ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেত্রকোণায় সাংবাদিক আলিফ হত্যায় অপূর্ব নামে যুবক আটক


নেত্রকোণায় সাংবাদিক আলিফ হত্যায় অপূর্ব নামে যুবক আটক

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির, যিনি আলিফ ফকির নামেও পরিচিত, হত্যার অভিযোগে অপূর্ব নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গাপুর বাজারের পুরাতন সিনেমা হলের পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আসামির নাম অপূর্ব (২২) এবং তার বাবার নাম শমশের আলী। তিনি নেত্রকোণার দুর্গাপুরে একটি পুলিশ হত্যা মামলার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া অন্যতম আসামি।

আরও পড়ুন: ছোট পর্দার আলোচিত মুখ অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী উদ্বোধন করবেন বায়ো-জিন কসমেসিউটিক্যালসের শুভ উদ্বোধন

পুলিশের সূত্রে আরও জানা যায়, আলিফকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারীরা ভুলবশত তার চেহারার সাথে মিল থাকা এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। অপূর্ব পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১২টার পর তার গতিবিধি ও অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ৫ থেকে ৬ জনের একটি চক্র সরাসরি জড়িত ছিল। এ ছাড়া, এর পেছনে অর্থদাতাসহ একটি বড় চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আটক অপূর্বকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যা সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি উৎরাইল এলাকার তেলুনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি সাবেক সেনাসদস্য এবং ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ ফেসবুক পেজের কর্ণধার ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর আলিফের শরীরে ৬টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: অন্তঃসত্ত্বাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য বরাদ্দে দুর্ভোগ, পাকা হলো নেতার বাড়ির সড়ক

বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডি ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বিত টিম এ হত্যার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাকিত্ব কাটাতে বড়দের জন্য নতুন ঠিকানা গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৩ এম


একাকিত্ব কাটাতে বড়দের জন্য নতুন ঠিকানা গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প

একসময় গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের অর্থ ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য আনন্দ ও ছুটির সময় কাটানোর স্থান। তবে বর্তমানে এই ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে। কাজের চাপ, একাকিত্ব এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবন থেকে বিরতি নিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রাপ্তবয়স্করা গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করছেন। সেখানে খেলাধুলা, গান, ছবি আঁকা এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি নতুন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুযোগও রয়েছে।

ক্যাম্পে বাড়ছে বড়দের আগ্রহ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইয়েলপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ‘অ্যাডাল্ট ক্যাম্প’ খোঁজার হার ৩৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পিং অ্যাসোসিয়েশনের তালিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৮৫টি ক্যাম্পের কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এসব ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীরা আগুনের পাশে বসে গল্প করা, খেলাধুলা, ছবি আঁকা, প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়ানো এবং সুস্থ থাকার নানা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। কিছু ক্যাম্পে বড়দের জন্য বাড়তি বিনোদন ও আরামদায়ক ব্যবস্থাও উপলব্ধ থাকে।

একঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তি

বিশেষজ্ঞদের মতে, দূর থেকে কাজ করার প্রবণতা, দীর্ঘ সময় পর্দার সামনে থাকা এবং ব্যস্ত জীবনযাপনের ফলে মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। এর ফলে অনেকেই একাকিত্বে ভুগছেন। ক্যাম্পে একসঙ্গে নানা কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

নিউইয়র্কের একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একসঙ্গে ক্যাম্পে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। আবার কেউ কেউ শৈশবের পছন্দের কাজ নতুন করে শুরু করতে কিংবা জীবনের নতুন লক্ষ্য খুঁজে পেতেও ক্যাম্পকে কাজে লাগাচ্ছেন।

খরচ কেমন?

ক্যাম্পের ধরন, সময়কাল এবং সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে খরচের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব গেটঅ্যাওয়েতে তিন দিনের সব খরচসহ প্যাকেজের মূল্য জনপ্রতি ৪৫৯ ডলার থেকে শুরু হয়। অন্যদিকে, ক্যাম্প নো কাউন্সেলরসের তিন রাতের আয়োজনের খরচ ৯৫০ ডলারের বেশি হতে পারে। তবে তুলনামূলক কম খরচের আয়োজনও রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তা বা অনুদানের অর্থে ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

বন্ধুত্ব আর আনন্দের নতুন ঠিকানা

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যাম্প এখন আর শুধু ছুটি কাটানোর স্থান নয়; এটি ব্যস্ত জীবনে নতুন আনন্দ খুঁজে পাওয়ার, একাকিত্ব কমানোর এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। শৈশবের মতো নির্ভার সময় কাটানোর সুযোগ খুঁজতে তাই অনেকেই আবার ক্যাম্পের দিকে ফিরে যাচ্ছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ছাত্রদল নেতা হামিমের পোস্ট

পিএমও ফেসবুক পেজটি দেখলে নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গর্বিত হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


পিএমও ফেসবুক পেজটি দেখলে নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গর্বিত হবে

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) ফেসবুক পেজের কার্যক্রম সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করেছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে হামিম উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ধারাকে শুধু অব্যাহত রাখছেন না, বরং ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীদের জন্য রাজনীতিকে কঠিন করে তুলছেন তারেক রহমান।

পোস্টে হামিম লেখেন, আজকে PMO

Bangladesh—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ফেসবুক পেজটি দেখে আসুন। হামিমের বিশ্বাস, বাংলাদেশের সকল নাগরিক এই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গর্ব করতে বাধ্য হবে।

জিয়াউর রহমানের একটি বহুল প্রচলিত ইংরেজি উক্তি উল্লেখ করে হামিম লেখেন, ‘I will make politics difficult for the politicians’।

এছাড়া, ছাত্রদল নেতা তারেক রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘তারেক রহমান প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম, দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করেন এবং মনে মনে মুচকি হেসে বলেন—I will make politics difficult not only for the politicians but also for the future Prime Ministers (আমি শুধু রাজনৈতিকদের জন্যই রাজনীতি কঠিন করব না, ভবিষতের প্রধানমন্ত্রীদের জন্যও কঠিন হবো)।’

হামিমের পোস্টে তারেক রহমানের কাজের প্রশংসার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য উচ্চ মানদণ্ড তৈরি করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ওই পোস্টে ১০ ঘণ্টায় ১৭শ’য়ের মতো রিয়্যাক্ট পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় হারিয়ে যাচ্ছে পান চাষের ঐতিহ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


কুমিল্লায় হারিয়ে যাচ্ছে পান চাষের ঐতিহ্য

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলা এক সময় পান চাষের জন্য সুপরিচিত ছিল। উপজেলার চান্দলা, উত্তর চান্দলা, মাধবপুর ও মকিমপুর এলাকায় শত শত পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত। তবে বর্তমানে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যের অভাব এবং সরকারি সহায়তার সংকটের কারণে ঐতিহ্যটি বিলুপ্তির পথে রয়েছে। দুই দশক আগে যেখানে এসব এলাকায় প্রায় ২৫০টি পানবরজ ছিল, বর্তমানে তা মাত্র ৩০ থেকে ৩৫টিতে নেমে এসেছে।

উত্তর চান্দলা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিছু বরজে সবুজ পানের লতা এখনও দুলছে। বরজগুলো বাইরে থেকে প্রাণবন্ত মনে হলেও ভেতরে রয়েছে চাষিদের দীর্ঘদিনের লোকসান এবং টিকে থাকার সংগ্রামের কাহিনী। অনেক চাষি বরজ ভেঙে সেখানে কাঠবাগান, শাকসবজি চাষ অথবা গরুর খামার গড়ে তুলেছেন।

উত্তর চান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা আরুতি রানী পাল (৭০) প্রায় ৫০ বছর ধরে পান চাষ করছেন। তিনি বলেন, "বিয়ের পর থেকেই পান চাষ করছি। স্বামী মারা যাওয়ার ২৩ বছর পরও আমি পারিবারিক এই পেশা ছাড়িনি।" তিনি জানান, তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। বর্তমানে সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না।

তিনি জানান, নতুন করে ৩০ শতক জমিতে একটি বরজ করতে প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিকালে পান সংগ্রহ করে রাখা হয় এবং সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নিয়ে যান। সাধারণ সময়ে ৮০টি পান নিয়ে এক বিড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও ফাল্গুন-চৈত্র মাসে একই বিড়ার দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

বাপ-দাদার আমল থেকে পান চাষ করে আসা চাষি শুন পাল বলেন, লাভ কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্ম আর এ পেশায় থাকতে চায় না। ২০-২৫ বছর আগে এলাকায় প্রায় ২৫০টি বরজ ছিল, এখন হাতে গোনা কয়েকজন চাষি রয়েছেন। আগের মতো বাইরের ব্যবসায়ীরাও আসেন না। স্থানীয় কয়েকজন দোকানির কাছেই পান বিক্রি করতে হয়, ফলে ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, "আমরা ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পান চাষ ধরে রেখেছি। কিন্তু আমাদের পরের প্রজন্ম এ পেশায় থাকবে না।" রোগবালাই দেখা দিলে কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও পাওয়া যায় না।

কুমিল্লা শহরের পান ব্যবসায়ী উত্তম কুমার বলেন, এক সময় চান্দলা ও মাধবপুরের পান দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো। বর্তমানে বরজের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দূরদূরান্তের ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও কমে গেছে। এতে বাজার সংকুচিত হয়েছে এবং চাষিরা কাঙ্ক্ষিত দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন আমার দেশকে বলেন, একই জমিতে দীর্ঘদিন পান চাষ করলে ফলন কমে যেতে পারে। জমি পরিবর্তন করে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। উন্নত জাতের লতা বা চারা না পাওয়াও ফলন কমার অন্যতম কারণ। তিনি জানান, পান মূলত পারিবারিকভাবে চাষ করা হয়। এক সময় এই পান রপ্তানিও হতো, বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। তবে উপজেলায় বর্তমানে কত জমিতে পান চাষ হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব কৃষি বিভাগের কাছে নেই। কোনো চাষি যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান আমার দেশকে বলেন, কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয় দেবিদ্বার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। ভালো দাম না পাওয়ায় চাষিরা ধীরে ধীরে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এছাড়া মাটির অম্লত্ব (এসিডিটি) বেড়ে যাওয়াও পান চাষ কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ। চাষিদের দাবি, পান চাষকে টিকিয়ে রাখতে শুধু পরামর্শ নয়, প্রয়োজন উন্নত জাতের চারা, প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমনে কার্যকর কৃষি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা।

একইসঙ্গে স্থানীয় পান দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ না নিলে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী পান চাষ এক সময় ইতিহাসে পরিণত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নান্দনিক উপস্থাপনায় সারি সারি প্রাণীর কঙ্কাল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


নান্দনিক উপস্থাপনায় সারি সারি প্রাণীর কঙ্কাল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রবেশের পর দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে বিশাল এক জিরাফের কঙ্কাল, যা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটা এগোলেই হাতি, উট, কুমির এবং অজগরের কঙ্কাল দেখা যায়। কোথাও অস্থির সারি, আবার কোথাও কাচের পাত্রে রাসায়নিক দ্রবণে সংরক্ষিত চোখ, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি ও জরায়ুর মতো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রাণীর মডেল, ভ্রূণ এবং মাইক্রোস্কোপের স্লাইডও প্রদর্শিত হয়েছে।

প্রথম দর্শনে স্থানটি অদ্ভুত ‘কঙ্কালপুরী’ মনে হতে পারে। তবে একটু গভীরে গেলে নীরব কঙ্কাল ও সংরক্ষিত অঙ্গগুলো যেন প্রাণীদেহের গঠন, বিবর্তন, জীবনপ্রক্রিয়া ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানা অজানা গল্প বলার চেষ্টা করে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের প্রথম কঙ্কাল জাদুঘর বা ‘অ্যানাটমি মিউজিয়াম’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউসুফ চৌধুরী ভবনের নিচতলায় প্রায় ৩,০০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষা ও মানোন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০১১ সালে এবং প্রায় ছয় বছর পর ২০১৭ সালে তা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠার সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, যিনি বর্তমানে সিভাসুর উপাচার্য।

জাদুঘরের প্রধান আকর্ষণ বিশাল আকৃতির জিরাফের কঙ্কাল। দীর্ঘ গলা ও সুউচ্চ অবয়ব নিয়ে প্রবেশমুখেই দাঁড়িয়ে থাকা কঙ্কালটি দর্শনার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় মারা যায় জিরাফটি। প্রায় ছয় মাস মাটিতে পুঁতে রাখার পর এর অস্থিগুলো সংগ্রহ করা হয়। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় এসব হাড় চট্টগ্রামে এনে সিভাসুর অ্যানাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করা হয়।

একেকটি অস্থি সতর্কতার সঙ্গে শনাক্ত করে জোড়া লাগিয়ে জিরাফের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় দেড় বছর। কঙ্কালটি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনে ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। সিভাসুর সংশ্লিষ্টরা জানান, জিরাফের কঙ্কাল অত্যন্ত দুর্লভ। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিশ্বের আর কোথাও এমন কঙ্কাল থাকার তথ্য খুব সীমিত। ফলে সিভাসুর জাদুঘরে জিরাফের কঙ্কাল যুক্ত হওয়া সংগ্রহশালাটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষ আকর্ষণ দিয়েছে।

জিরাফের পাশেই রয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া সাফারি পার্ক থেকে সংগ্রহ করা হাতির কঙ্কাল। ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে আনা হয়েছে উটের কঙ্কাল। সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে মৃত অবস্থায় পাওয়া বিশাল অজগর এবং ময়মনসিংহের ভালুকা কুমির প্রজনন কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা বড় আকৃতির কুমিরের কঙ্কালও দর্শনার্থীদের কৌতূহল বাড়ায়।

এছাড়া জাদুঘরে রয়েছে মানুষের কঙ্কাল, যা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ইউএসটিসি থেকে সংগ্রহ করা একটি মানবশিশুর দেহ ফরমালিনভর্তি বোতলে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব নমুনা শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের শরীরের গঠন, প্রাণীর বৈচিত্র্য এবং জীববিজ্ঞানের নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কঙ্কাল জাদুঘর হলেও এখানে শুধু অস্থি প্রদর্শন করা হয়নি। বরং প্রাণীদেহের ভেতরের জটিল গঠনকে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে সংরক্ষণ করা হয়েছে নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি মানুষের চোখ, হৃৎপিণ্ড, জরায়ু, ফুসফুস, কিডনি ও স্তনের নমুনা রয়েছে। একইভাবে কুকুর, বিড়াল, শূকর, গরু ও মুরগির বিভিন্ন অঙ্গ সংরক্ষণ করা হয়েছে কাচের পাত্রে রাসায়নিক দ্রবণে সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। রয়েছে ডিএনএ ও ক্রোমোজমের নমুনাও।

ছাগল, শূকর ও খরগোশের ভ্রূণ ফরমালিনে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে প্রদর্শনের জন্য। মাইক্রোস্কোপের স্লাইডে দেখা যায় বিভিন্ন প্রাণীর টিস্যু ও কোষের গঠন।

এসব নমুনা শিক্ষার্থীদের কাছে কেবল দেখার বিষয় নয়। শ্রেণিকক্ষে বইয়ে পড়া প্রাণীদেহের গঠন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে বাস্তবে দেখার সুযোগ করে দেয় এগুলো। কোন অঙ্গ কোথায় অবস্থান করে, তার গঠন কেমন এবং কীভাবে কাজ করে—এসব বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই জাদুঘরে।

জাদুঘরের আরেকটি আকর্ষণ ‘স্ট্যাফিং’ করা প্রাণী ও পাখি। মোরগ, মুরগি, রাজহাঁস, কবুতর, কাঠঠোকরা, দোয়েল, প্যাঁচা, মাছরাঙা, তিতির, কোয়েল, খরগোশ, গিনিপিগ, কচ্ছপ, অজগর, গোখরা, বাদুড় ও হাঁসসহ বিভিন্ন প্রাণীর স্ট্যাফ এখানে সংরক্ষিত আছে।

স্ট্যাফিং পদ্ধতিতে মৃত প্রাণীর চামড়া ও দেহাবশেষ বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করা হয়। এরপর তুলা, রড ও জিআই তার ব্যবহার করে প্রাণীটির স্বাভাবিক আকৃতি তৈরি করা হয়। সবশেষে সেই অবয়বের ওপর চামড়া পরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে দূর থেকে মনে হয় প্রাণীটি বুঝি এখনো জীবিত, শুধু স্থির হয়ে আছে।

জাদুঘরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে প্রাণীর বিভিন্ন অঙ্গ, দেহতন্ত্র ও শারীরবৃত্তীয় গঠনের চিত্র। পাশাপাশি জীববিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিজ্ঞানীদের প্রতিকৃতিও স্থান পেয়েছে।

সিভাসুর অ্যানাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জাদুঘরটি তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন গৃহপালিত ও বন্য প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ক্লাসে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে। প্রাণীদেহের অঙ্গ ও দেহতন্ত্রের অবস্থান, গঠন, বৈশিষ্ট্য এবং কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়াই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, সর্বশেষ জিরাফের কঙ্কাল যুক্ত হওয়ায় জাদুঘরটি আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। দেশের শিক্ষার্থীদের ভেটেরিনারি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং এই পেশার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে জাদুঘরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, কঙ্কাল সংগ্রহ দুই ভাবে প্রসেস করা হয়। ছোট প্রাণীর ক্ষেত্রে কেমিক্যাল দিয়ে এবং বড় প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রথমে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। দুই-তিন মাস পর মাংসগুলো পচে গেলে কেমিক্যাল দিয়ে প্রসেস করে হাড়গুলো জোড়া লাগানো হয়।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও একাডেমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে এই জাদুঘর পরিদর্শন করে থাকে।

জাদুঘরটি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে এসে প্রাণীদেহের গঠন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছে।

জাদুঘর ঘুরে দর্শনার্থী মো. রাশেদ বলেন, এখানে এসে এত ধরনের প্রাণীর কঙ্কাল ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ একসঙ্গে দেখার সুযোগ পাওয়া সত্যিই অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে জিরাফের কঙ্কালটি খুবই আকর্ষণীয়। বইয়ে যেসব বিষয় পড়েছি, সেগুলো এখানে বাস্তবে দেখে আরো ভালোভাবে বোঝা যায়।

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বইয়ের ছবিতে প্রাণীর হাড় বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখার চেয়ে জাদুঘরে সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি কার্যকর। কোন অঙ্গের গঠন কেমন এবং কোথায় থাকে, তা সহজেই বোঝা যায়। এতে পড়াশোনার বিষয়গুলোও মনে থাকে বেশি।’

সিভাসুর সূত্র জানায়, জাদুঘরে বিভিন্ন প্রাণীর প্রায় ৬০টি কঙ্কাল দক্ষতার সঙ্গে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া এখানে রয়েছে প্রায় ৩০টি স্ট্যাফ (প্রাণীর অস্থি থেকে চামড়া আলাদা করে নতুন অবয়ব সৃষ্টির পর পুনরায় চামড়া দিয়ে মোড়ানো), রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রাণীর প্রায় ৫০০টি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, প্রায় ২,০০০ অস্থি, বিভিন্ন প্রাণীর ৭৫টি মডেল এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য প্রায় ৩,০০০ স্লাইড।

কঙ্কাল সাধারণত মৃত্যুর প্রতীক। কিন্তু সিভাসুর এই জাদুঘরে এসে সেই ধারণাটিই যেন বদলে যায়। এখানে মৃত প্রাণীর হাড়ে উঠে আসে জীবনের বিজ্ঞান, অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ফুটে ওঠে দেহের জটিল কর্মযজ্ঞ, আর মডেল ও স্লাইডে উন্মোচিত হয় প্রাণীকুলের অদৃশ্য জগৎ।

একটি জিরাফের দীর্ঘ গলা, হাতির বিশাল অস্থি, কুমিরের চোয়াল কিংবা অজগরের দীর্ঘ মেরুদণ্ড—প্রতিটি কঙ্কালই প্রাণীর জীবনধারা ও বিবর্তনের আলাদা গল্প বলে। অন্যদিকে সংরক্ষিত হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস কিংবা কিডনি মনে করিয়ে দেয় প্রাণীর বেঁচে থাকার পেছনে থাকা জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার কথা।

এই অ্যানাটমি মিউজিয়ামে গবেষণা ও ইন্টার্নশিপ করার জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ও গবেষক আসেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রায় ১০টি জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে।

তাহলে সিভাসুর কঙ্কাল জাদুঘর নিছক হাড়সহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সংগ্রহশালা নয়। এটি একই সঙ্গে প্রাণিবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি শিক্ষার এক ব্যতিক্রমী শিক্ষা ব্যবস্থা—যেখানে বইয়ের বাইরে এসে হাড়ে হাড়ে শেখা যায় প্রাণীদের জীবনচক্র।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%