১০:২৭ এম
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতিতে জানান, ‘যান্ত্রিক ত্রুটির’ কারণে এএইচ-৬ মডেলের নজরদারি হেলিকপ্টারটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। উল্লেখ্য, এটি সৌদি আরবের ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের হেলিকপ্টার ছিল।
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা দুই কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন।’
গেল এক সপ্তাহে সৌদি আরবে একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দফায় দফায় হামলায় সৌদির বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কেঁপে উঠেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদে এসব অভিযান ইরান ও হুতিদের একটি সুচিন্তিত কৌশলের প্রতিফলন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব পর্যন্ত বিস্তৃত এই সংঘাতময় অঞ্চলে সৌদি আরবকে একটি চাপের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান সমর্থিত হুতিরা।
এছাড়াও, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটনকে তাদের নীতি পরিবর্তনে সরাসরি বাধ্য করতে না পেরে তেহরান সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরান তাদের প্রধান আঞ্চলিক পৃষ্ঠপোষক হওয়ায়, তেহরানের ওপর চাপ কমলে তা হুতিদের জন্য সরাসরি লাভজনক হবে। এর ফলে হুতিদের রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামরিক ক্ষেত্রে ইরানের আর্থিক সহায়তার প্রবাহ বজায় থাকবে, যা হুতিদের শক্তিশালী হতে প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা
প্রতিবেদনে আরও বলা হচ্ছে, হুতিদের কিছু নিজস্ব দাবিও রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি সামরিক অভিযানের অবসান, ইয়েমেনের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোর ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয়া, ইরানে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি রিয়াদের সমর্থন প্রত্যাহার করা। তাদের এই শর্তগুলো পূরণ হলে ইয়েমেনের বড় একটি অংশে হুতিদের শাসন আরও সুসংহত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন