ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সরাইলে ৬ শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশ অভিভাবকরা


সরাইলে ৬ শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশ অভিভাবকরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষকসংকটের কারণে। দীর্ঘদিন ধরে ১০টি পদ শূন্য থাকায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ দায়িত্বরতরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে অভিভাবকেরা শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় ছাত্রদের জন্য একমাত্র ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩.৭৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ১৯৮৬ সালে জাতীয়করণ হয়। জাতীয়করণের পর থেকেই স্কুলটিতে শিক্ষকসংকটের সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস জানান, বিদ্যালয়ে মোট ১৮ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কাগজে-কলমে রয়েছেন মাত্র আটজন। এর মধ্যে প্রশিক্ষণে দুজন থাকায় পাঠদান কার্যক্রমের পুরো চাপ পড়েছে মাত্র ছয়জন শিক্ষকের ওপর।

আরও পড়ুন: ধামইরহাটে বিদ্যুৎ তারে ট্রাকের আগুন নেভাতে বিজিবির তৎপরতা

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন জানিয়েও সংকট দূর না হওয়ায় তিনি হতাশ। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রসংখ্যা ৫২৯ জন। তবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার মান ও পরীক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকসংকট কাটাতে দুজন অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে ১০টি শ্রেণির শাখায় পাঠদান কার্যক্রম বেসামাল হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে শাখা সংকুচিত করে মূল শাখায় শিক্ষার্থীদের এনে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, ইসলাম ও হিন্দুধর্ম এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক নেই বললেই চলে। নবম ও দশম শ্রেণির অভিভাবকদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ প্লাস (A+) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১০ জন; অন্যদিকে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্লাস পেয়েছেন ১৫ জন শিক্ষার্থী।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষকসংকট চললেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আরও পড়ুন: বড়দিনের জন্য চেয়েছিল দুই কোটি অনুদান, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি

অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার মূল বিষয়সহ বাংলা, ইংরেজি ও ধর্মের মতো আবশ্যিক বিষয়ের শিক্ষকও নেই। তারা সন্তানের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতেও সমস্যায় পড়ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিদ্যালয়টি তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে শূন্যের কোঠায় পৌঁছাবে।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সার্ধশতবর্ষ পূর্তি উৎসবের নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দীর্ঘদিনের এই শিক্ষকসংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও বোদ্ধাজনেরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষক শূন্যতার বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন এবং শিক্ষক পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।

নবযোগদানকৃত সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, সরকারি এই স্কুলের শিক্ষকসংকটের বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত জানানোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আশা করছেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে।

আরও পড়ুন: মোরেলগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপির মটর শোভাযাত্রা

দেড়শ বছরের পুরোনো এই বিদ্যাপীঠের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, দ্রুত শূন্য পদে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, এলাকাবাসী, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং উপজেলা নাগরিক কমিটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় এক রাতে ৩৮৫ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


কুমিল্লায় এক রাতে ৩৮৫ জন আটক

কুমিল্লায় শিল্প-কারখানা শ্রমিক বিশৃঙ্খলার উসকানিদাতা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য এবং কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে ৩৮৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ১১টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মাসুদ রানা (২৬) নামের একজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মূল উসকানিদাতা। মাসুদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছিলেন। এছাড়া, জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা এবং কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না দেওয়ার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোরদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপদ নগরী গড়ার লক্ষ্যে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রশাসনের নিষেধের মধ্যেই ছদ্মবেশে গভীর রাতে মাহফিলে তাহেরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


প্রশাসনের নিষেধের মধ্যেই ছদ্মবেশে গভীর রাতে মাহফিলে তাহেরী

 

প্রশাসনের মৌখিক নিষেধাজ্ঞা ও বাধার আশঙ্কার মধ্যেই সিনেমাটিক কায়দায় ছদ্মবেশ ধারণ করে গভীর রাতে মাহফিলে উপস্থিত হয়েছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে তাঁর এমন ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ১১টায় নাসিরনগরের ইসাপুর সৈয়দ মঞ্জিল দরবার শরিফে পূর্বনির্ধারিত মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে কয়েকজন কওমিপন্থী আলেমের আপত্তির পর সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে মাহফিলে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে মুখে কাপড় ও মাথায় সবুজ পাগড়ি জড়িয়ে মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে মাহফিলে উপস্থিত হন তাহেরী। এ সময় তাঁর সঙ্গে মোটরসাইকেলের একটি বহরও ছিল। পরে তিনি মাহফিলে ওয়াজ করেন। ওই এলাকায় এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় ওয়াজ মাহফিল বলে জানা গেছে।

মাহফিল শেষে বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে স্থান ত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে পুরো ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তাহেরী।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন কওমিপন্থী আলেম মৌখিকভাবে মাহফিল বন্ধের বিষয়ে তাঁদের জানিয়েছিলেন। সম্ভাব্য গোলযোগ এড়াতে তাহেরীকে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। পরে তাঁরা শুনেছেন, তিনি এসে মাহফিল করেছেন। সারারাত এসব বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। তবে মাহফিল আয়োজনে পুলিশের কোনো বাধা নেই।

এ বিষয়ে প্রেসক্লাব নেতা ফরাশ উদ্দিন বলেন, একজন বক্তা মাহফিল করবেন, এতে বাধা থাকার কথা নয়। কারও দ্বিমত থাকলে মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তা নিরসন করা যেতে পারে। সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা ইসলামের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। আলোচনার মাধ্যমেই মতবিরোধের সমাধান হওয়া উচিত।

অন্যদিকে মাহফিলের আয়োজকেরা বলেন, মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না। সত্য, ন্যায় ও নবীপ্রেমের বার্তা প্রচারে বাধা দেওয়া উচিত নয়। বিরোধিতার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানান তাঁরা।

এদিকে ছদ্মবেশে তাহেরীর মাহফিলে যোগ দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুরুদাসপুরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য আলাদা কবরস্থান, জমি কেনা সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


গুরুদাসপুরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য আলাদা কবরস্থান, জমি কেনা সম্পন্ন

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা মৃত্যুর পর দাফনের স্থান নিয়ে বৈষম্যের শিকার হতেন। সামাজিক কবরস্থানে তাদের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতির সমাধানে উপজেলা প্রশাসন তাদের জন্য চার শতাংশ জমি কিনেছে। ফলে, এবার তারা নিজেদের জন্য নির্ধারিত কবরস্থানে শেষ আশ্রয় পাবে।

তিন বছর আগে শীতকালে মারা যান তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য ছোহা (৩০)। স্থানীয় কবরস্থানে তার মরদেহ দাফনের অনুমতি না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বাড়ির আঙিনায় কবর খুঁড়ে তাকে সমাহিত করেন। একইভাবে গুরুদাসপুরের হিজড়া সম্প্রদায়ের গুরুমাতা নদী সরকারের বাবাকেও স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হয়নি।

নদী সরকার এসব অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের বাসিন্দা। তবে এবার নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় তিনি উচ্ছ্বসিত।

তিনি বলেন, "এত দিন তাদের মৃত্যুর পর দাফনের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা ছিল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের উদ্যোগে এখন সেই সংকটের সমাধান হয়েছে।"

জানা গেছে, কুমারখালী গ্রামের ব্যবসায়ী তৌফিক আলীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকায় চার শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। জমি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। জমির গ্রহীতা হিসেবে হিজড়া সম্প্রদায়ের পক্ষে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ গুরুমাতা নদী সরকারের হাতে জমির দলিল তুলে দেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেনা এ জমি পুরো উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তৃতীয় লিঙ্গের গুরুদাসপুর উপজেলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় এ সম্প্রদায়ের ৪৫ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনের বসবাস কুমারখালী গ্রামে। অধিকাংশের স্থায়ী কর্মসংস্থান ও নির্ভরযোগ্য আবাসন নেই। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের নামে একটি স্থায়ী কবরস্থান পাওয়াকে তারা বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। ইতিমধ্যে জমিটি বুঝে নিয়েছেন তারা। এখন মৃত্যুর পর নিজেদের জমিতেই সমাহিত হওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন।

সম্প্রদায়ের সদস্য নুপুর, সোনালী, সৌখীন, মাধবী, ইতি ও দীপা বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ায় সমাজে নানা ধরনের কটূক্তি ও বৈষম্যের শিকার হতে হয় তাদের। জন্মগত পরিচয়ের কারণে অনেকেই তাদের স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন না। বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদের ব্যবহার করা হলেও বিপদে পাশে দাঁড়াতে চান না অনেকে।

তাদের ভাষ্য, জীবিত অবস্থায় নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়। তবে মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের। গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের দাফনে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি নদী সরকারের বাবা আহাদ আলীকেও স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পর্যায়ের এক সভায় নিজেদের জন্য স্থায়ী কবরস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন নদী সরকার। এরপর শুরু হয় জমি কেনার উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত ইউএনওর সহযোগিতায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, মৃত্যুর পর তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হয় না—বিষয়টি জানার পর তিনি ব্যথিত হন। অন্তত মৃত্যুর পর যেন তারা নিজেদের জমিতে সমাহিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সম্প্রদায়ের সদস্যদের পুনর্বাসনসহ আরো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি নাগরিক সমাজের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি নাগরিক সমাজের

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া দরিদ্র জনগণের পুনর্বাসন, স্থায়ী আবাসন, মৌলিক নাগরিক সেবা এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারের সদস্যরা। এই দাবির জন্য নগর দরিদ্রদের কেন্দ্র করে অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিকল্পনা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি তহবিল (লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড) থেকে তাদের অধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত এক নাগরিক সংলাপে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমাগত বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে আশ্রয় নেওয়া দরিদ্র জনগণের বহুমুখী সংকট, তাদের জীবনসংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

‘জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর দরিদ্রের সংকট’ শীর্ষক এই সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ (বারসিক) এবং চিলড্রেন'স ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডব্লিউএফ)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বারসিক-এর পরিচালক মো. কামরুজ্জামান এবং ধারণাপত্র পাঠ করেন সিডব্লিউএফ-এর চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী। সঞ্চালনায় ছিলেন বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সংলাপে ঢাকা, রাজশাহী ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের বিভিন্ন বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া প্রান্তিক জলবায়ু-উদ্বাস্তু পরিবারের প্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতারা উপস্থিত হয়ে তাদের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেন।

গবেষণায় উঠে আসা তথ্যে দেখা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় (সিডর, আইলা, আম্পান, রেমল), তীব্র লবণাক্ততা, নদীভাঙন এবং উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে প্রায় ৭০% বস্তিবাসী গ্রাম থেকে শহরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন, বরিশাল, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর-কয়রা অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের শহরের বস্তিতে টিকে থাকার সংগ্রাম অত্যন্ত অমানবিক।

সংলাপে প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী বক্তারা জানান, গ্রাম ছাড়ার পর তারা কেবল বাসস্থানই হারাননি, হারিয়েছেন তাদের বহু বছরের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। শত কষ্ট সয়ে শহরে এসে তারা জরাজীর্ণ ঘর, অনিরাপদ পানি, অপরিশোধিত স্যানিটেশন, তীব্র তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোক, বর্ষায় ড্রেনের বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে চর্মরোগ ও ডেঙ্গুর মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন। পাশাপাশি, দিনমজুর ও রিকশাচালকদের অনিয়মিত আয়, অপরাধের ভয়াবহতা এবং সমাজ ও নাগরিক পরিবেশের তুচ্ছতাচ্ছিল্য তাদের আত্মসম্মান ও মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত নগর দরিদ্র জনগণের পক্ষ থেকে ৮ দফা প্রধান দাবি ও সুপারিশ উত্থাপন করা হয়: ১. সমেত নগর পরিকল্পনা: শহরকে ধনী-দরিদ্র সবার উপযোগী করতে নগর প্রান্তিক মানুষকে কেন্দ্রে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা। ২. বিশেষ বাজেট বরাদ্দ: নিম্ন আয়ের মানুষের জলবায়ু অভিযোজন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে শক্তিশালী করে পৃথক বাজেট দেওয়া। ৩. আশ্রয় ও পুনর্বাসন: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতদের নিজ এলাকায় বা নিকটস্থ শহরে আবাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ৪. বস্তির ঘরের মানোন্নয়ন: বস্তির জরাজীর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা। ৫. মৌলিক নাগরিক সেবা: শহরের দরিদ্র জনগণের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা। ৬. আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা: তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত নিয়ে বস্তিবাসীদের আগাম পূর্বাভাস ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ৭. স্থায়ী আবাসন ও উচ্ছেদ বন্ধ: উচ্ছেদহীন ও ভয়হীনভাবে বসবাসের জন্য জলবায়ু-উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর স্থায়ী আবাসনের নিশ্চয়তা দেয়া। ৮. ক্ষয়ক্ষতি ফান্ড: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড' (ক্ষয়ক্ষতি তহবিল) থেকে বস্তিবাসীদের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে গ্রামে কর্মসংস্থান ও ভিটেমাটি হারানো মানুষগুলো যখন বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে শহরে আসেন, তখন তাদের প্রতি নাগরিক সমাজের সহমর্মিতা ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যক। কপ৩১ পরবর্তী এই সময়ে আমাদের নগর নীতিতে জলবায়ু অভিগমন বা ক্লাইমেট মাইগ্রেশনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সংলাপে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, পরিবেশকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে জোর তাগিদ দিয়ে বলেন যে, নগরের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোগত হলে চলবে না; তা হতে হবে মানবিক ও টেকসই।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের কনভেনর মিহির বিশ্বাস, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) ট্রেজারার আমিনুল রসুল, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: লেলিন চৌধুরী, কোয়ালিশন ফর আরবান পুওর (কাপ)-এর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রেবেকা সান-ইয়াত প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%