ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোল্ডেন বুটের পথে আরও এক ধাপ এগোলেন মেসি


গোল্ডেন বুটের পথে আরও এক ধাপ এগোলেন মেসি

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে লিওনেল মেসি যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। মাঠের খেলায় বয়সের ছাপ পড়ার পরিবর্তে উল্টো যৌবন যেন ফিরে পেয়েছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।

গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়ার পর, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি জোড়া গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ আরও একবার জোরালোভাবে দিয়েছেন। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এই জয়ের মাধ্যমে মেসি কেবল দলকে নকআউট পর্বের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেননি, বরং বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে একক সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

এক সময়ের রেকর্ডধারী জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোল ছাপিয়ে এখন মেসির গোল সংখ্যা ১৮। ফলে তিনি তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চে এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজের গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাকেও আরও সুদৃঢ় করেছেন। এবারের টুর্নামেন্টে মেসি যেন গোল করার নেশায় মত্ত; আর্জেন্টিনা দলের করা সবকটি গোলই এসেছে তার পা থেকে, যা তার বর্তমান ফর্মের স্পষ্ট প্রতিফলন।

আরও পড়ুন: এই দেশে আমার যতটা অধিকার, আপনাদেরও ততটুকু: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মণ্ডপে

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকে পেনাল্টি মিস করার আক্ষেপ থাকলেও, শেষ মুহূর্তে গোল করে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন তিনি। বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকার বয়স বর্তমানে ৩৮ পেরিয়ে ৩৯-এর পথে, কিন্তু তার গোল করার ক্ষিপ্রতা আর মাঠের ভেতরের বুদ্ধিমত্তা এখনও ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং পরবর্তীতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি শুধুমাত্র রেকর্ডই ভাঙেননি, বরং গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় নিজেদের অনেকখানি এগিয়ে নিয়েছেন।

আর্জেন্টিনার সমর্থকরা এখন স্বপ্নের মতো এক বিশ্বকাপ যাত্রা উপভোগ করছেন, যেখানে মেসি প্রতিটি ম্যাচেই নতুন কোনো গল্পের অবতারণা করছেন। বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলের প্রাণভোমরা মেসি এখন পুরো টুর্নামেন্টের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন এবং তার এই ফর্ম অব্যাহত থাকলে গোল্ডেন বুটসহ শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নটিও হয়তো খুব দ্রুতই পূর্ণতা পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক ও অপরাধ দমনে ইউক্রেনের ড্রোন কিনছে হন্ডুরাস সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৭ এম


মাদক ও অপরাধ দমনে ইউক্রেনের ড্রোন কিনছে হন্ডুরাস সরকার

লাতিন আমেরিকার দেশ হন্ডুরাস তাদের সীমান্ত পাহারা এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকরভাবে জোরদার করার জন্য ইউক্রেন থেকে অত্যাধুনিক ড্রোন কিনতে যাচ্ছে। এই তথ্য সোমবার ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির কাছে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নাসরি আসফুরা।

গত শুক্রবার, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে ইউক্রেন হন্ডুরাসকে ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে এবং দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

পানামা সিটিতে আমেরিকার দেশগুলোর জোট (অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস) এর এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আসফুরা জানান, এই ড্রোনগুলো মূলত দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং উচ্চ প্রযুক্তির মাধ্যমে সুসংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার কাজে ব্যবহৃত হবে। তিনি আরো জানান, কৃষিকাজেও এই ড্রোনগুলো ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, ২০২২ সালে রাশিয়ার দ্বারা আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেন ব্যাপকভাবে তাদের প্রতিরক্ষার জন্য ড্রোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে হন্ডুরাস তীব্র অভ্যন্তরীণ সহিংসতার মধ্যে রয়েছে। মাদক চোরাকারবারি দল, বিভিন্ন সশস্ত্র গ্যাং এবং দুর্নীতিগ্রস্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ফলে দেশের অপরাধের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটিতে প্রতি ১ লাখে ২৪ জন হত্যার শিকার হচ্ছেন, যা বৈশ্বিক গড় থেকে প্রায় চার গুণ বেশি।

সম্প্রতি, গত ২১ মে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় একটি কৃষি গ্রামে সশস্ত্র দলগুলোর সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হন। একই দিনে গুয়াতেমালা সীমান্তের কাছে মাদক চোরাকারবারিদের হামলায় ৫ জন পুলিশ সদস্যও প্রাণ হারান। এমন পরিস্থিতিতে, দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং সীমান্ত রক্ষা করার জন্য এই ড্রোন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে হন্ডুরাস সরকার মনে করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২২ দিনে দেশে চারবার ভূমিকম্প, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪১ এম


২২ দিনে দেশে চারবার ভূমিকম্প, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

চলতি মাসের জুনে, রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চার দিনে অন্তত ছয় দফা ভূমিকম্পের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ভূমিকম্পগুলো যে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের চিন্তাভাবনা রয়েছে।

২২ জুন (আজকের সর্বশেষ কম্পন)

আজ সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় হঠাৎ করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। ঢাকা ও এর চারপাশের বাসিন্দারা স্পষ্ট অনুভব করেন এই ভূমিকম্প। এরপরেও, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া না গেলেও, রাতের এই আকস্মিক কম্পনে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

১৮ জুন (মণিপুর সীমান্ত)

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৯টা ২৯ মিনিটে আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৩৬১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে ভারতের মণিপুর অঞ্চলে।

১১ জুন (শিলচর সীমান্ত)

এর এক সপ্তাহ আগে, ১১ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশে আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়। ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের করিমগঞ্জ সীমান্তে ভারতের শিলচরে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু অঞ্চলে এটি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল।

৭ জুন (ভুটান কেন্দ্র)

চলতি মাসে এই ভূমিকম্পের ধারাবাহিকতা শুরু হয় ৭ জুন রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ ভুটানে। ভুটানের থিম্পুর উত্তর-পূর্বে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পের প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা প্রবল ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে। অনেকেই সে রাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন।

স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, এই ৪টি ভূমিকম্পের মধ্যে কোনোটিতেই বাংলাদেশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৪ বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ কেন ঝুঁকিতে?

চলতি বছরে দেশে আরও কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতে ধারাবাহিক কম্পন নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার এক সাক্ষাৎকারে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে আছে।

তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রধান উৎস দুটি— উত্তরের ডাউকি ফল্ট এবং পূর্ব দিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাহাড়ের বিস্তৃত সাবডাকশন জোন। এখানে বার্মা প্লেটের নিচে ইন্ডিয়া প্লেটটি তলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বৈজ্ঞানিক পরিমাপে দেখা গেছে, এই সংযোগস্থলে বর্তমানে ৮.২ থেকে শুরু করে প্রায় ৯ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করার মতো বিশাল শক্তি জমা হয়ে আছে!

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো এই ফল্ট লাইনটি বর্তমানে পুরোপুরি ‘লকড’ বা আটকে আছে। কোনো স্লিপ বা ছোটখাটো মুভমেন্টের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে এই শক্তি অবমুক্ত হচ্ছে না। এভাবে শক্তি বের না হয়ে জমে থাকা বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা না হলেও, স্বল্পকালীন এই লকড কন্ডিশনের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম জায়গা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই যখনই এখানে বড় ভাঙন হবে, তা অত্যন্ত প্রলয়ঙ্করী রূপ নেবে।

ঘন ঘন ভূমিকম্প কি কিয়ামতের আলামত?

যদি বড় কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে বহুতল এবং দুর্বল ভবনগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক কার্যক্রম বাসনীয় হবে না। তবে সঠিক কৌশল জানা থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং জীবনহানি ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব।

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার সতর্ক করেছেন যে, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে বহুতল ভবন থেকে নিচে নামা বা রাস্তার মধ্যে জড়ো হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। বরং ঘরের মধ্যে থেকেই ‘ড্রপ, কাভার অ্যান্ড হোল্ড’ পদ্ধতি অনুসরণ করে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়া উচিৎ।

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত নিয়মটি আমাদের জন্য কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। এই পদ্ধতিটি হলো—

ড্রপ: কম্পন শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে যেখানে আছেন সেখানে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ুন।

কাভার: ঘরের ভেতর থাকা শক্ত টেবিল, খাট, সোফা সেট বা বিমের নিচে অবস্থান নিন এবং মাথার ওপর হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় সুরক্ষিত রাখুন।

হোল্ড: কম্পন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই শক্ত আশ্রয়টি ধরে রাখুন, যেন ঝাঁকুনিতে আপনি ছিটকে না যান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সংস্থাগুলো বড় বাজেটের মধ্যম বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, যেখানে বাণিজ্যের সুযোগ বেশি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ১ শতাংশেরও কম খরচে তাৎক্ষণিক এবং স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া।

অধ্যাপক হুমায়ুনের মতে, তরুণদের প্রতিভা কাজে লাগিয়ে ‘ন্যাচারাল হ্যাজার্ড গেম’ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ডিজিটাল গেম তৈরি করে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করা সম্ভব।

এভাবে মানুষ খেলার মাধ্যমে শিখবে, ঘরে, রাস্তায়, অফিসে বা রাতে ভূমিকম্প হলে কী করতে হবে। একই সময়ে প্রতিটি ওয়ার্ড বা মহল্লায় নিয়মিত সাইরেন বাজিয়ে ভূমিকম্পের মহড়া দেওয়া উচিত। এতে মানুষের মানসিক মনোবল তৈরি হবে এবং বড় দুর্যোগে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্তানের মেধা বিকাশে ঘুমানোর আগে করুন এই ৪ কাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ এম


সন্তানের মেধা বিকাশে ঘুমানোর আগে করুন এই ৪ কাজ

সন্তানের বুদ্ধি বিকাশের জন্য ঘুমানোর সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা প্রয়োজন। শিশুদের রাতের ঘুমের আগে যে অভ্যাসগুলি গড়তে হবে, সেগুলো হচ্ছে মোবাইল ফোন ও ট্যাব থেকে দূরে থাকা। শিশুরা যে অভ্যাসগুলি শেখে, তা তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে শিশুর মস্তিষ্কের বড় অংশের বিকাশ ঘটে এবং এই সময়ে সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে নিচের চারটি কাজ করাতে হবে।

প্রথমত, গল্প শোনানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। মোবাইল বা ট্যাবের ব্লু লাইট শিশুর চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাই ঘুমোনোর আগে এসব ডিভাইস একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। বরং, গল্পের বই পড়ানো উচিৎ। আড়াই থেকে তিন বছর বয়স থেকেই শিশুকে গল্প শোনানোর অভ্যাস গড়ে তুললে, এতে ভাষাজ্ঞান উন্নত হয় ও কল্পনাশক্তি বিকশিত হয়।

দ্বিতীয়ত, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যখন শিশু একটু বড় হয় এবং নিজে পড়তে শিখে, তখন তাকে বই পড়তে উৎসাহ দিন। শোয়ানোর সময় হাতে গল্পের বই তুলে দেওয়া উচিৎ। ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে, মোবাইল ফোনের প্রতি আকর্ষণ কমে যাবে।

তৃতীয়ত, একসঙ্গে গল্প করা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বাবা-মা খুদে বয়সে সন্তানের সাথে একই বিছানায় ঘুমায়। এই সময়টা কাজে লাগিয়ে দিন সম্পর্কে কথা বলুন। স্কুলে কি শিখেছে, আগামী দিনের পরিকল্পনা এসব নিয়ে আলোচনা করুন। আন্তরিক কথোপকথন শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে।

চতুর্থত, মেডিটেশন বা ধ্যানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঘুমোনোর আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করান। এতে শিশুর মন শান্ত হয় এবং চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। এই অভ্যাস পরীক্ষার জন্য অমূল্য।

সন্তানের ঘুমানোর সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের অভ্যাসই তাদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে। তাই বই, গল্প, কথা ও ধ্যানের মাধ্যমে প্রতিদিনের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই ছোট অভ্যাসগুলো ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুর সুস্থ বিকাশে বাবা-মা দুজনেরই ভূমিকা অপরিহার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ এম


শিশুর সুস্থ বিকাশে বাবা-মা দুজনেরই ভূমিকা অপরিহার্য

একটি সুন্দর এবং উন্নত ভবিষ্যতের জন্য শিশুর প্রাপ্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা একাই যথেষ্ট নয়, বরং একটি স্থিতিশীল পারিবারিক কাঠামোও অপরিহার্য। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, বাবা ও মায়ের সম্মিলিত সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুরা তাদের শিক্ষাজীবনে শুধু ভালো করে না, বরং মানসিকভাবে অনেক বেশি সুসংহত ও স্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের ধরন আলাদা হলেও শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য একটি ভারসাম্য সৃষ্টির মধ্যে নিহিত রয়েছে দুই পক্ষের গুরুত্ব। বাবা-মায়ের মধ্যে শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্কও এর জন্য অপরিহার্য।

১. মায়ের স্নেহ ও আবেগীয় নিরাপত্তা

গবেষণার ফলে দেখা যায়, মায়েরা সাধারণত শিশুদের প্রতি অধিক আবেগপ্রবণ, ধৈর্যশীল এবং সংবেদনশীল হন। শিশুর যেকোন সংকটের সময় মা অগ্রসরে উপস্থিত হয়ে শিশুটির পাশে দাঁড়ান, যা শিশুর মনে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরাপত্তার বোধ তৈরি করে। এ কোমল আচরণ শিশুটিকে আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করে এবং মানসিকভাবে সুরক্ষিত রাখে।

২. বাবার শাসন ও শৃঙ্খলা

অন্যদিকে, বাবারা পরিবারের কাঠামো ও শৃঙ্খলার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। বাবার এই দিকটি বাবা সন্তানকে নিয়ম মেনে চলতে শেখায় এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে উৎসাহিত করে। যা শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করে।

৩. খেলাধুলা ও স্বাধীনতা

মায়েরা সাধারণত শিশুকে শান্ত ও নিরাপদ রাখতে চান, কিন্তু বাবারা শিশুদেরকে নিয়ে সক্রিয় এবং রোমাঞ্চকর খেলাধুলায় মেতে ওঠেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বাবারাই শিশুদেরকে শারীরিক পরিশ্রমের কাজে বা খেলাধুলায় উৎসাহিত করেন ও কৈশোর থেকে যৌবনে উত্তরণের সময় বাবারাই সন্তানদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রেরণা দেন।

৪. পরিবার ও শিশুর সুরক্ষা

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জৈবিক বাবা ও মায়ের স্থিতিশীল সংসারে বেড়ে ওঠা শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ থাকে। এ ধরনের পারিবারিক কাঠামো শিশুকে শুধু দারিদ্র্য থেকে রক্ষা করে না, বরং শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনার ঝুঁকিও অনেক কমিয়ে দেয়।

বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, দুই অভিভাবকের শানিত উপস্থিতিতে শিশু সাধারণত যে স্থিতিশীল আবেগপ্রবণ পরিবেশ পায়, তা তাদের উন্নতির জন্য চূড়ান্ত সহায়ক হয়ে থাকে। ২০ লাখের বেশি শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা গেছে, যেসব পরিবারে দুই অভিভাবক উপস্থিত থাকেন, সেখানে শিশুর শিক্ষাগত সাফল্য তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। অন্যদিকে, একক অভিভাবকের বাড়িতে বেড়ে ওঠা সন্তানদের শিক্ষা অর্জন করতে একটু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কারণ সিঙ্গেল মা বা বাবা তাদের কাজ ও দায়িত্ব একা সামলাতে গিয়ে অনেক বেশি চাপ অনুভব করেন। এতে শিশুর মানসিক সমর্থন কমে যেতে পারে, এবং পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে আর্থিক অসংগতিও একটি বড় কারণ হয়ে ওঠে।

মূল কথা হল, একটি শিশুর জন্য শুধুমাত্র দুজন অভিভাবক থাকা যথেষ্ট নয়, বরং তাদের মা ও বাবার ভিন্ন ভিন্ন স্নেহ, শাসন এবং সুরক্ষার উপাদানগুলো একত্রিত হয়ে শিশুর জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে বৈবাহিক স্থিতিশীলতাই একটি শিশুর সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার সবচেয়ে কার্যকর আশ্রয়।

সূত্র: দ্য লায়ন অবলম্বনে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%