০৩:১৭ পি.এম
শেষ হচ্ছে বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস। বর্তমান ১৮০ দিনের মন্ত্রিপরিষদের পারফর্মেন্সের বিচার-বিশ্লেষণ চলমান রয়েছে সরকার এবং সরকারের বাইরে। গুঞ্জন উঠেছে যে, ছয় মাসের কার্যক্রম বিশ্লেষণের পর মন্ত্রিপরিষদে রদবদল আসতে পারে। তবে বিএনপির একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। এমনকি রদবদল না হলেও, মন্ত্রিপরিষদের আকার বাড়ানোর পরিকল্পনা হচ্ছে। সরকারের কাজের গতি বাড়াতে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্বের চাপ কমানোর জন্য সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। ছয় মাস পর নতুন চারজনকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ প্রক্রিয়া কার্যকর করার এখতিয়ার শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। তিনি যখন চাইবেন, তখনই এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। দিনটি সামনে রেখে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা চলছে। তবে এই পর্যালোচনায় মন্ত্রিসভার পরিবর্তন বা বড় ধরনের দপ্তরের পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন। জানা গেছে, সরকারের শুরুতে তুলনামূলক বড় পরিসরে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও, কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক দায়িত্ব রয়েছে। এই অবস্থা চলমান থাকলে প্রশাসনিক কাজের চাপ কমানো এবং নীতিনির্ধারণে বেশি মনোযোগ দেওয়ার জন্য নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি নতুন মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকন এমপি যুক্ত হতে পারেন বলেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। এ মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় নির্ধারিত উপদেষ্টারা এবং বিশেষ সহকারীরাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে, মন্ত্রিসভায় কাউকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বরং ১৮০ দিনের কাজের মূল্যায়নের পর কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, সেটি চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। অর্থাৎ প্রথম ধাপে 'রদবদল' নয়, বরং 'অ্যাডজাস্টমেন্ট' হতে পারে। এতে বর্তমান মন্ত্রিসভার কাঠামো মোটামুটি অপরিবর্তিত রেখেই নতুন চারজনকে যুক্ত করার সম্ভবনা রয়েছে। জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আপাতত মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হবে আগামী ১৬ আগস্ট। এরই মধ্যে সব মন্ত্রণালয় রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এসব রিপোর্ট মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের কাজের চাপ কমাতে সেসব মন্ত্রণালয়ে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আছে।' মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, '১৮০ দিনের কর্মসূচির মূল্যায়ন করা হবে। আমরা কতটা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছি, প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব মাধ্যম আছে, গণমাধ্যম আছে—এসবের মাধ্যমে হয়তো তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, গত ছয় মাসে উনার যতগুলো কর্মকাণ্ড দেখেছি, যেগুলোর কোথাও কোনো ভুল হয়নি।' তিনি বলেন, 'আগামী দিনে মন্ত্রিসভায় যদি কোনো পরিবর্তন করতে চান প্রধানমন্ত্রী, তখন উনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। উনার সিদ্ধান্তকে আমরা প্রশংসা করতে বাধ্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন