ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২২ দিনে দেশে চারবার ভূমিকম্প, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?


২২ দিনে দেশে চারবার ভূমিকম্প, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

চলতি মাসের জুনে, রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চার দিনে অন্তত ছয় দফা ভূমিকম্পের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ভূমিকম্পগুলো যে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের চিন্তাভাবনা রয়েছে।

২২ জুন (আজকের সর্বশেষ কম্পন)

আজ সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় হঠাৎ করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। ঢাকা ও এর চারপাশের বাসিন্দারা স্পষ্ট অনুভব করেন এই ভূমিকম্প। এরপরেও, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া না গেলেও, রাতের এই আকস্মিক কম্পনে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

১৮ জুন (মণিপুর সীমান্ত)

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৯টা ২৯ মিনিটে আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৩৬১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে ভারতের মণিপুর অঞ্চলে।

১১ জুন (শিলচর সীমান্ত)

এর এক সপ্তাহ আগে, ১১ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশে আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়। ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের করিমগঞ্জ সীমান্তে ভারতের শিলচরে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু অঞ্চলে এটি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী

৭ জুন (ভুটান কেন্দ্র)

চলতি মাসে এই ভূমিকম্পের ধারাবাহিকতা শুরু হয় ৭ জুন রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ ভুটানে। ভুটানের থিম্পুর উত্তর-পূর্বে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পের প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা প্রবল ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে। অনেকেই সে রাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন।

স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, এই ৪টি ভূমিকম্পের মধ্যে কোনোটিতেই বাংলাদেশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৪ বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ কেন ঝুঁকিতে?

আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ

চলতি বছরে দেশে আরও কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতে ধারাবাহিক কম্পন নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার এক সাক্ষাৎকারে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে আছে।

তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রধান উৎস দুটি— উত্তরের ডাউকি ফল্ট এবং পূর্ব দিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাহাড়ের বিস্তৃত সাবডাকশন জোন। এখানে বার্মা প্লেটের নিচে ইন্ডিয়া প্লেটটি তলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বৈজ্ঞানিক পরিমাপে দেখা গেছে, এই সংযোগস্থলে বর্তমানে ৮.২ থেকে শুরু করে প্রায় ৯ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করার মতো বিশাল শক্তি জমা হয়ে আছে!

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো এই ফল্ট লাইনটি বর্তমানে পুরোপুরি ‘লকড’ বা আটকে আছে। কোনো স্লিপ বা ছোটখাটো মুভমেন্টের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে এই শক্তি অবমুক্ত হচ্ছে না। এভাবে শক্তি বের না হয়ে জমে থাকা বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা না হলেও, স্বল্পকালীন এই লকড কন্ডিশনের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম জায়গা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই যখনই এখানে বড় ভাঙন হবে, তা অত্যন্ত প্রলয়ঙ্করী রূপ নেবে।

আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি

ঘন ঘন ভূমিকম্প কি কিয়ামতের আলামত?

যদি বড় কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে বহুতল এবং দুর্বল ভবনগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক কার্যক্রম বাসনীয় হবে না। তবে সঠিক কৌশল জানা থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং জীবনহানি ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব।

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার সতর্ক করেছেন যে, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে বহুতল ভবন থেকে নিচে নামা বা রাস্তার মধ্যে জড়ো হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। বরং ঘরের মধ্যে থেকেই ‘ড্রপ, কাভার অ্যান্ড হোল্ড’ পদ্ধতি অনুসরণ করে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়া উচিৎ।

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত নিয়মটি আমাদের জন্য কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। এই পদ্ধতিটি হলো—

আরও পড়ুন: বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ড্রপ: কম্পন শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে যেখানে আছেন সেখানে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ুন।

কাভার: ঘরের ভেতর থাকা শক্ত টেবিল, খাট, সোফা সেট বা বিমের নিচে অবস্থান নিন এবং মাথার ওপর হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় সুরক্ষিত রাখুন।

হোল্ড: কম্পন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই শক্ত আশ্রয়টি ধরে রাখুন, যেন ঝাঁকুনিতে আপনি ছিটকে না যান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সংস্থাগুলো বড় বাজেটের মধ্যম বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, যেখানে বাণিজ্যের সুযোগ বেশি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ১ শতাংশেরও কম খরচে তাৎক্ষণিক এবং স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া।

আরও পড়ুন: স্বৈরাচারের গুলি দেখেনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিষ্টান: প্রধানমন্ত্রী

অধ্যাপক হুমায়ুনের মতে, তরুণদের প্রতিভা কাজে লাগিয়ে ‘ন্যাচারাল হ্যাজার্ড গেম’ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ডিজিটাল গেম তৈরি করে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করা সম্ভব।

এভাবে মানুষ খেলার মাধ্যমে শিখবে, ঘরে, রাস্তায়, অফিসে বা রাতে ভূমিকম্প হলে কী করতে হবে। একই সময়ে প্রতিটি ওয়ার্ড বা মহল্লায় নিয়মিত সাইরেন বাজিয়ে ভূমিকম্পের মহড়া দেওয়া উচিত। এতে মানুষের মানসিক মনোবল তৈরি হবে এবং বড় দুর্যোগে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্তানের মেধা বিকাশে ঘুমানোর আগে করুন এই ৪ কাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ এম


সন্তানের মেধা বিকাশে ঘুমানোর আগে করুন এই ৪ কাজ

সন্তানের বুদ্ধি বিকাশের জন্য ঘুমানোর সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা প্রয়োজন। শিশুদের রাতের ঘুমের আগে যে অভ্যাসগুলি গড়তে হবে, সেগুলো হচ্ছে মোবাইল ফোন ও ট্যাব থেকে দূরে থাকা। শিশুরা যে অভ্যাসগুলি শেখে, তা তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে শিশুর মস্তিষ্কের বড় অংশের বিকাশ ঘটে এবং এই সময়ে সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে নিচের চারটি কাজ করাতে হবে।

প্রথমত, গল্প শোনানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। মোবাইল বা ট্যাবের ব্লু লাইট শিশুর চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাই ঘুমোনোর আগে এসব ডিভাইস একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। বরং, গল্পের বই পড়ানো উচিৎ। আড়াই থেকে তিন বছর বয়স থেকেই শিশুকে গল্প শোনানোর অভ্যাস গড়ে তুললে, এতে ভাষাজ্ঞান উন্নত হয় ও কল্পনাশক্তি বিকশিত হয়।

দ্বিতীয়ত, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যখন শিশু একটু বড় হয় এবং নিজে পড়তে শিখে, তখন তাকে বই পড়তে উৎসাহ দিন। শোয়ানোর সময় হাতে গল্পের বই তুলে দেওয়া উচিৎ। ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে, মোবাইল ফোনের প্রতি আকর্ষণ কমে যাবে।

তৃতীয়ত, একসঙ্গে গল্প করা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বাবা-মা খুদে বয়সে সন্তানের সাথে একই বিছানায় ঘুমায়। এই সময়টা কাজে লাগিয়ে দিন সম্পর্কে কথা বলুন। স্কুলে কি শিখেছে, আগামী দিনের পরিকল্পনা এসব নিয়ে আলোচনা করুন। আন্তরিক কথোপকথন শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে।

চতুর্থত, মেডিটেশন বা ধ্যানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঘুমোনোর আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করান। এতে শিশুর মন শান্ত হয় এবং চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। এই অভ্যাস পরীক্ষার জন্য অমূল্য।

সন্তানের ঘুমানোর সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের অভ্যাসই তাদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে। তাই বই, গল্প, কথা ও ধ্যানের মাধ্যমে প্রতিদিনের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই ছোট অভ্যাসগুলো ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুর সুস্থ বিকাশে বাবা-মা দুজনেরই ভূমিকা অপরিহার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ এম


শিশুর সুস্থ বিকাশে বাবা-মা দুজনেরই ভূমিকা অপরিহার্য

একটি সুন্দর এবং উন্নত ভবিষ্যতের জন্য শিশুর প্রাপ্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা একাই যথেষ্ট নয়, বরং একটি স্থিতিশীল পারিবারিক কাঠামোও অপরিহার্য। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, বাবা ও মায়ের সম্মিলিত সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুরা তাদের শিক্ষাজীবনে শুধু ভালো করে না, বরং মানসিকভাবে অনেক বেশি সুসংহত ও স্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের ধরন আলাদা হলেও শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য একটি ভারসাম্য সৃষ্টির মধ্যে নিহিত রয়েছে দুই পক্ষের গুরুত্ব। বাবা-মায়ের মধ্যে শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্কও এর জন্য অপরিহার্য।

১. মায়ের স্নেহ ও আবেগীয় নিরাপত্তা

গবেষণার ফলে দেখা যায়, মায়েরা সাধারণত শিশুদের প্রতি অধিক আবেগপ্রবণ, ধৈর্যশীল এবং সংবেদনশীল হন। শিশুর যেকোন সংকটের সময় মা অগ্রসরে উপস্থিত হয়ে শিশুটির পাশে দাঁড়ান, যা শিশুর মনে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরাপত্তার বোধ তৈরি করে। এ কোমল আচরণ শিশুটিকে আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করে এবং মানসিকভাবে সুরক্ষিত রাখে।

২. বাবার শাসন ও শৃঙ্খলা

অন্যদিকে, বাবারা পরিবারের কাঠামো ও শৃঙ্খলার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। বাবার এই দিকটি বাবা সন্তানকে নিয়ম মেনে চলতে শেখায় এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে উৎসাহিত করে। যা শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করে।

৩. খেলাধুলা ও স্বাধীনতা

মায়েরা সাধারণত শিশুকে শান্ত ও নিরাপদ রাখতে চান, কিন্তু বাবারা শিশুদেরকে নিয়ে সক্রিয় এবং রোমাঞ্চকর খেলাধুলায় মেতে ওঠেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বাবারাই শিশুদেরকে শারীরিক পরিশ্রমের কাজে বা খেলাধুলায় উৎসাহিত করেন ও কৈশোর থেকে যৌবনে উত্তরণের সময় বাবারাই সন্তানদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রেরণা দেন।

৪. পরিবার ও শিশুর সুরক্ষা

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জৈবিক বাবা ও মায়ের স্থিতিশীল সংসারে বেড়ে ওঠা শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ থাকে। এ ধরনের পারিবারিক কাঠামো শিশুকে শুধু দারিদ্র্য থেকে রক্ষা করে না, বরং শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনার ঝুঁকিও অনেক কমিয়ে দেয়।

বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, দুই অভিভাবকের শানিত উপস্থিতিতে শিশু সাধারণত যে স্থিতিশীল আবেগপ্রবণ পরিবেশ পায়, তা তাদের উন্নতির জন্য চূড়ান্ত সহায়ক হয়ে থাকে। ২০ লাখের বেশি শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা গেছে, যেসব পরিবারে দুই অভিভাবক উপস্থিত থাকেন, সেখানে শিশুর শিক্ষাগত সাফল্য তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। অন্যদিকে, একক অভিভাবকের বাড়িতে বেড়ে ওঠা সন্তানদের শিক্ষা অর্জন করতে একটু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কারণ সিঙ্গেল মা বা বাবা তাদের কাজ ও দায়িত্ব একা সামলাতে গিয়ে অনেক বেশি চাপ অনুভব করেন। এতে শিশুর মানসিক সমর্থন কমে যেতে পারে, এবং পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে আর্থিক অসংগতিও একটি বড় কারণ হয়ে ওঠে।

মূল কথা হল, একটি শিশুর জন্য শুধুমাত্র দুজন অভিভাবক থাকা যথেষ্ট নয়, বরং তাদের মা ও বাবার ভিন্ন ভিন্ন স্নেহ, শাসন এবং সুরক্ষার উপাদানগুলো একত্রিত হয়ে শিশুর জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে বৈবাহিক স্থিতিশীলতাই একটি শিশুর সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার সবচেয়ে কার্যকর আশ্রয়।

সূত্র: দ্য লায়ন অবলম্বনে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিচালকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে ৩৭ বছর পর মুখ খুললেন নায়িকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫০ এম


পরিচালকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে ৩৭ বছর পর মুখ খুললেন নায়িকা

বলিউড অভিনেত্রী সোনম খান সম্প্রতি একাধিক গুঞ্জন নিয়ে কথা বললেন। বিশেষত, ৩৭ বছর আগে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ত্রিদেব’ সিনেমাকে কেন্দ্র করে বহু বছর ধরে চালু থাকা একটি গুঞ্জন বেরিয়ে এসেছে। এই গুঞ্জনের সমাজে বেশ কিছু সময় ধরে প্রচলিত ছিল যে, সোনম খান অভিনেতা এবং সিনেমার পরিচালকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জন্যেই ছবিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিলেন।

বিগত গত ৩৭ বছর পরে এসে সোনম খান সকলকে জানিয়েছেন যে, পরিচালকের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ওয়ে ওয়ে’ গানের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি লেখেন, ‘না, বড় করে বলছি—না। ত্রিদেব-এর শুটিং চলাকালে আমার পরিচালকের সঙ্গে কোনো প্রেম ছিল না।’

এই প্রসঙ্গে সোনম খান উল্লেখ করেছেন যে, ছবির মুক্তির পর অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, পরিচালক রাজীব রাইয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এর ফলস্বরূপ, অনেকে ভাবতে শুরু করেছিলেন যে, সোনম খান পরিচালকের সঙ্গে প্রেম করছিলেন তাই তিনি অন্যান্য দুই নায়িকার তুলনায় বেশি সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, শুটিং চলাকালে পরিচালক রাজীব রায়ের জীবনেও অন্য একজন নারী ছিলেন এবং সোনমও নিজেকে একটি সম্পর্কে আবদ্ধ করেছিলেন। সোনম বলেন, রাজীব সেটে তার প্রেমিকাকে নিয়ে আসতেন। তার প্রেমিকও শুটিংয়ের জায়গায় উপস্থিত থাকতেন। এইভাবে দেখা যাচ্ছে, শুটিং চলাকালে তাদের মধ্যে কিছুই ছিল না।

সোনমের মতে, রাজীব রায় শুরুতে তাকে ‘ত্রিদেব’-এ নেওয়ার ব্যাপারে রোমান্টিক ছিলেন না; বরং অন্য এক অভিনেত্রীকে প্রায় চূড়ান্তও করেছিল। কিন্তু প্রযোজক যশ চোপড়া তার অভিনয়ে খুব বেশি আকৃষ্ট না হলে তাকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সোনম বলেন, সেই সময় রাজীব রায় তার কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। তাই তাকে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রায় অন্য একজনের হয়ে গিয়েছিল। চূড়ান্তভাবে বিকল্পের অভাবে তাকে নেওয়া হয়।

এই স্থানীয় প্রসঙ্গে সোনম আবারও স্পষ্ট করেছেন যে, ‘ত্রিদেব’ নির্মাণের সময় তাদের মধ্যে কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। তবে ছবির মুক্তির পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, কারণ তখন দুজনেই অবিবাহিত ছিলেন।

সোনমের ভাষায়, মুক্তির পর তারা সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যান। তার আগে কিছুই ঘটে নি, যেমন গোপন প্রেম বা ফোনকল। movieটির সাফল্যের ফলে সোনম ও রাজীব রায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং ১৯৯১ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সোনম অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে অনেকটা সরিয়ে নেন এবং সংসার ও সন্তানকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের এক পুত্র সন্তান রয়েছে, যিনি অটিজমে আক্রান্ত। সোনম এবং রাজীব যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে একসঙ্গে বসবাস করেন।

যাইহোক, দীর্ঘবিরতির পর ২০০১ সালে রাজীব ও সোনম আলাদা হয়ে যান এবং ১৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালে তাদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে আর্জেন্টিনার খেলা উপভোগ করলেন দেশটির রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ এম


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে আর্জেন্টিনার খেলা উপভোগ করলেন দেশটির রাষ্ট্রদূত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচকে কেন্দ্র করে উত্সবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সেই উচ্ছ্বাসে শামিল হতে ক্যাম্পাসে এসে খেলা উপভোগ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা।

সোমবার রাতে ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল মাঠে উপস্থিত হন তিনি। রাষ্ট্রদূত মার্সেলো সেসার সহ উপস্থিত ছিলেন লিওনেল মেসি-এর ঘনিষ্ঠজন রুলি এবং তার টিমমেটরা। রাষ্ট্রদূতকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

শত শত আর্জেন্টিনা সমর্থকের উপস্থিতি, প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা ও নানা আয়োজনে মুহসিন হল এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল মাঠ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সমর্থকরা রাত ৯টা থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন।

বাংলাদেশি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুগ্ধ হয়ে রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, “মনে হচ্ছে আমি আর্জেন্টিনায় আছি। এখানে এসে নিজের দেশের মতোই অনুভব করছি।” তিনি বাংলাদেশের আর্জেন্টিনাপ্রেমী দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এসময় উপস্থিত আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার রুলি বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ, তোমাকে ভালোবাসি।”

ম্যাচ উপলক্ষে মুহসিন হল ছাত্রদলের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক ও সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে রয়েছেন আর্জেন্টাইন ভ্রমণ লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ড্যান লান্দে, সৃজনশীল পেশাজীবী ম্যানুয়েল হাভিয়ের এসকেরা রামোন, মার্তিন দে এসকালাদা, মার্তিনা জয়ে গন্ডেল এবং সান্তিয়াগো কন্দে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%