প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ, ৬ আগস্ট তারিখে, প্রযুক্তির ইতিহাসের জন্য এটি একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ব্রিটিশ কম্পিউটারবিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইটকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করেন। সুইজারল্যান্ডের ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এ কাজ করার সময় তিনি নিজের উদ্ভাবিত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ) সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেন। একইসঙ্গে, তিনি বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট http://info.cern.ch প্রকাশ করেন।
টিম বার্নার্স-লি ১৯৫৫ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মা দুজনেই ছিলেন কম্পিউটারবিজ্ঞানী। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি সার্নে যোগ দেন। ১৯৮০-এর দশকে সার্নে কাজ করার সময়ে তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অগণিত গবেষকের প্রকল্প এবং কম্পিউটারভিত্তিক তথ্য খুঁজে বের করা বেশ কঠিন হয়।
এই সমস্যার সমাধানে ১৯৮৯ সালের মার্চ মাসে বার্নার্স-লি সার্নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ব্যবস্থাপনার একটি পদ্ধতি প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাবে, ইন্টারনেটে সংযুক্ত বিভিন্ন কম্পিউটারের নথি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য হাইপারটেক্সট ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। তবে, প্রস্তাবটি প্রথমে গৃহীত হয়নি।
পরে, সার্নের প্রকৌশলী রবার্ট কাইলিয়াউ-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রস্তাবটি আপডেট করে আবারও জমা দেন। ১৯৯০ সালে প্রকল্পটিকে বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে এর নাম ছিল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, পরে এটি পরিবর্তন করে রাখা হয় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব।
১৯৯০ সালের শেষ দিকে, অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস-এর নকশা করা নেক্সট কম্পিউটারের মাধ্যমে ওয়েব পেজ তৈরির জন্য টিম বার্নার্স-লি হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ, তথ্য আদান-প্রদানের জন্য হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল এবং ওয়েব ঠিকানার ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর (ইউআরএল) তৈরি করেন। সে সময়, একটি ব্রাউজার এবং ওয়েব সার্ভার সফটওয়্যারও তৈরি করেন।
এর ফলশ্রুতিতে, ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট, সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট। ঐ সাইটটিতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, এটি কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে—এসব বিষয় প্রকাশিত হয়েছিল।
বিশ্বব্যাপী তথ্যজালের এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন করা সত্ত্বেও, টিম বার্নার্স-লি কোন অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেননি। এমনকি, প্রযুক্তিটি পেটেন্ট করার জন্য সার্নের প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, প্রযুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেই এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং উন্নত হবে। তিনি বলেছিলেন, প্রযুক্তিটি যদি পেটেন্ট করা থাকে এবং তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে রাখে তবে এটি কখনোই আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছাতে পারবে না।
১৯৯৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সুপারকম্পিউটিং অ্যাপ্লিকেশনরা জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার মোসাইক প্রকাশ করে। এরপর একে একে শুরু হয় ইয়াহু (১৯৯৪), অ্যামাজন (১৯৯৫), ইবে (১৯৯৫), এবং গুগল (১৯৯৮) এর যাত্রা। ইন্টারনেট লাইভ স্ট্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ফেসবুক চালুর আগে বিশ্বে ৫ কোটি ১০ লাখেরও বেশি ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছিল।
১৯৯৪ সালে, টিম বার্নার্স-লি সার্ন ছেড়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি ওয়েবের মানদণ্ড নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন।
এই প্রচারবিমুখ বিজ্ঞানী পরে টাইম সাময়িকীর বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০০ জন ব্যক্তির তালিকায় স্থান পান। ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। পরে ২০০৯ সালে, তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন