ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হোটেলে রাতভর ‘মৌজ-মাস্তি’র অভিযোগ এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে


হোটেলে রাতভর ‘মৌজ-মাস্তি’র অভিযোগ এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে

রাজধানীতে হোটেলকক্ষ ভাড়া নিয়ে আট মাস ধরে নানা ‘অশ্লীল-অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। হোটেলের সেই দুটিরুমে রাতভর ‘মৌজ মাস্তিতে’ যোগ দিতেন দলটির আরো কয়েক ডজন নেতা। সেখানে দিন-রাত অবাধ আনাগোনা ছিল নারীদের। এমনকি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে যে, তারা হোটেল ভাড়া পরিশোধ না করেই চলে যান।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির ওই নেতারা হলেন, ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্যসচিব। বাকিরাও দক্ষিণের কমিটিতে বিভিন্ন পদপদবিতে রয়েছেন। শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি ছিলেন স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠজন। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিবের পদ লাভ করেন। শাহরিয়ারের বাবাও ছিলেন পতিত সরকারের যাত্রাবাড়ী এলাকার এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বিশেষ সহকারী।

কালবেলার প্রতিবেদনে প্রকাশ হয় যে, এনসিপির পাঁচ নেতার কাছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা হোটেল ভাড়া বকেয়া রয়েছে। ভাড়া নেওয়া রুমে নারীদের অবাধ যাতায়াত করতেও দেখা যায়। এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। হোটেলটির মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরে এ অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পাঁচ নেতার নেতৃত্বে কয়েক ডজন নেতা সেখানে নিয়মিত রাত্রিযোগে অবস্থান করতেন। পাশাপাশি নারীদের আনাগোনাসহ নানা ধরনের অশ্লীল কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৬৬২ জন

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এনসিপির কয়েকজন সমন্বয়ক আওয়ামী লীগ কার্যালয় সংস্কারের কাজের কথা জানিয়ে হোটেলটিতে অবস্থান নেন। পরে তারা ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আট মাস হোটেলের ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর কক্ষ দুটি ব্যবহার করেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে দুই কক্ষের মোট ভাড়া দাঁড়ায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা। বুকিংয়ের সময় তারা ১০ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করলেও পরবর্তী সময়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দলীয় পরিচয়ের কারণে সরল বিশ্বাসে হোটেলে থাকার সুযোগ পান। কিন্তু পরে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করেই হোটেল ত্যাগ করেন। পাওনা টাকা চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, হোটেলে অবস্থানকালে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দলীয় নেতৃত্বের সহযোগিতায় বকেয়া অর্থ আদায় সম্ভব না হলে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরবে।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। এই পাঁচজনের নেতৃত্বে আরও কয়েক ডজন নেতা সেখানে নিয়মিত অবস্থান করতেন। এ বিষয়ে হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনালের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল জানান, এনসিপির নেতারা হোটেলে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আট মাস ছিলেন। হোটেল বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা দিলেও পরে আর কোনো ভাড়া দেননি। হোটেলে যারা ছিলেন তাদের কারো বাসা শনিরআখড়া, জুরাইন আবার কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা এখানে হোটেলে এসে আড্ডা দিত রাতভর। তাদের সঙ্গেও লোকজন আসত। প্রায় তারা ‘নারীদের’ নিয়ে আসত। তাদের সঙ্গে যারা আসত তারাও ‘নারীদের’ নিয়ে আসত। আমরা বলেছি যে, নারী এলাওড না। তারা তখন বলেছে—আপনাদের কাজ আপনি করেন, আমাদের কাজ আমাদের করতে দেন।

তিনি আরো বলেন, বকেয়া ভাড়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমরা কয়েকবার বসেছি। তারা আমাদের ম্যানেজমেন্টকে বলেছে যে, টাকা আমরা দিয়ে দেব। কবে নাগাদ দেবেন তা বলেননি। প্রায়ই ভাড়া চাইতাম। তারা ঘুরাইত। নির্বাচনের পর দিন দেখি তারা আর নেই। পরে আমরা তালা ভেঙে রুম ক্লিন করে নতুন তালা দিয়ে রুম ভাড়া দিয়ে দিয়েছি। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আমরা এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বরাবর অভিযোগ করেছি। এসব অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার বলেন, ‘হোটেলের রুম ভাড়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। নারী নিয়ে হোটেলে অবস্থানের প্রশ্নই আসে না। ওই ব্যক্তিটি আমি নই, তা যাচাই করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন: ‘বিরোধীদলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, রাষ্ট্রক্ষমতা পেলে কী করবেন’

তিনি বলেন, ‘আমি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। শিক্ষার্থীদের মারধরের যে ভিডিওটির কথা বিভিন্ন সময়ে বলা হয় ওই ভিডিও পুরোনো, ২০২৩ সালের।’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক মির্জা বলেন, ‘ওই হোটেলে দুটি রুমে আমাদের কয়েকজন ছিল। তবে রুম ভাড়ার বিষয়ে আমি অবগত না। ওই সময়ে রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন আন্দোলনের সময় আমি দু-একবার দেখা করতে হোটেলে গিয়েছি। আন্দোলনের সময় রাত হয়ে যাওয়ায় রাতে অনেকে সেখানে থাকত। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।’

এ বিষয়ে আরেক অভিযুক্ত এনসিপি নেতা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘হোটেল ভাড়ার বিষয়টি আমি অবগত না। ওই রুমটি তো আমার নামে বুক হয়নি। যে পাঁচজনের কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে একজন ভাড়া নিয়েছে। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে ওখানে গিয়েছিলাম এটা সত্যি। দুই রুমে কখনো পাঁচজন, সাতজন এমনকি দশজনও থেকেছি আমরা। সঠিক তথ্য জানতে হলে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।’ এনসিপির যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান সমন্বয়কারী মিরাসাত হোসেন হিমেল বলেন, ‘আমি ওই হোটেলে গিয়েছি এমনটি মনে পড়ে না। হোটেলের কে অভিযোগ করেছেন আমাকে একটু জানান।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই বিষয়ে অভিযোগ যেহেতু আসছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা কমিটি আছে তারা বিষয়টি দেখতেছেন। শৃঙ্খলা কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে সেই অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে ৬০০ কেজি আম উপহার দিল সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩০ পি.এম


ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে ৬০০ কেজি আম উপহার দিল সরকার

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য সরকার একটি শুভেচ্ছা উপহার হিসাবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় জাতের আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা আম পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে এই আমগুলো ভারতের আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মোট ১২০ কার্টন আম পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৬০০ কেজি আম থাকছে। উপহারের সব আমই আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা জাতের।

আখাউড়া কাস্টমস ও বন্দর সূত্র জানায়, একটি পিকআপ ভ্যানে করে দুপুরে আমগুলো আখাউড়া স্থলবন্দরে আনা হয়। পরে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট শোয়েব ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের তত্ত্বাবধানে সীমান্ত অতিক্রম করে সেগুলো ভারতের আগরতলায় পৌঁছানো হয়।

আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের মাধ্যমে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা এবং রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে এই উপহারের আমগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে পশুখাদ্য তৈরির অভিযোগে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে পশুখাদ্য তৈরির অভিযোগে জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবৈধভাবে গবাদিপশুর খাবার তৈরি করার দায়ে মেসার্স শাহীন ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের অভিযানের সময় এ জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। তিনি জানান, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে জীবননগরে অবস্থিত মেসার্স শাহীন ট্রেডার্স তদারকিকালে সেখানে অবৈধভাবে অন্য কোম্পানির নামে ভুসি তৈরি ও বাজারজাতকরণের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুসারে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সাইফুল হকের নিকট থেকে জরিমানা হিসেবে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযান পরিচালনাকালে ক্যাব প্রতিনিধি অ্যাড. রফিকুল ইসলাম এবং জীবননগর থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনছে মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ পি.এম


বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনছে মালয়েশিয়া

জাতীয় স্বার্থ ও শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রেখে বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া।

সরকার জানিয়েছে, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার এক বিশেষ বৈঠক শেষে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী জাহিদ হামিদি জানান, বিদেশি কর্মী বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যপদ ও কার্যপরিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার ওয়ান স্টপ সেন্টার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, শিল্পখাতের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

এর মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

উপ-প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে স্থানীয় কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং শিল্পখাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

জাহিদ হামিদি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা।

একই সঙ্গে শিল্পখাতের চাহিদা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং মালয়েশিয়ার নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সরকার এ সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিমির ভাষায়ও রয়েছে আঞ্চলিক বৈচিত্র্য: নতুন গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ পি.এম


তিমির ভাষায়ও রয়েছে আঞ্চলিক বৈচিত্র্য: নতুন গবেষণা

মানুষের মতো তিমিরও কি আলাদা আলাদা আঞ্চলিক ভাষা থাকা সম্ভব? সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে ঠিক এমনই বিস্ময়কর তথ্য। এমনটাই জানা যায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে।

গবেষকদের দাবি, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে বসবাসকারী স্পার্ম তিমি একে অপরের সঙ্গে ভিন্ন ধরনের শব্দের ছন্দে যোগাযোগ করে। অর্থাৎ, তাদেরও রয়েছে আলাদা ‘আঞ্চলিক ভাষা’।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি-তে। এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা এলাকায় বসবাস করার কারণে স্পার্ম তিমিদের যোগাযোগের ধরন ধীরে ধীরে বদলে গেছে। ঠিক যেমন দেখা যায় মানুষদের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাষার উচ্চারণে পার্থক্য।

কীভাবে কথা বলে স্পার্ম তিমি? স্পার্ম তিমি শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করে না। তারা এক ধরনের ছন্দময় ‘ক্লিক’ শব্দের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই নির্দিষ্ট ছন্দের শব্দমালাকেই গবেষকেরা ‘কোডা’ নামে উল্লেখ করেছেন।

একই ধরনের শব্দের ছন্দ ব্যবহার করা তিমিরা সাধারণত একই সামাজিক দলে থাকে এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে। গবেষণার সহলেখক এবং সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লুক রেনডেল জানান, এই শব্দের ধরন তিমিদের সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কীভাবে করা হয়েছে গবেষণা? গবেষণার জন্য ২০০৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মোট ১১২ দিন সমুদ্রের নিচে শব্দ রেকর্ড করা হয়। গ্রিসের হেলেনিক ট্রেঞ্চ এবং স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে থাকা স্পার্ম তিমিদের শব্দ বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই অঞ্চলের তিমিই চারটি ক্লিকের ধারাবাহিক শব্দ বেশি ব্যবহার করে। তবে শব্দের গতি ও ছন্দে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের তিমিরা প্রথম তিনটি ক্লিক প্রায় সমান বিরতিতে দেয় এবং শেষে কিছুটা বিরতি দিয়ে চতুর্থ ক্লিক করে। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলের তিমিরা একই ধরনের শব্দ তুললেও সেটি অনেক দ্রুত গতিতে উচ্চারণ করে।

তবে গবেষকেরা আরও দেখেছেন, পূর্বাঞ্চলের কিছু তিমি মাঝেমধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের শব্দের ছন্দও ব্যবহার করে। কেন বদলে গেল শব্দের ধরন? গবেষকদের ধারণা, স্পার্ম তিমিরা প্রথমে ভূমধ্যসাগরের পশ্চিম অংশে বসতি গড়ে তোলে এবং পরে ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ভৌগোলিকভাবে আলাদা থাকার কারণে তাদের যোগাযোগের ধরনও বদলে যায় এবং সৃষ্টি হয় নতুন আঞ্চলিক ভাষা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন ভাষার ধরন তৈরি হতে হলে জনগোষ্ঠীর মধ্যে কিছুটা বিচ্ছিন্নতা থাকা প্রয়োজন। মানুষের ভাষা এবং পাখির গানেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

বিলুপ্তির ঝুঁকিতে স্পার্ম তিমি, বর্তমানে ভূমধ্যসাগরের স্পার্ম তিমিকে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গবেষকদের মতে, এই অঞ্চলে এখন মাত্র কয়েক হাজার স্পার্ম তিমি রয়েছে।

ধারণা করা হয়, প্রায় ২০ হাজার বছর আগে তারা ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছিল। এরপর থেকে বিশ্বের অন্যান্য স্পার্ম তিমির তুলনায় তারা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। নতুন কী জানাল এই গবেষণা? গবেষকদের মতে, এই গবেষণা আরও একবার প্রমাণ করে, স্পার্ম তিমির যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে মানুষের ভাষার অনেক মিল রয়েছে। শুধু জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়, শেখা আচরণ এবং সামাজিক সংস্কৃতিও তাদের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিমিদের সমাজে কীভাবে নতুন আঞ্চলিক ভাষা তৈরি হয়, তার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবেই বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাকে দেখছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%