প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।
আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা, শিক্ষা, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আইন এবং বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান এবং দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, দীর্ঘমেয়াদি এসব দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহায়তা করতে অস্ট্রেলিয়া বেশ আগ্রহী। আগে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, কিন্তু এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। নতুন এই কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি, এর আইনি দিক এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসময় এই উদ্যোগে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকেও যুক্ত করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একইসাথে শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
সুসান রাইল আরো জানান, শিগগিরই অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আলোচনার সময় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে উন্নত মানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা এবং এই লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি এবং আধুনিক প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই এসব বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখতে জোর দিয়েছেন।
বৈঠক শেষে তারা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন