০৭:৩৮ পি.এম
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকটি কড়ই ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো কেটে বিক্রি করা হয়েছে স্থানীয় কাঠব্যবসায়ী বাবুল মিয়ার কাছে।
সরকারি গাছ কাটতে হলে পরিচালনা কমিটির সভার রেজুলেশন ও বন বিভাগের লিখিত অনুমতি প্রয়োজন, কিন্তু এসব নিয়মাবলী মানেননি ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। হাসপাতালের পুরোনো গাছ কেটে বিক্রি করার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে অনেক পুরোনো কড়ই, মেহগনি ও অন্যান্য প্রজাতির গাছ রয়েছে, যা রোগী ও স্বজনদের ছায়া প্রদানসহ পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে আসছিল। গত শুক্রবার বাবুল নামের কাঠব্যবসায়ী হঠাৎ করে গাছ কাটা শুরু করেন। স্থানীয়দের ক্ষোভের কারণে পরে তিনি কাজ বন্ধ করে চলে যান।
আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২
সরজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরে গাছের বড় বড় গুঁড়ি ও ডালপালা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মেহগনি ও কড়ই গাছের উপরের অংশ কাটা হলেও গোড়ার কিছু অংশ বাকি রয়েছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বাকি অংশ কাটতে পারেননি এবং কর্তনকৃত গাছগুলোও নিয়ে যেতে পারেননি কাঠব্যবসায়ী বাবুল।
এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের ছায়া দিয়ে আসছিল এবং হাসপাতালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছিল। গাছ কেটে ফেলায় হাসপাতালের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, সরকার যেখানে বনায়ন ও গাছ রোপণে জোর দিচ্ছে, সেখানে সরকারি হাসপাতাল চত্বরে গাছ কাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী সরকারি গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের লিখিত অনুমতি ও হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সভার রেজুলেশন প্রয়োজন, কিন্তু ডা. সাজিয়া আফরিন এর কোনোটিই নেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গাছগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সাজিয়া আফরিন বলেন, "বন বিভাগ ও সিভিল সার্জনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই কেবল ডালপালা কাটা হয়েছে, কোনো গাছ কাটা হয়নি।"
আরও পড়ুন: বরিশালে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ঘাস কাটলেন কমিশনার ও জেলা প্রশাসক
দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, "গাছ কাটার বিষয়ে আমি কোনো চিঠি পাইনি বা আমাকে মৌখিকভাবেও কিছু জানানো হয়নি।"
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন