সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:১৩ এম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়াল জামিরের মধ্যে বিরোধের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২। সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর দেওয়া সামরিক অভিযানের নির্দেশ মানতে রাজি ছিলেন না সেনাপ্রধান জামির। তিনি এ বিষয়ে আরও আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন। একই সঙ্গে অভিযানের আইনি অনুমোদন রয়েছে এমন একটি লিখিত নথিতে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষর চেয়েছিলেন জামির।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, তবে কী ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি চ্যানেলটি। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে এই বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারের নির্বাচনের ঠিক এক দিন আগে এই বিরোধের খবর সামনে এসেছে। নির্বাচনে নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে জরিপকারীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন।
চ্যানেল ১২ এক সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অভিযানটি এমন হতে পারে, যা ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, "এমন সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের ঘটনা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।"
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, ইরান ইস্যুকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে আরেকটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে কাজ করতে তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধের এই খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার আবারও নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। তাঁরা একসঙ্গে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সফল হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প তার পোস্টে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী এবং অর্থনীতিও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের ওপর নৌ অবরোধের কারণে দেশটি তেল পাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক এবং বেসামরিক নেতৃত্বের দুটি স্তরই হারিয়ে গেছে। ইসরায়েলের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু একজন দক্ষ এবং সাহসী প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনে তাঁকে ভোট দিয়ে ইরান ইস্যুতে শুরু করা কাজ শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে রবিবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ছবিও প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। ছবিতে তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়। ছবিটি প্রকাশ করে নেতানিয়াহু সতর্ক করেন, "তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে ইসরায়েলিরা ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।"
পোস্টে ডানপন্থী কর্মী ইউভাল ব্লুমবার্গের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, ইসরায়েল এখন সরাসরি অস্তিত্বের হুমকির মুখে। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে আরো বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করতে ট্রাম্পের হাতে আরো দুই বছর সময় রয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কে আসবেন, তা নিশ্চিত নয়। তাই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে দাবি করা হয়। এতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতে পারেন—এমন একজন প্রধানমন্ত্রীকে ইসরায়েলের প্রয়োজন।
এদিকে, ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত নির্বাচনের সর্বশেষ পূর্বাভাসেও রাজনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন জোট কিংবা বিরোধী জোট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসাগুলো খুলছে, যা টানা ১০ দিনের ছুটি শেষে হচ্ছে। আজ থেকেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হবে। তবে কলেজগুলোতে ছুটি এখনও শেষ হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ছুটির তালিকা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজা এবং সরকারের নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটির কারণে গত ১৮ অক্টোবর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসাগুলোতে ছুটি শুরু হয়েছিল।
এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটি শেষ হলেও ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজার ছুটির কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টানা ১০ দিন ছুটির সুযোগ পান।
কলেজ খুলছে কবে?
স্কুল ও মাদরাসার ছুটি শেষ হলেও কলেজগুলোর ছুটি এখনো শেষ হচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোর বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর শুরু হওয়া ছুটি আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এরপর ৩০ ও ৩১ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে কলেজগুলোতে যথারীতি ক্লাস শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের আওতায় গাড়ি উৎপাদন, অন্যান্য শিল্প খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন হতে পারে। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে চার দিনের সফরে টোকিও পৌঁছেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর এই সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বকে জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপান বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়ে সম্মত হতে পারে। এই পরিকল্পনায় জাপানের সংশ্লিষ্টতায় গড়ে ওঠা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সুমিতোমো করপোরেশনসহ জাপানের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এসব অঞ্চলের উন্নয়নে যুক্ত রয়েছে।
যদি প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশে উৎপাদনশিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও শিল্পদক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে বিনিয়োগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তাঁর শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরা-সহ বড় জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করবেন। বুধবার ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার নাগোয়া শহরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি।
বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের জন্য এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি করাও সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
যদি প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্ব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ ও খাতভিত্তিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে এর বাস্তব প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে—তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
ড. শামীমা সুলতানা নেত্রকোনার পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ প্রয়াত প্রিন্সিপাল সিরাজুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর বাবা পূর্বধলা ও ধোবাউড়া আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ড. শামীমা সুলতানা। মধ্যযুগীয় ও আধুনিক বাংলা সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, চৌতিশা এবং ছোটগল্প নিয়ে তাঁর গবেষণা রয়েছে। বাংলা বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালের ১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তাঁকে বিভাগীয় কার্যালয়ের দেয়াল থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এ ঘটনার পর তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
শিক্ষকতা, গবেষণা ও প্রতিবাদী ভূমিকার মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ড. শামীমা সুলতানার পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগকে তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পিএসসির অন্যতম দায়িত্ব সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা। এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রয়েছে চাকরিপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার। নতুন দায়িত্বে ড. শামীমা সুলতানা এসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগে ৭ নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৬ জনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায়।
গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মস্তাননগর হাসপাতাল খ্যাত মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের একটি অংশ, প্রায় ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট ওজন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে বহির্বিভাগে রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১১ জনের একটি নারী দল পরিকল্পিতভাবে লাইনে ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি সৃষ্টি করেন। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে চিকিৎসা নিতে আসা তিন নারীর গলা থেকে তিনটি স্বর্ণের চেইন চুরি হয়। চুরি যাওয়া চেইনগুলোর মোট ওজন আনুমানিক ১৭ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট। ভুক্তভোগীদের চিৎকারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৭ নারীকে আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন —
০১. আমেনা খাতুন (২৫)
০২. সালমা ওরফে তানিয়া বেগম (২৫)
০৩. অজুফা বেগম (২৫)
০৪. হালিমা (৩০)
০৫. শানজিলা ওরফে সাদিয়া (২৩)
০৬. তাহমিনা আক্তার (২০)
এদের সবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামে।
০৭. আমিনা খাতুন (৩৬) — সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরো জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড ও জনবহুল স্থানে ভিড়ের মধ্যে চুরির একাধিক মামলা রয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, "হাসপাতালে ভিড়ের সুযোগে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় ৭ নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।"
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মূল্যবান সামগ্রী সাবধানে রাখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ