ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শহীদ জিয়ার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে : মৎস্য প্রতিমন্ত্রী


শহীদ জিয়ার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে : মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে তাদের সকলকে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

আজ শনিবার, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) পরিবারের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘জীবন, কর্ম ও আদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এই বক্তব্য প্রদান করেন।

এবং এ সময় তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের প্রতি তার গভীর ভালোবাসার উদাহরণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি যে শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন তা নয়, নিজে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে যুদ্ধের নেতৃত্বও দিয়েছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, তিনি নিজের দায়িত্বে ফিরে গিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তাঁর মধ্যে কখনো ক্ষমতার লোভ ছিল না। তিনি রাষ্ট্রকে দুর্ভিক্ষের হাত থেকে উদ্ধার করে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং দেশের চাহিদা পূরণ করতে বিদেশেও রপ্তানি করেছেন।

আরও পড়ুন: ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক, রাশেদের দাবি

প্রতিমন্ত্রী এও বলেন, শহীদ জিয়ার অনুপস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করে গণতন্ত্রের পক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। বিএনপিকে কেউ ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিত করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। ‘করব কাজ, গড়ব দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে শহীদ জিয়ার যোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাভাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন

বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সাহসী রাষ্ট্রনায়ক ও দূরদর্শী নেতা। তাঁর কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্বগুণ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, বিএনপি সদর উপজেলার সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজগর আলী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেলোনিকে নিয়ে জি৭ সম্মেলনে ছবি তোলা বিতর্কে উত্তেজনা বাড়ালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


মেলোনিকে নিয়ে জি৭ সম্মেলনে ছবি তোলা বিতর্কে উত্তেজনা বাড়ালেন ট্রাম্প

জি৭ সম্মেলনে ছবি তোলা নিয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে লক্ষ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে মন্তব্য করে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছেন।

তিনি একই সঙ্গে এই বিরোধকে ইরান যুদ্ধ ও ন্যাটো নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। খবর এএফপির।

এই বিরোধটি ট্রাম্প ও ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী ডানপন্থী নেতা মেলোনির মধ্যে এক অস্বাভাবিক ব্যক্তিগত দূরত্ব তৈরি করেছে। ট্রাম্পের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর মেলোনি নিজেকে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।

এর আগে, ট্রাম্প ইতালীয় টেলিভিশন চ্যানেল লা৭-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এ সপ্তাহের জি৭ সম্মেলনে মেলোনি তার কাছে ছবি তোলার জন্য ‘অনুরোধ করেছিলেন’। তিনি বলেন, ‘আমি তার জন্য মায়া অনুভব করেছিলাম বলেই রাজি হয়েছিলাম।’

মেলোনি এ অভিযোগ তীব্রভাবে অস্বীকার করে একে ‘মনগড়া’ বলে অভিহিত করেন। তবে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সম্মেলন চলাকালে মেলোনি ‘বারবার’ তার সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ করেছিলেন।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইতালি সমর্থন না দেওয়ার পর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে মেলোনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

তিনি লেখেন, ‘এখন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সামরিকভাবে পরাজিত করার পর তিনি আবার বন্ধু হতে চান, যাতে তার জনপ্রিয়তার হার বাড়ে। না, ধন্যবাদ!’

ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ইতালির বিমানঘাঁটি বা রানওয়ে ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এ পরিস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি আরও দীর্ঘদিনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করে বলেন, তথাকথিত ন্যাটো মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়।

ট্রাম্প বলেন, ইতালিসহ অন্যান্য মিত্র দেশকে রক্ষায় ওয়াশিংটন প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে।

এমন মন্তব্যগুলো ইতোমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

এর আগে, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করে বলেন, মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘গুরুতর ও অপমানজনক’ মন্তব্য ‘সমগ্র ইতালিকে অপমান করেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


শেরপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ

শেরপুরের শ্রীবরদী অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বাইসাইকেল, সেলাইমেশিন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। এই বিতরণের ফলে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও নগদ টাকা পেয়েছে জানার পর, এই পিছিয়ে পড়া জনগণের মধ্য থেকে অনেকেই খুশি হয়েছে।

শনিবার বিকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

প্রাথমিক পর্যায়ের ২২ জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬৬ হাজার টাকা, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৬৫ হাজার টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৯ জন শিক্ষার্থীকে ৭ হাজার টাকা করে মোট ৬৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, পাঁচ নারীকে সেলাই মেশিন এবং সাত নারী শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে।

প্রধান অতিথি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, "এই এলাকাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ এলাকা। এখানে জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশ পিছিয়ে পড়া নৃ-জনগোষ্ঠী। বিএনপি সরকার আগেও সবসময় এর পাশে থেকেছে, আগামীতেও থাকবে।"

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ, থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম, উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আব্দুর রহিম দুলাল, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল, পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরী অকুল, সদস্য সচিব এস.এম সোহান, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান মোহাম্মদ আলসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং উপকারভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে কৃষি বিষয়ক ‘পার্টনার কংগ্রেস’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


ময়মনসিংহে কৃষি বিষয়ক ‘পার্টনার কংগ্রেস’

জেলায় আজ নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও চাষাবাদে প্রযুক্তিগত সহায়তার লক্ষ্যে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এই ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহাম্মদ খান, উপ-পরিচালক এনামুল হক, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুবায়রা বেগম সাথী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পার্টনার কংগ্রেসের অংশ হিসেবে ‘পার্টনার অ্যাক্টিভিটি ও ভিশন ডিসপ্লে’ এবং ‘প্ল্যান্ট ডক্টরস ক্লিনিক’ প্রদর্শনীতে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা, গ্যাপ (উত্তম কৃষি চর্চা) এবং রপ্তানিমুখী কৃষি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও স্মার্ট কৃষির অংশ হিসেবে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার, এআই মডেলের মাধ্যমে ফলন পূর্বাভাস বিষয়ে আলোচনা হয়। রোবোটিক হার্ভেস্টিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী উপস্থিত কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে।

এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে এডিপির উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাবসার্সেবল পাম্প বিতরণ করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

ডশক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- অষ্টধর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বোররচর পূর্ব বনপাড়া দারুস সুন্নাহ নূরাণী হাফিজিয়া মাদরাসা, পরাণগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, অম্বিকাগঞ্জ কলেজ, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, মহজমপুর হাফিজিয়া মাদরাসা এতিমখানা, শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাগড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়।

এরপর, মৎস চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের ৪টি ছোট মাছ চাষ প্রদর্শনী প্রকল্পে চাষিদের মধ্যে গাছের চারা এবং মৎস খাদ্য বিতরণ করা হয়।

এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন দোকান খোলার প্রতি ঝোঁক বেশি, কারখানার প্রতি কম?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


কেন দোকান খোলার প্রতি ঝোঁক বেশি, কারখানার প্রতি কম?

দেশের পৌনে চার কোটি মানুষ বর্তমানে কর্মব্যস্ত রয়েছেন, তবে তাদের মধ্যে বিশাল একটা অংশ জড়িয়ে আছেন কেনাবেচা অথবা সাধারণ চাকরির মতো সেবা খাতে। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্প বা কারখানার কার্যক্রম চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ অর্থনৈতিক শুমারি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে যা অর্থনীতিবিদদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ৯১.২৩ শতাংশই এখন একচ্ছত্রভাবে সেবা খাতের অধীনে, যেমন দোকানপাট, শোরুম, আইটি, হোটেল-রেস্তোরাঁ। অপরদিকে, পণ্য উৎপাদনের প্রকৃত কারখানা বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবদান মাত্র ৮.৭৭ শতাংশ। একসময় যে অর্থনীতি কৃষি বা অনুচ্চ উৎপাদন খাতের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছিল, তা আজ নাটকীয়ভাবে চলে গেছে সেবা খাতের দখলে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কেন আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা স্থায়ী কারখানা স্থাপন করার চেয়ে দোকান খুলতে বা চাকরির দিকে বেশি ঝুঁকছেন? আমাদের আগামী দিনের অর্থনীতি শুধুই কেনাবেচার প্রেক্ষাপটে থাকবে কি? কী হবে এই ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?

অর্থনীতির এই পরিবর্তনের পেছনে প্রকৃত কোনো প্রাকৃতিক অর্থনৈতিক বিকাশ নেই বরং এটি প্রাতিষ্ঠানিক একটি গভীর হতাশার চিত্র তুলে ধরে। আসলে, একটি দেশের শিল্পায়নের পথের সবচেয়ে বড় বাধা হলো সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও চরম অব্যবস্থাপনা। লাইসেন্স পাওয়ার জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকট এবং ঘুষের চাহিদা যখন কোনো কারখানা প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকেই বিনষ্ট করে দেয়, তখন উদ্যোক্তাদের বাধ্য হয়ে পিছু হটতে হয়; কখনও বা তারা মাঝপথে প্রকৃত পুঁজির সঙ্গে তাঁদের স্বপ্ন সবই হারিয়ে যান।

এই প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে দেশে দীর্ঘমেয়াদি ও ভারী শিল্প গড়ে উঠছে না। তরুণ উদ্যোক্তারা উচ্চ পুঁজির বিনিয়োগের ঝুঁকি নেওয়ার পরিবর্তে কম পুঁজি দিয়ে দ্রুত মুনাফার সহজ পথ হিসেবে সেবা খাতের দিকে ঝুঁকছেন। দুর্নীতির এই সর্বগ্রাসী বিপর্যয় উস্কে দিতে পারছে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গঠনের ব্যর্থতা, যা আমাদের অজানা উদ্বেগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

উন্নয়ন অর্থনীতির ক্লাসিক্যাল মডেল বা ফিশার-ক্লার্ক থিসিস অনুযায়ী, একটি দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক নিয়মে কৃষি থেকে প্রথমে শিল্পে এবং শিল্প খাতের হাত ধরে উন্নত সেবা খাতে সরে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ এখন উল্টো রথে চড়ে চলেছে। শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটার আগেই অর্থনীতি সরাসরি সেবা খাতে লাফ দিয়েছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ড্যানি রড্রিক এই অবস্থাকে ‘অকাল ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ বা অসময়ে শিল্পায়নের স্থবির হয়ে যাওয়ার নাম দিয়েছেন। তিনি তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, যখন কোন উন্নয়নশীল দেশ পর্যাপ্ত শিল্পায়ন ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন এটি একদিকে অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে প্রাণবন্ত মনে হলেও অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদে’ পড়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ সেবা খাত মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নির্ভরশীল, ফলে এটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দিন দিন দুর্বল করে ফেলছে।

কারখানার পরিবর্তে দোকানপাটের আধিক্য আমাদের অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতার স্থবিরতা সৃষ্টি করছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিক পলিসি পেপারের তথ্য অনুযায়ী, কারখানায় প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎপাদন এক লাফে ১০ গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব, কিন্তু সেবা খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করার সুযোগ অত্যন্ত কম।

শিল্প খাত মূলত পণ্য উৎপাদন করে, যা বিদেশে রপ্তানি করে দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার আয় করে। অন্যদিকে, আমাদের সেবা খাতের অধিকাংশই অ-রপ্তানিযোগ্য অভ্যন্তরীণ সেবা, যা দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক চক্রের ঘুরপাক খায়। ফলে, দীর্ঘমেয়াদে দেশ বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি এবং সর্বগ্রাসী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে পড়ে, যা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) তাদের প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছে।

দেশের কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের নাজুক কাঠামোগত দুর্বলতার চিত্র বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি-র সম্মানীয় ফেলো ও আত্নবিশ্বাসী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমানের বিশ্লেষণেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি মনে করেন, আমাদের কর্মসংস্থানের বড় একটি সমস্যা হলো, নারীদের একটি বড় অংশ এবং বিপুলসংখ্যক বেকার ও প্রশিক্ষণহীন তরুণ শ্রমশক্তি এখনও কর্মসংস্থানের বাইরে রয়ে গেছেন। আবার, যারা কাজ করছেন, তাদের মধ্যে খাতের ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। যদিও দোকানপাট বা সেবা খাত সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় নয়, তবে আমাদের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের মাত্র নামমাত্র অবদান দেশের শিল্পায়নের একটি বড় দুর্বলতা বিশেষ করে প্রসঙ্গটিতে।

সবচেয়ে বড় সংকট ও অসঙ্গতি দৃশ্যমান হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির শুরুতে ভিত্তি কৃষি খাতে। অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেছেন, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো কৃষিতে কাজ করছেন, তবে জাতীয় আয়ে এ খাতের অবদান মাত্র ১২ শতাংশ। এর সরল অর্থ হলো, কৃষিতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ নিয়োজিত হওয়ায় শ্রমের উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে নিম্নমানের, অর্থাৎ এখানে এক বিশাল ‘প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব’ বা ছদ্ম বেকারত্ব উপস্থিত রয়েছে।

এই বন্ধ্যাত্ব কাটাতে হলে আমাদের মূল ভিত্তি অর্থাৎ কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানার প্রতিষ্ঠা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। এই উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে একদিকে আমাদের আমদানির ওপর ক্ষতিকর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে এবং অপর দিকে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হতে তা রপ্তানির বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তৈরি পোশাকের বাইরে আমাদের দেশে বড় সম্ভাবনা রয়েছে ওষুধ, সেমিকন্ডাক্টর এবং বিশেষ করে চামড়া ও জুতা শিল্পে। চামড়া খাতের নিজস্ব কাঁচামাল বা চামড়ার মান বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং এর মূল্য সংযোজনের ক্ষমতা তৈরি পোশাকের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু আমলাতান্ত্রিকতা বা প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার কারণে এই সম্ভাবনাময় খাতটি এখন সংকটের মুখোমুখি। এই খাতের সংকট কাটাতে হলে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও নীতিগত স্থবিরতা অবশ্যই কাটাতে হবে।

ঝুঁকি এবং সংকটের এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের পেছনে দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন দেশের প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই বিশাল কর্মসংস্থানের মধ্যে পুরুষ ২ কোটি ৫৬ লাখ এবং নারী ৫১ লাখ ২৮ হাজার। একই সাথে মোট কর্মসংস্থানে প্রায় ৭৭.১০ শতাংশ মানুষই নিয়োজিত রয়েছেন বিভিন্ন স্থায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, যা প্রমাণ করে যে, সরকারি চাকরির তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগই বর্তমানে আমাদের মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু এই মানবসম্পদকে আমরা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগাতে পারছি না, যা আমাদের জাতীয় অপচয়ে পরিণত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সেবা খাতের এই একচ্ছত্র আধিপত্য বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চ আয়ের স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এক অর্থে অসম্ভব। একটি পোশাক কারখানা, ওষুধ শিল্প বা ইলেকট্রনিক উত্পাদন কেন্দ্রে যেখানে একসঙ্গে হাজার হাজার তরুণের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব, সেখানে একটি সাধারণ শোরুম বা দোকানে বড়জোর ৫ থেকে ১০ জনের কর্মসংস্থান হয়, যার পরিধি খুবই সীমিত।

সেবা খাতের এই সাময়িক জয়জয়কারের মাঝে তাই নীতিনির্ধারকদের অলস বসে থাকার সুযোগ নেই। আমাদের আদি এবং মূল ভিত্তি কৃষিনির্ভর শিল্প, কিংবা বিপুল সম্ভাবনার চামড়া শিল্প গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ নীতি সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের উপকারিতা আনতে হবে।

তবে তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির মতো মারাত্মক ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন করে একটি স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করা, যেন উদ্যোক্তারা বড় ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে সাহসী হতে পারেন। একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন ক্ষতিকর ভারী শিল্পকে নিরুৎসাহিত করে দেওয়াল উপর আনার লাইনে পরিবেশবান্ধব, কৃষিবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর জনবান্ধব উৎপাদনের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

যেদিন কাউন্টারের টেবিল এবং দোকানের ঝাঁপ ফেলার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের তরুণেরা শ্রম ও মেধা উৎপাদনমুখী কারখানার আধুনিক যন্ত্রপাতির চাকা ঘোরাতে শুরু করবেন, সেদিনই নির্মিত হবে একটি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি। তবেই ২০ কোটি মানুষের এই বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে পারবে বলে অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%