১০:৩৪ এম
একটি বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা চালানোর দায়ে গতকাল ৩০ বছরের কারাদণ্ডে দন্ডিত হলেন গুও ওয়েনগুই। তিনি একসময় চীনের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিলেন। গুও ওয়েনগুই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বড় সাফল্য অর্জন করেছিলেন এবং ২০১৭ সালে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন এবং সেখানে অনলাইনে একটি বিশাল অনুসারী গোষ্ঠী গড়ে তোলেন। কিন্তু পরে র্যাকেট, প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। নিউইয়র্কের আদালতের বিচারক আনালিসা টরেস বলেছিলেন, গুও 'যারা চীনে গণতন্ত্র আনতে চান, তাদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছেন'। বিচারকের মতে, গুও সেই অর্থ দিয়ে বিলাসিতা করেন। উদাহরণস্বরূপ, তার আইনজীবী মেলিন্ডা সারাফা আদালতে জানিয়েছেন, এই সাজা 'অতিরিক্ত কঠোর'। তিনি দাবি করেছেন, যেসব হাজারো বিনিয়োগকারী প্রতারণার শিকার হননি, তাদের কথাও আদালতের বিচারে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি গুওর পক্ষ থেকে ওই রায়ে আপিল করার কথা বলেছেন। গুও আরও কিছু নামে পরিচিত, যেমন মাইলস গুও ও হো ওয়ান কওক। আদালত কক্ষে তার সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আইনজীবী শন বাকলি বলেছেন, গুও অনেক সুযোগের মুখোমুখি হলেও নিজের লোভই তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি বলেছিলেন, 'এই সাজা দেখিয়ে দিল, খ্যাতি আর সম্পদ কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে পারে না।' গুও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ফলে এলাকা ত্যাগ করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে গুও অনলাইন মাধ্যমে নিজের সমর্থকদের একটি বিশাল বাহিনী গড়ে তোলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গুও অনলাইনে অনুসারীদের কাছ থেকে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন এবং তার বিলাসিতার জন্য সেই অর্থ ব্যবহার করেছেন। গুও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন এই অর্থ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়েছে। তিনি আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ব্যানন ও গুও একসঙ্গে 'নিউ ফেডারেল স্টেট অব চায়না' নামে একটি প্রচার অভিযান শুরু করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা। ২০২০ সালে কানেকটিকাটে গুওর বিলাসবহুল নৌযান থেকে স্টিভ ব্যাননকে গ্রেপ্তার করা হয় একটি আলাদা প্রতারণার মামলায়। ব্যানন ম্যানহাটনের আদালতে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের নামে প্রতারণার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি তিন বছরের শর্তসাপেক্ষ অব্যাহতির শাস্তি পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন