০৫:২৫ পি.এম
সাম্প্রতিক বন্যার মাত্রা কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সাথে সাথে অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী-খাল-জলাশয় দখল, পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে বাধার সম্মিলিত ফল। পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এই মন্তব্য করেছে। সংগঠনটি বলছে যে, শুধু ত্রাণ কার্যক্রম নয়, বন্যার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে বিজ্ঞানভিত্তিক, পরিবেশসম্মত এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক।
শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক বন্যার তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা উচ্চারিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ধরার সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্যসচিব শরীফ জামিল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, চুনতি রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সানজিদা রহমান, কক্সবাজার ধরার সদস্য ফরিদুল আলম শাহিন এবং মাতামুহুরী ধরার সদস্য বদরুননাহার কলি।
আরও পড়ুন: ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগের কথা বললেন
শরীফ জামিল মূল বক্তব্যে বলেন, টানা অতিভারি বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং আন্ত সীমান্ত নদ-নদীর অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে দেশের অন্তত ১৭টি জেলা বন্যা ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে। ফলে ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া, হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি, মাছের ঘের, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। বন্যার এই পরিস্থিতি কেবল অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলের ফল নয়; নদী-খাল-জলাশয় দখল, নাব্যতা হ্রাস, অপরিকল্পিত সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে অবস্থা আরো জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় সংঘটিত বন্যা ও জলাবদ্ধতার বড় অংশের জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ দায়ী। সুতরাং, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে আরো বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। নদী অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা, আধুনিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আন্ত সীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা, নদী-খাল পুনরুদ্ধার, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এম এস সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে বন্যা নতুন একটি দুর্যোগ নয়। তবে সাম্প্রতিক বন্যার ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে, এর পিছনে কেবল প্রাকৃতিক কারণ নয়, বরং অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী-খাল ভরাট, পানি প্রবাহে বাধা এবং জলবায়ু পরিবর্তনও দায়ী। এজন্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত প্রস্তুতি, দ্রুত লজিস্টিক সহায়তা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যাতে তারা নদী অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করে, পরিবেশসম্মত উন্নয়ন অনুসরণ করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রণয়ন করে।
আরও পড়ুন: বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন