প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আল জাজিরার অনুসন্ধানশীল সিরিজ ‘ডাইরেক্ট ফ্রম’-এর মাধ্যমে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এবং ইসরাইলি সামরিক চিকিৎসা দলের প্রশিক্ষণের জন্য মৃতদেহ অধিগৃহীত এবং দান করা মৃতদেহ কয়েকটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নেভাদার মেডিকেল কেস ম্যানেজার মিরিয়াম ভলপিন ২০২৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার (ইউএসসি) একটি ছাত্র সাংবাদিকের দ্বারা একটি বার্তা পাওয়ার পর অনুশোচনায় পড়ে যান। তার মা জিনেট ভলপিন, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্লাইট নার্স হিসেবে কাজ করেছেন, মৃত্যুর আগে গবেষণার উদ্দেশ্যে তার দেহ ইউএসসিকে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২০২১ সালে ১০১ বছর বয়সে তার মৃত্যু ঘটে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক অনুসন্ধানের ফলস্বরূপ মিরিয়াম ভলপিনের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে যে, তার মায়ের মৃতদেহ সম্ভবত যুদ্ধক্ষেত্রের অস্ত্রোপচার প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ইসরাইলের গাজা অভিযানের মতো সংঘর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ছাত্র সাংবাদিকদের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে যে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএসসি এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর (ইউসিএসডি) এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মাধ্যমে ইসরাইলি সার্জিক্যাল টিমের প্রশিক্ষণের জন্য মানবদেহ সরবরাহ করেছে। এই অনুসন্ধানের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ইউএসসি অন্তত ৮৯টি ‘ফ্রেশ ক্যাডাভার’ বা সংরক্ষিত মৃতদেহ সরবরাহ করেছে, যা মার্কিন নৌবাহিনী ও ইসরাইলি সামরিক চিকিৎসা দলগুলোকে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল।
২০২০ সালে ইউএসসি ও মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশিক্ষকদের প্রকাশিত একটি মেডিকেল গবেষণাপত্রে দেখা যায় যে, সেখানে চার দিনের একটি ‘কমব্যাট ট্রমা সার্জারি স্কিলস কোর্স’ পরিচালিত হয়েছিল। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ‘ফরওয়ার্ড সার্জিক্যাল টিম’-এর জন্য এই কোর্স পরিচালিত হয়েছিল। প্রশিক্ষণের সময় মৃতদেহগুলোকে ‘পারফিউশন’ নামক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে রক্তসঞ্চালন করে জীবন্ত মানুষের মতো করে তোলা হচ্ছিল। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের শরীরে রক্তক্ষরণের পরিস্থিতি খুব বাস্তবসম্মতভাবে অনুকরণ করা সম্ভব হচ্ছিল।
গবেষণাপত্রে এমন প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধজনিত জখমের চিকিৎসা অনুশীলনের উল্লেখ রয়েছে, যেমন বুকে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং মুখমণ্ডল ও দেহে বিস্ফোরণের আঘাতের চিকিৎসা।
ইউএসসি আল জাজিরার একাধিক প্রশ্নের জবাবে জানায়নি, মৃতদেহে কী ধরনের আঘাত সৃষ্টি করা হয়েছিল বা কীভাবে প্রশিক্ষণ পরিচালন করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি দাবি করেছে, এটি একটি ‘শিক্ষামূলক’ কার্যক্রম; যা সামরিক কর্মসূচি নয় এবং অংশগ্রহণকারী চিকিৎসাকর্মীরা সাধারণ নাগরিক। অন্যান্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছেন যে, অভিজ্ঞ ট্রমা সার্জনরা অস্ত্রোপচারের কৌশল ব্যবহার করে জটিল আঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করেন, যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা বাস্তবসম্মত পরিবেশে দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে যে, ইউএসসি একসময় এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় মৃতদেহ সরবরাহে সক্ষমতা হারায় এবং তারা তখন ইউসিএসডির সহায়তা নেয়। ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ইউসিএসডি থেকে ১২৪টি মৃতদেহ ইউএসসিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। তবে ইউসিএসডি দাবি করেছে যে, তাদের দানকৃত মৃতদেহ সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগটি ভুল।
দাতা পরিবারে ক্ষোভ ও প্রশ্নও এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, দেহদাতারা মৃত্যুর পর তাদের দেহ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে শর্ত আরোপ করতে পারেন না। বরং পরিবারের সদস্যদেরও এর তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে অনেক পরিবার প্রশ্ন তুলছে যে, যদি তারা আগে জানতেন যে, দানকৃত মৃতদেহ সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহার হবে, তবে কি তারা সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিতেন?
আল জাজিরার অনুসন্ধান নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং দাতাদের সম্মতির সীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন