ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ওমান প্রবাসীদের দুধে গোসলের ঘটনা ঘিরে কৌতূহল


ওমান প্রবাসীদের দুধে গোসলের ঘটনা ঘিরে কৌতূহল

দুই ওমান প্রবাসী যুবক ২০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে প্রেম ও জুয়া ছেড়ে দেওয়ার শপথ নিয়েছেন। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে যে, নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা সম্পদ এবং সোনাদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সাকিব দীর্ঘদিন ধরেই ওমানে কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি, তারা স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দুধ দিয়ে গোসল করে প্রেম ও জুয়া থেকে দূরে থাকার ঘোষণা দেন।

প্রবাসী ইউসুফ আলী জানান, সাকিব ও সম্পদসহ বেশ কয়েকজন হাতিয়ার বাসিন্দা একই সঙ্গে ওমানে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে সাকিব ও সম্পদ মূলত তাস খেলা, মোবাইল ভিত্তিক জুয়া এবং অনলাইন প্রেমে আসক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তারা জুয়া ও নারীদের পিছনে ব্যয় করতেন। পরিবার তাদের প্রবাসে পাঠানোর জন্য ঋণ করলেও তারা নিয়মিতভাবে পরিবারের জন্য অর্থ পাঠাতেন না। সহকর্মী ও রুমমেটরা বারবার বুঝিয়েও তাদের অভ্যাস পরিবর্তন করতে সক্ষম হননি।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় করেন। পরে রুমমেটদের উদ্যোগে তাদের দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে প্রেম ও জুয়া ছাড়ার শপথ করানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি দুই যুবকের শরীরে দুধ ঢেলে দিচ্ছেন এবং তারা ভবিষ্যতে প্রেম ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত না থাকার অঙ্গীকার করছেন। এই সময় উপস্থিত লোকজন তাদের নতুন জীবন শুরু করার জন্য শুভকামনা জানান।

ভিডিওটি প্রকাশের পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে আত্মশুদ্ধি ও অনুশোচনার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

এ বিষয়ে সাকিব ও সম্পদ জানান, তারা অতীতে যে কাজগুলো করেছেন, সেগুলো ভুল ছিল। অনুশোচনা থেকেই তারা দুধ দিয়ে গোসল করে নতুনভাবে জীবন শুরু করার শপথ নিয়েছেন। তারা ভবিষ্যতে জুয়া, তাস খেলা কিংবা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে আর জড়াবেন না। একই সঙ্গে তারা সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুশফিকুল ফজল আনসারীকে দেখতে হাসপাতালে সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৭ পি.এম


মুশফিকুল ফজল আনসারীকে দেখতে হাসপাতালে সেনাপ্রধান

রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতীয় স্বার্থে এবং সেনাবাহিনীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকল্পে তাকে দেখতে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, হাসপাতালে পৌঁছে সেনাপ্রধান রাষ্ট্রদূতের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুকে ব্যথাজনিত সমস্যার কারণে তাকে সোমবার বিকেল ৩টায় সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে মুশফিকুল ফজল আনসারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের মেধা বিকাশে কোনো বাধা সহ্য করা হবে না: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৭ পি.এম


শিশুদের মেধা বিকাশে কোনো বাধা সহ্য করা হবে না: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ১৬ জুন, ২০২৬ : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক মেধা বিকাশে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। মেধা বিকাশের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা নেতিবাচক প্রচারণা গ্রহণ করা হবে না। আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

আজ রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬ সাংস্কৃতিক, কাবিং ও বিষয়ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের প্রতিযোগিতায় প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে এক কোটিরও বেশি ছেলে এবং এক কোটিরও বেশি মেয়ে শিক্ষার্থী ছিল। এত বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেশের শিশু-কিশোরদের প্রতিভা ও সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,যে শিক্ষার্থী সংগীতে ভালো, সে যেন স্কুল থেকেই উন্নত প্রশিক্ষণ পায়। যে বিতর্কে দক্ষ, সে যেন বিশ্বমানের বিতার্কিক হওয়ার সুযোগ পায়। যে ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস, ব্যাডমিন্টন কিংবা হাডুডু খেলতে চায়, সে যেন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হওয়ার পথ খুঁজে পায়। সেই লক্ষ্যেই আমরা স্কুলভিত্তিক প্রতিভা বিকাশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গান, নৃত্য, আবৃত্তি, বিতর্ক, বিজ্ঞান, গণিত, খেলাধুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন দম্ভ ভাঙার পর যুদ্ধ শেষে আরও শক্তিশালী হয়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


মার্কিন দম্ভ ভাঙার পর যুদ্ধ শেষে আরও শক্তিশালী হয়েছে ইরান

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটছে একটি সমঝোতা চুক্তির মধ্য দিয়ে।

যুদ্ধের পরে মধ্যপ্রাচ্যে যে চিত্র সামনে এসেছে, সেটি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশার সঙ্গে একেবারেই মিলছে না। তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল বা উৎখাত করার লক্ষ্য নিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হলেও ইরান বরং আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে, এই যুদ্ধ বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ্যে এনেছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই হঠকারী যুদ্ধ ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিগত এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ, এই যুদ্ধের ফলে শত্রুদের দমন করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে চিরাচরিত সক্ষমতা ও প্রভাব, তা চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত রাজনীতির মধ্যে এত দিন স্থিতিশীলতার দ্বীপ হিসেবে টিকে থাকা উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী আরব রাজতন্ত্রগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফাটল ও বিশ্বাসহীনতা মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের এখন বছরের পর বছর সময় লেগে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা জানান, পর্দার আড়ালে আরব নীতিনির্ধারকেরা ওয়াশিংটনের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের বৈদেশিক সম্পর্কে বৈচিত্র্য আনতে জোর আলোচনা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ইরানের আঞ্চলিক শক্তির বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তাদের সঙ্গে সহাবস্থানের নতুন কূটনৈতিক উপায় খুঁজছেন তারা। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন এই যুদ্ধে তাদের অত্যন্ত মূল্যবান ও সহজে প্রতিস্থাপন অযোগ্য বিপুল পরিমাণ উন্নত অস্ত্রের মজুত শেষ করছিল, তখন ওয়াশিংটনের চিরপ্রতিদ্বন্দী চীন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে আমেরিকার এই সামরিক ও কৌশলগত সীমাবদ্ধতা পর্যবেক্ষণ করেছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের কূটনীতিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, তা কোনো স্থায়ী সমাধান না হলেও সাময়িক বড় স্বস্তি দিচ্ছে। এর ফলে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে।

বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ পথে পরিবাহিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। বিশেষ করে, এই পথ বন্ধ থাকায় সারের বৈশ্বিক সরবরাহ যেভাবে ব্যাহত হয়েছিল, তাতে আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলের দরিদ্র দেশগুলো যে চরম খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছিল, তা থেকে আপাতত বিশ্ব রক্ষা পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ মূলত তেহরানের প্রকৃত শক্তি অনুধাবনে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ ভুল হিসেব-নিকেশেরই এক প্রকাশ্য উদাহরণ। যুদ্ধের একেবারে শুরুর দিকে ইসরায়েলি নিখুঁত বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার শীর্ষ উপদেষ্টারা নিহত হন। একই সময়ে দক্ষিণ ইরানের মিনাবে এক মার্কিন বিমান হামলায় একটি স্কুল ধ্বংস হয়ে ১২০ জনেরও বেশি কোমলমতি স্কুলছাত্রীসহ অন্তত ১৫০ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।

এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী ধাক্কার পর ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন যে, এই যুদ্ধ হবে সংক্ষিপ্ত এবং এর মাধ্যমে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে।

তবে বহিরাগত শক্তি দিয়ে রেজিম চেঞ্জের এই মার্কিন চক্রান্ত তেহরানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই চরম সংকট ও অস্তিত্বের লড়াইয়ে ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন তো ঘটেইনি, উল্টো তা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) এক অনমনীয় তরুণ প্রজন্ম দ্রুততার সঙ্গে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে এই নতুন ও সাহসী নেতৃত্ব অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও খোদ ইসরায়েলের ওপর পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

এদিকে, যুদ্ধের পূর্ণ অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও এই গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা ও চুক্তি প্রক্রিয়া থেকে ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছে। নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটা সময় যে ইরানকে ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই যুদ্ধ ব্যর্থ হওয়ায় এখন তিনি নিজের দেশের অভ্যন্তরেই তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার দায়ে নিজের দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে কাঠগড়ায় তিনি। এর মধ্যে বড় সংকট তৈরি করেছে লেবানন, সিরিয়া ও গাজার বিস্তীর্ণ অঞ্চল অনির্দিষ্টকালের জন্য দখল করে রাখার ইসরায়েলি জেদ। ট্রাম্পের অসন্তোষ সত্ত্বেও লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চলকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নেতানিয়াহুর ওপর তার মন্ত্রিসভার উগ্রপন্থীরা চাপ দিচ্ছে।

আঞ্চলিকভাবে আপাতত একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি অর্জিত হলেও দুই দেশের মতাদর্শগত ফারাক এবং চরম পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে এই সমঝোতাকে কোনো দীর্ঘমেয়াদি শান্তিতে রূপ দেওয়া একটি দূরবর্তী কল্পনা। এই যুদ্ধে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। যে ইরানি জনগণকে ট্রাম্প স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তারা এখনও সেই কঠোর শাসনের চাদরেই ঢাকা রুদ্ধশ্বাস জীবন কাটাচ্ছেন। দিনশেষে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আবেগতাড়িত ও একরোখা যুদ্ধ আমেরিকার অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতার অপচয় ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি, যা বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার ক্ষয়িষ্ণু লড়াইকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় মহিষের বাথান থেকে ৪ রাখাল অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ পি.এম


বগুড়ায় মহিষের বাথান থেকে ৪ রাখাল অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনার চরের মহিষের বাথান থেকে চার রাখালকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে অপহরণের ছয় দিন পরেও তাদের উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ১১ জুন রাত দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। রাখালদের স্বজনরা জানিয়েছেন, অপহৃত চার রাখালকে ছাড়তে অপহরণকারীরা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।

অপহরণের শিকার রাখালরা হলেন নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইনসার মন্ডলের ছেলে ইউনুস মন্ডল (৫০), মৃত মোহাম্মদ মন্ডলের ছেলে মফের মন্ডল (৪০), লালপুর ইউনিয়নের চকাজিকুল পাড়া গ্রামের কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে মাসুদ মন্ডল (৩২) এবং বিলবাড়িয়া মহড়কয়া গ্রামের মাজেদ মন্ডলের ছেলে ফারুক মন্ডল (৪০)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমারিয়া গ্রামের মাহরকয়া গ্রামের ইউনুছ আলী সারিয়াকান্দি বোহাইল ইউনিয়নের চরাঞ্চলে মহিষ পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তার বাথানে বর্তমানে ১৬০টির বেশি মহিষ আছে। মহিষ দেখাশোনার কাজে তিনি ৮ রাখাল নিয়োগ করেন। বৃহস্পতিবার রাখালরা প্রতিদিনের মতো মহিষের দেখাশোনা শেষে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন।

কিন্ত ওইদিন রাত দেড়টার দিকে বাথানে একটি নৌকাযোগে ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত অস্ত্রসজ্জিত হয়ে প্রবেশ করে। তারা রাখালদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। পরে বাথানের অপর রাখালরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। কিন্তু এ সময় দুর্বৃত্তরা দ্রুত ওই চার রাখালকে নৌকায় তুলে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৬ জুন) পর্যন্ত রাখালদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

মামলার বাদী অপহৃত ইউনূস মন্ডলের ছেলে সোহেল রানা বলেন, এখন পর্যন্ত অপহরণের শিকার রাখালদের কোনো সন্ধান পাইনি। জানি না তারা এখন কী অবস্থায় আছে। রাতের আঁধারে মহিষের বাথান থেকে রাখালদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্বৃত্তরা রাখালদের মুক্তিপণ হিসাবে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছে। কিন্তু এই টাকা তারা দিতে পারবে না। তাই রাখালদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা রয়েছে অজানা।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সারিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি সিরাজগঞ্জ নৌ পুলিশ তদন্ত করছে।

সিরাজগঞ্জ সদর নৌথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, অপহরণের শিকার রাখালদের উদ্ধার করতে নৌ পুলিশের তৎপরতা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও অপহৃত রাখালদের উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে। ওসি আরো বলেন, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে চার রাখালকে অপহরণ করা হয়েছে কিনা তা জানি না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%