বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:১৬ পি.এম
উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম পর্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে দূতাবাসে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়। এরপর, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এই দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জনগণের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও অগ্রযাত্রা কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উজবেকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর, ভাইস-রেক্টর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ‘ইয়ুথ অ্যাজ অ্যা চেঞ্জ মেকার ইন অ্যা চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন উজবেকিস্তানের টিআইএফটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর আজিজ নাদিরোভ, সারবন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর মোজাফ্ফর জালালোভ, উজবেকিস্তান ইকোনমিক অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট মুক্তার ওমরোভ এবং তাসখন্দ টাইমসের প্রধান সম্পাদক আকবর ইউসুপভ।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণ ও ছাত্রসমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ প্রসঙ্গে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও পটভূমির ওপর আলোকপাত করে তিনি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের সাহস, সংগ্রাম ও সংকল্পের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তরুণদের সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতায়নের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উদ্যোগ, পদক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো গতিশীল এবং ফলপ্রসূ করতে তিনি তরুণ সমাজের উদ্যম ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন।
বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ঔষধ, টেক্সটাইল, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি খাতসমূহের। তিনি অভিমত প্রকাশ করেন যে, এসব খাতে দু’দেশের তরুণ সম্প্রদায় পারস্পরিক স্বার্থে একসাথে কাজ করতে সক্ষম।
বক্তারা বাংলাদেশ-উজবেকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে বর্ণনা করে এই বন্ধনকে আরো শক্তিশালীকরণের জন্য তরুণদের ভূমিকার ওপর আলোচনা করেন।
তারা জানান, আগামী দিনগুলোতে দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা এক নতুন অধ্যায়ে পৌঁছাতে তরুণ সমাজ আরো সক্রিয় ও অগ্রগামী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে নতুন রুট নির্ধারণে, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োগ করা হবে। একইসঙ্গে কৌশলগত জলপথটি যৌথভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে। বুধবার এই তথ্যটি তেহরান থেকে জানানো হয়েছে।
তেহরান জানাচ্ছে, নতুন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান।
এই সমঝোতা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
বার্তা সংস্থা এএফপির মাধ্যমে এই খবরটি তেহরান থেকে জানানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে, হরমুজ প্রণালীর কার্যত নিয়ন্ত্রণ তেহরান ধরে রেখেছে। পাশাপাশি, তারা অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর জন্য ইরান সমঝোতা চাচ্ছে। তবে, ইরান এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে যে, তারা এ বিষয়ে প্রণালীর অপর পাড়ের প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে ব্যবস্থা করবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ‘দুই পক্ষ যে রুট নির্ধারণ করেছে, তার ভৌগোলিক স্থানাঙ্কে একমত হয়েছে।’ তাও উল্লেখ করেন যে, তৃতীয় কোনো পক্ষ যদি বাধা সৃষ্টি না করে, তবে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি, যাতে প্রধান বিবেচ্য বিষয় ও সমঝোতার দিকগুলো থাকবে, সেটিও চূড়ান্ত পর্যালোচনা এবং খসড়া প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকাই সাংবাদিকদের জানান যে, ওমানের সঙ্গে আলোচনা অগ্রগতির দিকে। কিন্তু সমঝোতা হলে এর অর্থ এই নয় যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের জন্য পথ নিরাপদ হয়ে যাবে।
বাকাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর উপর নৌ অবরোধ এবং ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।’
এই ঝুঁকির প্রতিফলন হিসেবে বুধবার ওমানের কুমজার থেকে নয় নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায় যে, জাহাজ এবং নাবিকরা নিরাপদ রয়েছেন।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথিরা পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। গত মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণার পর এটি ছিল অষ্টম ও নবম হামলা।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, উত্তর লোহিত সাগরের ইয়ানবুরের কাছে ‘ওয়াফা’ নামের একটি ট্যাংকার এবং এডেন উপসাগরে ‘ডেইজি’ নামের আরেকটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। জলপথটি নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সাথে কূটনৈতিক অগ্রগতির ধীরগতিতে ওয়াশিংটন হতাশ। তবে, তিনি জানান যে, ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আলোচনায় সময় লাগবে।
বুধবার সম্প্রচারিত ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হবে এবং সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে।’
হরমুজ প্রণালীতে কার্যকর অবরোধ আরোপের পর থেকে ইরান জাহাজগুলোকে নিজেদের উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার করতে বলছে।
তবে অনেক জাহাজই প্রণালীর অপর পাশে ওমান উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ বেছে নিচ্ছে। এই পথে চলাচলকারী কিছু জাহাজ মাঝেমধ্যে হামলার মুখে পড়ছে।
ইরান এখন হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে টোল আদায় করতে চায়, যেটি যুদ্ধের আগে তারা করতো না।
সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দেন। এমনকি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার ইঙ্গিত দেন। পরে অবশ্য তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে জানান যে, সমঝোতা খুব কাছাকাছি।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে ডিউটিরত দুই ট্রাফিক সার্জেন্টের তৎপরতায় মো. হৃদয় (২৮) নামক এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়, তার কাছ থেকে একটি ছুরি ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।
এর আগে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী ২ নম্বর সিগন্যাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে যাত্রাবাড়ী ২ নম্বর সিগন্যাল এলাকায় ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের দুইজন সার্জেন্ট দায়িত্বরত ছিলেন। সেই সময় একজন রিকশার যাত্রী ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে চিৎকার শুরু করলে, দায়িত্বরত দুই ট্রাফিক সার্জেন্ট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় এক ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
এই সময় ছিনতাইকারীর কাছ থেকে একটি ছুরি ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়।
পরে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, গ্রেপ্তার ছিনতাইকারীকে উদ্ধারকৃত মালামালসহ যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ও সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে রাতে ৬০৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাতের মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৬০৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আটকিয়ে ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে তভার অঞ্চলে হামলা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ই-কমার্স জায়ান্ট ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আঞ্চলিক গভর্নর ভিতালি কোরোলিয়ভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় হামলা প্রতিহত করেছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তিনি টেলিগ্রামে লিখেছেন, একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ওয়াইল্ডবেরিজ লজিস্টিকস সেন্টারের সম্মুখভাগ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, কেউ আহত হয়নি।
ইউক্রেন গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে রাশিয়া এবং সংযুক্ত ক্রিমিয়ার বিভিন্ন স্থানে ওয়াইল্ডবেরিজের সাইটে বারবার হামলা চালাচ্ছে।
ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ বলেছেন, তার অঞ্চলে ‘সবচেয়ে বড় আক্রমণ’ হয়েছে। সেখানে ৯২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বাড়িঘরে আগুন লেগেছে এবং কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার চার বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কূটনীতি স্থবির অবস্থানে রয়েছে এবং দুই দেশই দীর্ঘ-পাল্লার হামলা বাড়াচ্ছে, যার ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ, ৬ আগস্ট তারিখে, প্রযুক্তির ইতিহাসের জন্য এটি একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ব্রিটিশ কম্পিউটারবিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইটকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করেন। সুইজারল্যান্ডের ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এ কাজ করার সময় তিনি নিজের উদ্ভাবিত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ) সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেন। একইসঙ্গে, তিনি বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট http://info.cern.ch প্রকাশ করেন।
টিম বার্নার্স-লি ১৯৫৫ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মা দুজনেই ছিলেন কম্পিউটারবিজ্ঞানী। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি সার্নে যোগ দেন। ১৯৮০-এর দশকে সার্নে কাজ করার সময়ে তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অগণিত গবেষকের প্রকল্প এবং কম্পিউটারভিত্তিক তথ্য খুঁজে বের করা বেশ কঠিন হয়।
এই সমস্যার সমাধানে ১৯৮৯ সালের মার্চ মাসে বার্নার্স-লি সার্নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ব্যবস্থাপনার একটি পদ্ধতি প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাবে, ইন্টারনেটে সংযুক্ত বিভিন্ন কম্পিউটারের নথি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য হাইপারটেক্সট ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। তবে, প্রস্তাবটি প্রথমে গৃহীত হয়নি।
পরে, সার্নের প্রকৌশলী রবার্ট কাইলিয়াউ-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রস্তাবটি আপডেট করে আবারও জমা দেন। ১৯৯০ সালে প্রকল্পটিকে বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে এর নাম ছিল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, পরে এটি পরিবর্তন করে রাখা হয় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব।
১৯৯০ সালের শেষ দিকে, অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস-এর নকশা করা নেক্সট কম্পিউটারের মাধ্যমে ওয়েব পেজ তৈরির জন্য টিম বার্নার্স-লি হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ, তথ্য আদান-প্রদানের জন্য হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল এবং ওয়েব ঠিকানার ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর (ইউআরএল) তৈরি করেন। সে সময়, একটি ব্রাউজার এবং ওয়েব সার্ভার সফটওয়্যারও তৈরি করেন।
এর ফলশ্রুতিতে, ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট, সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট। ঐ সাইটটিতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, এটি কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে—এসব বিষয় প্রকাশিত হয়েছিল।
বিশ্বব্যাপী তথ্যজালের এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন করা সত্ত্বেও, টিম বার্নার্স-লি কোন অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেননি। এমনকি, প্রযুক্তিটি পেটেন্ট করার জন্য সার্নের প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, প্রযুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেই এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং উন্নত হবে। তিনি বলেছিলেন, প্রযুক্তিটি যদি পেটেন্ট করা থাকে এবং তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে রাখে তবে এটি কখনোই আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছাতে পারবে না।
১৯৯৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সুপারকম্পিউটিং অ্যাপ্লিকেশনরা জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার মোসাইক প্রকাশ করে। এরপর একে একে শুরু হয় ইয়াহু (১৯৯৪), অ্যামাজন (১৯৯৫), ইবে (১৯৯৫), এবং গুগল (১৯৯৮) এর যাত্রা। ইন্টারনেট লাইভ স্ট্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ফেসবুক চালুর আগে বিশ্বে ৫ কোটি ১০ লাখেরও বেশি ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছিল।
১৯৯৪ সালে, টিম বার্নার্স-লি সার্ন ছেড়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি ওয়েবের মানদণ্ড নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন।
এই প্রচারবিমুখ বিজ্ঞানী পরে টাইম সাময়িকীর বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০০ জন ব্যক্তির তালিকায় স্থান পান। ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। পরে ২০০৯ সালে, তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ