ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়ালেন হাসনাত ও নাসীরুদ্দীন


পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়ালেন হাসনাত ও নাসীরুদ্দীন

১৪৪ ধারা জারির আওতায় মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর পুলিশ কর্তৃক আটকে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের চা কন্যা ভাস্কর্য এলাকা বন্ধ করে তাদের গাড়ি আটকে রাখা হয়।

এই পরিস্থিতিতে, গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের সাথে কথোপকথনে দেখা যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুকে।

আরও পড়ুন: রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বন্দ্বে প্রতিমা বিসর্জন হয়নি, মন্দিরে ফেরানো

একপর্যায়ে পুলিশের সাথে এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এই সময় হাসনাত আবদুল্লাহ এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা যায়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু প্রমুখ।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার সময়, চা কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় শ্রীমঙ্গল-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। এর ফলে সড়কের দুপাশে শতশত গাড়ি আটকা পড়ে।

মৌলভীবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার শ্রীমঙ্গল সার্কেল মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: টঙ্গীতে মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, ৮ মাসের শিশু দগ্ধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভাব-অনটনেও বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যেসব পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


অভাব-অনটনেও বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যেসব পরিবার

 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন কিংবা লবণাক্ততার আগ্রাসন নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিবছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বদলে দেয় তাদের জীবনের হিসাব-নিকাশ।

দুর্যোগ শুধু ঘরবাড়ি বা জীবিকাই কেড়ে নেয় না, অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয় শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎও। আর এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে দেখা যায় কিশোরীদের। সংসারের আর্থিক চাপ কমাতে অনেক পরিবার বাল্যবিয়েকেই সহজ সমাধান হিসেবে ভাবলেও সাতক্ষীরার কয়েকটি পরিবার দেখিয়েছে ভিন্ন পথ। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাস করেও তারা অল্পবয়সে মেয়ের বিয়ে না দিয়ে বেছে নিয়েছে শিক্ষার পথ। অর্থনৈতিকভাবে এই মেয়েদের কেউ কেউ সহায়তা করছে পরিবারকে।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিনমজুর আব্দুল কাদেরের পরিবার ৬ বছর আগে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। টিনের ঘর বিধ্বস্ত হয়, লোনা পানিতে তলিয়ে যায় চিংড়িঘের। কয়েক মাস ধরে প্রায় কোনো আয় ছিল না।

এমন সময় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেকেই পরামর্শ দেন, মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলে অন্তত একটি দায়িত্ব কমবে। কিন্তু আব্দুল কাদের সেই পরামর্শ মানেননি।

তিনি বলেন, ‘আমার নিজেরও তখন খুব কষ্ট হচ্ছিল। অনেক সময় মনে হয়েছে, হয়তো সবাই ঠিকই বলছে। কিন্তু পরে ভাবলাম, ঘর আবার বানানো যাবে, কাজও একদিন হবে।

কিন্তু মেয়ের জীবন যদি একবার নষ্ট হয়ে যায়, সেটা আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।’

আবদুল কাদেরের সেই সিদ্ধান্তের কারণে আজ তার মেয়ে স্থানীয় একটি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। পাশাপাশি একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখছেন। অনলাইনে কাজ করে নিজের শিক্ষার ব্যয়ের একটি অংশও বহন করছেন তিনি।

মেয়ের মা রহিমা বেগম বলেন, ‘আমি নিজের জীবনে বুঝেছি, অল্প বয়সে বিয়ে হলে মেয়েদের কত স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। তাই যত কষ্টই হোক, ওর পড়াশোনা বন্ধ করিনি।’

মেয়েটি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘অনেকে বলেছিল মেয়েদের এত পড়াশোনা করে লাভ নেই। কিন্তু এখন আমি নিজেই আয় করতে পারি। ভবিষ্যতে আরো বড় কিছু করতে চাই।’

বাংলাদেশে যে কয়টি জেলায় বাল্যবিবাহের হার সর্বাধিক, তার মধ্যে সাতক্ষীরা অন্যতম। এর মাঝেও তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে না ঠেকানো গেলে সপ্তম শ্রেণিতেই তার লেখাপড়া শেষ হয়ে যেতে পারতো। আর্থিক সংকটের কারণে সেসময় তার বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে নিজের দৃঢ়তা ও পরিবারের অন্য সচেতন সদস্যদের বাধার কারণে সেসময় বিয়েটা ঠেকানো যায়।

বর্তমানে মেয়েটি একটি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। আজ তিনি নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি প্রাইভেট-টিউশনি করে আয় করে নিজের খরচ ও পরিবারকে সহায়তা করছেন।

নিজ বাড়িতে সকাল ও বিকালের পৃথক ব্যাচে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থীকে তিনি পড়াচ্ছেন। তার বিশ্বাস, যে শিক্ষা তাকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছে, সেই শিক্ষাই ভবিষ্যতে আরো অনেক কিশোরীকে নিজের স্বপ্ন পূরণের সাহস জোগাবে।

স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সমাজকর্মীদের মতে, দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বড় সংকট শুধু অর্থের অভাব নয়, তথ্যের অভাবও। অনেক পরিবার জানেই না যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। ফলে তারা দ্রুত বাল্যবিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

উপকূলীয় অঞ্চলে মেয়েরা ১৫ বা ১৬ বছরে পৌঁছালেই আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নানা ধরনের মন্তব্য শুনতে হয়। বিশেষ করে দুর্যোগের পর আয় কমে গেলে এসব সামাজিক চাপ অনেক পরিবারকে বাল্যবিয়ের সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। তবে যেসব পরিবার এই চাপ উপেক্ষা করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা বলছে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি লাভজনক।

বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ-এর প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান বলেন, দুর্যোগ কখনো বাল্যবিয়ের কারণ হতে পারে না। মূল কারণ দারিদ্র্য, তথ্যের অভাব ও সামাজিক মানসিকতা। পরিবার যদি বিকল্প আয়ের পথ এবং সরকারি সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারে, তাহলে তারা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা বলেন, একটি মেয়ে যত বেশি সময় বিদ্যালয়ে থাকবে, তার বাল্যবিয়ের ঝুঁকি তত কমবে। শিক্ষা শুধু বই শেখায় না, আত্মবিশ্বাস তৈরি করে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে এবং পরিবারকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, যেসব মায়েরা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়ে আয় করতে শুরু করেন, তারা সাধারণত মেয়েদের বাল্যবিয়ে দিতে চান না। কারণ তখন তারা বুঝতে পারেন, মেয়ের শিক্ষা একটি বিনিয়োগ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়। পরিবার, বিদ্যালয়, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম ও স্থানীয় সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের মতে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। সহশিক্ষা কার্যক্রম, কিশোরী ক্লাব এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিবারগুলো উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জীবনদক্ষতা ও আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ; যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ; কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষাবৃত্তি ও উপবৃত্তি; সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি; কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য অধিদপ্তরের বিকল্প জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন সহায়তা গ্রহণ করতে পারে। বাল্যবিবাহের আশঙ্কা দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা কিংবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানিয়ে দ্রুত আইনগত সহায়তা নেওয়া সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্তের মতে, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বাল্যবিবাহ কমাতে কিশোরীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, ইউনিয়ন পর্যায়ে কিশোরী ক্লাব ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটিকে আরো সক্রিয় করা এবং সরকারি সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা গেলে দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের মধ্যেও বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, দুর্যোগ হয়তো পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়, কিন্তু সচেতনতা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সময়োপযোগী সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে একটি মেয়ের জীবন বদলে দেওয়া সম্ভব। কারণ একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা মানে শুধু একটি বিয়ে ঠেকানো নয়, বরং একটি জীবন, একটি পরিবার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে গণশুনানিতে জনগণের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে গণশুনানিতে জনগণের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করেছে যাতে যেকোনো নাগরিকের সেবাসংক্রান্ত সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি জানা যায়।

এই গণশুনানিটি অনুষ্ঠিত হয় আজ বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। এখানে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত হয়ে তাদের সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ, ভূমিসেবা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা দুর্ভোগ ও দাবি তুলে ধরেন।

সাধারণ মানুষের এসব বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং বলেন যে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌক্তিক সমস্যাগুলো যুক্তিসঙ্গতভাবে পর্যায়ক্রমে সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেছেন, জনগণের মতামত, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি শোনা এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি সেবার মান আরও উন্নত করা এ ধরনের গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের যৌক্তিক সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানে কাজ করবে।

গণশুনানিটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশে ডাক অধিদপ্তরের সব অফিস ধূমপানমুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশে ডাক অধিদপ্তরের সব অফিস ধূমপানমুক্ত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) ডাক অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ : ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬) অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইন বাস্তবায়ন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিসে ধূমপান এবং যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি। সভায় জানানো হয়, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস), ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ বিভিন্ন জনসমাগমস্থল, গণপরিবহন ও রেস্টুরেন্টে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বক্তারা বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, কর্মক্ষেত্র, পরিবেশ ও সামগ্রিক উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে ডাক অধিদপ্তরের এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সভাপতির বক্তব্যে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ডাক অধিদপ্তরকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত প্রতিষ্ঠান ঘোষণা শুধুই একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও জনবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রায় ১০ হাজার ডাকঘরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রতিদিন সেবা নিতে আসা লাখো মানুষ তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্য, তামাকবিরোধী ইয়ুথ ফোরামের প্রতিনিধি এবং ডাক অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপের খনন শুরু, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপের খনন শুরু, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নোয়াখালীর সেনবাগে ‘সুন্দরপুর-৪’ নামে একটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন গ্যাস কূপের খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড) এই খনন কাজ পরিচালনা করছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ড্রিলিং) এবং ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কূপটি সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। তবে এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাস ফিল্ডের অংশ হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘সুন্দরপুর-৪’। এর আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ডের ১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। নতুন কূপটি সুন্দরপুর-২ কূপ থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, কিন্তু একই রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ নামের ব্যবহার করা হয়েছে।

এই খনন প্রকল্পের কারিগরি পরিকল্পনা ও সময়সীমা নিয়ে কূপের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান বলেন, কূপটির লক্ষ্যমাত্রিক গভীরতা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার। প্রায় ১ হাজার ৩৬১ মিটার গভীরে সম্ভাব্য গ্যাস স্তর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে খনন কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন লাগবে। সব মিলিয়ে আড়াই মাসের মধ্যে কূপটির চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গ্যাসের মোট মজুত নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে আশপাশের কূপগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বাপেক্স আশা করছে, এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যেতে পারে।

বাপেক্স সূত্র জানায়, জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষে গত এপ্রিলের শেষের দিকে কূপ এলাকায় রিগ স্থাপন করা হয়। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খনন শুরু করা হয়েছে। কূপটি সফল হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%