প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম পর্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে দূতাবাসে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়। এরপর, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এই দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জনগণের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও অগ্রযাত্রা কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উজবেকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর, ভাইস-রেক্টর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ‘ইয়ুথ অ্যাজ অ্যা চেঞ্জ মেকার ইন অ্যা চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন উজবেকিস্তানের টিআইএফটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর আজিজ নাদিরোভ, সারবন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর মোজাফ্ফর জালালোভ, উজবেকিস্তান ইকোনমিক অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট মুক্তার ওমরোভ এবং তাসখন্দ টাইমসের প্রধান সম্পাদক আকবর ইউসুপভ।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণ ও ছাত্রসমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ প্রসঙ্গে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও পটভূমির ওপর আলোকপাত করে তিনি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের সাহস, সংগ্রাম ও সংকল্পের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তরুণদের সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতায়নের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উদ্যোগ, পদক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো গতিশীল এবং ফলপ্রসূ করতে তিনি তরুণ সমাজের উদ্যম ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন।
বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ঔষধ, টেক্সটাইল, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি খাতসমূহের। তিনি অভিমত প্রকাশ করেন যে, এসব খাতে দু’দেশের তরুণ সম্প্রদায় পারস্পরিক স্বার্থে একসাথে কাজ করতে সক্ষম।
বক্তারা বাংলাদেশ-উজবেকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে বর্ণনা করে এই বন্ধনকে আরো শক্তিশালীকরণের জন্য তরুণদের ভূমিকার ওপর আলোচনা করেন।
তারা জানান, আগামী দিনগুলোতে দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা এক নতুন অধ্যায়ে পৌঁছাতে তরুণ সমাজ আরো সক্রিয় ও অগ্রগামী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন