বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:২০ পি.এম
রাজধানীতে ডিউটিরত দুই ট্রাফিক সার্জেন্টের তৎপরতায় মো. হৃদয় (২৮) নামক এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়, তার কাছ থেকে একটি ছুরি ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।
এর আগে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী ২ নম্বর সিগন্যাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে যাত্রাবাড়ী ২ নম্বর সিগন্যাল এলাকায় ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের দুইজন সার্জেন্ট দায়িত্বরত ছিলেন। সেই সময় একজন রিকশার যাত্রী ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে চিৎকার শুরু করলে, দায়িত্বরত দুই ট্রাফিক সার্জেন্ট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় এক ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
এই সময় ছিনতাইকারীর কাছ থেকে একটি ছুরি ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়।
পরে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, গ্রেপ্তার ছিনতাইকারীকে উদ্ধারকৃত মালামালসহ যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ও সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে রাতে ৬০৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাতের মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৬০৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আটকিয়ে ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে তভার অঞ্চলে হামলা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ই-কমার্স জায়ান্ট ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আঞ্চলিক গভর্নর ভিতালি কোরোলিয়ভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় হামলা প্রতিহত করেছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তিনি টেলিগ্রামে লিখেছেন, একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ওয়াইল্ডবেরিজ লজিস্টিকস সেন্টারের সম্মুখভাগ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, কেউ আহত হয়নি।
ইউক্রেন গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে রাশিয়া এবং সংযুক্ত ক্রিমিয়ার বিভিন্ন স্থানে ওয়াইল্ডবেরিজের সাইটে বারবার হামলা চালাচ্ছে।
ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ বলেছেন, তার অঞ্চলে ‘সবচেয়ে বড় আক্রমণ’ হয়েছে। সেখানে ৯২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বাড়িঘরে আগুন লেগেছে এবং কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার চার বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কূটনীতি স্থবির অবস্থানে রয়েছে এবং দুই দেশই দীর্ঘ-পাল্লার হামলা বাড়াচ্ছে, যার ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ, ৬ আগস্ট তারিখে, প্রযুক্তির ইতিহাসের জন্য এটি একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ব্রিটিশ কম্পিউটারবিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইটকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করেন। সুইজারল্যান্ডের ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এ কাজ করার সময় তিনি নিজের উদ্ভাবিত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ) সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেন। একইসঙ্গে, তিনি বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট http://info.cern.ch প্রকাশ করেন।
টিম বার্নার্স-লি ১৯৫৫ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মা দুজনেই ছিলেন কম্পিউটারবিজ্ঞানী। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি সার্নে যোগ দেন। ১৯৮০-এর দশকে সার্নে কাজ করার সময়ে তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অগণিত গবেষকের প্রকল্প এবং কম্পিউটারভিত্তিক তথ্য খুঁজে বের করা বেশ কঠিন হয়।
এই সমস্যার সমাধানে ১৯৮৯ সালের মার্চ মাসে বার্নার্স-লি সার্নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ব্যবস্থাপনার একটি পদ্ধতি প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাবে, ইন্টারনেটে সংযুক্ত বিভিন্ন কম্পিউটারের নথি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য হাইপারটেক্সট ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। তবে, প্রস্তাবটি প্রথমে গৃহীত হয়নি।
পরে, সার্নের প্রকৌশলী রবার্ট কাইলিয়াউ-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রস্তাবটি আপডেট করে আবারও জমা দেন। ১৯৯০ সালে প্রকল্পটিকে বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে এর নাম ছিল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, পরে এটি পরিবর্তন করে রাখা হয় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব।
১৯৯০ সালের শেষ দিকে, অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস-এর নকশা করা নেক্সট কম্পিউটারের মাধ্যমে ওয়েব পেজ তৈরির জন্য টিম বার্নার্স-লি হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ, তথ্য আদান-প্রদানের জন্য হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল এবং ওয়েব ঠিকানার ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর (ইউআরএল) তৈরি করেন। সে সময়, একটি ব্রাউজার এবং ওয়েব সার্ভার সফটওয়্যারও তৈরি করেন।
এর ফলশ্রুতিতে, ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট, সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট। ঐ সাইটটিতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, এটি কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে—এসব বিষয় প্রকাশিত হয়েছিল।
বিশ্বব্যাপী তথ্যজালের এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন করা সত্ত্বেও, টিম বার্নার্স-লি কোন অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেননি। এমনকি, প্রযুক্তিটি পেটেন্ট করার জন্য সার্নের প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, প্রযুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেই এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং উন্নত হবে। তিনি বলেছিলেন, প্রযুক্তিটি যদি পেটেন্ট করা থাকে এবং তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে রাখে তবে এটি কখনোই আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছাতে পারবে না।
১৯৯৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সুপারকম্পিউটিং অ্যাপ্লিকেশনরা জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার মোসাইক প্রকাশ করে। এরপর একে একে শুরু হয় ইয়াহু (১৯৯৪), অ্যামাজন (১৯৯৫), ইবে (১৯৯৫), এবং গুগল (১৯৯৮) এর যাত্রা। ইন্টারনেট লাইভ স্ট্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ফেসবুক চালুর আগে বিশ্বে ৫ কোটি ১০ লাখেরও বেশি ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছিল।
১৯৯৪ সালে, টিম বার্নার্স-লি সার্ন ছেড়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি ওয়েবের মানদণ্ড নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন।
এই প্রচারবিমুখ বিজ্ঞানী পরে টাইম সাময়িকীর বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০০ জন ব্যক্তির তালিকায় স্থান পান। ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। পরে ২০০৯ সালে, তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে জয় ‘বাংলা স্লোগান’ দিয়ে আলোচনায় আসা মডেল সিমু আক্তার বৃষ্টি, যিনি মিষ্টি সুবাস নামেও পরিচিত, তাকে জুলাই মাসের হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ৩ আগস্ট মিষ্টি সুবাসকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা, আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক শফিউল আলম সোহাগ। আদালত ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন।
ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মিষ্টি সুবাস এজাহারভুক্ত আসামিদের সহযোগী হিসেবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
বর্তমানে মিষ্টি সুবাস আশুলিয়া থানার অপর একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে এই মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সেই কারণে মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা আড়ার দিকে বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনের পক্ষে মিছিল করার জন্য আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল মোড় এলাকায় এক অংশগ্রহণকারী রুহুল আমীন ছিলেন। এসময় আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে বাদীর বাম পায়ের গোড়ালীতে গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ৩ অক্টোবর ভুক্তভোগী রুহুল আমীন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মোট ৫৩ জনকে এজহারভুক্ত আসামি করা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ২৬ মার্চ দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর জাতীয় স্মৃতি সৌধের মূল বেদির সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ২২ বা ২৫ জন নেতাকর্মী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির প্লেকার্ড ব্যবহার করে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ সরকার মানি না মানবো না, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে স্লোগান দেয়।
এসময় পুলিশ মিষ্টি সুবাশসহ দুজনকে আটক করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আসলে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন লন্ডনে অবস্থানরত তার দুই ছেলে, কাসিম খান ও সুলাইমান ঈসা খান। তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ গত সাত মাস ধরে তাদের পরিবার, আইনজীবী এবং চিকিৎসকদের তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছে না।
ইমরান খান এবং তার স্ত্রী, বুশরা বিবির অবিলম্বে মুক্তি এবং তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চিকিৎসাসেবার নিশ্চয়তার দাবিতে, বুধবার পাকিস্তানজুড়ে তার দল, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর হাজার হাজার কর্মী রাজপথে নেমে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক এই ক্রিকেট তারকাকে দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত করে এক বছর ধরে কারাগারে রাখা হয়েছে।
তবে, ইমরান খান এবং তার সমর্থকরা দাবি করেন, এই সাজানো মামলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং প্রতিপক্ষ দমনের অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, ইমরান খান সামরিক বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের যোগসাজশে তাকে উৎখাতের অভিযোগ করে দেশজুড়ে বিশাল সমাবেশ গড়ে তুলেছিলেন, যা পরবর্তীতে সরকার কঠোরভাবে দমন করে। এ সময়ে দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে পিটিআই-কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেওয়া হয়।
লন্ডনে থাকা কাসিম ও সুলাইমান জানান, মিডিয়াতে মুখ খুললেই বাবার সঙ্গে দেখা করার পথ আরও কঠিন হয়ে যায় ইসলামাবাদে। তারা জানিয়েছেন, ভিজিট ভিসা দেওয়া বা বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে তাদের সফর আটকে রাখা হচ্ছে।
তাদের ভিসা না পাওয়ার কারণ হিসেবে পাকিস্তানি তথ্য মন্ত্রণালয় সিএনএনকে জানায় যে, ইমরান খানের দুই ছেলে ওভারসিজ পাকিস্তানিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের অধিকারী, ফলে তাদের আলাদা ভিসার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয় এবং তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কাসিম ও সুলাইমান স্পষ্ট করেন যে, তাদের পরিচয়পত্রের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে এবং সরকার তা নবায়ন করেনি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এক বিবৃতিতে ইমরান খান ও বুশরা বিবির স্বজন এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাদের বেআইনি একক কারাবাস অবিলম্বে বন্ধ করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, সিএনএন-এর কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকার অভিযোগগুলো একবাক্যে নাকচ করে দিয়েছে। সরকারের দাবি, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে কোনো ব্ল্যাকআউট বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে রাখা হয়নি এবং তার স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ২১ মার্চ, ইমরান খান সর্বশেষ তার ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। কারাবিধি অনুযায়ী তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার জানায়, ইমরান খানকে সাধারণ কোনো কক্ষে নয়, বরং প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন কয়েদির জন্য নির্ধারিত ৭ কক্ষবিশিষ্ট একটি বিশেষ কম্পাউন্ডে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে একটি বড় বারান্দা, লন, বিছানা, টেবিল, চেয়ার, ব্যায়ামের সরঞ্জামসহ যাবতীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান।
তবে সরকারের এসব ব্যাখ্যা মানবাধিকার সংস্থা বা ইমরান খানের পরিবারের উদ্বেগকে দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়। কাসিম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার তার বাবার কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করতে অস্বীকার করছে, যা থেকে ধারণা করা যায় যে তার শারীরিক অবস্থার হয়তো মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। সামরিক আদালতে দলের ৮৫ জনের দণ্ডপ্রদান এবং অসংখ্য নেতাকর্মীর অন্যায় গ্রেফতারের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, বাবা কখনোই একা রেহাই পাওয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবেন না। দেশের ৩৫ কোটি মানুষ ইমরান খানকে তাদের নেতা হিসেবে দেখতে চায়, অথচ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদকে জোর করে আদালতের আড়ালে ও খাঁচায় বন্দি রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ