০৬:১২ পি.এম
গোপালগঞ্জে মোশারেফ হোসেন মোল্লা নামে একজন গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) বেলা ১১টায় গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে জেলা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে জেলার শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন বীর মুক্তিযোধ্যা বোরহান উদ্দিন শেখ, এনায়েত হোসেন, সবেদ আলী ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।
আরও পড়ুন: মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে বিএনপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লাকে ‘ভুয়া’ বা ‘মুক্তিযোদ্ধা নন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা বহির্ভূত নতুন আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের একটি অসম্পূর্ণ তালিকার ভিত্তিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
বক্তারা প্রমাণ প্রদান করে জানান, মোশারেফ হোসেন মোল্লা একজন গেজেটভুক্ত প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যার মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৩৫০০০৫০৯৪ এবং লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ১০৯০১০২৭৮। এমনকি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত গেজেট এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি মুক্তিযোদ্ধা তালিকার ২,১৬১ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে তাঁর নাম ১৭১ নম্বরে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মোশারেফ হোসেন মোল্লা এবং তাঁর ছোট ভাই ভারতে গিয়ে সরাসরি উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং দেশে ফিরে সম্মুখ সমরে অংশ নেন। সংবাদ প্রকাশের আগে জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। বক্তারা অবিলম্বে এর পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে মানববন্ধনের শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে চার দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: কাউখালী সাপ্তাহিক বাজারে ফুটপাত ও সড়ক দখলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
সম্প্রতি পিতার এই মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন মোশারেফ হোসেন মোল্লার ছেলে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম। অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, 'আমার বাবা একজন প্রকৃত এবং গেজেটেডভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমি এর সপক্ষে সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করেছি। তাই প্রমাণিত হয় যে আমার পিতা একজন গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ এনে লেখালেখি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন