ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

অর্থনীতির গলার কাঁটা বাণিজ্য ঘাটতি, আমদানি বাড়লেও মূলধনি পণ্যে উল্টো চিত্র


অর্থনীতির গলার কাঁটা বাণিজ্য ঘাটতি, আমদানি বাড়লেও মূলধনি পণ্যে উল্টো চিত্র

চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্বিগুণের বেশি হারে বেড়ে যাওয়ায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৩৮২ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। এই হিসাবে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮৬ কোটি ডলার বেড়েছে, যা ২৯ শতাংশের বেশি। একই সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, কিন্তু আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে বৈদেশিক লেনদেনে রেমিট্যান্সের ইতিবাচক অবদান থাকলেও আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যহীনতা অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় ৮৩৮ কোটি ডলার হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৭৯২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। বিপরীতে, আমদানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে, যেখানে আগের বছর ছিল ১ হাজার ৮৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ, রপ্তানি যতটা বেড়েছে, আমদানি তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ তৈরি হয়েছে। জুলাই-আগস্টে ওভারঅল ব্যালান্সে ঘাটতি ৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ থেকে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহের কারণে চলতি হিসাব এখনো উদ্বৃত্ত রয়েছে। দুই মাসে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত ৫৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

আরও পড়ুন: লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় আটক সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলাম

বাণিজ্য ঘাটতির মূল কারণ হচ্ছে আমদানির দ্রুত বৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পণ্যভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, জুলাই-আগস্টে কাস্টমসের হিসাবে মোট আমদানি ১ হাজার ২৮৯ কোটি ৫৮ লাখ ডলার হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ছিল ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৩২ লাখ ডলার। এ হিসাবে আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

আমদানি বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে মধ্যবর্তী পণ্য থেকে। এ খাতে দুই মাসে আমদানি ব্যয় ৮৪৬ কোটি ২৮ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭১০ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ, মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আমদানি। জুলাই-আগস্টে এসব পণ্য আমদানিতে ব্যয় ২৪৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার হয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ১২৪ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে এ খাতে আমদানি দ্বিগুণ হয়েছে; প্রবৃদ্ধি ১০০ শতাংশ।

পেট্রোলিয়াম, অয়েল ও লুব্রিকেন্টস বা পিওএল আমদানির পরিমাণ ২২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের ১০৫ কোটি ৭২ লাখ ডলারের তুলনায় ১১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ফলে জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় বাংলাদেশি মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

শুধু জ্বালানি নয়, শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও বেড়েছে। তৈরি পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে জুলাই-আগস্টে ব্যয় ২৯২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

কাঁচা তুলা আমদানি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। তবে সুতা আমদানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং টেক্সটাইল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

অন্যান্য মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বেড়েছে ২ শতাংশ। এর মধ্যে তেলবীজ আমদানি বেড়েছে ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ওষুধজাত পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ। রাসায়নিক পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্লাস্টিক ও রাবারজাত পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে আমদানির সব খাতে বৃদ্ধি ঘটেনি। লোহা, ইস্পাত ও অন্যান্য বেস মেটালের আমদানি ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে এবং সার আমদানি ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

আরও পড়ুন: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের পথে?

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও দেশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত মূলধনি পণ্য আমদানিতে বরং বড় পতন দেখা গেছে। জুলাই-আগস্টে মূলধনি পণ্য আমদানি ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।

এ সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যয় ৫০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৫ কোটি ৭ লাখ ডলার। ফলে এ খাতে আমদানি কমেছে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যান্য মূলধনি পণ্যের আমদানিও কমেছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

অর্থাৎ, আমদানি বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে উৎপাদন ও ভোগের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং মধ্যবর্তী পণ্য থেকে; বিপরীতে বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে।

অন্যদিকে রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও তা আমদানির তুলনায় অনেক কম। জুলাই-আগস্টে মোট রপ্তানি শিপমেন্ট ৯১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন: অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রপ্তানিতে প্রধান অবদান তৈরি পোশাকের। দুই মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪১৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩৯৩ কোটি ৫২ লাখ ডলারের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৩২৯ কোটি ৮১ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের বাইরে জুট ও জুটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ১২ দশমিক ৮ শতাংশ, বিশেষায়িত বস্ত্র ১১ দশমিক ৪ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাদুকা ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

তবে মাছ ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি ১০ শতাংশ কমেছে। কৃষিপণ্য কমেছে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। চিংড়ি রপ্তানিতেও ২০ দশমিক ৩ শতাংশ পতন হয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতির বিপরীতে বৈদেশিক লেনদেনের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো রেমিট্যান্স। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৫৮২ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪৮৯ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। ফলে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে—১১৪ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এ দেশ থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৮৫ কোটি ৪৯ লাখ ডলার, যা ৫২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৫৪ কোটি ২ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশ।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫০ কোটি ৫১ লাখ ডলার এসেছে, যা ৮ দশমিক ১ শতাংশ কম। মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৪৩ কোটি ডলার, কমেছে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ কিছুটা সামলে নিয়েছে চলতি হিসাব। জুলাই-আগস্টে চলতি হিসাবে ৫৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শ্রমিকের ছদ্মবেশে ৩৩ নিষিদ্ধ সংগঠন সদস্য গ্রেফতার

তবে পণ্য বাণিজ্যের বাইরে সেবা ও প্রাথমিক আয় হিসাবে বড় ঘাটতি রয়েছে। দুই মাসে সেবা হিসাবে নিট ঘাটতি ৮৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার হয়েছে। সেবা খাতে আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ, কিন্তু পরিশোধও বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রাথমিক আয় হিসাবে ঘাটতি ৫৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। তবে আগের বছরের তুলনায় এ ঘাটতি কমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ঘাটতি ছিল ৮০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি আর্থিক হিসাবেও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। জুলাই-আগস্টে আর্থিক হিসাবে নিট ঘাটতি ১১৪ কোটি ২০ লাখ ডলার হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

‘অন্যান্য বিনিয়োগ’ হিসাবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে। এ খাতে নিট ঘাটতি ১৩১ কোটি ডলার। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণপ্রবাহও কমেছে। জুলাই-আগস্টে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এসেছে ২৯ কোটি ১০ লাখ ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এ ধরনের ঋণপ্রবাহ ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি, আর্থিক হিসাবের ঘাটতি এবং সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য—সব মিলিয়ে রিজার্ভের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। জুলাই-আগস্টে সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি ৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার হয়েছে। একই পরিমাণ রিজার্ভ সম্পদ কমেছে।

তবে দুই মাস শেষে দেশের স্থূল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৭ হাজার ৩৫২ মিলিয়ন বা ৩৭ দশমিক ৩৫২ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৪৪২ মিলিয়ন বা ৩২ দশমিক ৪৪২ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ দিয়ে পণ্য ও সেবার প্রায় ৫ দশমিক ২ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব ছিল।

সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ এবং চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে আমদানি যেভাবে রপ্তানির তুলনায় দ্রুত বাড়ছে, তাতে বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমেই বড় হচ্ছে।

বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ব্যয় দ্বিগুণ হওয়া এবং মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধির বিপরীতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে থাকায় বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্যে চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমে যাওয়ার বিষয়টিও অর্থনীতির জন্য আলাদা তাৎপর্য বহন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাব তাই একদিকে রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন এবং চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তের স্বস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানির ব্যবধান দ্রুত বাড়ার কারণে বাণিজ্য ঘাটতিই বৈদেশিক লেনদেনের প্রধান চাপ হিসেবে সামনে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ ছাপাখানা পরিদর্শন শিক্ষামন্ত্রীর, যাচাই করেন বইয়ের গুণগত মান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


হঠাৎ ছাপাখানা পরিদর্শন শিক্ষামন্ত্রীর, যাচাই করেন বইয়ের গুণগত মান

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল মিলন কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অবস্থিত ‘ফরাজী প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স’ পরিদর্শন করেন।

মন্ত্রী পূর্বঘোষণা ছাড়াই নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজের গুণগত মান যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রেসটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি সরাসরি পাঠ্যবই ছাপার কাজের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বইয়ের গুণগত মান এবং ছাপার কাজের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে ছাপার কাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বই ছাপার ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।

এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডক্টর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৫ বছর বিনা বেতনে শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষক রমণীকান্তকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সম্মাননা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


৫৫ বছর বিনা বেতনে শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষক রমণীকান্তকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সম্মাননা

বরিশালের আগৈলঝাড়ার রমণীকান্ত বেপারী ৫৫ বছর ধরে কোমলমতি শিশুদের বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই শিক্ষা সেবার জন্য এবার তিনি সম্মাননা লাভ করেছেন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা, সনদ ও দুই লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন রমণীকান্ত বেপারী।

ঢাকার আব্দুল গণি রোডের ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা গ্রামের পাঠশালার শিক্ষক রমণীকান্ত বেপারীর গলায় মেডেল পরিয়ে দেন। এই সময় তাঁর হাতে সম্মাননা সনদ ও দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে রমণীকান্ত বেপারীর পাঠশালার কথা জানার পর তিনি সেখানে সরেজমিন পরিদর্শনে যান। শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেখে তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।

সম্মাননা পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত রমণীকান্ত বেপারী বলেন, ‘আমি ৫৫ বছর ধরে বিনা বেতনে আমার পাঠশালার মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করে আসছি। কোনো দিন ভাবিনি, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা ও দুই লাখ টাকার চেক পাব। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

ইউএনও নিরুপম মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে রমণীকান্ত বেপারীর পাঠশালার কথা জানতে পারি। বিষয়টি বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার স্যারকে জানালে তাঁর নির্দেশে পাঠশালায় সরেজমিন যাই। সেখানে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেখে খুব ভালো লাগে। শিক্ষক রমণীকান্ত বেপারী একজন ভালো মানুষ। তাঁর মতো মানুষ সমাজে আছেন বলেই আমাদের দেশটা ভালো আছে।’

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই শিশুদের শিক্ষাদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এই সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কারে রমণীকান্ত বেপারীর সঙ্গে স্থানীয়রাও আনন্দিত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর এই সম্মাননা নিঃস্বার্থভাবে শিক্ষা ও মানবসেবায় নিয়োজিত অন্যদেরও উৎসাহিত করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের কাছে দুই মার্কিন শহর উৎসর্গ করার ইঙ্গিত, সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


ইরানের কাছে দুই মার্কিন শহর উৎসর্গ করার ইঙ্গিত, সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান শহর লস এঞ্জেলেস এবং সান দিয়েগোকে ইরানের সম্ভাব্য হামলার জন্য উৎসর্গ করার ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। তার একটি নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া মন্তব্যের পর মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেট নেতাদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজ দলের রিপাবলিকান নেতারাও তার এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে সান দিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া মন্তব্য করেছেন, "আমরা কখনই ‘সামান্য ক্ষতির বিনিময়’ হতে পারি না। আপনার এই দায়জ্ঞানহীন যুদ্ধবাণী থেকে আমাদের শহরকে দূরে রাখুন।"

এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ বলে মন্তব্য করেন। লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসও ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পরামর্শ দিচ্ছেন যে কোনো বিদেশী সরকার যেন লস এঞ্জেলেসে হামলা চালায়! আমাদের শহরকে নিয়ে তার এই ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এতে আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।"

এছাড়া, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইউএস হাউস আসনের প্রত্যাশী সান দিয়েগোর প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা জিম ডেসমন্ডও ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি ট্রাম্পের বক্তব্যের কঠোর বিরোধিতা করছি। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইরানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং আমাদের স্বার্থ রক্ষা করা। তবে একজন কমান্ডারের প্রথম দায়িত্ব হলো নিজ দেশের জনগণ ও মাতৃভূমিকে রক্ষা করা। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শহরই ফেলনা নয় এবং কোনো আমেরিকান পরিবারকেই যুদ্ধের বলি বানানো যায় না।"

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক ত্যাগ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প সম্প্রতি বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন। ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "বিশ্বকে এবং আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখার জন্য এটি খুবই সামান্য একটি মূল্য। তারা চাইলে একটি শহর উড়িয়ে দিতে পারে। তাদের লস এঞ্জেলেস বা সান দিয়েগো উড়িয়ে দিতে দিন।"

ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ঝড় তুলেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়: ড. আব্দুল মঈন খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়: ড. আব্দুল মঈন খান

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী না করে উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি উল্লেখ করেন, "শিক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের হেলাফেলা বা ছেলেখেলা করা যাবে না।"

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার আধুনিক মাল্টিপারপাস অডিটরিয়ামে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশের সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সরকার কার্পণ্য করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের অবদানেই শিক্ষকরা শতভাগ বেতন-সুবিধা পাচ্ছেন।

বেসরকারি শিক্ষকদের বিভিন্ন সুবিধা ও বেতন বৃদ্ধির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম শিক্ষকদের বেতন ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে বেগম খালেদা জিয়া আরো ৩০ শতাংশ যোগ করে বেতন ৮০ শতাংশে উন্নীত করেন। দীর্ঘসময় শিক্ষকদের ভাতা না বাড়ার পর ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির শতভাগ বেতন-ভাতা সুনিশ্চিত করে।

মঈন খান বলেন, বর্তমান সময়ে প্রায় ২৯ হাজার মাধ্যমিক ও প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষকেরা যে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন, তা বিএনপি সরকারেরই ধারাবাহিক অবদান। তিনি সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন ও আর্থিক সুবিধা সহজীকরণে বর্তমান সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষকরাই মানুষ গড়ার কারিগর এবং জাতির মেরুদণ্ড। তাই তিনি দেশের তরুণ সমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, অনেকে মনে করেন অস্ত্র বা পারমাণবিক বোমার কারণে আমেরিকা বিশ্বশক্তি হয়েছে, কিন্তু তা সঠিক নয়। তাদের প্রকৃত শক্তি হলো উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থা।

অনুষ্ঠানে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন খান ফাউন্ডেশন ও দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%