ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ


ভয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ

 

এক সময়ে গোটা বিশ্বের সব মানুষের ছিল। মানুষ এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতো।

তারপর মানুষই নিজেদের সুবিধামত সীমানা দিয়ে বিশ্বকে ভাগ করেছে। তবে কাজের খোঁজে, ভাগ্য বদলাতে মানুষের ঘুরে বেড়ানোর অভ্যাস কখনোই বদলায়নি। অনুন্নত এলাকার মানুষ উন্নত এলাকায় যেতে চান।

আরও পড়ুন: এনসিপিআই-তে যোগদানের ৪ মাস পর ইউসুফ পাঠানের পকেটে ২০ কোটি টাকার জমি

যদিও অর্থনৈতিক কারণে সীমানা পেরুতে চাওয়া মানুষগুলোর জন্য সময়টা খুবই খারাপ যাচ্ছে।

তীব্র জাতীয়তাবাদের উত্থানে অনেক দেশেই অভিবাসন বিরোধী চরমপন্থা বিকশিত হচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকা দূরের কথা, এমনকি অভিবাসন বিরোধী সহিংস বিক্ষোভ দক্ষিণ আফ্রিকাকেও অভিবাসীদের জন্য অনিরাপদ করে তুলেছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ঠেকাতে নানা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সম্প্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ ছিটমহল সিউটা দিয়ে মরক্কো থেকে স্পেনে ঢোকার চেষ্টা চালায়।

তাতে অন্তত ১১১ জন মারা যান। এ নিয়ে ইউরোপ তথা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শেনজেন চুক্তি ভেঙে ইতালি স্পেনের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়।

আরও পড়ুন: মার্কিন সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ: ‘ইসরাইল আমাদের বন্ধু নয়’

তবে গত জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভ এখন সহিংস আকার ধারণ করেছে। যদিও সেদিকে বিশ্বের নজর নেই খুব একটা।

একে তো বিক্ষোভ, তার ওপর সেই বিক্ষোভের চাপে সরকারের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযান—সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এখন শুধু অভিবাসী নয়, সব বিদেশী নাগরিকদের জন্যই অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। গত এপ্রিল থেকে বর্তমানে ১ লক্ষ ৭৮ হাজারেরও বেশি অভিবাসী ভয়ে বা বাধ্য হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে গেছে। আকস্মিক এই গণ-স্থানান্তরে বহু শিশু, অসুস্থ ও প্রবীণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

গত জানুয়ারি থেকেই উগ্র জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘মার্চ ফর মার্চ’ এবং ‘অপারেন দুদুলা’ অভিবাসনবিরোধী আওয়াজ তুলতে শুরু করে।

এপ্রিল-মে মাসে নানা কর্মসূচিতে আন্দোলন চাঙা হয়েছে। ৩১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার শেষ সময় বেধে দিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয় আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন: এবার ‘জেন-জি’ বিক্ষোভে উত্তাল জাকার্তা

৩০ জুনের পর থেকে বিক্ষোভকারীরা ‘ডোর টু ডোর’ অভিযান শুরু করেছে। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে হামলা চালাচ্ছে। দোকানপাট ভাঙচুর করছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিচ্ছে। মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এমনকি বৈধ বিদেশী নাগরিকরাও তাদের হামলার শিকার হচ্ছেন। এসব হামলায় অনেকে মারা গেছেন। কিন্তু ঠিক কতজন মারা গেছেন, তার সঠিক হিসাব পাওয়া মুশকিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে থেকে প্রাপ্ত একটি হিসাব অনুযায়ী, মোজাম্বিক সরকারের দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকায় এই ধরনের হামলায় তাদের ১১ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। নাইজেরিয়া ও ঘানাও তাদের কিছু নাগরিক নিহত হওয়ার দাবি করেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা এই সংখ্যার সত্যতা নিয়ে আপত্তি তুলে বলেছে যে, এর মধ্যে কিছু মৃত্যু ডাকাতির মতো সাধারণ অপরাধের সঙ্গে জড়িত, অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে নয়।

আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার মোট ৬ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ।

কিন্তু আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশটিকে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা আরো অনেক বেশি।

আরও পড়ুন: পাখির ধাক্কা সামলে ১৪৮ আরোহী নিয়ে নিরাপদে নামল উড়োজাহাজ

আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ হলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছে তীব্র বৈষম্য। সম্পদ কুক্ষিগত গুটিকয়েক গোষ্ঠির হাতে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বেকারত্বের হার ৩২ দশমিক ৭ ভাগ, যা গোটা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম শীর্ষে।

বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে যে, নথিপত্রহীন অভিবাসীরা কম বেতনের কাজগুলো লুফে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ বেকারত্বের হার আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

দশকের পর দশক ধরে, দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যান্য আফ্রিকান দেশ থেকে আসা লাখ লাখ অভিবাসীকে খামার, রেস্তোরা, নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন কম বেতনের কাজে আকৃষ্ট করেছে। বেকার যুবকদের এই ক্ষোভকে সামনে রেখেই উগ্র জাতীয়তাবাদীরা আন্দোলনকে উস্কে দিতে পেরেছে।

উগ্র জাতীয়তাবাদের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছে উগ্র বিদেশ-বিদ্বেষ (জেনোফোবিয়া)। এসব সব মিলিয়েই এবারের আন্দোলন উগ্র ও সহিংস রূপ ধারণ করেছে। ‘ডোর ডু ডোর’ অভিযানের পাশাপাশি প্রতি বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনকারীরা। অভিবাসীদের দেশ ছাড়তে সময়সীমা বেধে দেওয়াকে বেআইনী বললেও সরকার আন্দোলনের চাপে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার হুমকিতে ১০ লাখ স্থলমাইন কিনবে ফিনল্যান্ড

সব মিলিয়ে দলে দলে মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে যাচ্ছে।

গত কিছু মাসে কত মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে গেছেন তার সঠিক হিসাব পাওয়াও কঠিন। কারণ এসব অধিকাংশই অবৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন। তাদের আসাটাও অবৈধ পথে হয়েছে, যাওয়ার পথও ভিন্ন নয়।

এমনকি যেসব দেশে ফিরে গেছে, তাদের হিসাব থেকে একটি ধারণা পাওয়া যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ের দাবি, গত মে মাস থেকে ১ লাক ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ ফিরে এসেছে। মালাউইতে ফিরে গেছেন ৫৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে নাইজেরিয়া, ঘানা, মোজাম্বিক ও লেসোথো জানিয়েছে, তাদের দেশেও গড়ে এক হাজার করে মানুষ ফিরে এসেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা এই সপ্তাহে জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার মানুষকে সরকারিভাবে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মঙ্গলের উপগ্রহে যাচ্ছে জাপানের মহাকাশযান, নমুনা সংগ্রহের অভিযান শুরু

হঠাৎ করে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের স্থানান্তরের ফলে কিছু উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মানবাধিকার ও অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার শিশুর স্কুল থেকে আকস্মিক বিদায় নেওয়া এবং এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া।

ইউনিসেফ এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটি এক যৌথ বিবৃতিতে ফিরে আসা অভিবাসীদের মধ্যে থাকা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থা দুটি জানিয়েছে, হঠাৎ করে কোনো নথিপত্র ছাড়া এবং সমন্বয়হীনভাবে স্থানান্তরের কারণে এই শিশুরা সহিংসতা, শোষণ, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং মানসিক ট্রমার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

কিছু দেশ সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ না করলেও মালাউই জানিয়েছে যে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে আসা নাগরিকদের মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যাই প্রায় ৪ হাজার।

একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে, জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত জিম্বাবুয়েতে ফিরে আসাদের মধ্যে ১১ হাজারেরও বেশি শিশু রয়েছে। জিম্বাবুয়ে সরকার স্কুলগুলোকে ফিরে আসা শিশুদের সঙ্গে কোনো বৈষম্য না করা এবং তাদের ভর্তির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অনেক অভিবাসী কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পালিয়ে এসেছেন। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এইচআইভি সংক্রমণ হারের এই অঞ্চলে রোগীদের জীবন রক্ষাকারী এইচআইভি চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জিম্বাবুয়ের বেইটব্রিজ সীমান্ত চৌকিতে তাঁবু বসিয়ে অস্থায়ী ক্লিনিক স্থাপন করেছে। সেখানে জীবন রক্ষাকারী এইচআইভি এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগের ওষুধ না পেয়ে চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া মানুষদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসীদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিবাসন আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেছেন। তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় আরো উন্নত প্রযুক্তি ও জনবল নিয়োগ, দ্রুত বহিষ্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নতুন অভিবাসন আদালত গঠন এবং নথিপত্রহীন অভিবাসীদের কাজে নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির অঙ্গীকার করেছেন।

তবে এই পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অন্যান্য আফ্রিকান দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে অন্য দেশগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জেনোফোবিয়া ছড়ানোর অভিযোগ করছে। আগামী অক্টোবরে আফ্রিকান ইউনিয়নের সভার আলোচ্যসূচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার এই অভিবাসীবিরোধী ও জেনোফোবিক সমস্যাটিকে অন্তর্ভুক্তির জোর দাবি জানিয়েছিল ঘানা। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা সেটি আটকে দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুষ্টিয়ায় ফলের দোকানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


কুষ্টিয়ায় ফলের দোকানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

কুষ্টিয়া শহরের পৌরবাজারের ফলের দোকানের সামনে থেকে সাদ্দাম (৪০) নামে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে চুরির উদ্দেশ্যে বন্ধ ফলের দোকানে প্রবেশ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু ঘটে।

রবিবার সকালে পৌরবাজারের আয়েশা ফল ভান্ডার এবং আদর্শ ফল ভান্ডারের সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সাদ্দাম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার একজন বাসিন্দা। তিনি পৌরবাজারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বলেও জানা যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাতে পৌরবাজারের আয়েশা ফল ভান্ডার এবং আদর্শ ফল ভান্ডার দোকানগুলি বন্ধ ছিল। রাতের কোনো এক সময় সাদ্দাম ওই দুই দোকানে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের ধারণা, ইঁদুর বৈদ্যুতিক তার কেটে ফেলায় সেখানে বিদ্যুৎ প্রবাহিত ছিল। অন্ধকারের কারণে বিষয়টি বুঝতে না পেরে তিনি বিদ্যুতায়িত তারের সংস্পর্শে আসলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে রবিবার সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যখন দোকান খুলতে আসেন, তখন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশের কাছে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি আবেদন শুরু ১৫ নভেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


জবিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি আবেদন শুরু ১৫ নভেম্বর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনলাইন আবেদন কার্যক্রমের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২টা থেকে আবেদন শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে।

আজ রবিবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তাঁর অফিসের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৮০তম বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হলো—বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত ইউনিট-A, কলা ও আইন অনুষদভিত্তিক ইউনিট-B, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ইউনিট-C, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভিত্তিক ইউনিট-D এবং চারুকলা অনুষদভিত্তিক ইউনিট-E।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ইউনিট-A-এর ভর্তি পরীক্ষা ১ জানুয়ারি ২০২৭, ইউনিট-E-এর ৮ জানুয়ারি, ইউনিট-B-এর ১৫ জানুয়ারি, ইউনিট-C-এর ২২ জানুয়ারি এবং ইউনিট-D-এর ভর্তি পরীক্ষা ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এবার সর্বত্র ভর্তি পরীক্ষা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে।

ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীদের ২০২৩ অথবা ২০২৪ সালে এসএসসি/সমমান এবং ২০২৬ সালে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

যাদের ইউনিট-A-তে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৭.০০ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর কম হলে আবেদন করতে পারবে না। ইউনিট-B ও ইউনিট-D-এর জন্য দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.০০ এবং কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫-এর কম হওয়া যাবে না।

আর ইউনিট-C-তে আবেদনের জন্য মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.৫০ থাকতে হবে এবং কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর কম হলে আবেদন করতে পারবে না। আবার ইউনিট-E-তে মোট জিপিএ কমপক্ষে ৫.৫০ এবং কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫০-এর কম থাকা যাবে না।

এ ছাড়া ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি ও ইউনিটভিত্তিক ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ৪ এপ্রিল ২০২৭ থেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় আরও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বহিঃসদস্য ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন: ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, সরকার আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।

তিনি রবিবার সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় অল্প সময়ে বড় পরিবর্তন আনার সম্ভবনা নেই। তবে সঠিক পরিকল্পনা, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে কাজ করলে আগামী কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা আছে।

তিনি এ সময় জানালেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এসেছে, তা ছয় মাসের মধ্যে জানার দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, শিক্ষা কোনো পোশাক পরিবর্তনের মতো নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে সময়ের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের দুর্বলতা দূর করার উপরে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী মৌলিক বাংলা ও পড়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এ সমস্যা সমাধানে রিমিডিয়াল এডুকেশন বা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তামূলক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেন, যদি কোনো শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, কিন্তু সে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির প্রয়োজনীয় পড়াশোনা না জানে, তাহলে তাকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা দেওয়া কঠিন। তাই শিক্ষার্থীর শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার।

তিনি জানান, আউট অব স্কুল চিলড্রেন কমিয়ে সব শিশুকে বিদ্যালয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নন ফরমাল এডুকেশন ব্যুরোর বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি স্কুলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার পাইলট কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে।

মিড ডে মিল কর্মসূচি সম্পর্কেও তিনি কথা বলেন। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচিতে যেসব সমস্যা দেখা গেছে, সেগুলো শনাক্ত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, একটি পাইলট প্রকল্প সফল হয়েছে কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু বাস্তবায়নের পরিমাণ নয়, বরং এর মাধ্যমে কতগুলো সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান করা হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

এছাড়াও, পিইডিপি ৫ নিয়ে নতুনভাবে কাজ করার কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে প্রকল্পগুলিকে আরও যৌক্তিক ও কার্যকর কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পিইডিপি ৫-এর আওতায় থাকা কার্যক্রমগুলো থাকবে, তবে সেগুলোকে আরো কার্যকর ও অপারেশনাল কাঠামোয় সাজানো হবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং বা সমীক্ষামূলক চিন্তার দক্ষতা গড়ে তুলতে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই স্টিম শিক্ষা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাথ ল্যাব চালুর পাশাপাশি কারিকুলামে সায়েন্স টয়েজ ও ডিজাইনভিত্তিক কার্যক্রম যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে গণিত, বিজ্ঞান ও নকশার বিষয়গুলোর ওপর শিক্ষার সুযোগ পাবে।

শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পুরো প্রশাসনিক ও মনিটরিং ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ জন্য নতুন শিক্ষক সম্পর্কিত নীতি এবং বিভাগীয় পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও পুরো কমিউনিটির কল্যাণ নিশ্চিত করার কথাও বলেন। তাঁর মতে, শুধু শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নয়, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সামগ্রিক সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্কুল ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে।

ববি হাজ্জাজ নোট করেছেন, সরকারের শিক্ষা বিষয়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, এনসিটিবি, নেপ, বিএনএফই এবং সহযোগী বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সবার কাছ থেকে সৎ ও বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ডাটা ডিপেন্ডেন্ট ও এভিডেন্স বেজড পদ্ধতিতে কাজ করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা থাকলে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকেন দক্ষিণী এ অভিনেতা, জানালেন কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৫ পি.এম


স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকেন দক্ষিণী এ অভিনেতা, জানালেন কারণ

তারকাদের জীবন মানেই আলো, ক্যামেরা এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সদা যোগাযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে যোগযোগ, কাজের প্রচারণা অথবা ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া- সবে স্মার্টফোনই এখন সঙ্গী। কিন্তু পরিচিত এই অভ্যাস থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল।

তিনি প্রায় এক বছর যাবত স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন না। বরং প্রায় এক বছর থেকেই তিনি ‘ডাম্ব ফোন’ বা সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করছেন। এমনকি ভবিষ্যতে সাধারণ মোবাইল ফোনটিও নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা করেছেন।

ফাহাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সময়কে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করার ইচ্ছা। অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা এবং মনোযোগ নষ্ট করা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে তিনি প্রযুক্তির ব্যবহার অনেকটাই কমিয়েছেন।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ‘মারিসান’ সিনেমার প্রচারণার একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। পরে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই জানিয়েছেন, তিনি প্রায় এক বছর অবধি সাধারণ মোবাইল ব্যবহার করে আসছেন।

ফাহাদের পরিকল্পনা আরও বিশাল। আগামী দুই বছরের মধ্যে তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার আশা রাখছেন। তখন শুধুমাত্র ই-মেইলের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। যদিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা, এ বিষয়ে তিনি নিজেও পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

তবে প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না ফাহাদ। প্রয়োজন অনুভব করলে তিনি কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কোনো সক্রিয় উপস্থিতি নেই।

এক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেন ফাহাদ। কিন্তু সেখানে কী পোস্ট করবেন, কী প্রকাশ করবেন অথবা কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত কিনা- এসব নিয়ে তিনি অসুবিধার সম্মুখীন ছিলেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন জনসমক্ষে আসুক, সেটি তিনি চাইতেন না। তাই ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

ফাহাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্ব অর্থপূর্ণ তার সময় এবং মনোযোগ। তিনি নির্দিষ্ট রুটিনে জীবন কাটিয়ে অভিনয়ের কাজে বেশি মনোযোগ দিতে চান। তাঁর বিশ্বাস, অপ্রয়োজনীয় কিছু যদি মনোযোগ কেড়ে নেয়, তাহলে সৃষ্টিশীল কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর এই কারণেই স্মার্টফোনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর অভ্যাস কমিয়ে এনেছেন তিনি।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য ফাহাদ প্রযুক্তির চেয়ে কাজকেই বেশি গুরুত্ব দেন। মালয়ালম সিনেমার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই অভিনেতা বর্তমানে তামিল ও তেলেগু সিনেমাতেও সমান পরিচিত। ‘পুষ্পা’, ‘বিক্রম’, ‘সুপার ডিলাক্স’, ‘আবেশম’, ‘জোজি’, ‘মহেশিন্তে প্রতিকারম’সহ একাধিক সিনেমায় তাঁর অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

ফাহাদের অভিনয়ের শুরুটা ছিল হতাশার। ২০০২ সালে তাঁর বাবার পরিচালনায় ‘কাইয়েথুম দুরাথ’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি অভিনয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু প্রথম সিনেমাই ব্যর্থ হওয়ার কারণে মারাত্মক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। এরপর অভিনয় ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে দর্শনের পড়াশোনা করেন।

সাত বছর পরে দেশে ফিরে আবার অভিনয়ে মনোযোগ দেন ফাহাদ। দ্বিতীয়বারের সেই যাত্রাতেই বদলে যায় তাঁর ক্যারিয়ার। ‘কেরালা ক্যাফে’ দিয়ে ফিরে আসার পর একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১৮ সালে ‘থন্ডিমুথালুম দৃকসাক্ষীয়ুম’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন।

কিন্তু এত সাফল্যের পরও টানা নিজেকে সফল অভিনেতা মনে করেন না ফাহাদ। তাঁর মতে, তিনি এখনো এমন একটি সিনেমার অপেক্ষায় আছেন, যেটির পরে নিজের ক্যারিয়ারকে সফল বলতে পারবেন।

স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার বিষয়েও তাঁর দর্শন অনেকটা অভিনয়ের মতো সরল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকলে নতুন প্রজন্মের দর্শকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফাহাদের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য, তাঁর দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক সিনেমার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে।

অভিনেতার মতে, যেদিন তিনি সিনেমায় খারাপ অভিনয় করা শুরু করবেন, সেদিনই দর্শকের কাছ থেকে দূরে সরে যাবেন। স্মার্টফোন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করা তাঁকে দর্শকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।

প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে একজন তারকার এমন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। কিন্তু ফাহাদের কাছে এটি কোনো প্রচারণার কৌশল নয়; বরং এটি হচ্ছে নিজের সময়, মনোযোগ এবং জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার একটি সচেতন চেষ্টা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%