০৩:১৮ পি.এম
নাইজেরিয়ায় বুধবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাঁচ মাস পর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচন মূলত মূল্যস্ফীতি ও প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবুর অর্থনৈতিক সংস্কারকে ঘিরেই আবর্তিত হবে।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটি গত কয়েক বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতায় চাপে রয়েছে। তবুও বিভক্ত বিরোধী দল টিনুবুর পক্ষে কাজ করছে। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে চান। এই খবরটি আবুজা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে।
নাইজেরিয়ার রাজনীতি বিষয়ক নিউজলেটার ‘দ্য বেলওয়েদার’-এর লেখক আফোলাবি আদেকাইয়াওজা বলেন, ‘অর্থনীতিই সবচেয়ে বড় ইস্যু। দেশে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে এক জায়গায় আনার মতো এটিই একমাত্র বিষয়। এটি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে।’
আরও পড়ুন: শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
২০২৩ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর টিনুবু তার প্রথম মেয়াদে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকর করেছেন। এর মধ্যে ব্যয়বহুল জ্বালানি ভর্তুকি বন্ধ করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। বছরের পর বছর এই ভর্তুকি পরোক্ষভাবে পুরো অর্থনীতিতে পণ্যের দাম কম রাখতে সহায়তা করেছিল।
অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা পেলেও এসব সংস্কারের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। নাইরার (নাইজেরিয়ার মুদ্রা) মূল্য ব্যাপকভাবে কমেছে, আর মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩৪ শতাংশে পৌঁছেছিল। যদিও জুলাইয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
টিনুবুর দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে শুরু হওয়া দারিদ্র্যের বিস্তার এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ৪০ শতাংশ।
দেশটি একাধিক নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত রয়েছে। এখানে জিহাদি গোষ্ঠী, নির্দিষ্ট মতাদর্শহীন ‘দস্যু’ দল, জমি নিয়ে কৃষক ও পশুপালকদের সংঘাত এবং দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত সহ নানা পরিস্থিতির জন্য সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির জ্যেষ্ঠ আফ্রিকা বিশ্লেষক ল্যাড সারওয়াত বলেন, ২০২৪ সাল থেকে সহিংসতা বেড়ে গেছে। এর পেছনে ‘নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র দস্যুতার বিস্তার ও তীব্রতা বৃদ্ধি’ এবং জিহাদি বিদ্রোহের কেন্দ্র বর্নো রাজ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।
এদিকে আদেকাইয়াওজা বলেন, ‘বিরোধীরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ ও আইনি সমস্যায় এতটাই জড়িয়ে পড়েছে যে টিনুবুর নীতির সঙ্গে তাদের নীতির পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারছে না।’
৪২ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা আফোলায়ান আবদুল্লাহি বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়।’ তিনি জানিয়েছেন, তিনি টিনুবুকেই ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
-২০২৩ সালের লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি-
আরও পড়ুন: ইশরাক কেন পদত্যাগ করলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে: নাহিদ
টিনুবুকে নাইজেরিয়ার অন্যতম বিচক্ষণ রাজনীতিক হিসেবে ধরা হয়। তার দল অল প্রগ্রেসিভস কংগ্রেস জাতীয় পরিষদ এবং ৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ গভর্নর পদের মধ্যে ৩১টি নিয়ন্ত্রণ করছে।
১৬ জানুয়ারির নির্বাচন আংশিকভাবে ২০২৩ সালের লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে। ওই নির্বাচনে টিনুবুর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাবেক গভর্নর পিটার ওবি এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আতিতু আবুবকর। এবারও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২০২৩ সালের নির্বাচনে টিনুবু ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আবুবকর পান ২৯ শতাংশ এবং ওবি পান ২৫ শতাংশ ভোট। গতবার প্রায় ৬ শতাংশ ভোট পাওয়া রাবিউ কোয়ানকোয়াসো এবার ওবির সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। তিনি ওবির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
আবুজার পথ বিক্রেতা বেকি আলেগবে বলেন, ‘নাইজেরিয়া নিরাপদ নয়—সন্ত্রাসী, অপহরণকারী, দস্যু সর্বত্র।’ ২৮ বছর বয়সী আলেগবে এদো রাজ্যের নিজ গ্রামের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত। তবে তিনি জানান, ‘সেখানে যেতে যে ঝুঁকি নিতে হবে, আমি তা নেব না।’
আরও পড়ুন: ইসরাইলি নির্বাচনে উগ্রপন্থি বেন-গভিরের হাতিয়ার: মসজিদে জরিমানা ও বাড়িঘর উচ্ছেদ
যাতায়াতের ব্যয় পাঁচ গুণ বেড়ে যাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। আগের নির্বাচনে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ ওঠায় এবারও তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি জানান। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৭ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন