বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৫৮ পি.এম
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।
আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা, শিক্ষা, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আইন এবং বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান এবং দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, দীর্ঘমেয়াদি এসব দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহায়তা করতে অস্ট্রেলিয়া বেশ আগ্রহী। আগে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, কিন্তু এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। নতুন এই কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি, এর আইনি দিক এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসময় এই উদ্যোগে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকেও যুক্ত করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একইসাথে শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
সুসান রাইল আরো জানান, শিগগিরই অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আলোচনার সময় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে উন্নত মানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা এবং এই লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি এবং আধুনিক প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই এসব বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখতে জোর দিয়েছেন।
বৈঠক শেষে তারা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান বাংলাদেশ থেকে কৃষি শ্রমিক নিতে আগ্রহী। দেশটির সংবাদমাধ্যম ওমান ডেইলি অবজারভারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানি অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশন (ওএএ) এর এমন ঘোষণার পর দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় এবং রয়্যাল ওমান পুলিশের অনুমোদনক্রমে এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এ কারণে, এখন থেকে ওমানের কৃষকরা চাইলে বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করতে পারবেন। তবে, প্রাথমিকভাবে কেবল ওএএএর আল ধাহিরাহ শাখার নিবন্ধিত সদস্যরা এই আবেদনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। আবেদনকারীদের কৃষিজমির মালিকানা বা ইজারা সংক্রান্ত সনদ (হিয়াজা), জাতীয় পরিচয়পত্র, মন্ত্রণালয়ের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট এবং ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য ফসলের ধরন ও চাষকৃত জমির বিবরণসহ ‘কৃষি আবাদ ফরমের’ অনুলিপি জমা দিতে হবে।
ইবরির আল মুরতাফা এলাকায় অবস্থিত সংগঠনের কার্যালয়ে ৯ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি কার্যদিবসে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে আবেদন গ্রহণ করা হবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অসম্পূর্ণ আবেদন কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে তা সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
ওমানের সরকারি সংস্থা সনদ সার্ভিসেসের একটি অফিসের মালিক জানিয়েছেন, ওমানজুড়ে নিবন্ধিত কৃষি সমিতিগুলোর সদস্যদের জন্য সর্বমোট ৫ হাজার বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিকের একটি অনুমোদিত কোটা সংরক্ষিত রয়েছে। এই শ্রমিকদের ওমানের বিভিন্ন গভর্নরেটের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। ৫ হাজারের কোটার মধ্যে প্রতিটি গভর্নরেট বা কৃষি সমিতি সর্বোচ্চ ৩৩০ জন শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় দস্যুতা, ডাকাতি, চুরি এবং মাদক মামলাসহ একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত এবং মাদক মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে কুলাউড়া থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার সাদেকপুর রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় সেকেন্ড অফিসার এসআই ফরহাদ মাতুব্বরের নেতৃত্বে এসআই জুনেদসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দস্যুতা, ডাকাতি ও চুরিসহ মোট ১০টি মামলার পরোয়ানাভুক্ত এবং একটি মাদক মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ফুল (৩৬)-কে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোস্তাফিজুর রহমান ফুল কুলাউড়া উপজেলার জয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা। তার প father's নাম মন্তাজ আলী।
কুলাউড়া থানা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন মামলায় পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট ২০২৬ : ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ নিয়ে রোমাঞ্চিত অস্ট্রেলিয়ার ডান-হাতি পেসার জশ হ্যাজেলউড। বাংলাদেশের বেশিরভাগ টেস্ট ক্রিকেটারের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায়, তিনি জানান যে প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব বেশি ধারণা নেই। তবে খেলা চলাকালীন পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা সাজানোর একটি নকশা কষেছেন হ্যাজেলউড।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সর্বশেষ টেস্ট ফরম্যাটে মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৭ সালে। বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়। ঐ সিরিজে খেলানো মুশফিকুর রহিম, মোমিনুল হক ও তাইজুল ইসলামের বিপক্ষে তিনি খেলেছেন। বাংলাদেশের এই তিন ক্রিকেটার ছাড়া দলের আর কোন খেলোয়াড় সম্পর্কে ধারণা নেই তার।
এছাড়াও, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম টেস্টের ভেন্যু ডারউইন নিয়ে কোন ধারণা নেই হ্যাজেলউডের। কারণ, সর্বশেষ ২০০৪ সালে এই ভেন্যুতে টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ডারউইনের ভেন্যুতে আর কখনও টেস্ট ম্যাচ হয়নি।
‘আনপ্লেয়েবল পডকাস্ট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যাজেলউড বলেন, ‘সিরিজটা শুরু করার আগে অনেক কিছুই অজানা। মাঠের পরিস্থিতি অজানা, বিশেষ করে উইকেট এবং এই অবস্থায় প্রতিপক্ষ কেমন হবে। অনেক কিছুই অজানা, তবে আমার মতে এটা বেশ রোমাঞ্চকর।’
ভিডিও ফুটেজ দেখে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন হ্যাজেলউড। তিনি বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যাটারদের খেলার ধরন বোঝা সম্ভব। তবে মাঠে নেমে পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে নতুন পরিকল্পনার প্রয়োজনও হতে পারে, যা সব সময়ই ব্যতিক্রমী ও নতুনত্বের স্বাদ দিয়ে থাকে।’
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট দিয়ে ২০০৩ সালে ডারউইনের অভিষেক হয়। এরপর ঐ ভেন্যুতে ২০০৪ সালে শ্রীলংকার মুখোমুখি হয়েছিল অসিরা।
হ্যামস্ট্রিং ও পেশির চোটের কারণে গত বছরের নভেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলছেন না হ্যাজেলউড। গত এপ্রিল-মে মাসে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেললেও, এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন এই ডান-হাতি পেসার।
টেস্টে যথেষ্ট সময় থাকায় খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে বলে জানান হ্যাজেলউড, ‘টেস্টে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য সময় পাওয়া যায়। প্রথম স্পেলের অর্ধেকটা পার করে দেওয়ার পর মনে হতে পারে, এবার নতুন কিছু চেষ্টা করা যাক। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে সময় পাওয়া যায় না। ভুল হলেই চার-ছক্কা হজম করতে হয়।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের আগে ৩শ উইকেট শিকারের মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে হ্যাজেলউড। মাত্র ৫ উইকেট প্রয়োজন তার। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার আটজন বোলার ও ছয়জন পেসার টেস্টে ৩শ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মন্তব্য করেছেন যে, আওয়ামী লীগ অতীতের মতো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ’ সামনে আনার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকাকালে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আড়াল করতে দলটি যেভাবে জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলত, এখন বিদেশের মাটিতে বসেও একই কৌশল অনুসরণ করছে’।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের ‘জঙ্গিবাদ’ প্রসঙ্গ উত্থাপন নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটি আওয়ামী লীগের পুরনো নোংরা রাজনীতি। শেখ হাসিনা ১৭ বছর ধরে দমন-পীড়ন চালানোর সময় যখনই গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় সামনে এসেছে, তখনই তারা জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ তৈরি করেছে। এখন বিদেশের মাটিতে বসেও একই কাজ করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে। তাই দেশে জঙ্গিবাদের কোনো প্রশ্ন ওঠে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ পাওয়ার জন্যই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা চালাচ্ছে।’
শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে এবং কূটনৈতিক ভাষায় ভারতের কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এর আগেও একই বার্তা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হোক, সেটি দুই দেশের সরকার ও জনগণই চায়। কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে একজন সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার যদি সেটি বন্ধ না করে, তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানি, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যেগুলোর সমাধান সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। তবে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে।’
মানবাধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মুখে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা অত্যন্ত হাস্যকর।’
তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল?’
তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশের মানুষ দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ এবং গত ১৭-১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে কি না— এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সরকার-সরকার সম্পর্ক বহুমাত্রিক। একটি ইস্যুর কারণে অন্য সহযোগিতা থেমে থাকতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা রয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে।’
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা তার সময়সূচি ও ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে।’
ভারতকে পাঠানো বাংলাদেশের কূটনৈতিক বার্তার জবাব সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের চিঠি দিয়েছি। এখন ভারত কী জবাব দেয়, সেটির জন্য অপেক্ষা করুন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ