ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভ্যানচালকের গড়া বিদ্যালয়ে আলো ছড়াচ্ছে ২০০ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী


ভ্যানচালকের গড়া বিদ্যালয়ে আলো ছড়াচ্ছে ২০০ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী একটি মেয়ে। তার ভ্যানচালক বাবা মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য শহর থেকে গ্রামে ঘুরেছেন। কিন্তু কোনো স্কুলই মেয়েটিকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। উপায় না পেয়ে, বাবার মনে মেয়ের করুণ অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা উঠে আসে এবং তিনি তার নিজ গ্রামে একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে সেখানে দুই শর বেশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিক্ষার আলো পাচ্ছে। বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। ভ্যানচালক সেলিম মিয়ার এমন উদ্যোগটি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

সরেজমিনে মাদারীপুরের রাজৈরের প্রত্যন্ত এলাকা শাখারপাড়ে দেখা যায়, গ্রামটির মেঠোপথ ধরে দলবদ্ধ হয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে কেউ ১২ বছর বয়সী, আবার কেউ ১৫ বছর। তারা বিদ্যালয়ে এসে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে যোগ দিচ্ছে। প্রতিদিন এই ধরনের দৃশ্য বিদ্যালয়ে ফুটে ওঠে।

২০১৮ সালে ভ্যানচালক সেলিম মিয়া এই প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। দুই বছর পর, তিনি নিজ অর্থায়নে ২০ শতাংশ জমি কিনে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন। প্রথম দিকে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী শিশু লেখাপড়া করছে। এখানে ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি নকশিকাঁথা, মোমবাতি ও এলইডি বাল্ব তৈরি এবং সেলাই শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

আরও পড়ুন: হোটেলে নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ বিক্রির অভিযোগে মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

জানা যায়, শাখারপাড় গ্রামের মোশারফ শরীফের ছেলে সেলিম মিয়া। তার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য শহর থেকে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন। তবে কোথাও ভর্তি করার সুযোগ পাননি। মানসিক কষ্ট সত্ত্বেও, তিনি অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজেই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।

বিদ্যালয়ে ভর্তির পর সন্তানদের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে অভিভাবকরা আনন্দিত। বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে আসার পর তাদের সন্তানদের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে তারা কারো সঙ্গে মেশে না, কিন্তু এখন খেলাধুলা করে এবং কথা বলে। বাসায় একা থাকতে ভয় পেত, সেই ভয়টিও এখন দূর হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সেলিম মিয়া জানান, ‘ইচ্ছেশক্তি আর মনোবল থাকার কারণেই এই বিদ্যালয়টি স্থাপন করতে পেরেছি। প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে এখন সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। এখানে দায়িত্ব পালন করা কোনো শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পান না। তারা পরিবার নিয়ে আছেন। সরকার যদি আমাদের দিকে নজর দেয়, তাহলে বিদ্যালয়টি আরও সাফল্য অর্জন করতে পারবে।’

সহকারী শিক্ষক তাপসী আক্তার বলেন, ‘আমি ৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে কাজ করছি। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু নজর দিত, তাহলে আমাদের কষ্ট কিছুটা হতো।’

আরও পড়ুন: পুলিশ: ঢাল-লাঠি দিয়ে প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জনকে হত্যা

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তার জানান, ‘বাচ্চাদের বিনা বেতনে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের খরচও বিদ্যালয় থেকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখন প্রতিষ্ঠান আর এটি চালাতে পারছে না। সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ ও জাতীয়করণ না হলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনলাইনে আবেদন করা হলেও, তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে বেশ কিছু শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিদ্যালয়ের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি জানতে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করবে। পাশাপাশি এটি এমপিওভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন: কোনাবাড়িতে পানি ফ্যাক্টরি ও ঝুট গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমবারের মতো সাউদাম্পটনে অ্যাশেজ টেস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


প্রথমবারের মতো সাউদাম্পটনে অ্যাশেজ টেস্ট

ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজের সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী বছরের ১৮ জুন ট্রেন্ট ব্রিজে লড়াই দিয়ে শুরু হবে ছেলেদের পাঁচ ম্যাচের সিরিজ। এবার সাউদাম্পটনে প্রথমবারের মতো অ্যাশেজ টেস্ট মাঠে গড়াবে। ২০২৩ সালের মতো ২০২৭ সালেও ছেলেদের ও মেয়েদের অ্যাশেজ সিরিজ একযোগে আয়োজন করতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এতে ছেলেদের পর ২৪ জুন হেডিংলিতে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে মেয়েদের অ্যাশেজ। এর আগে ২০২৩ সালের হোম অ্যাশেজেও যৌথভাবে ছেলেদের ও মেয়েদের সিরিজ আয়োজন করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল ইসিবি। সেবার ছেলেদের পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-২ সমতায় শেষ হয়েছিল। মেয়েদের পয়েন্টভিত্তিক সিরিজটি ৮-৮ সমতায় শেষ হয়। দুইটি সিরিজ ড্র হলেও আগের বিজয়ী হিসেবে ট্রফি দুটি অস্ট্রেলিয়াই নিজেদের দখলে রেখেছিল। ট্রেন্ট ব্রিজ স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ১২ বছর পর ফিরছে অ্যাশেজ টেস্ট। পুরুষদের পাঁচ টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচটি এখানে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাকি চার টেস্ট যথাক্রমে লর্ডস, এজবাস্টন, ইউটিলিটা বোল এবং শেষ টেস্টটি হবে কিয়া ওভালে। এছাড়া প্রথমবারের মতো ছেলেদের অ্যাশেজ টেস্ট হতে যাচ্ছে সাউদাম্পটনের রোজ বোলে। অ্যাশেজ মহারণের ঠিক আগে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচের আয়োজন করেছে ইসিবি। আগামী ৭ থেকে ১০ জুন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংল্যান্ড লায়ন্সের মুখোমুখি হবে অজিরা। অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাটিতে সবশেষ অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল ইংল্যান্ড। নিজেদের ডেরায় এবার অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য ইংলিশদের। অ্যাশেজের আগেই আগামী ১৫ থেকে ২৬ মে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু হবে ইংল্যান্ডের আগামী আন্তর্জাতিক মৌসুম। তবে আইপিএলের সাথে সময় মিলে যাওয়ার কারণে এই সিরিজে সেরা অনেক তারকাকে ছাড়াই খেলতে হতে পারে ইংল্যান্ডকে।

পুরুষদের অ্যাশেজ সূচি:

প্রথম টেস্ট: ১৮ - ২২ জুন (ট্রেন্ট ব্রিজ)

দ্বিতীয় টেস্ট: ৩০ জুন - ৪ জুলাই (লর্ডস)

তৃতীয় টেস্ট: ৮ - ১২ জুলাই (এজবাস্টন)

চতুর্থ টেস্ট: ২১ - ২৫ জুলাই (রোজ বোল, সাউদাম্পটন)

পঞ্চম টেস্ট: ২৯ জুলাই - ২ আগস্ট (কিয়া ওভাল)

নারীদের অ্যাশেজ সূচি:

একমাত্র টেস্ট: ২৪ জুন - ২৭ জুন (হেডিংলি, লিডস)

প্রথম টি-টোয়েন্টি: ৩ জুলাই (ট্রেন্ট ব্রিজ, নটিংহ্যাম)

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি: ৬ জুলাই (দ্য কিয়া ওভাল, লন্ডন)

তৃতীয় টি-টোয়েন্টি: ৯ জুলাই (এমিরেটস ওল্ড ট্র্যাফোর্ড, ম্যানচেস্টার)

ওয়ানডে সিরিজ:

প্রথম ওয়ানডে: ১৩ জুলাই (ইউটিলিটা বোল, সাউদাম্পটন)

দ্বিতীয় ওয়ানডে: ১৬ জুলাই (লর্ডস, লন্ডন)

তৃতীয় ওয়ানডে: ২০ জুলাই (এজবাস্টন, বার্মিংহ্যাম)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জাহাজের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে ইরানের জব্দ করা অর্থ দিয়ে’, জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ এম


‘জাহাজের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে ইরানের জব্দ করা অর্থ দিয়ে’, জানালেন ট্রাম্প

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নতুন হামলার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, জাহাজ ও কার্গোর যে কোনো ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করা হবে উক্ত অর্থ দিয়ে যা যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জব্দ আছে ইরানের।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প মন্তব্য করে বলেন, এখন থেকে জাহাজ, কার্গো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষতিপূরণের সব টাকা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থ থেকে দেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে, তবে এটিই হবে ন্যায্য এবং সঠিক পদক্ষেপ। তবে তিনি উল্লেখ করেননি যে, শিপিং কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থ প্রদান করবে কি না।

গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একাধিকবার সংঘাত ঘটে। এর পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালানোর ঘটনা সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এরপর থেকেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি আরো বাড়িয়ে চলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইরানের প্রায় ২০০ কোটি ডলার জব্দ রয়েছে। এছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য দেশে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে, যার পরিমাণ ২ হাজার ৪০০ কোটি (২৪ বিলিয়ন) থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের তলানিতে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

গত জুনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। যেখানে জব্দ অর্থ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানে ৩০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এই অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। গত কয়েক দশকে ইরানের সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

সে চুক্তিতে ইরান কখন এবং কীভাবে অর্থ পাবে তা অস্বচ্ছ ছিলেন। তবে নতুন করে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে উক্ত স্মারকে উল্লেখিত শান্তি প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী বুড়িচংয়ে উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী বুড়িচংয়ে উদ্ধার

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার আনিশা (১২) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা।

উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনিশার বাবা শাহাদাত এবং তার বাবার বন্ধু ব্যবসায়ী আমির হোসেন আজাদ।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল দেড়টার দিকে সন্দ্বীপের আনন্দ পাঠশালা স্কুলের গেট থেকে আনিশা নিখোঁজ হয়ে যায়। সে সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাতের মেয়ে এবং আনন্দ পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আনিশাকে তাদের বাড়ির পাশের একটি মুরগির খামারের কর্মরত এক যুবকের সঙ্গে স্কুলগেট থেকে বের হতে। ওই যুবকের বাড়ি রংপুরে। পারিবারিক পরিচয়ের কারণে অতীতে জরুরি প্রয়োজনে তার মাধ্যমে আনিশাকে স্কুল থেকে আনা হয়েছিল। ঘটনার দিন যুবকটি তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে আনিশাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ অটোরিকশার চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই যুবক আনিশাকে নিয়ে সেদিনই সন্দ্বীপ ত্যাগ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে মুহাম্মদ সারোয়ার ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, বিকেল ৩টার দিকে তিনি কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের একটি সার্ভিস ট্রলারের কেবিনে স্কুলড্রেস পরা আনিশাকে দেখেছিলেন।

আনিশার বাবার বন্ধু আমির হোসেন আজাদ জানান, অপহরণকারী মেয়েটিকে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক অবস্থায় সীতাকুণ্ডের কুমিরা হয়ে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের কাবিলা বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেয়েটি স্বাভাবিক হলে কান্নাকাটি শুরু করে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অপহরণকারী পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মেয়েটির পরিচয় জানতে পারেন এবং তার বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেন।

খবর পেয়ে আনিশার বাবা ও আমির হোসেন আজাদ বুড়িচংয়ে ছুটে যান। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তারা আনিশার সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২.৫% নয়, বাংলাদেশ-ভারতের জন্য মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ এম


১২.৫% নয়, বাংলাদেশ-ভারতের জন্য মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ

বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন ব্যবস্থায় দেশভেদে ১০ শতাংশ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। আজ শুক্রবার থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে।

জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তর এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা দিতে সক্ষম নয় বা সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্তে ভারতের শুল্কের হার ১০ শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুরুর দিকে ভারতের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, শ্রমনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের গঠনমূলক আলোচনা এবং অগ্রগতির কারণে দেশটিকে কম হারের শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি দেশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, অথবা যারা এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অথবা আংশিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে কিছু পণ্যের আমদানি বন্ধ করেছে, তাদের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

১০ শতাংশ শুল্কের এই তালিকায় রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, জর্ডান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের যেসব পণ্য আগে থেকেই অন্য কারণে শুল্কমুক্ত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের পাশাপাশি ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অন্য দেশগুলোর জন্য শুল্কের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। এটি ভারত, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর প্রযোজ্য হবে। বৃহস্পতিবারের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর বলেছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে বা তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী, অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে কোনো দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক বা অন্য বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বাস, শুধু নৈতিক আহ্বান জানিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় একশ বছর ধরে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং দেশটি কঠোরভাবে সেই আইন বাস্তবায়ন করে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদারদেরও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। গ্রিয়ার আরো বলেন, অনেক দেশ দ্রুত জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে, যা ইতিবাচক। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই সিদ্ধান্তের আগে চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারায় ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের উদ্দেশ্য ছিল, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা যাচাই করা। তদন্ত চলাকালে ৪৫টির বেশি দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি একাধিক গণশুনানির আয়োজন করা হয় এবং ১ হাজার ৬০০টির বেশি লিখিত মতামত পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাণিজ্য নীতির অন্যতম বড় পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য যে, গত বছর ক্ষমতায় ফিরে এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তথাকথিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করেছিলেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দেয়। আদালতের মতে, জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ওই শুল্ক আরোপ আইনসম্মত ছিল না। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা ব্যবহার করায় নতুন শুল্ক আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও টিকে থাকার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। কারণ অতীতেও ৩০১ ধারার আওতায় নেওয়া পদক্ষেপ আদালতে বহাল ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য সব আমদানির ওপর অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল। সেই মেয়াদ আজ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হবে। ঠিক এরপরই নতুন ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ইতোমধ্যে পথে থাকা বা পরিবহনে থাকা পণ্য ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত নতুন শুল্ক থেকে ছাড় পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%