সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:০৩ এম
নাগরিকত্ব অর্জনের প্রত্যাশায় থাকা কিছু স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই ঘটনার ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ যদি এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা বা কারাদণ্ডের ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই ডজনেরও বেশি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যের ভুল বিবৃতি প্রদান অথবা অভিবাসন আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তবে, অভিযোগ উত্থাপন করা মানে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে এবং অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে।
কিছু অভিযুক্তের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র নেওয়া বা নবায়নের সময় ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা যথেষ্ট পরিষ্কার ধারণা পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে গাড়িচালকের অনুমতিপত্রের আবেদন বা নবায়নের সঙ্গে ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ যুক্ত থাকে। ফলে, নাগরিকত্বের যোগ্যতা, ভোট দেওয়ার অধিকার এবং নিবন্ধনের নিয়ম না বুঝে কোনো ফরম পূরণ করলে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
সাধারণভাবে, শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকরাই ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। তবে, ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি ভুলবশত নিবন্ধিত হয়েছেন কি না, তিনি ভোট দিয়েছেন কি না এবং তার উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয় মামলার বাস্তবতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই সব অভিযোগকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়।
নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকারি ফরম পূরণের সময় নিজের পরিচয়, নাগরিকত্বের অবস্থা এবং ভোট দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করা। কোনো ফরমের ভাষা বুঝতে অসুবিধা হলে অনুমান করে উত্তর না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত। আগে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে থাকলে বা নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে বিষয়টি গোপন না রেখে আইনি পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে—তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, এমন তথ্য নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নিজের আইনি অবস্থান ও সরকারি নথি যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ। নাগরিকত্বের আবেদন, ভোটার নিবন্ধন বা গাড়িচালকের অনুমতিপত্র সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্দেশনা পড়া এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় কালো জিরা ধানের চাষে কৃষকরা প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তারা এই ধানের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উদ্যোগী হচ্ছেন।
এই জেলার ভৌগোলিক অবস্থান এবং আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা অর্থকরী ফসলে লাভবান হতে পারছেন না। তবে, এই প্রতিকূলতার মধ্যেও কৃষকরা লাভজনক ফসল উৎপাদনের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এগিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তেঁতুলিয়ায় কালো জিরা ধানের চাষ কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করছে।
কালো রঙের ধানের শীষ দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আগ্রহী মানুষ ভিড় করছেন। বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের জায়গীরজোত এলাকায় কৃষক শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কালো জিরা ধান চাষ করেছেন। নতুন এই ধান আবাদের প্রতি কৌতূহল এবং স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফলন এবং বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে কালো ধান তেঁতুলিয়ার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। কৃষক শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম জানান, তিনি অনলাইনে কালো ধান চাষের বিষয়ে জানতে পেরে এ আবাদে আগ্রহী হন। পরে ৫০০ টাকা কেজি দরে বীজ সংগ্রহ করে ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ধানের শীষ পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে কালো রং ধারণ করছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার কালো ধান ব্ল্যাক রাইস দেখতে আসছেন।
শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম বলেন, "প্রথমে ধানের গাছ সবুজ থাকলেও পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধানের শীষের রং কালো হয়ে যায়। নিজের জমিতে এমন ব্যতিক্রমী ধান চাষ করতে পেরে ভালো লাগছে। ফলন এবং লাভের সম্ভাবনা ভালো হলে ভবিষ্যতে আরও জমিতে কালো ধান চাষ করতে চাই।" তিনি আরও জানান, "শুনেছি এই ধানের চালের ভাত খেলে ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ হয়।"
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, তেঁতুলিয়ায় এর আগে এ ধরনের কালো ধানের চাষ তারা কখনো দেখেননি। নতুন এই ধান দেখতে অনেকেই ধানক্ষেতের পাশে ভিড় করছেন। একই সাথে এর চাষপদ্ধতি এবং ফলন সম্পর্কে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, কালো চাল পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত। প্রচলিত চালের তুলনায় এর বাজারমূল্য সাধারণত বেশি। উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এই আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। এ ধরনের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণের আগে উৎপাদন খরচ, ফলন, বাজারের চাহিদা ও বিক্রির নিশ্চয়তা যাচাই করা হয়েছে। উৎপাদন বাড়লে বাজারদরের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং আগ্রহী করতে সরকারিভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোসাদ্দেকুর রহমান বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা কালো ধানের ফলন এবং কৃষকের লাভ-ক্ষতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চাষ লাভজনক প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে তেঁতুলিয়ায় এ ধানের আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে। শাহজাহান আলী বলেন, "এই কালো ধান এত সুন্দর আবাদ হয়েছে, আগে জানলে আমিও করতাম। সামনের সিজনে অবশ্যই কালো ধান আবাদ করব।" স্থানীয় কৃষক তাবলু বলেন, "আমি কালো ধান আবাদ দেখে নতুন দেখেতে এসেছি। অনেক সুন্দর দেখতে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। হলিউডের অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। গায়িকা এখন নতুন এই সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করছেন। তাঁর মতে, ট্রুডোর সঙ্গে ভালোবাসা তাঁকে জীবনে নতুন পূর্ণতার অনুভূতি দিয়েছে।
২৫ অক্টোবর কেটি পেরির ৪২তম জন্মদিন উপলক্ষে পিপল সাময়িকী তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও সংগীতজীবনের নানা দিক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সাময়িকীটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেটি জানান, তাঁর ‘লাইফটাইমস ট্যুর’ ভক্তদের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরির সুযোগ দিয়েছে এবং জীবনে ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পেতেও সাহায্য করেছে।
যেভাবে শুরু ট্রুডোর সঙ্গে প্রেম
২০২৫ সালের জুলাইয়ে কানাডায় কনসার্ট সফরের সময় কেটি পেরি ও জাস্টিন ট্রুডোর মধ্যে ঘনিষ্ঠতার খবর প্রকাশ পায়। ওই মাসের ২৮ জুলাই মন্ট্রিয়লে তাঁদের একসঙ্গে নৈশভোজ করতে দেখা যায়। দুই দিন পর ট্রুডো কেটির কনসার্টেও উপস্থিত হন। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বাড়তে থাকে।
অন্যদিকে, একই সময়ে অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে কেটির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভাঙনের খবরও প্রকাশিত হয়। ২০১৬ সালে তাঁদের প্রেম শুরু হয়, ২০১৯ সালে বাগ্দান হয় এবং ২০২০ সালে তাঁদের কন্যা ডেইজি ডাভ ব্লুমের জন্ম হয়। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই দুজনের প্রতিনিধিরা বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তাঁরা মেয়েকে যৌথভাবে বড় করে তোলার বিষয়ে মনোযোগী থাকার কথা জানিয়েছেন।
নতুন প্রেমে মানসিক স্বস্তি
ট্রুডোর সঙ্গে কেটির সম্পর্ক তাঁর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রুডোর সমর্থন তাঁর সংগীতজীবন ও কাজের প্রতি স্বস্তি দেয়। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালে প্রকাশিত ‘ব্যান্ডএইডস’ এবং ২০২৬ সালের ২৫ জুন প্রকাশিত ‘ওয়াচ ইট বার্ন’ গানেও সম্পর্কের টানাপোড়েন, মানসিক কষ্ট ও সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার বিষয় উঠে এসেছে। তবে কেটি দাবি করেননি যে গানগুলোর প্রতিটি ঘটনা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
কঠিন সময়েও থামেনি সংগীতযাত্রা
অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে বিচ্ছেদের সময়ও কনসার্ট চালিয়ে গেছেন কেটি। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল মেক্সিকো সিটিতে শুরু হয়েছিল তাঁর ‘লাইফটাইমস ট্যুর’। পাঁচ মহাদেশের ২৩টি দেশে ৯১টি কনসার্টের এই সফর শেষ হয় একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আবুধাবিতে। সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তিগত কষ্ট সামলেই মঞ্চে উঠেছেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁর কনসার্ট সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘কেটি পেরি: দ্য লাইফটাইমস ট্যুর-লাইভ ফ্রম প্যারিস’ নামের কনসার্ট চলচ্চিত্র। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্যারিসে ধারণ করা পরিবেশনা নিয়ে নির্মিত ছবিটি মুক্তি পায় ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
মেয়ে ডেইজিকে ঘিরে ভবিষ্যৎ
ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের মধ্যেও কেটির ছয় বছর বয়সী মেয়ে ডেইজি তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কনসার্ট সফরেও মেয়েকে সঙ্গে রেখেছেন তিনি। নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও কঠিন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা মেয়ের সামনে তুলে ধরতে চান এই গায়িকা।
১৯৮৪ সালের ২৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন কেটি পেরি। ২০০৮ সালে ‘আই কিসড আ গার্ল’ গানটির মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। পরে ‘ফায়ারওয়ার্ক’, ‘রোর’, ‘ডার্ক হর্স’ ও ‘ক্যালিফোর্নিয়া গার্লস’-এর মতো গান তাঁকে বিশ্বসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত করে। দীর্ঘ সংগীতজীবন, সম্পর্কের ভাঙন এবং নতুন প্রেম, সব মিলিয়ে এখন জীবনের নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছেন কেটি পেরি।
প্রথম আলো, পিপল ও এলের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে মারধর করে ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। পরে তাঁকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্য ও এক আনসার সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. শরিফ মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ভাষানটেক এলাকায় প্রতিবেশী আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। গত শনিবার রাতে সোহেল রানার কথামতো মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে যান শরিফ। সেখানে তাঁকে একটি বাসার ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর সোহেল রানা ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল মো. নুরুজ্জামান, নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী ও সোনিয়া নামে এক নারী ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা শরিফকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
একপর্যায়ে তাঁদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন শরিফ। তবে ওই টাকা নেওয়ার পরও তাঁরা ক্ষান্ত হননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। বরং তাঁকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় এবং পুনরায় ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন শরিফ। পরে রাত পৌনে ৩টার দিকে তাঁকে বাসা থেকে নামিয়ে সাদা রঙের একটি টয়োটা প্রোবক্স প্রাইভেটকারে তোলা হয়। গাড়িতে মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম রামেসহ আরও দুজন ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে তাঁকে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে গাড়ির ভেতরে আটকে রাখা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা চা পান করতে গাড়ি থেকে নামলে পুলিশের গাড়ি দেখতে পান শরিফ। সুযোগ বুঝে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের সহায়তা চান এবং পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে শ্যামলীর শিশুমেলা এলাকায় পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে একটি গাড়ি থেকে নেমে ওই ব্যক্তি পুলিশের সহায়তা চান। পরে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। ঘটনার সূত্রপাত মোহাম্মদপুর এলাকায় হওয়ায় তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের অভিযানে সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল মো. নুরুজ্জামান, মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলামকে আটক করা হয়। এ ছাড়া আনসার সদস্য সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ব্যবহৃত সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আটজনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শরিফ। মামলায় চাঁদাবাজি, মারধর ও অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ