০৯:৪৩ পি.এম
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বিএমইউ) প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মবিন খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ফরম কন্ট্রোল টু কিউর: দ্যা এইচবিভি থেরাপিউরেটিক রিভ্যুলেশন / বিপিরোভারসেন এন্ড বিয়ন্ড (Form Control to Cure: The HBV Therapeutic Revolution Bepiroversen and Beyond)” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ইং তারিখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৫ম তলার লেকচার হলে হেপাটোলজি বিভাগ এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, "অধ্যাপক ডা. মবিন খান স্যার আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। তিনি আমার অনুপ্রেরণা ছিলেন এফসিপিএস করার। আমি ১৯৮৩ সালে আই পি জি এমআর এ ইন্টার্নশিপ করতে এসে তাঁকে পেয়েছি। তিনি তখন অস্ট্রেলিয়া থেকে হেপাটোলোজিতে মাস্টার্স করে ফিরে আসেন এবং হেপাটোলজি বিভাগ খুলতে চান। এরপর তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে বদলী হন। দুই বছর পর তিনি আবার আইপিজিএমআর-এ ফিরে এসে হেপাটোলজি বিভাগ খুলতে এসে সংগ্রাম করেছেন।" অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী সেমিনার সম্পর্কে বলেন, "আমি আজ আনন্দিত ও উদ্বেলিত যে একটি ফাংশনাল ওষুধ সামনে আসছে। যেটি ফাংশনাল। যা একসময় অবিশ্বাস্য মনে হতো।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্বাবিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। তিনি বলেন, "অধ্যাপক ডা. মবিন খান অসাধারণ মানুষ ছিলেন। তিনি সারা বছরের প্রতিদিনই সময়ে আসতেন। তিনি হাসপাতালে আসতেন সকাল ৭টার সময়ে। তিনি হাসপাতালে আসার আগে একশ রোগী দেখে আসতেন। সারা দিন আমরা তার সাথেই থাকতাম। কখনই তার কোন ব্যক্তি জীবন ছিল না। সব জায়গায় তিনি ট্রান্সপারেন্ট ছিলেন। অধ্যাপক ডা. মবিন খান সাবজেক্ট খুলেছেন, কোর্স খুলেছেন এবং মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বিভাগ খুলেছেন। লিভার বিভাগ কখনোই গবেষণায় পিছিয়ে ছিল না। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই সেমিনার। আজ আমরা একটি প্রোটোকল নিয়ে আলোচনা করছিলাম। শেষ পর্যন্ত এসে তিনটি প্রোটোকল নিয়ে আলোচনা করতে হলো। সবারই উদ্দেশ্যে হলো রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কমানো।"
আরও পড়ুন: পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজ গ্রেপ্তার
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এসকে নাজমুল হাসান ‘সাইলেন্সিং এইচবিপি, আনলকিং কিউর: দ্যা প্রোমোসিস অব বিপরোভারসেন” এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ এন্ড মিটফোর্ট হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মোঃ ফরহাদ হোসেন ‘দ্যা ফাংশনাল কিউর ট্রায়াল: বিপরোভারসেন ভিএস, পেগিলেটেড ইন্টারফেরন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে মডারেটর হিসেবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম এলিন। তিনি অধ্যাপক ডা. মবিন খান এর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডা. তানভীর আহমাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. তাহরিনা মাহাবুব। সেমিনারে প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে বারডেমের হেপাটোলোজি বিভাগের হেড অধ্যাপক ডা. গোলাম আজম, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের হেড অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, শহীদ সৌরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের হেড অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের হেড অধ্যাপক ডা. এবি.এম শাকিল গনি, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের হেড অধ্যাপক ডা. ফজল করিম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ বি এম ছফিউল্লাহ, অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান, মুগদা মেডিক্যাল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আসাদুজ্জামান বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করেন। সম্পাদনা: অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল আজম রঞ্জু। ছবি: মোঃ আরিফ খান। নিউজ: সুব্রত মন্ডল ও প্রশান্ত মজুমদার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন