মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০৯:১৮ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের রহনপুর বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।
গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ আনুমানিক রাত ২০:৪০ ঘটিকায় ১৬/সি কোম্পানি রহনপুর বিওপির জেসিও-১০৬৫৪ নায়েব সুবেদার মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নিজস্ব এসআইপি (SIP) সদস্য ও সিভিল সোর্সের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত মেইন পিলার ২০৯ থেকে আনুমানিক ১১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং রহনপুর কোম্পানি সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দক্ষিণ দিকে রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পাশে রেললাইনের ওপর এ অভিযান চালানো হয় (জিআর নম্বর- ৩০৫৪৫৮, ম্যাপসিট নম্বর- ৭৮ডি/৫)।
অভিযানে কোনো আসামি আটক না হলেও তল্লাশি চালিয়ে ৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার প্রতি পিসের আনুমানিক মূল্য ৩০০ টাকা ধরে মোট সিজার মূল্য ৯,৬০০ (নয় হাজার ছয় শত) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিওপি সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক জড়ানোর অভিযোগে সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মিজানুর রহমানকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে কাজী মিজানুর রহমানের পরিচয় ঘটে। এরপর ওই নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার আদালতের পর্যবেক্ষণেও তাদের স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে, যা বিভাগীয় নথির সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার এই ধরনের কর্মকাণ্ড বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে বিভাগীয় তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির ২৫ অক্টোবরের অনুমোদনের পর এই আদেশ জারি করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুড়িয়া ও নতুনগ্রাম এলাকায় পৃথক সময়ে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন আমুড়িয়া গ্রামের মাঠপাড়া এলাকার শফিকুল বিশ্বাসের ছেলে বাপ্পি হোসাইন (১৯) এবং নতুনগ্রামের মৃত অনিল শিকদারের মেয়ে অনন্যা শিকদার (২০)।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বাপ্পি হোসাইন মাগুরার শালিখা উপজেলার বুনাগাঁতি ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১২টার পর তিনি নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন।
অন্যদিকে, অনন্যা শিকদার কুল্লিয়া-কুচিয়ামোড়া সৈয়দ আতর আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনিও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। একই দিনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ ঘরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করলেও স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, পৃথক দুটি অপমৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরে মাসব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা কর্মসূচির সমাপনী ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন ভবনের ৩য় তলার মিলনায়তনে এই জীবনমুখী ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার তাগিদ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি। রোগটি সঠিক সময়ে শনাক্ত হলে নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম এবং খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতাল, দিনাজপুর যৌথভাবে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাপনী ও বৈজ্ঞানিক এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতাল দিনাজপুর এর সহ-সভাপতি ও জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আজাদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মূসা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
অধিবেশনে বক্তারা উল্লেখ করেন, স্তন ক্যানসার বিষয়ে নারীদের মনের সামাজিক সংকোচ ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তারা একই সাথে দেশজুড়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং (শনাক্তকরণ) সুবিধা আরও জোরদার করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে অনুষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা স্তন ক্যানসার আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন অগ্রগতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির নানাবিধ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মাসব্যাপী এই কর্মসূচির সফল সমাপ্তি স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝে নতুন সচেতনতার জোয়ার তৈরি করবে বলে আয়োজকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার শ্রীপুরে বিধবা, দুস্থ ও অসচ্ছল মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি ফ্রি মেডিকেল সেন্টার চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় প্রতি মাসে কার্ডধারী অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার তারাউজিয়াল মুন্সিপাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে ফ্রি মেডিকেল সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মো. শাহ নেওয়াজের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোল্লা মতিয়ার রহমান, যিনি মেডিকেল সেন্টারের উদ্বোধন ও উপকারভোগীদের মধ্যে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করেন।
পল্লিচিকিৎসক মো. শাহিদুজ্জামান খসরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডা. মো. আসিফ হোসেন অতনু।
এ সময় ফ্রি মেডিকেল সেন্টারের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন এর প্রধান উদ্যোক্তা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আছাদুজ্জামান মামুন। তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের অসহায়, দরিদ্র, বিধবা ও অসচ্ছল মানুষ অনেক সময় অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপজেলা পরিষদের সিএ সাহেব আলী, আকিদুল আজম জিহাদ, মিসরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। ফ্রি মেডিকেল সেন্টারের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করেন সাংবাদিক তাছিন জামান।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রতি ইংরেজি মাসের ১ তারিখ সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ মেডিকেল সেন্টারে অসহায়, বিধবা, দুস্থ ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার দরিদ্র মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মোছা. রোকেয়া বেগম ও শাহানারা বেগম জানান, এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এটি একটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। অনেকেরই টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে তারা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাবেন। এতে তাদের অনেক উপকার হবে।
বেশো নামে এক নারী মন্তব্য করেন, ‘আমাদের মতো গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। অনেক সময় টাকার অভাবে অসুস্থ হলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে পারি না, প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনতে পারি না। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমাদের মতো অসহায় মানুষের অনেক উপকার হবে। যারা এমন একটি মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার অসচ্ছল মানুষের জন্য নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হলে অনেকেই উপকৃত হবেন। এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এলাকার দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ