বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৫৩ পি.এম
কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় তিনটি স্থানে ধস ও একাধিক স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙন ও বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধসের ঘটনায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বাঁধের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকার ১০, ১২ ও ৬ মিটার অংশের ব্লক পিচিং ধসে গেছে। এর সাথে অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। একটা কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার ধসের ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাদের।
কাঁচকোল সড়কটারী এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন বলেন, ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর আমরা নদীভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বারবার ধসের ঘটনায় আমরা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান করতে পারেনি। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা সর্বস্ব হারিয়ে আবারও ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ব।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরজাহান বেগম ও নুর নাহার বেগম বলেন, 'প্রতিবার বর্ষা মৌসুম এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। এবারও বাঁধে ধসের খবর শুনে দিন-রাত উদ্বেগে কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।'
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। তারা আশা করছেন যে ২-১ দিনের মধ্যে বাঁধটি ঝুঁকিমুক্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাস্তায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছিল। বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের উপর লুটিয়ে পড়লেন একজন চালক। মৃত্যুর বিপদ যখন খুবই কাছাকাছি, তখনই চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে নেমে এলেন দুই নার্স, যেন অভয়দাতা। তারা কঠোর প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি নিভতে বসা প্রাণকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
এটি বুধবার সকালে ভারতের কেরালার এর্নাকুলাম জেলায় ঘটে। যিনি ৪৩ বছর বয়সী, তার নাম সিনোজ। তিনি একজন লটারির দোকান পরিচালনা করেন। তার বুকে ব্যথা অনুভব করার ফলে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। কিন্তু, যানজটে আটকা পড়ার কারণে তিনি গাড়ির ভেতরেই জ্ঞান হারান।
পাশ দিয়ে যাওয়া একটি বাসে ছিলেন স্টাফ নার্স অঞ্জলি বৈজু এবং নার্সিংয়ের ছাত্রী আর্দ্রা রাজ। রাস্তায় জটলা দেখে তারা দ্রুত বাস থেকে নেমে এলেন। গাড়ির কাছে পৌঁছে তারা রোগীর বুকে চাপ দিতে শুরু করলেন এবং (সিপিআর) শ্বাসবহ্মণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।
এই সময় সাধারণ মানুষও তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। একজন পথচারী দ্রুত গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেন। অন্যরা গাড়িটি যানজট থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত ওই দুই নার্স গাড়ির ভেতরেই সিপিআর চালিয়ে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা জানান, নার্সদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে রোগীর জীবন রক্ষা পেয়েছে। পরীক্ষায় তার হার্টের রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়ে, যার কারণে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বড় হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) উপজেলা সম্মেলন কক্ষে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কক্সবাজার-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক। সভাপতিত্ব করেন ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংছিনু মারমা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদু শুক্কুর এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং উপকারভোগী কৃষকরা।
কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বনজ-ফলজ চারা, রোপা আমন ধানের চারা, হাইব্রিড মরিচের বীজ, লেবুর চারা, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ, সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। বক্তারা এ সময় বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বক্তারা কৃষকদের বিতরণকৃত উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহার করে অধিক উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, কৃষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে আধুনিক ও উন্নত কৃষি উপকরণ পৌঁছে দিয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাউজানে গতকাল সোমবার সকালে ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে রাউজানের গহিরাস্থ কোতোয়ালীঘোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে জনসচেতনতা তৈরি করা।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য ও গহিরা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর মিয়াজী।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মফিজুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সমাজসেবক ফজলুল আজিজ, সমাজসেবক মোহাম্মদ সোহাইব শিকদার, সিনিয়র শিক্ষক খোরশেদুল আলম, সিনিয়র শিক্ষক বিশ্বজিৎ বড়ুয়া, সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল মোনায়েম, সিনিয়র শিক্ষিকা শিরিন আক্তার, সহকারী শিক্ষিকা রেশমা আক্তার, সহকারী শিক্ষক ওহিদুল আলম, সহকারী শিক্ষক মো. শওকত-উল-আলম, সহকারী শিক্ষক মিথুন কুমার নাথ এবং সহকারী শিক্ষক রফিকুল করিমসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) সদর দফতরে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকি সম্বলিত একটি ই-মেইল পাঠানোর পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ইসরো-এর চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণনের কার্যালয়ে এই হুমকিমূলক ই-মেইলটি পাঠানো হয়। সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ এবং বম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পুরো কার্যালয় চত্বরে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালান।
তবে, তল্লাশি চলাকালে বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ওই সদর দফতর থেকে কোনও বিস্ফোরক ডিভাইস বা বস্তু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, ই-মেইলটি কে পাঠিয়েছে এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে তা উদঘাটন করতে ইতোমধ্যেই পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। এই ই-মেইলের উৎস দেশের বাইরে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত বছরও দিল্লির ডিপিএস দ্বারকা, কৃষ্ণা মডেল স্কুল এবং সর্বোদয় বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্কুলে একই ধরনের হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল, যার ফলে স্কুলগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।
ইসরো কার্যালয়ে পাঠানো এই হুমকির ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ