ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারায়ণগঞ্জে গণশুনানিতে জনগণের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের


নারায়ণগঞ্জে গণশুনানিতে জনগণের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করেছে যাতে যেকোনো নাগরিকের সেবাসংক্রান্ত সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি জানা যায়।

এই গণশুনানিটি অনুষ্ঠিত হয় আজ বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। এখানে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত হয়ে তাদের সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ, ভূমিসেবা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা দুর্ভোগ ও দাবি তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত, চালক আহত

সাধারণ মানুষের এসব বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং বলেন যে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌক্তিক সমস্যাগুলো যুক্তিসঙ্গতভাবে পর্যায়ক্রমে সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেছেন, জনগণের মতামত, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি শোনা এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি সেবার মান আরও উন্নত করা এ ধরনের গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের যৌক্তিক সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানে কাজ করবে।

গণশুনানিটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশে ডাক অধিদপ্তরের সব অফিস ধূমপানমুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশে ডাক অধিদপ্তরের সব অফিস ধূমপানমুক্ত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) ডাক অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ : ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬) অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইন বাস্তবায়ন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিসে ধূমপান এবং যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি। সভায় জানানো হয়, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস), ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ বিভিন্ন জনসমাগমস্থল, গণপরিবহন ও রেস্টুরেন্টে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বক্তারা বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, কর্মক্ষেত্র, পরিবেশ ও সামগ্রিক উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে ডাক অধিদপ্তরের এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সভাপতির বক্তব্যে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ডাক অধিদপ্তরকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত প্রতিষ্ঠান ঘোষণা শুধুই একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও জনবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রায় ১০ হাজার ডাকঘরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রতিদিন সেবা নিতে আসা লাখো মানুষ তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্য, তামাকবিরোধী ইয়ুথ ফোরামের প্রতিনিধি এবং ডাক অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপের খনন শুরু, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপের খনন শুরু, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নোয়াখালীর সেনবাগে ‘সুন্দরপুর-৪’ নামে একটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন গ্যাস কূপের খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড) এই খনন কাজ পরিচালনা করছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ড্রিলিং) এবং ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কূপটি সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। তবে এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাস ফিল্ডের অংশ হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘সুন্দরপুর-৪’। এর আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ডের ১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। নতুন কূপটি সুন্দরপুর-২ কূপ থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, কিন্তু একই রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ নামের ব্যবহার করা হয়েছে।

এই খনন প্রকল্পের কারিগরি পরিকল্পনা ও সময়সীমা নিয়ে কূপের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান বলেন, কূপটির লক্ষ্যমাত্রিক গভীরতা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার। প্রায় ১ হাজার ৩৬১ মিটার গভীরে সম্ভাব্য গ্যাস স্তর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে খনন কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন লাগবে। সব মিলিয়ে আড়াই মাসের মধ্যে কূপটির চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গ্যাসের মোট মজুত নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে আশপাশের কূপগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বাপেক্স আশা করছে, এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যেতে পারে।

বাপেক্স সূত্র জানায়, জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষে গত এপ্রিলের শেষের দিকে কূপ এলাকায় রিগ স্থাপন করা হয়। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খনন শুরু করা হয়েছে। কূপটি সফল হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেভাবে মার্কিন সেনাদের তথ্য পাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


যেভাবে মার্কিন সেনাদের তথ্য পাচ্ছে ইরান

মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং স্থাপনার অবস্থান ও হামলার কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য পাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনার মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করার পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

যদি এই পদক্ষেপ কার্যকর হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত হাজার হাজার মার্কিন সেনার দৈনন্দিন জীবনে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ, অনেক সেনাসদস্য এখনও নিজেদের নিরাপদ থাকার খবর জানাতে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীল।

রয়টার্সের কাছে আসা ২৮ জুলাইয়ের একটি চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সতর্ক করে দেন যে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে ইরান দ্রুত বুঝতে পারছে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণকৃত প্রতিক্রিয়া, ছবি ও ভিডিও সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এসব উন্মুক্ত তথ্য (ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স) ইরানকে আমাদের ঘাঁটি এবং অভিযান সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের তথ্য প্রকাশের চূড়ান্ত মূল্য দিতে হতে পারে মার্কিন সেনাসদস্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণ দিয়ে।”

এ কারণে তিনি সেনাদের প্রতি অপারেশনাল নিরাপত্তা আরও কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। তবে চিঠিতে নির্দিষ্ট কোন নিষেধাজ্ঞা বা নতুন নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছেন, জর্ডানে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনাকে জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হতে পারে।

আরেকটি সূত্র জানায়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, এটি মূলত সেনাদের অপারেশনাল নিরাপত্তা সম্পর্কে একটি সাধারণ স্মারক। অ্যাডমিরাল কুপার নিয়মিতভাবে বিভিন্ন উপায়ে সেনাদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অগ্রাধিকার সম্পর্কে অবহিত করেন।

চলতি মাসে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় মার্কিন সেনারা দ্রুত বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছেন। ১৭ জুলাইয়ের ওই হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়।

অ্যাডমিরাল কুপার তার চিঠিতে ওই ভিডিওটির প্রতি ইঙ্গিত করে জানান, ভিডিওটি মেটার স্মার্ট গ্লাস দিয়ে ধারণ করা হয়েছিল এবং পরে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা হয়।

তিনি বলেন, ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে সেনাসদস্যটি কোথায় এবং কীভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়েছেন। এমন তথ্য শত্রুপক্ষের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

কুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক জ্যামিং এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে সাধারণত ইরানের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে কি না।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, ছবি এবং সংবাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারা সহজেই সেই মূল্যায়ন করতে পারছে।

তিনি বলেন, “ইরান জানে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। কিন্তু তারা জানে না সেটি লক্ষ্যবস্তু থেকে ৫০ মিটার দূরে পড়েছে, খালি রানওয়েতে আঘাত করেছে, নাকি জনবহুল কোন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্য কার্যত ইরানের জন্য বিনা মূল্যে যুদ্ধক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ করে দিচ্ছে।”

তিনি আরও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে ইরান আরও নিখুঁতভাবে দ্বিতীয় দফা এবং আরও ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রতি তিনজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন এই যুদ্ধকে সমর্থন করেন।

মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

তারা বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির রাডার টাওয়ার, ব্যারাক ও বিমান হ্যাঙ্গারের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি ইরানে একটি বালিকাবিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা বহু বছর ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ—বিশেষ করে অবস্থানভিত্তিক (লোকেশন) অ্যাপ—শত্রুপক্ষের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে দিতে পারে।

রয়টার্স চলতি বছরের মে মাসে এক প্রতিবেদনে জানায়, স্মার্টফোন থেকে সংগৃহীত বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় মার্কিন সেনাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন একটি রূপ নিয়ে বর্তমান। শুক্রবার, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) একটি বিশেষ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভি অনলাইনে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একইসাথে, কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দেওয়ার দাবি তারা করেছে, যেটি আগাম সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার ফলাফল।

অন্যদিকে, জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানা গেছে, তবে সেগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি।

ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই এই সামরিক প্রতিক্রিয়া এসেছে তেহরানের।

হুমকি নিরসনের জন্য ওয়াশিংটন ও রিয়াদ জানায়, পূর্ব ইরাকে ইরান ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত একাধিক গোপন আস্তানায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, এসব স্থানে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় ড্রোন হামলা চালানোর প্রস্তুতি ছিল।

সৌদি আরব জানায়, তাদের পূর্বাঞ্চলীয় তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা বেশ কিছু ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে। এসব হামলার জন্য তারা ইরাকভিত্তিক ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অঞ্চলে নতুন করে হামলা প্রতিহত করতে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই সীমিত সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।

ইরাকের আধা-সামরিক বাহিনী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের এই যৌথ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং নতুন করে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।

পিএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলায় তাদের বেশ কয়েকটি প্রধান কার্যালয় ধ্বংস হয়েছে এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

যদিও ইরান সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য ভিত্তিহীনভাবে ইরানকে দায়ী করা গেলে তা হবে একটি বৃহৎ 'ভুল হিসাব' এবং এর ফলস্বরূপ পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%