ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

বিলিয়ন ডলার অর্থ উদ্ধারে কাতারে আলোচনায় বসছে ইরান: বাঘাই


বিলিয়ন ডলার অর্থ উদ্ধারে কাতারে আলোচনায় বসছে ইরান: বাঘাই

ইরান বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। আলোচনার বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়ন এবং নিজেদের আটকে থাকা বিলিয়ন ডলার তহবিল ফেরত পাওয়ার বিষয়ে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্যকে নিশ্চিত করেছেন।

মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আরও জানান, দোহায় কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আলোচনা হবে বুধবার। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে ইরানের আটকে থাকা কিংবা অবরুদ্ধ সম্পদ ও তহবিল অবমুক্ত করার বিষয়টিতে এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে, মার্কিন প্রতিনিধিদল কাতারে অবস্থান করলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের সরাসরি কোনো বৈঠক করার পরিকল্পনা নেই বলে তিনি স্পষ্ট বলেছেন।

অপরদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইতিমধ্যে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য দোহায় পৌঁছেছেন। কিন্তু তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের যৌথ বা মুখোমুখি বৈঠক হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: অভিজিতের পর আটক হলেন নেহা বোরা, দিল্লি পুলিশের হাতে

এই ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল নিয়ে কাতারের মুখপাত্র আরও জানান, দেশটির ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের যে তহবিল আটকে রয়েছে, তা এখনও তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তবে চলমান আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী এই বিপুল অর্থ পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে কাতারের এই মধ্যস্থতা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুষ্টিকর খাবারের অভাবে এতিমখানার ৭৬ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


পুষ্টিকর খাবারের অভাবে এতিমখানার ৭৬ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীন

 

হাফিজুর ইসলাম মহানগরী খুলনার একটি বেসরকারি এতিমখানার শিক্ষার্থী। তার বয়স ১২ বছর এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবাকে হারিয়ে ফেলেছে।

এরপর থেকে তার আশ্রয় হয়েছে এমিতখানায়। এতিমখানায় জীবন নিয়ে তার একটি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার ভাষ্য, ‘বাসার কথা মনে হলে কষ্ট লাগে। অনেক সময় ইচ্ছে না হলেও কষ্ট করে এতিমখানার খাবার খেতে হয়। এখানে খেলাধুলার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।’

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার সরকারি ও বেসরকারি এতিমখানায় শিশুদের জন্য সুষম খাবারের অভাব রয়েছে। এভাবে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, এতিমখানার প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু প্রধানত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ করছে। এই পুষ্টির চরম অসামঞ্জস্য কারণে এতিমখানার শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এদিকে, সুষম খাবার থেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরাও বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের শর্করাগ্রহণের হার ২৪ শতাংশ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিন ও খুলনা সিটি করপোরেশন উইমেন্স কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিহা মাহাজাবিন।

গবেষকরা বলছেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খাবার তালিকায় শর্করা ছাড়া প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করা জরুরি। মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের জন্যও ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা প্রয়োজন।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, এতিমখানার ৮৯.৬ শতাংশ শিশুই মূলত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার, বিশেষ করে ভাত গ্রহণ করে। অপরদিকে, আমিষ পাওয়ার হার ৮ শতাংশ মাত্র। এর তুলনায় মধ্যবিত্ত পরিবারের ৬০ শতাংশ শিশু যথেষ্ট প্রোটিন গ্রহণ করছে, কিন্তু শর্করা গ্রহণ করছে ২৪ শতাংশ।

ফলে এতিমখানার শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এতিমখানার ২২.৪ শতাংশ শিশু তীব্র পুষ্টিহীনতায় এবং ৫৩.৬ শতাংশ শিশু মাঝারি ধরনের পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তাদের হাঁড়ের গঠন বা বুদ্ধি বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা আমিষ জোটে মাত্র ৮ শতাংশের ভাগ্যে। মোটের ওপর, ৭৬ শতাংশ এতিমখানার শিশু পুষ্টিহীনতার শিকার।

এছাড়া, মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৩.৬ শতাংশ শিশু তীব্র ও ৩২ শতাংশ শিশু মাঝারি পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। পাশাপাশি, এসব পরিবারের ৫২.৮ শতাংশ শিশু স্বাভাবিক পুষ্টির অধিকারী হলেও ১.৬ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় আক্রান্ত।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় শিশুদের জন্য চারটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলো হলো সরকারি শিশু পরিবার বালক, সরকারি শিশু পরিবার বালিকা, সরকারি ছোটমনি নিবাস এবং সমন্বিত শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে মোট ৫০০টি। এসব শিশুদের জন্য প্রতি মাসে বরাদ্দ পাঁচ হাজার টাকা, যার মধ্যে এক হাজার টাকা শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়। বাকি টাকা তিনবেলা খাবারের জন্য খরচ করা হয়।

এছাড়া, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ৭০টির বেশি বেসরকারি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং রয়েছে।

গবেষণার জন্য ১২৫ জন এতিম এবং ১২৫ জন মধ্যবিত্ত পরিবারের স্কুলগামী ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের সাক্ষাৎকার ও শারীরিক পরিমাপ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এতিমখানায় আসা শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি (৫০.৪ শতাংশ) মাত্র তিন থেকে ছয় বছর বয়সে সেখানে আশ্রয় নেয়। তাদের মধ্যে ৩১ শতাংশের বেশি এক কক্ষে ৭ থেকে ১০ জন, ২৪ শতাংশের বেশি এক কক্ষে ১৫ জন গাদগাদি করে বসবাস করে।

এতিমখানার ৪০ শতাংশ শিশুই অসুস্থতার সময় ভালো চিকিৎসা সুবিধা পায় না এবং ৭৯ শতাংশ শিশু অসুস্থ অবস্থায় কোনো বিশেষ খাবার বা বাড়তি যত্ন পায় না। এর পাশাপাশি, তারা খেলাধুলা বা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়।

গবেষণায় মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পরিবারের শিশুরা ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে বেকারি পণ্য ও অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুডের প্রতি বেশি ঝুঁকছে। ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এই শিশুরা।

গবেষকদলের প্রধান তোহরা সাফা বলেছেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে শুধু শর্করা নয়, খাবারের তালিকায় প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করা আবশ্যক। একইসঙ্গে, তাদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে এতিমখানাগুলোতে পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা এবং স্নেহপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদেরও ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা উচিত।

খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীন শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘প্রত্যেক শিশুর খাবারের জন্য চার হাজার টাকাসহ মাসে মোট বরাদ্দ পাঁচ হাজার টাকা। এই অর্থের মাধ্যমে সাধ্য অনুযায়ী তাদের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর প্রচেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে আমরা বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছি। বরাদ্দ বাড়ালে শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গবেষণা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: ইউজিসি সদস্য ড. আইয়ুব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


গবেষণা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: ইউজিসি সদস্য ড. আইয়ুব

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান সৃষ্টি করার সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বলেছেন, অগ্রগতির ভিত্তি হচ্ছে গবেষণা। কোন জাতি ভাল গবেষণা ও আবিষ্কার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না।

তিনি মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (আইআইইউসি) ‘রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম ২০২৫’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেছেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন (সিআরপি)।

আইআইইউসি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রালাইজড সাপোর্ট টু দ্যা নেটওয়ার্ক অব ইরাসমাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস এর এশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ড. মো. আশিকুর রহমান। অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন আইআইইউসি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আ ন ম শামসুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ হাসমত আলী, ট্রেজারার ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং প্রফেসর সামসুল আলম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলি নির্যাতনের কারণে ছয় মাসে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের জীবন করুণভাবে বদলে গিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


ইসরায়েলি নির্যাতনের কারণে ছয় মাসে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের জীবন করুণভাবে বদলে গিয়েছে

ইসরায়েলি বন্দিদশা কিভাবে একটি মানুষের জীবনকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে, এর জলজ্যান্ত উদাহরণ বহন করছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুজাহিদ বানি মুফলেহ। গত ২৮ জুন ২০২৫ তারিখে নাবলুসের বেইতা শহরের নিজ বাড়ি থেকে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়া তাকেও আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। দীর্ঘ ছয় মাস প্রশাসনিক আটকাদেশে থাকার সময়, গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মুক্তি পাওয়ার পর মুজাহিদ যে অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসেন, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২৫ কেজি ওজন হারিয়ে বসা চোখ আর ভেঙে পড়া শরীর নিয়ে ফিরে আসা মুজাহিদকে দেখে চেনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। আগে সম্পূর্ণ সুস্থ ৩৬ বছর বয়সী এই তিন সন্তানের জনক, কারাবন্দী অবস্থায় তৈরি হওয়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অনাহার এবং চরম চিকিৎসা অবহেলার শিকার হয়েছিলেন।

মুক্তির মাত্র দুদিন পর মস্তিষ্কে মারাত্মক রক্তক্ষরণ ও স্ট্রোকের ফলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা তার মাথার খুলির একটি অংশ কেটে ফেলে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার করেন, যার পর দীর্ঘ দুই মাস তিনি কোমায় ছিলেন। বর্তমানে জেনিনের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুজাহিদের প্রতিটি বাক্য এখন ধীর আর দীর্ঘ যন্ত্রণাময় বিরতিতে ভরা। তিনি নিজেই বলেছিলেন, নির্যাতনের মধ্যে তার শরীর ও কথা বলার ক্ষমতা ভেঙে পড়েছে, কিন্তু তার স্মৃতি এখনো বন্দিশালার সেই অন্ধকার দিকগুলোতে আটকে রয়েছে। সাংবাদিক হিসেবে তিনি সব সময় স্বপ্ন দেখেছিলেন, কারাগারের ভেতরের নির্মমতার গল্পগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন, কিন্তু স্ট্রোকের কারণে আজ তিনি নিজেই একটি করুণ গল্পের অংশ হয়ে গেছেন।

হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে মুজাহিদ স্মরণ করেন তার সেলমেটদের কথা, যারা নির্যাতনের ফলে কারাগারে জীবন হারিয়েছেন। তিনি জানান, পঞ্চাশোর্ধ্ব সমীর আল-রিফাইয়ের কথা, যাকে আদালত থেকে ফেরার পর ব্যাপক নির্যাতন করা হয় এবং পরে সেলে পেপার স্প্রে ছিটানোর পর তার মৃত্যু হয়। তিনি চোখের সামনে দেখেছেন ২০ বছর বয়সী তরুণ আহমদ তাজাজাহকে, যার মুখে নির্যাতনের সময় হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সামান্য অ্যান্টিবায়োটিকের অভাবে তার ক্ষত ইনফেকশন হয়ে এবং অনবরত বমি করে ছেলেটি এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বন্দিদশার এই ভয়াবহ দিনগুলিতে মুজাহিদ কেবল তার ছোট ছেলে আরবের কান্নার মুখটি মনে করে বেঁচে থাকার শক্তি খুঁজতেন, যে দৃশ্যটি তাকে গ্রেফতারের সময় নিজের চোখের সামনে ঘটেছিল।

মুজাহিদের স্ত্রী নুহা আল-শুরফা জানান, মুজাহিদের ফিরে আসা তাদের পরিবারের জন্য এক নতুন জীবন পাওয়ার মতো হলেও তার পুরোপুরি সুস্থ হওয়া এখনো অনেক দূরের পথ। ফুসফুসের জটিলতার আশঙ্কায় গত পাঁচ মাস ধরে তিনি ঠিকমতো পানি পর্যন্ত পান করতে পারছেন না। কারাগারের দিনগুলিতে মুজাহিদকে জীবনের এক চরম বাস্তবতা শিখিয়েছে, যেখানে এক টুকরো রুটি বা এক ঢোক ঠাণ্ডা পানি পাওয়ার স্বপ্নই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা। সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনে ফেরার লড়াইয়ে থাকা মুজাহিদ মনে করেন, বিছানা থেকে ওঠা বা ব্যথামুক্ত একটি রাত কাটানোর মতো সাধারণ বিষয়গুলোই মূলত জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তিনি এখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, শারীরিক অক্ষমতাকে পরাজয় দেন এবং কারাগারের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষগুলোর কণ্ঠস্বর তিনি দুনিয়ার সামনে তুলে ধরবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদীর বালু দিয়ে রাস্তা নির্মাণ: ইউএনওর বিরুদ্ধে অবৈধ উত্তোলনের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


নদীর বালু দিয়ে রাস্তা নির্মাণ: ইউএনওর বিরুদ্ধে অবৈধ উত্তোলনের অভিযোগ

নেত্রকোনার আটপাড়ায় নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহ্ নূর রহমানের বিরুদ্ধে। কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় সংযোগ রাস্তাটির নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটির জন্য ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে ৫ সদস্যের একটি কমিটির বিপরীতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিধান অনুযায়ী কাজের পূর্বের ৫০ শতাংশ টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। কিন্তু ওই বরাদ্দে কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রকল্প সভাপতি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি সরকারি পরিত্যক্ত খালের ওপর দুই পাশে বাঁধ দিয়ে ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ১০-১৫ হাজার ঘনফুট পরিমাণ সাদা ভিটি বালু ইতোমধ্যে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার তীব্র বাঁকের কারণে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ ছিল।

স্থানীয়দের মতে, যদি সংযোগ সড়কটি নির্মিত হয় তাহলে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। কিন্তু উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় বৈধ কোনো বালুমহাল না থাকলেও সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত বালু উপজেলার ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। কম খরচে বালু সংগ্রহের জন্য ওই এলাকার নদী থেকে রাতের আঁধারে বালু তুলে প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে রাস্তা নির্মাণ হলেও অন্যদিকে নদীর তীর ভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বালু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া জানান, প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম, বৈধভাবে ভৈরব ঘাট থেকে বালু আনতে প্রতি ঘনফুটে ১৯ টাকা খরচ হবে। কিন্তু প্রশাসন ১০ টাকা ঘনফুট দরে বালু নিতে চায়। পরে তাদের জানিয়েছেন, ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে রাস্তার কাজে সরবরাহ করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটাখলা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের রাস্তার কাজের দোহাই দিয়ে রাতের বেলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে দুই থেকে তিনটি নৌকায় বালু উত্তোলন করছেন সেলিম মিয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাগজে কলমে কমিটি ঠিক রেখেও নিজ তত্ত্বাবধানেই এই কাজটি করছেন। কেবল এই কাজ নয়, অন্যান্য একাধিক কাজ কাগজে কলমে কমিটি ঠিক রেখে নিজ ঠিকাধারীতে কাজ সম্পাদন করেন ইউএনও।

প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য রেণু মিয়া বলেন, আমাকে প্রকল্প সভাপতি করা হলেও এই বাজেটে কাজ করা সম্ভব নয় বলে অনাগ্রহ প্রকাশ করি। আমি কাগজে কলমে সভাপতি থাকলেও প্রশাসন স্বতন্ত্রভাবে কাজটি করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আব্দুল মমিন বলেন, কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ওই রাস্তার জন্য ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ৫০ শতাংশ টাকা ছাড় করা হয়েছে। কাজ সমাপ্ত হলে পূর্ণ অর্থ ছাড় করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ নূর রহমানের কার্যালয়ে একাধিকবার গেলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%