০৭:০৫ পি.এম
ওয়ানডে ক্রিকেটে সময়টা অস্ট্রেলিয়ার জন্য তেমন ভালো যাচ্ছে না। ঘরের মাঠে পাকিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর সর্বশেষ পাকিস্তান সফরেও তাদের দল হেরে গেছে। বর্তমানে অজিদের সামনে টাইগারদের পরীক্ষা রয়েছে। নিজেদের ডেরায় টাইগারদের সামর্থ্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানলেও রোমাঞ্চকর সিরিজের আশায় তৈরি হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আগামীকাল (৯ জুন) হোম অব ক্রিকেটে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। চলতি সিরিজে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা জশ ইংলিস প্রথম ম্যাচের আগের দিন ট্রফি উন্মোচনের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন। তিনি দলের ভারসাম্য বা কম্বিনেশন সম্পর্কেও দলের অবস্থা তুলে ধরেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর টাইগারদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলার বিষয়ে নিজের মনোভাবের কথা জানান তিনি।
ইংলিস বলেন, 'এটা খুবই রোমাঞ্চকর। আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে খুব বেশি খেলি না। বিশেষ করে এখানে, বাংলাদেশে তো একেবারেই না। এখানে আমার এটি প্রথম সফর। আমি জানি দলের আরও অনেকের জন্য এটি প্রথমবার। সিরিজটি নিয়ে আমরা দারুণ রোমাঞ্চিত। আমরা এখনও দল ঘোষণা করিনি। তাই আজ আমরা উইকেট দেখব এবং আগামীকাল আপনারা সেটি (দল) দেখতে পাবেন।'
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
৫০ ওভারের ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি। তবে বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত অনেক খেলোয়াড়ই এই সিরিজে বিশ্রামে আছেন এবং অধিনায়ক মিচেল মার্শসহ বেশ কয়েকজন সিরিজের ঠিক আগে ছিটকে গেছেন। বাংলাদেশের হারানো অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য এটি আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হলো কিনা, সে বিষয়ে টাইগারদের সামর্থ্যের প্রশংসা করেন ইংলিস।
ইংলিস বলেন, 'আমার মনে হয় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। তারা খুবই ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। স্বাভাবিকভাবেই আপনারা নিজেদের ঘরের মাঠের কন্ডিশনে খেলছেন। আমাদের অনেকেই আগে এখানে আসেনি, তবে আমাদের যেটা রয়েছে তা হলো নিজেদের ওপর অগাধ বিশ্বাস। আমার মনে হয় এটি একটি দারুণ সিরিজ হতে যাচ্ছে।'
সম্প্রতি আইপিএল চার ম্যাচ খেলা ইংলিস মনে করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উইকেটের সাদৃশ্য নেই। এছাড়া টি-২০ ফরম্যাটের সাথে ওয়ানডের তুলনাটা তার কাছে প্রাসঙ্গিক নয়।
অজি অধিনায়কের মতে, 'আমরা আজ উইকেটটি দেখব। এটি সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের, কারণ ওটা ছিল টি-২০ ক্রিকেট (ভারতের উইকেট)। আমরা আমাদের হোমওয়ার্ক করব। সম্প্রতি এখানে যে ম্যাচগুলো খেলা হয়েছে সেগুলো দেখে তারপর আজ উইকেট সম্পর্কে একটি ধারণা বা সিদ্ধান্ত নেব।'
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড
ট্রাভিস হেড এবং মিচেল মার্শের ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়া এই সিরিজে তাদের পাচ্ছে না। দুজন তারকা ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিলেও বাকিদের জন্য এটাকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।
তিনি বলেন, 'তারা এখানে নেই। (বাস্তবতা) পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের সদ্য সমাপ্ত সিরিজের মতোই। আমি মনে করি এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে কিছু তরুণ খেলোয়াড় এই ধরনের কন্ডিশনে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। স্বভাবতই সামনে একটি বিশ্বকাপও রয়েছে। তাই এর আগে ভিন্ন কম্বিনেশন এবং কয়েকজন ভিন্ন খেলোয়াড়কে দেখে নেয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।'
অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই বিশ্বমানের পেসার তৈরি করলেও সাদা বলের ক্রিকেটে দলটি চলতি সময়ে একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আসন্ন সিরিজে অভিজ্ঞতা এবং কন্ডিশন বিবেচনায় বাংলাদেশের পেসাররা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার প্রসঙ্গে সফরকারী দলের কাপ্তান থাকলেন ইতিবাচক। নিজ দলের পেসারদের ওপর রাখলেন আস্থা।
ইংলিস বলেন, 'সিরিজটি খেলার পরেই আমরা তা জানতে পারব বলে আমার ধারণা। অবশ্যই আমাদের স্কোয়াড থেকে বড় কয়েকজন খেলোয়াড় বাইরে আছে, তবে যারা গত কয়েক বছর ধরে প্রচুর খেলছে যেমন, নাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট, বেন ডোয়ারশুইস- এই স্তরে তাদের ওপর ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা দারুণ রোমাঞ্চকর এবং এই সিরিজে তারা কী করতে পারে তা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।'
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
পাকিস্তান সফরের ব্যাটিংয়ের কোন শিক্ষাগুলো তারা বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে ইংলিস বলেন, 'আমরা যে শিক্ষাগুলো পেয়েছি তা হলো কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়া। আমার মনে হয় বাংলাদেশে আমরা ভিন্ন কন্ডিশন পাবো। তবে মূল বিষয় হলো নিজের গেম প্ল্যান বা পরিকল্পনার প্রতি একদম পরিষ্কার থাকা। আপনি কীভাবে খেলতে চান তা জানা এবং তারপর দীর্ঘ সময় ধরে সেটি বজায় রাখা। যারা সফল হয়েছে তারা এটি বেশ ভালোভাবেই করেছে, তবে আমরা আরও দীর্ঘ সময় ধরে এটি করতে চাই এবং বড় স্কোর গড়তে চাই।'
পেস-বান্ধব উইকেট আশা করছেন কিনা- জানতে চাইলে তার সাফ জবাব, 'এখানে নিউজিল্যান্ডের যে সিরিজটি হয়েছিল তা আমরা দেখেছি, তাই না? সেখানে উইকেটে কিছুটা ঘাস ছিল বলে মনে হয়েছিল। নতুন বল কিছুটা মুভ করছিল এবং উইকেটটি স্পিন-নির্ভর হওয়ার চেয়ে সিম-বান্ধব বেশি ছিল। আমরা বিষয়টি মাথায় রাখব, তবে আমরা যেকোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত। গতকাল আমি সংক্ষেপে একটু (উইকেট) দেখেছি, তবে খুঁটিয়ে দেখা হয়নি, তাই আজ আবার দেখব।'
পেসার নাথান এলিসের বৈচিত্র্যময় বোলিং বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সিরিজে তার অজিদের জন্য এক্স-ফ্যাক্টর হয়ে ওঠার সম্ভাবনার পালে ইংলিস হাওয়া লাগান।
'আমার মনে হয় গত কয়েক বছরে সে দারুণভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছে এবং আমরা তাকে যে ভূমিকাই দিয়েছি, সে তা লুফে নিয়েছে। অবশ্যই তার ঝুলিতে সব ধরনের বৈচিত্র্য রয়েছে। তবে সে অত্যন্ত দক্ষ এবং খেলার তিনটি ফেজেই (শুরুতে, মাঝে ও শেষে) বল করতে পারে। আমি আশা করি এই সিরিজে সে বড় ভূমিকা পালন করবে।'
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
বিশ্ব ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর এখন আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের দিকে। অন্যান্য খেলাধুলা নিয়ে সবার আকর্ষণটা তাই কিছুটা কম থাকবে। তবে ইংলিসের বিশ্বাস, রোমাঞ্চকর সিরিজ মাঠে গড়াবে।
'আমার মনে হয় এটি খুবই রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে। আগে যেমনটা বললাম, অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশ খুব বেশি মুখোমুখি হয় না। আমি জানি আমাদের ছেলেরা দারুণ উত্তেজিত এবং এই কন্ডিশনে মাঠে নেমে খেলার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।'
অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দেয়া এবং ভবিষ্যতে ওয়ানডে বা অন্য কোনো ফরম্যাটে দীর্ঘমেয়াদী অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে দেখার বিষয়টি অজি অধিনায়ক উড়িয়ে দেন।
'আমি ঠিক তেমনটা বলব না। সত্যি বলতে, আমি এত দূরের কথা ভাবিনি। অবশ্যই (নিয়মিত) কয়েকজন খেলোয়াড় অনুপস্থিত এবং যখনই প্রয়োজন হবে আমি দায়িত্ব পালন করবো। তবে গত কয়েকটি সিরিজে নিজের দেশকে নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। এটি আমার জন্য খুবই বিশেষ কিছু। আমাদের দলটি তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ এবং এটি বেশ মজার। এই ছেলেদের জন্য ভিন্ন কন্ডিশনে এসে খেলাটা অনেক আনন্দের। আমি শুধু এই পুরো অভিজ্ঞতাটা লুফে নেয়ার এবং নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছি।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন