ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বৃক্ষরোপণকে জাতীয় দায়িত্ব ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


বৃক্ষরোপণকে জাতীয় দায়িত্ব ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বৃক্ষরোপণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব, পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি কর্তব্য।

তিনি জানান, আজকের একটি বৃক্ষ আগামী দিনের নির্মল পরিবেশ, সুস্থ জীবন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই আমাদের সকলের উচিত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব গ্রহণ করা। বৃক্ষরোপণকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করাই হবে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

আগামীকাল ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক বাণীতে এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ শুরুর খবর নিয়ে তিনি আনন্দিত। প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। প্রাণিকূলের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি হ্রাস, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশ পরিবেশগত নানা সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। এ সকল সংকট মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন অপরিহার্য।

এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ মনে হচ্ছে।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার বৃক্ষরোপণ অভিযানকে জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার

এ লক্ষ্য অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারি বনভূমি, প্রান্তিক ভূমি, উপকূলীয় এলাকা ও চরাঞ্চলে বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরকারের এ সকল যুগান্তকারী কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায়, একটি সবুজ, টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

তিনি এ বছর ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’ এবং ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’-এ ভূষিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশপ্রাপ্ত সকল উপকারভোগীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

তিনি ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

আরও পড়ুন: নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রথমবার সমুদ্রে সফলভাবে ফ্রি-ফল জাম্প সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিটি পথপ্রদর্শক: ডেপুটি স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


ঢাবি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিটি পথপ্রদর্শক: ডেপুটি স্পিকার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট অর্জনের স্থল হিসেবে নয় বরং দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথপ্রদর্শক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বুধবার (০৮ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ইতিহাস বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের জীবনে নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নবীনদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কায়সার কামাল বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের মতো দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আলোকবর্তিকা হিসেবে জাতিকে পথ দেখিয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনের শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা সফলতার মূল কারণ উল্লেখ করে, দেশ ও সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী হয়ে উঠার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার।

অনুষ্ঠানে বিভাগটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন?

 

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের নতুন করে দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে যে, তিনি সিঙ্গাপুরে গোপনে বিয়ে করেছেন।

তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি এই অভিনেত্রী।

গুঞ্জনের মধ্যেই একটি সাক্ষাৎকারে ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার গৌতম সাহা জানিয়েছেন যে, অপু বিশ্বাসের বিয়ের খবর তিনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই জেনেছেন। তবে এর সত্যতা সম্পর্কে তার কাছেও কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

গৌতম সাহা বলেছেন, ‘যদি খবরটি সত্য হয় তবে তিনি অপু বিশ্বাসকে শুভেচ্ছা জানাবেন। আর যদি এটি শুধুমাত্র গুঞ্জন হয়ে থাকে, তবে তা সত্যিই অবাক হওয়ার কিছু নয়।’

তার মতে, অপু বিশ্বাস নিজের যোগ্যতা, আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ়তা দিয়ে জীবনকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা রাখেন।

একই সাক্ষাৎকারে গৌতম সাহা আরো দাবি করেন যে, শাকিব খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অপু বিশ্বাস মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছিলেন।

এসময় তিনি অভিনেত্রীর পাশে ছিলেন এবং নিয়মিত কথা বলে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে উৎসাহ প্রদান করেছেন।

তবে গৌতম সাহা এক পর্যায়ে বলেন যে, তৃতীয় একজনের হস্তক্ষেপে তাদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যদিও সেই ব্যক্তির পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি। বর্তমানে অপু বিশ্বাসের সঙ্গে তার আগের মতো যোগাযোগ নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, অপু বিশ্বাসের দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জনকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন দাবি করেছেন অভিনেত্রীর কোরিওগ্রাফার মাহফুজ কাদরী।

তিনি বলেন, ‘গৌতম সাহা অনেক বছর ধরেই অপু বিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করছেন না। এমন একটি বিষয়ে মন্তব্য না করাই তার জন্য ভালো হতো। কারণ, তিনি অপু বিশ্বাসের বর্তমান ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অবগত নন।’

মাহফুজ কাদরী আরো বলেন, শর্তসাপেক্ষে অপু বিশ্বাস যখনই দেশে বাইরে যান, তখনই ছেলে আব্রাহাম খান জয়কে নিয়ে কোথাও ভ্রমণে গেলেও সেটি শাকিব খান ও তার পরিবারের জানা থাকে।

তার কথায়, ‘অপু বিশ্বাস এখন পুরোপুরি ছেলে জয় এবং নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই ব্যস্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। যদি অপু বিশ্বাস এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি নিজেই বিষয়টি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।’

এদিকে, দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে এখন পর্যন্ত অপু বিশ্বাসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চামড়া রপ্তানি ১০-১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সরকার রোডম্যাপ করবে: শিল্পমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ পি.এম


চামড়া রপ্তানি ১০-১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সরকার রোডম্যাপ করবে: শিল্পমন্ত্রী

দেশের চামড়া শিল্প, যা দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত, আরও গতিশীল করে প্রতি বছরে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে রপ্তানি আয় বাড়ানোর জন্য সরকার ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে, এমনটি জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আজ জাতীয় সংসদে।

বিরোধী দলের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪)-এর এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া শিল্পকে গতিশীল করতে এবং এর আয় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সরকার ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সাভার চামড়া শিল্পনগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, খাতটিকে পরিবেশসম্মত এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম শিল্পে রূপান্তরিত করতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি)-এর কারিগরি মূল্যায়ন ইতোমধ্যে ইতালীয় প্রতিষ্ঠান ইতালপ্রোজেত্তি সম্পন্ন করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পনার অনুযায়ী সিইটিপি’র বর্জ্য শোধন সক্ষমতা জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার ঘনমিটার পর্যন্ত উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখেও এই সক্ষমতা ৪০ হাজার এবং পরে ৫০ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করতে পৃথক নকশা ও ডিজাইন প্রস্তুত করা হবে।

কেন্দ্রীয় শোধনাগারের ওপর চাপ কমানোর জন্য সরকার ছয়টি ট্যানারিকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে, আর এর মধ্যে দু’টি ইতোমধ্যে কার্যকর করেছে। এছাড়া, আরও ২০ থেকে ২৫টি তুলনামূলক বড় ট্যানারিকে নিজের ইটিপি স্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ট্যানারির বর্জ্যকে মূল্যসংযোজিত শিল্পপণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে সরকার সার্কুলার ইকোনমি বা পুনর্ব্যবহারভিত্তিক অর্থনীতির ধারণা বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জে-ডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেড ক্রোম শেভিং ডাস্ট থেকে শিল্প ব্যবহারের জন্য প্রোটিন পাউডার উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে। এছাড়া, ফ্লেশিং বর্জ্য থেকে ট্যালো ও জৈব সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং কাঁচা কাটিং বর্জ্য থেকে জেলাটিন উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমও সফলভাবে চলমান রয়েছে।

চামড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ ও নগদ সহায়তা সহজ করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং পরিবেশসম্মত শিল্পে পরিণত হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজির) সনদ অর্জনের জন্য ট্যানারি মালিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সভা, সেমিনার, কর্মশালা এবং সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির শোক মিছিলে মুখর ইরাকের পবিত্র শহরগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


খামেনির শোক মিছিলে মুখর ইরাকের পবিত্র শহরগুলো

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্য উপলক্ষে বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফের রাস্তায় এবং ঐতিহাসিক ইমাম আলীর মাজারের প্রাঙ্গণে লাখো শোকাহত মানুষের ঢল যে নামে, তা স্পষ্ট।

শনিবার থেকে ইরানে খামেনির স্মরণে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এর এই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বুধবার প্রতিবেশী ইরাকে বিশেষ শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরাকের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই দেশটিতে শিয়া মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনাগুলো অবস্থিত।

ইরাকের নাজাফ খেবে এএফপি জানায়, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পরে আয়োজিত এই দীর্ঘ শোকানুষ্ঠান দেশটির শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে প্রতিফলিত হবে।

৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-বায়াতি বলেন, ‘যিনি আমেরিকা ও ইসরাইলের শক্তির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, তাঁর শেষকৃত্য আমি কোনোভাবেই মিস করতে পারি না।’

দক্ষিণ ইরাক থেকে রাতভর ভ্রমণ করে নাজাফে আসা ২৭ বছর বয়সী মুরতাদা আল-মালিকি বলেন, ‘খামেনি দায়েশের (ইসলামিক স্টেট) বিরুদ্ধে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন।’

এদিকে খামেনির শোকযাত্রা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে তারা ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর পরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

ইরানের পবিত্র নগরী কোমে বিশাল শোকমিছিল শেষে মঙ্গলবার রাতে খামেনির মরদেহ ইরাকে আনা হয়। এই উপলক্ষে ইরাক সরকার বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করে।

ভোর থেকে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে অসংখ্য মানুষ নাজাফের রাস্তায় ভিড় জমান। অনেকেই ধীরে ধীরে ট্রাকে বহন করা খামেনির কফিন স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। কফিনটি ইমাম আলীর মাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ইমাম আলী ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা এবং শিয়া মুসলমানদের প্রথম ইমাম।

মাজারের বিশাল প্রাঙ্গণে আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হওয়ার সময় সাদা ও কালো পাগড়ি পরিহিত শত শত আলেম ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন খামেনির মরদেহের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য।

মাজারের ভেতরে হাজারো মানুষ কফিনের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন। নাজাফে শেষ আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি অপর পবিত্র শহর কারবালায় নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের নিজ শহর মাশহাদে খামেনিকে দাফনের মধ্য দিয়ে তাঁর শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

পবিত্র মাজার খামেনির সঙ্গে নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যদের, যাদের মধ্যে তাঁর নাতনিও রয়েছেন, কফিনও বুধবার ভোরে নীরবে নাজাফ ও কারবালার পবিত্র মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

নাজাফ শিয়া ধর্মীয় শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র এবং এটি ইরাকের সর্বোচ্চ শিয়া ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানির আবাসস্থল।

খামেনির পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনিসহ বহু জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম নাজাফে অধ্যয়ন, শিক্ষকতা কিংবা বসবাস করেছেন।

নাজাফের পর আরেকটি শোকযাত্রা কারবালায় অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ইমাম হুসাইন ও তাঁর ভাই আব্বাসের মাজারে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।

সপ্তম শতাব্দীতে তৃতীয় শিয়া ইমাম হুসাইনের শাহাদাত শিয়া ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাই প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ কারবালা ও নাজাফে সমবেত হন।

গভীর সম্পর্ক শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরাক ও প্রতিবেশী ইরানের সম্পর্ক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উভয় ভিত্তিতেই গভীর। তবে এই সম্পর্ক সবসময় এমন ছিল না।

১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেন, যিনি দেশের শিয়া জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছিলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন।

কিন্তু ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনে সাদ্দাম সরকারের পতন এবং বাগদাদে শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ মিত্রতায় রূপ নেয়।

বর্তমানে ইরান ইরাকের প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকেও সমর্থন দেয়। এসব গোষ্ঠীর কিছু খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সমর্থনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্ত হয়ে ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে ইরাকের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। ফলস্বরূপ, ধারাবাহিক সরকারগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

বর্তমানে সেই চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, যাতে দেশটি ইরানের প্রভাব কমায় এবং তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করে।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া হায়দার জাফর বলেন, ‘ইরাকে ইরানের নীতির সঙ্গে আমি একমত নই। কিন্তু ইসরায়েলি শত্রুর বিরুদ্ধে আমি ইরানের পাশে আছি।’

তিনি বলেন, ‘যারা ইরানের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একমত নন, তারাও আজ এখানে এসেছেন। কারণ খামেনি ইসরাইল-আমেরিকার হাতে নিহত হয়েছেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%