ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলনার পাঁচ অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ঢাকায় গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার


খুলনার পাঁচ অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ঢাকায় গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ খুলনার পাঁচ অভিযুক্ত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (২১ জুন) ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এই সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার ও দুটি রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন শেখপাড়া মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তুষার শিকদার, গোবরচাকার আবরার ফয়সাল বাদিন, শেখপাড়া লোহাপট্টির আল আমিন, সোনাডাঙ্গার নবীনগর এলাকার আসিফ এবং টুটপাড়া জোড়াকল বাজার এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির।

আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

সোমবার (২২ জুন) সকালে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি খুলনায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় মহানগরজুড়ে বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে।

চলতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই গোপন তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা খুলনার বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: সকালে যুবদল নেতা, সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ খুলনায়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোনো ধর্মই খারাপ কাজকে সমর্থন করে না: গয়েশ্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


কোনো ধর্মই খারাপ কাজকে সমর্থন করে না: গয়েশ্বর

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য, বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন বিধি-নিষেধের আওতায় ছিল। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ধর্মই অন্যায় বা খারাপ কাজকে সমর্থন করে না।

সোমবার আয়োজিত কেরানীগঞ্জ উপজেলা হলরুমে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ ও অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সব ধর্মেই ভালো ও মন্দ কাজের প্রতিফল সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। মানুষ তার কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করবে। ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো সাংঘর্ষিক আইন সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাকে ইফতার পার্টি আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি। তখন আমি গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ইফতার বিতরণ করতাম। ইসলামের মূল শিক্ষা হল নিরাকার আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং আমি একজন হিন্দু হিসেবে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করি। ধর্ম ও কর্ম আসলে একে অপরের পরিপূরক। রাষ্ট্রের আইন এবং দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলা অপরিহার্য। কোনো ধরনের উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ মো. আল-আমীন, বিএনপি নেতা আলি হোসেন আলী, চঞ্চল এবং যুবদল নেতা আরমান উল্লাহ ডাবলু প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯ বিষয়ে একমত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


৯ বিষয়ে একমত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

এছাড়া, মালয়েশিয়া আরসিইপিতে (রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ) যোগদান এবং আসিয়ানের সঙ্গেও সম্পৃক্ততা জোরদারের জন্য বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতিতে এই অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ার মাটিতে প্রধানমন্ত্রীর পদে এটিও তার প্রথম সফর হিসেবে চিহ্নিত হয়।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরকালে দুই নেতা ও তাদের প্রতিনিধিবর্গ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার শক্তিশালী অঙ্গীকার প্রদর্শন করেন। একই সময়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একাধিক দলিল বিনিময় সম্পর্কেও তারা প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রশংসার দাবিদার হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রত্যাশার একটি নতুন অধ্যায়।

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন। দুই দেশের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মধ্যে এ চুক্তিটি সম্পন্ন করা।

দ্বিমুখী বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি সম্পর্কে তারা গুরুত্ব আরোপ করেন।

উভয় নেতা এই সময় উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক সহযোগী হলো বাংলাদেশ। তারা দ্বিমুখী বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির গুরুত্বের দিকে নজর দেন।

এছাড়া, উভয় দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের একটি কাঠামোবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতি স্বাগত জানান।

টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর ও লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং সহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে দুই নেতা সম্মত হন।

বাংলাদেশের আরসিইপি আবেদনের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থন প্রদানের বিষয়ক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসাবে, তারা বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য জোট রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার সমর্থন জানান।

মালয়েশিয়া জানায়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং এই অঞ্চলে তার কৌশলগত ভূমিকার স্বীকৃতি প্রদান করে যে, ভবিষ্যতে আরসিইপিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশ এ সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে আরসিইপি সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জনের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আসিয়ানের কাঠামোর মধ্যে ঢাকার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মালয়েশিয়ার গঠনমূলক সমর্থনের আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিভিন্ন খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিরবচ্ছিন্নভাবে জোরদারের ব্যাপারটি বোধগম্য হতে উঠে আসে।

দুই নেতার আলোচনায় শ্রমিক নিয়োগ অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আসে। তারা মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ও উন্নয়নে বাংলাদেশি শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকেও স্বীকার করেন।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন বিদেশি কর্মী কোটার অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতি অনুসারে প্রতিটি আবেদনকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে।

যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের বিষয়টিও উভয় দেশ আলোচনায় নেয়।

এটি বিদ্যমান শ্রমশক্তি অভিবাসন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে চাহিদা অনুযায়ী একটি নতুন ও হালনাগাদ কাঠামো তৈরির জন্য।

নির্ভরযোগ্য অ্যাজেন্সির মাধ্যমে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো উদীয়মান প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে তারা সম্মত হন।

সরকারী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর তারা জোর দেন। মালয়েশিয়ার বৃহত্তর বিনিয়োগ বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির হাইটেক পার্ক, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো 및 বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্বাগত জানানো হয়।

মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং ও পরীক্ষণ খাতের বৈশ্বিক সক্ষমতার বিষয়টিও তারা উল্লেখ পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচনা করে।

মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের প্রকৌশল স্নাতকদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জ্ঞান-আদান-প্রদান কর্মসূচীর মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন কাঠামোর পক্ষেও আলোচনা করা হয়।

দুই নেতা বৈশ্বিক ইসলামি অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ থাকার কথা স্বীকার করেন এবং বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নকে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে একমত হন।

তারা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট বিভাগ (জাকিম) এর চলমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে হালাল সনদ প্রদান, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, গবেষণা, উদ্ভাবন ও তৈরি ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বিষয়টিও উভয় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তারা উচ্চশিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা উদ্যোগ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপারে একমত হন।

যোগ্যতার / সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি এবং শিক্ষাক্রমের সমাপকের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তারা গুরুত্ব আরোপ করেন।

‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ এবং ‘মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যাশা দুই নেতা ব্যক্ত করেন। তারা একইসাথে সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

জ্বালানি সহযোগিতাও তাদের আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল। উভয় পক্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ব্যাপারেও সম্মত হন।

বাংলাদেশ বলছে, মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলো বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরসহ অনাবিষ্কৃত খনিজসমূহ উত্তোলনের জন্য এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানায়।

অতএব, জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে জাতীয় জ্বালানি কোম্পানি এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সহযোগিতার বিষয়েও উভয় দেশ উৎসাহ প্রদান করে।

দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রশংসা করেন দুই নেতা, তারা বর্তমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক সম্পূর্ণ কার্যকর করার অঙ্গীকার করেন।

সামরিক বিজ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প অংশীদারিত্বে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত হন তারা। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামোগত রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কমিটি (জেসিডিসি) বৈঠক আয়োজনের প্রত্যাশা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে একত্রে প্রশিক্ষণ, কৌশলগত মহড়া এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ, মানবপাচার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে সহযোগিতা জোরদারেরও কথা তারা বলেন।

দুই নেতা রোহিঙ্গা সংকট বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মালয়েশিয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতির ঘোষণা দেন।

রাষ্ট্রপাল মোহাম্মদ আলী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে জানিয়ে দেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং চলমান আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে তারা আলাপ করেন। সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তির পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানবপাচার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং অন্যান্য প্রচলিত এবং অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

জাতিসংঘ ও ওআইসি সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করার অঙ্গীকার করে দুই দেশ। একই সময় তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অবশেষে, তিনি এবং তার প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিডনিতে বিএওএর বার্ষিক ডিনার ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


সিডনিতে বিএওএর বার্ষিক ডিনার ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া ইনক (বিএওএ) আয়োজিত ‘BAOA Annual Dinner and Cultural Night 2026’ এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় সিডনির ইনগলবার্নে অবস্থিত দাওয়াত রেস্টুরেন্টে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আসন্ন আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও বহুসাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে একটি জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হচ্ছে। এতে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, স্পন্সর এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমন্বয়কারী বেলাল হোসেন ঢালী জানান, অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নৃত্য, স্থানীয় শিল্পীদের একক ও সমবেত নৃত্য পরিবেশনা, আধাঘণ্টাব্যাপী পথনাটক ‘প্রবাসীর পাংখা’, শিল্পী মেহেদী হাসানের একক সংগীত পরিবেশনা, সমবেত সংগীত এবং র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে।

অপর সমন্বয়কারী মো. মোবারক হোসেন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতির বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অতিথিদের চূড়ান্ত তালিকা পরে প্রকাশ করা হবে।

সংগঠনের সভাপতি মনিরুল হক জর্জ ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ইসলাম জানান, বিএওএ-এর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তথ্যসমৃদ্ধ করতে শিগগিরই একটি মিডিয়া সেল গঠন করা হবে। একই সঙ্গে সংগঠনের স্মরণিকা হিসেবে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ এবং নিজস্ব ওয়েব পোর্টাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আগেই ওয়েব পোর্টালটি চালু হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে নেতৃবৃন্দ জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য একটি নিজস্ব কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য পেনশন সুবিধা চালুর লক্ষ্যে সংগঠনটি কাজ করছে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী ও কাউন্সিলর আশিকুর রহমান অ্যাশ সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। তারা জানান, অনুষ্ঠানের ভিআইপি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ ডলার এবং সাধারণ টিকিট ৩০ ডলার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএওএ সভাপতি মনিরুল হক জর্জ। সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ইসলাম। এই সময় বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সৌজন্য ভিআইপি টিকিট প্রদান করা হয়। পরে অতিথিদের নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মন খারাপ’ সেই কুমির, ছেড়ে দিয়েছে খাওয়া-দাওয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


‘মন খারাপ’ সেই কুমির, ছেড়ে দিয়েছে খাওয়া-দাওয়া

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘি থেকে উদ্ধার করা শতবর্ষী জাতের মিঠাপানির কুমিরটি ১৯ দিন ধরে কোনো খাবার মুখে তোলেনি। গত ৩ জুন খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তরের পর মাছ, মাংস কিংবা জীবন্ত হাঁস দেওয়ার পরেও ৪৫ বছর বয়সী এই মাদী কুমিরটি কিছুই গ্রহণ করেনি।

৩ জুন বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বন বিভাগের একটি বিশেষ রেসকিউ টিম কুমিরটিকে দিঘি থেকে উদ্ধার করে। এরপর কুমিরটিকে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

দীর্ঘদিন অনাহারে থাকার কারণে প্রাণীটির স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বন বিভাগ জানিয়েছে, কুমিরটির শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকায় আপাতত উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খ cagesাবদ্ধ পরিবেশে থাকার কারণে এটি চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপে রয়েছে।

গত ১ জুন, মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নামা সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায় এই কুমিরটি, যার ফলে শিশুটির মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও মাজারের দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ জুন জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বন বিভাগের একটি বিশেষ রেসকিউ টিম কুমিরটিকে উদ্ধার করে। তারপর সেটিকে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

বর্তমানে পুনর্বাসন কেন্দ্রের একটি বিশেষ জোনে অ্যানিমেল কিপার ও ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ টিম নিয়মিতভাবে সেটির দেখভাল করছে। প্রতিদিন কুমিরটির জন্য পানি পরিবর্তন ও কৃত্রিম শাওয়ারের মাধ্যমে গোসলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

খুলনা কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন, 'সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী হিসেবে কুমিরের মেটাবলিজম রেট (বিপাক প্রক্রিয়া) অত্যন্ত ধীর। ফলে এরা দীর্ঘ সময় না খেয়ে অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারে। বিশেষ করে এই কুমিরটি মাজারের দিঘিতে থাকার সময় মানুষের দেওয়া অতিরিক্ত খাবার খেয়ে অত্যন্ত চর্বিবহুল ও স্থূল হয়ে পড়েছে। ৪-৫ শত কেজি ওজনের কুমিরটির শরীরে যে পরিমাণ ফ্যাট বা চর্বি জমা আছে, তাতে এটি এক থেকে দুই মাস অনায়াসে না খেয়ে থাকতে পারবে।'

তিনি আরও জানান, পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে কুমিরটিকে স্বাভাবিক করার জন্য ছোট-বড় মাছ, মুরগি এবং শিকারের অভ্যাস ফেরাতে জীবন্ত হাঁস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কুমিরটি একবার একটি মুরগিকে ধরে কামড় দিয়ে আঘাত করলেও শেষ পর্যন্ত তা না খেয়ে মুখে উগড়ে দেয়।

শারীরিক গঠনে অতিরিক্ত চর্বি থাকায় কুমিরটি স্থলে মাত্র কয়েক কদম হাঁটার পর অলস হয়ে বসে পড়ে। তবে কৃত্রিম জলাধারের পানিতে এর চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কর্মচারীরা লক্ষ্য করেছেন, কুমিরটির মধ্যে মুক্ত ও বড় পরিসরে বিচরণ করার একটি তীব্র প্রবণতা কাজ করছে; এটি প্রায়ই পানির বাইরে উঠে খাঁচার লোহার গেটে জোরে ধাক্কা দিচ্ছে, যা মূলত বন্দিদশা থেকে মুক্তির আকুলতা।

khulna_22-6-26_2

কুমিরটিকে সুন্দরবনের বিশাল অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনে এই কুমিরটি ছাড়ার বৈজ্ঞানিক সুযোগ নেই। সুন্দরবনের নদী ও খালের পানি লবণাক্ত এবং সেখানে মূলত লোনাপানির কুমির বাস করে। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া কুমিরটি পুরোপুরি মিঠাপানির জাত। লোনাপানিতে ছাড়লে এটি অভিযোজন করতে না পেরে মারা যাবে।

ডিএফও নির্মল কুমার পাল বলেন, 'মাজার কর্তৃপক্ষ যদি কুমির এবং সেখানে আসা হাজারো ভক্ত-দর্শনার্থী উভয় পক্ষের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেটিকে ফেরত দেওয়া হতে পারে। কারণ কুমিরটি দিঘির পাড় গলে মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে বা রাস্তায় চলে যেত, যা মানুষ ও প্রাণী উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।'

তিনি বলেন, 'মাজার কর্তৃপক্ষ যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমরা বিষয়টি সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাব এবং পরবর্তী স্থায়ী পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেব।'

প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রাণীটির আচরণ স্বাভাবিক করার জন্য আরও অন্তত এক মাস কুমিরটিকে খুলনার এই পুনর্বাসন কেন্দ্রেই রাখা হবে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ২০০০ সালে বাংলাদেশের প্রাকৃতিকভাবে মুক্ত জলাশয় থেকে মিঠাপানির কুমিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বিলুপ্ত' ঘোষণা করেছিল। বাগেরহাটের এই মাজারের দিঘিটিই ছিল বাংলাদেশে মিঠাপানির কুমিরের শেষ ঐতিহাসিক আশ্রয়স্থল।

তবে গত ৫-৭ বছরে দেশের নদী অববাহিকার বাস্তুসংস্থানে কিছু পরিবর্তনের ফলে পাবনা, রাজশাহী, মাগুরা, ফরিদপুর এবং বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে বেশ  কিছু মিঠাপানির কুমির উদ্ধার হয়েছে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দেশের নদী ও জীববৈচিত্র্যের পুনরুজ্জীবনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ। উদ্ধার হওয়া কুমিরগুলোর কিছু অংশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কেন্দ্রে বংশবৃদ্ধির জন্য এবং কয়েকটিকে অনুকূল মিঠাপানির প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বাগেরহাটের এই কুমিরটির ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে মাজারের নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং বন বিভাগের চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%