০২:৪৬ এম
সন্তানের বুদ্ধি বিকাশের জন্য ঘুমানোর সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা প্রয়োজন। শিশুদের রাতের ঘুমের আগে যে অভ্যাসগুলি গড়তে হবে, সেগুলো হচ্ছে মোবাইল ফোন ও ট্যাব থেকে দূরে থাকা। শিশুরা যে অভ্যাসগুলি শেখে, তা তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে শিশুর মস্তিষ্কের বড় অংশের বিকাশ ঘটে এবং এই সময়ে সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে নিচের চারটি কাজ করাতে হবে।
প্রথমত, গল্প শোনানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। মোবাইল বা ট্যাবের ব্লু লাইট শিশুর চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাই ঘুমোনোর আগে এসব ডিভাইস একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। বরং, গল্পের বই পড়ানো উচিৎ। আড়াই থেকে তিন বছর বয়স থেকেই শিশুকে গল্প শোনানোর অভ্যাস গড়ে তুললে, এতে ভাষাজ্ঞান উন্নত হয় ও কল্পনাশক্তি বিকশিত হয়।
দ্বিতীয়ত, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যখন শিশু একটু বড় হয় এবং নিজে পড়তে শিখে, তখন তাকে বই পড়তে উৎসাহ দিন। শোয়ানোর সময় হাতে গল্পের বই তুলে দেওয়া উচিৎ। ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে, মোবাইল ফোনের প্রতি আকর্ষণ কমে যাবে।
আরও পড়ুন: ৩০ সেকেন্ডের অভ্যাসে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব
তৃতীয়ত, একসঙ্গে গল্প করা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বাবা-মা খুদে বয়সে সন্তানের সাথে একই বিছানায় ঘুমায়। এই সময়টা কাজে লাগিয়ে দিন সম্পর্কে কথা বলুন। স্কুলে কি শিখেছে, আগামী দিনের পরিকল্পনা এসব নিয়ে আলোচনা করুন। আন্তরিক কথোপকথন শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে।
চতুর্থত, মেডিটেশন বা ধ্যানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঘুমোনোর আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করান। এতে শিশুর মন শান্ত হয় এবং চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। এই অভ্যাস পরীক্ষার জন্য অমূল্য।
সন্তানের ঘুমানোর সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের অভ্যাসই তাদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে। তাই বই, গল্প, কথা ও ধ্যানের মাধ্যমে প্রতিদিনের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই ছোট অভ্যাসগুলো ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনবে।
আরও পড়ুন: খালি পেটে গরম পানির সঙ্গে মধু খেলে কী উপকারিতা হয়?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন