ফিরে আসা মুজাহিদকে দেখে চেনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। আগে সম্পূর্ণ সুস্থ ৩৬ বছর বয়সী এই তিন সন্তানের জনক, কারাবন্দী অবস্থায় তৈরি হওয়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অনাহার এবং চরম চিকিৎসা অবহেলার শিকার হয়েছিলেন।

মুক্তির মাত্র দুদিন পর মস্তিষ্কে মারাত্মক রক্তক্ষরণ ও স্ট্রোকের ফলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা তার মাথার খুলির একটি অংশ কেটে ফেলে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার করেন, যার পর দীর্ঘ দুই মাস তিনি কোমায় ছিলেন। বর্তমানে জেনিনের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুজাহিদের প্রতিটি বাক্য এখন ধীর আর দীর্ঘ যন্ত্রণাময় বিরতিতে ভরা। তিনি নিজেই বলেছিলেন, নির্যাতনের মধ্যে তার শরীর ও কথা বলার ক্ষমতা ভেঙে পড়েছে, কিন্তু তার স্মৃতি এখনো বন্দিশালার সেই অন্ধকার দিকগুলোতে আটকে রয়েছে। সাংবাদিক হিসেবে তিনি সব সময় স্বপ্ন দেখেছিলেন, কারাগারের ভেতরের নির্মমতার গল্পগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন, কিন্তু স্ট্রোকের কারণে আজ তিনি নিজেই একটি করুণ গল্পের অংশ হয়ে গেছেন।

হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে মুজাহিদ স্মরণ করেন তার সেলমেটদের কথা, যারা নির্যাতনের ফলে কারাগারে জীবন হারিয়েছেন। তিনি জানান, পঞ্চাশোর্ধ্ব সমীর আল-রিফাইয়ের কথা, যাকে আদালত থেকে ফেরার পর ব্যাপক নির্যাতন করা হয় এবং পরে সেলে পেপার স্প্রে ছিটানোর পর তার মৃত্যু হয়। তিনি চোখের সামনে দেখেছেন ২০ বছর বয়সী তরুণ আহমদ তাজাজাহকে, যার মুখে নির্যাতনের সময় হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সামান্য অ্যান্টিবায়োটিকের অভাবে তার ক্ষত ইনফেকশন হয়ে এবং অনবরত বমি করে ছেলেটি এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বন্দিদশার এই ভয়াবহ দিনগুলিতে মুজাহিদ কেবল তার ছোট ছেলে আরবের কান্নার মুখটি মনে করে বেঁচে থাকার শক্তি খুঁজতেন, যে দৃশ্যটি তাকে গ্রেফতারের সময় নিজের চোখের সামনে ঘটেছিল।

মুজাহিদের স্ত্রী নুহা আল-শুরফা জানান, মুজাহিদের ফিরে আসা তাদের পরিবারের জন্য এক নতুন জীবন পাওয়ার মতো হলেও তার পুরোপুরি সুস্থ হওয়া এখনো অনেক দূরের পথ। ফুসফুসের জটিলতার আশঙ্কায় গত পাঁচ মাস ধরে তিনি ঠিকমতো পানি পর্যন্ত পান করতে পারছেন না। কারাগারের দিনগুলিতে মুজাহিদকে জীবনের এক চরম বাস্তবতা শিখিয়েছে, যেখানে এক টুকরো রুটি বা এক ঢোক ঠাণ্ডা পানি পাওয়ার স্বপ্নই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা। সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনে ফেরার লড়াইয়ে থাকা মুজাহিদ মনে করেন, বিছানা থেকে ওঠা বা ব্যথামুক্ত একটি রাত কাটানোর মতো সাধারণ বিষয়গুলোই মূলত জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তিনি এখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, শারীরিক অক্ষমতাকে পরাজয় দেন এবং কারাগারের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষগুলোর কণ্ঠস্বর তিনি দুনিয়ার সামনে তুলে ধরবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%