শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৬ পি.এম
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে আর ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’ বলে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এ আয়োজনের ব্যবস্থা করে।
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। যদি তাই হয়, তবে আমরা প্রত্যেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশি’। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেকে মনে করত, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’। এটি দিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণই বিচারক। তারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।
তিনি বলেন, সকল ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার এসব কথা কেবল সংবিধানে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সচরাচর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। এখন থেকে বলতে হবে আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম তীরে অবস্থিত একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিলিস্তিনি আঙুরবাগান থেকে চুরি করে আঙুর নিয়ে যেতে দেখা গেছে একটি পরিবারকে, যারা অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। এই চুরির ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ করেছেন সেখানে উপস্থিত অধিকারকর্মীরা।
হেবরনের উত্তরে হালহুল এলাকায়, ইসরায়েলি কর্মীদের একটি দল, যাদের নাম ‘রিজার্ভিস্টস অ্যাগেইনস্ট টেরর’, ওই আঙুরবাগানের মালিক ফিলিস্তিনি কৃষকদের সহায়তা করতে সেখানে গিয়েছিল। তাদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুদের নিয়ে একটি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী পরিবার বাগান থেকে আঙুর নিচ্ছে।
বলছে, আইডিএফ ওই এলাকা ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’ ঘোষণা করে এবং সেখানে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি কৃষক ও ইসরায়েলি অধিকারকর্মীদের সরিয়ে দেয়। তাদের সেখানে যাওয়ার জন্য পূর্বে সমন্বয় বা অনুমতির প্রয়োজন ছিল বলে জানানো হয়।
তবে, বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়নি।
অধিকারকর্মীরা যখন তাদের কাছে এগিয়ে যান, তখন বসতি স্থাপনকারীরা নিজেদের থেকেই সেখান থেকে চলে যায় বলে জানান হোমিনার-রোজেনব্লুম। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অধিকারকর্মীরা ফিরে যাওয়ার পর দেখতে পান, তাদের যানবাহনের কয়েকটি টায়ার ফুটো করে দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-১৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু মন্তব্য করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার আবারও দেশের পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি শুক্রবার বিকেলে সাভার সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় এই কথা বলেন।
ডা. বাবু এ সময় আরও উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছরের ধ্বংসপ্রায় একটি দেশে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ধীরে ধীরে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছেন। ইনশাল্লাহ, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
উক্ত আলোচনা সভায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাভার ও আশুলিয়ার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা দুপুরের পর থেকে নানান আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। বিকেলে ব্যাপক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে আলোচনা সভায় সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য বইয়ের বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগে ‘বইপড়া কর্মসূচির ১২ বছর’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের ভবিষ্যৎ প্রজন্মই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদেরকে যোগ্য ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভালো বই পড়ার ওপর জোর দিতে হবে।’
মন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আনন্দময় ও সৃজনশীল করতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকার খেলাধুলা, সংস্কৃতি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আনন্দময় শিক্ষাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব উদ্যোগ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করবে।
কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএসআর কার্যক্রম সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। আলোকিত ও সৃজনশীল মানুষ তৈরিতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় তরুণ সমাজকে মাদক ও ক্ষতিকর মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে ভালো বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার মো. আসাদুজ্জামান এবং বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিট পুলিশিং জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের চাপাইতি বাজারে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ , সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল মোছাব্বির ও বিট অফিসার এসআই নবী হোসেন।
মোঃ আব্দুল মোছাব্বিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আবুল কাশেম সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মধ্যনগর থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার কোথাও মাদক ব্যবসা, জুয়া কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ বলেন, মাদক ও জুয়া একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ