০১:২৩ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষকসংকটের কারণে। দীর্ঘদিন ধরে ১০টি পদ শূন্য থাকায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ দায়িত্বরতরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে অভিভাবকেরা শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় ছাত্রদের জন্য একমাত্র ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩.৭৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ১৯৮৬ সালে জাতীয়করণ হয়। জাতীয়করণের পর থেকেই স্কুলটিতে শিক্ষকসংকটের সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস জানান, বিদ্যালয়ে মোট ১৮ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কাগজে-কলমে রয়েছেন মাত্র আটজন। এর মধ্যে প্রশিক্ষণে দুজন থাকায় পাঠদান কার্যক্রমের পুরো চাপ পড়েছে মাত্র ছয়জন শিক্ষকের ওপর।
আরও পড়ুন: ধামইরহাটে বিদ্যুৎ তারে ট্রাকের আগুন নেভাতে বিজিবির তৎপরতা
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন জানিয়েও সংকট দূর না হওয়ায় তিনি হতাশ। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রসংখ্যা ৫২৯ জন। তবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার মান ও পরীক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকসংকট কাটাতে দুজন অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে ১০টি শ্রেণির শাখায় পাঠদান কার্যক্রম বেসামাল হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে শাখা সংকুচিত করে মূল শাখায় শিক্ষার্থীদের এনে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, ইসলাম ও হিন্দুধর্ম এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক নেই বললেই চলে। নবম ও দশম শ্রেণির অভিভাবকদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ প্লাস (A+) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১০ জন; অন্যদিকে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্লাস পেয়েছেন ১৫ জন শিক্ষার্থী।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষকসংকট চললেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আরও পড়ুন: বড়দিনের জন্য চেয়েছিল দুই কোটি অনুদান, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি
অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার মূল বিষয়সহ বাংলা, ইংরেজি ও ধর্মের মতো আবশ্যিক বিষয়ের শিক্ষকও নেই। তারা সন্তানের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতেও সমস্যায় পড়ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিদ্যালয়টি তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে শূন্যের কোঠায় পৌঁছাবে।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সার্ধশতবর্ষ পূর্তি উৎসবের নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দীর্ঘদিনের এই শিক্ষকসংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও বোদ্ধাজনেরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষক শূন্যতার বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন এবং শিক্ষক পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।
নবযোগদানকৃত সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, সরকারি এই স্কুলের শিক্ষকসংকটের বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত জানানোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আশা করছেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে।
আরও পড়ুন: মোরেলগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপির মটর শোভাযাত্রা
দেড়শ বছরের পুরোনো এই বিদ্যাপীঠের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, দ্রুত শূন্য পদে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, এলাকাবাসী, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং উপজেলা নাগরিক কমিটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন