০৯:৩৫ এম
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুনভাবে তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উদ্বেগের প্রভাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ঘটলো।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার পর চলতি ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনে ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতিটি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পথও ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।
একইসঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রতি থার্মে প্রায় ১৫০ পেন্স, যা জুনের শেষে প্রায় ৯৮ পেন্স ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কিছুটা কমে গিয়েছিল এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পূর্ববর্তী পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবারও পরিবর্তিত হয়। এ সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের নেতৃত্ব এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা রয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে। তেলের মূল্য বেড়ে গেলে সাধারণত পেট্রোল ও ডিজেলের দামও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরিবহণ ব্যয় বেড়ে খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে দেখা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের মধ্যে বিরোধ
যুক্তরাজ্যে গত আড়াই সপ্তাহে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম প্রায় ৫ পেন্স বেড়ে গড়ে ১ দশমিক ৫৬ পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিজেলের গড় মূল্য বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৭২ পাউন্ড প্রতি লিটার।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম আবার ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল ৩ দশমিক ৯২ ডলার।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ পর্যায়ে থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়লেও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ফেড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঋণের সুদহার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তথাপি গত মাসে কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ফেডের প্রথম বৈঠকে সুদের হার ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখা হয়।
আরও পড়ুন: সার্বিয়ার নির্বাচনে ভুচিচের পরাজয়, বিরোধী জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন